ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

শহীদ মিনারে তোয়াব খানের কফিনে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক

(২ মাস আগে) ৩ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৩:২২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

mzamin

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শব্দসৈনিককে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গার্ড অব অনার দেয়া হয়। আজ সকাল ১১টায় সবার শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তোয়াব খানের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। এসময় ঢাকার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্যালুট জানানো হয়। এরপর তোয়াব খানের মরদেহবাহী কফিনটি জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়।

শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল জি এম রাজীব আহমেদ তোয়াব খানের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তোয়াব খানের মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নেয়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে। 

সেখানে দুপুর ১টার দিকে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে তার প্রথম জানাজা সকাল ১০টায় তার কর্মস্থল তেজগাঁওয়ের দৈনিক বাংলা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রেস ক্লাবে জানাজায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, তোয়াব খান বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অসামান্য অবদান ছিল। স্বাধীন বাংলার সঙ্গে কাজ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

এদিকে প্রেস ক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হয় গুলশানে মরহুমের নিজ বাসভবনে।

বিজ্ঞাপন
বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে এই সাংবাদিককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ৮৭ বছর বয়সী সাংবাদিক তোয়াব খান।

সাংবাদিক তোয়াব খানের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুর গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন।

তোয়াব খানের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে। ১৯৫৫ সালে সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে তিনি দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন।

এরপর ১৯৬৪ সালে যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে। দেশ স্বাধীনের পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচারিত হয় ‘পি-ির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান। দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন তিনি।
এরপর নতুন আঙ্গিক ও ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন দেশবরেণ্যে এ সাংবাদিক।

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status