ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

বুয়েট ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

(১ মাস আগে) ১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুয়েটের সেমিনার হলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে আজ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সেটি ঠিকমতো শেষ করতে পারেননি আয়োজকরা।

২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্মম নির্যাতনে বুয়েটের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে সে বছরের ১১ অক্টোবর ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয় সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি। এরপর থেকে বুয়েটে ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা গত কয়েক বছর একেবারেই স্থিমিত ছিল।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বুয়েটে শোকসভার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।

আজ শনিবার বিকেল ৬টার দিকে এ সভা শুরু হয়। তবে সভা শুরুর পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষে করে সেখান থেকে চলে যান ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বুয়েটের শহীদ মিনারে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বুয়েট অডিটোরিয়ামের সামনে ব্রিফ করেন।

এদিকে,শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন।

ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তাতে ফল মেলেনি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য,  বঙ্গবন্ধু শোকসভা করা নিয়ে তাদের কোন আপত্তি নেই, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও করেছে।তবে সে শোক সভা  ছাত্রলীগের ব্যানারে কেন করতে হবে?

ছাত্রলীগ নেতারা নিজেদের ৭০-৮০ দশকের সাবেক বলে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার অনুরোধ করলেও তাতে শিক্ষার্থীরা সাড়া দেয়নি।
বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ওই সাধারণ সম্পাদক ও বাকি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক (ডি এস ডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বলা যায়, তারা আমাদের থেকে অনুমতি নিয়েছে, আবার নেয়ও নি। অনুমতি নেওয়ার সময় জানিয়েছে, তারা সাবেক শিক্ষার্থী, পুনর্মিলনী করবে ক্যাম্পাসে।

বিজ্ঞাপন
সে কারণে আমরা অনুমতি দেই। কিন্তু তারা বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে প্রোগ্রাম করতে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেয়। 
তিনি বলেন, আমরা যদি জানতাম তারা বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ, তাহলে অনুমতিই দিতাম না। তাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্দ হওয়ার অধিকার আছে। আমি এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। নইলে স্পটে যেতাম। কাল সকালে আমরা শিক্ষার্থীদের কথা শুনব।

পাঠকের মতামত

The students in other countries, especially those in the western world, are not involved in campus politics like those in Bangladesh. Even students in India are not involved in campus politics. The students in those countries are busy with their study and research for building their professional careers. They want to shine in their professional careers with their own abilities. They do not think about making quick bucks but want to earn money honestly with their talents and hard labor. Look at USA, Europe, Japan, China, and other places and you will find how much research they are doing and contributing to the fields of science, technology, and others. Compared to that, Bangladeshi students and professionals are not doing anything. They are busy in dirty politics, taking bribes to become rich overnight, and fighting with each other. As a result, when the Bangladeshi students enter the job market and then land with a job, they cannot perform their tasks properly. That’s why Bangladeshi companies have to hire Indian nationals to get the job done. Unfortunately, this is the result of the directives given by the greedy national politicians who want to use the students and the professionals to remain in power and make a fortune for themselves. Also, the Bangladeshi students cannot see the harms being caused to them by the crooked politicians. Shame on them!

Nam Nai
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

জঙ্গিরা জঙ্গি দমন করে। সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী দমন করে। কত বড় হাঁস্যকর কথা। আমাদের সরকার জঙ্গি দমন করে বলে একটা কথা প্রায় বলতে শোনা যায়। জঙ্গি তো তাদের দলের ভিতরেই। দমন করে কি? জঙ্গি তো তাদের দলের লোক ই। দমন করে কি? জঙ্গি সন্ত্রাসী তো তারাই পালে। কি দমন করে তারা? বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন থাকলে একটাই আছে আর সেটা হচ্ছে লীগ। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন থাকলে একটাই আছে আর সেটা হচ্ছে লীগ। এতে কি কোন সন্দেহ আছে? কোন সন্দেহ নেই। আপনি উন্মুক্ত একটা জরিপ চালান, উন্মুক্ত একটা ভোটের ব্যবস্থা করেন যে বাংলাদেশে জঙ্গি কারা, সন্ত্রাসী কারা? এরপর দেখুন জনগণ কাদেরকে জঙ্গি আর সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করে? জনগণ নিশ্চিত বলে দিবে বাংলাদেশে কোন দলটি জঙ্গি, আর কোন দলটি সন্ত্রাসী। তাই এসব কথা শুনে হাঁসি পায় যে জঙ্গিরা জঙ্গি দমন করে।

salim khan
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১১:৪২ অপরাহ্ন

এই আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনীতি মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠুক। সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি।

