ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

খুচরা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না: স্বাস্থ্যর মহাপরিচালক

স্টাফ রিপোর্টার

(২ মাস আগে) ২৭ নভেম্বর ২০২২, রবিবার, ৮:২২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৭ অপরাহ্ন

mzamin

দেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ হলো যত্রতত্র এর ব্যবহার। এর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে খুচরা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সমস্যা প্রতিরোধ গড় সবাই মিলে’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি ইউএসএআইডি’র এমট্যাপস প্রোগ্রামের আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের জন্য খুচরা বিক্রি একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বর হলেই সাধারণ ওষুধের সঙ্গে দেখা যায় অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ২-৩ টা নিয়ে যাচ্ছে। এটা সাধারণ মানুষের মাঝে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের জন্য বড় কারণ। এজন্য নিয়ম করা প্রয়োজন কেউ অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে ফুল ডোজ কিনতে হবে, নাহয় কিনবে না।
তিনি জানান,  রোগীদের পকেটের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যেই স্ট্যান্ডার্ড মেনে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তা ঠিক হচ্ছে কিনা সেটাও একটা বড় ইস্যু। আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করি প্রধানত আমাদের অপারেশন থিয়েটার কিংবা বেড থেকে সংক্রমণ হওয়ারই কথা না, এটি আন্তর্জাতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু সেটা আমাদের এখানে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
আমাদের লোকজন বেশি আমাদের সুযোগ-সুবিধা কম। প্রতিদিন আমাদের অপারেশন থিয়েটারগুলো থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। আমরা থিয়েটারের নিয়ম-কানুন আমরা মানছি না। আমাদের ওয়ার্ড বয়, সিস্টার, লোকজন, রোগী এমনকি চিকিৎসকরাও মানছেন না। লোকজন সরাসরি ডুকে যাচ্ছে গাউন পরছে না, বাহিরের কাপড় নিয়ে ডুকে যায়। এই বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ।  
তিনি বলেন, এছাড়া রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারিত যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। অপারেশনের যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্জীবাণু মুক্ত না করে বার বার ব্যবহার করা হচ্ছে এতে সংক্রমণ হয়ে থাকে। রোগীদের গ্যাস নয়ার পাইপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা একই জিনিস থেকে ব্যবহার করছে অনেকে। এতে এক জনের মুখের জীবাণু ছড়াচ্ছে আরেকজনের কাছে। অনেক জীবাণু আছে যেটা গরম পান দিয়ে বয়েল করার পরও মারা যায় না। এ জীবাণুও যাতে না থাকে সেটার জন্যও ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভর্তি রোগীদের মাঝে সংক্রমণ রোধে প্রতিকার তুলে ধরে তিনি বলেন,  যখন কোনো একটি মেডিকেলে কোনো সংক্রমণ হচ্ছে তখন সেখান থেকে স্যাম্পল নিলাম, যেমন-হাসপাতালের বেড থেকে, অপারেশন থিয়েটার থেকে, সেখান কার টয়লেট থেকে এবং প্রয়োজনীয় জায়গা থেকে স্যাম্পল নিয়ে আমাদের বের করা উচিৎ কোন ধরনের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তখন  আমরা বুঝতে পারবো এই হাসপাতালে রোগী আসলে আমরা প্রথমে কোন অ্যান্টিবায়োটিকটা দিবো। এটি সব হাসপাতালের জন্য এক ধরনের হবে না। এটি হবে এক হাসপাতালের জন্য এক ধরনের পলিসি।

আমাদের হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ময়লা পেলার জন্য আলাদা আলাদা বিন করে দিয়েছি, যে এখানে নরমাল বর্জ্য এখানে সংক্রামক ধরনের ময়লা ফেলা হবে। কিন্তু দেখা যায় সব হাসপাতালের এই বিনগুলোর ময়লাকে নিয়ে সব একই জায়গায় পেলে দেয়া হয়। এতে সেখান থেকে পরিবেশ, মাটি, পানি এবং শস্য খেতেও জায়গায় জীবাণু সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা একই বিচানায় ৩ জনও থাকছে। এই রোগীরা যে টয়লেট ব্যবহার করছে কিংবা যেখানে থাকছে সেখান থেকে জীবাণুর সংক্রমিত হচ্ছে কিনা সেটাও একটা বড় বিষয়। এই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে হবে। 
বক্তারা বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আইন প্রয়োজন, সঙ্গে আইন প্রয়োগকারীও প্রয়োজন। এছাড়া দেখা যায় ফার্মাসিস্ট কোম্পানিরা ইনসেনটিভ ডাক্তারকে দিচ্ছে, সঙ্গে অন্যদেরও দেয়া হচ্ছে। আমরা ডাক্তারকে বন্ধ করলেও কোয়াককে তো আইনে আনা যাবে না। ওজন্য শুধু আইন দিয়েও ব্যবস্থা হবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি। অনুষ্ঠানে শুরুতে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজির সভাপতি ডা. সানিয়া তাহমিনা।

 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status