মহুয়া মাবরূর
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৯:৪১ অপরাহ্ন

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যানার ছাড়া সমষ্টিগত ছাত্রদের সভা, অনুষ্ঠান হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ঐক্য জোরদার হবে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে ।

Kazi
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৯:২৩ অপরাহ্ন

আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করে ছাত্রলীগ বুয়েটের ইতিহাস ঐতিহ্য এক্কেবারে ধ্বংস করেছে তাই সন্ত্রাসী কোনো সংগঠনের বুয়েটে নূন্যতম ছাত্র রাজনীতির সুযোগ থাকা উচিৎ নয়।

Salma Khatun
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৯:০৩ অপরাহ্ন

প্রতিটি কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি সহ সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

দয়াল মাসুদ
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৯:০১ অপরাহ্ন

হত্যা ও সন্ত্রাসমুক্ত থাকুন বুয়েট। আর কোনো আবরারকে হত্যার উন্মত্ততায় যেন মেতে উঠতে না পারে হায়েনারা।

Nayeem
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৮:৩২ অপরাহ্ন

অভিনন্দন বুয়েট ছাত্রগন । অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উচিৎ তাদের অনুসরন করা । এভাবে দেশ বাচানো যেতে পারে।

Quamrul
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৭:৫০ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগের অত্যাচার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ছাত্রলীগ ছাত্র সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন, যেমন আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে। দেশের প্রতিটা সেক্টর কুক্ষিগত করে তাঁরা নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কতো মায়ের বুক খালি করেছে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর আওয়ামী সরকার গুম-খুনের রেকর্ড গড়েছে। ৬০ এর দশকে আমরা শ্লোগান দিতাম 'মায়ের বুক খালি কেন- খুনি ইয়াহিয়া জবাব চাই।' এখনকার মতো অগণিত মায়ের বুক তখন খালি হয়নি। মাত্র কয়েকজন। তাতেই রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে। গর্জে উঠেছে মানুষ। এখন কোন মায়ের বুক কখন খালি হবে সেই আতংক বিরাজ করছে। অথচ মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখনো সাহসীকতার সাথে প্রতিবাদ করতে জানে তা আমাদের জন্য ভরসা। এভাবে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গর্জে উঠতে হবে। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হেলমেট বাহিনীর খেতাবধারী ছাত্রলীগ কোনো অপকর্মে পিছিয়ে নেই। তাই তাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে। সকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য। বিবেকের তাগিদ থেকে খুনি সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা উচিত। খুনি ছাত্রলীগ যখন বুয়েট ক্যাম্পাসে কর্মসূচী পালন করে তখন আবরার যাহাদের আত্মা নিশ্চয়ই গুমরে গুমরে মাথা ঠুকেছে বুয়েট ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে। সুতরাং, ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ করা না হলে আরো আবরার ফাহাদের জীবন তারা কেড়ে নিতে পারে।

আবুল কাসেম
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন

Satrolig manei osrinkholota shontrasher protik, ayner proti tader bindu matro sroddha nai....

Nannu chowhan
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৬:৪৬ অপরাহ্ন

The directives for all these BCL activities are coming from the very top of the BAL leadership in order to destabilize the educational institutions of the country.

Nam Nai
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৪:৪২ অপরাহ্ন

জবর দখলদার শেখ হাসিনার সোনার টুকরো ছেলেদের ক্ষমতার দাম্ভিকতার মসনদ কি জড়াজীর্ন নড়বড়ে হয়ে গেল? তা নাহলে নিজেদের আত্ম পরিচয় গোপন করে শোক দিবস পালনের পরিবর্তে সাবেক বুয়েটের সাবেক ছাত্রদের পূণর্মিলনি অনুষ্ঠানের নামে সত্য গোপন করা হলো কেন? আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ কি অনুধাবন করতে পেরেছে ক্ষমতার ঈষাণ কোণে কালো মেঘ জমেছে? শেখ হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার তখতে তাউস কি এবার ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে? অহংকার পতনের মূল। দানবীয় শাসকের পতন কি অনিবার্য? নাকি নানা কুটকৌশলে ক্ষমতার হালুয়া ভক্ষণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে? আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগকে এখন ভাবতে হবে তারা কি বৃহত্তর ছাত্র জনতার পক্ষে না অবৈধ ক্ষমতার পক্ষেই অবস্থান নিবে।

আলমগীর
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড এতোটাই বিতর্কিত, তাদেরকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য।

আবুল কাসেম
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রায়শই মিলত ধর্ষণের হুমকি/ ‘গেট খুলে দেখি মেয়ে অর্ধ-উলঙ্গ এবং গলা কাটা’

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status