ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৪, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

তনু হত্যার ৭ বছর পরিবারের আক্ষেপ

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে
২১ মার্চ ২০২৩, মঙ্গলবারmzamin

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ৭ বছরেও খুনি শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ-আক্ষেপ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। বিচার পাওয়ার আশা প্রায় ‘ছেড়েই’ দিয়েছেন তারা। তনুর মায়ের শঙ্কা, মৃত্যুর আগে বুঝি তিনি মেয়ের খুনিদের বিচার দেখে যেতে পারবেন না। তনুর পরিবারের অভিযোগ, খুনের ৭ বছরে তদন্ত সংস্থা ৪টি বদলেছে আর ৫বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন ছাড়া তদন্তে কোনো আশার আলো দেখতে পাননি তারা। শুরুতে থানা পুলিশ, পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় মামলাটি তদন্ত করেও কোনো কূল-কিনারা পায়নি। তনুর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া কুমিল্লা সেনানিবাসে তনুর বাসা এবং তার কলেজের সংগঠন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারেও (ভিসিটি) স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তনুর মা আনোয়ারা বেগম  বলেন, ‘জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে আছি,  প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকি- এরই মধ্যে কয়েকবার হাসপাতালেও গেছি। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি মরে গেলাম। নামাজে প্রতিদিন দোয়া করি- মেয়েকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার যেন আল্লাহ করেন।

বিজ্ঞাপন
আমরা গরিব মানুষ, তাই বিচার পাওয়ার আশা এখন ছেড়েই দিয়েছি।’ ২০২০ সালের ২১শে অক্টোবর তনু হত্যা মামলা পিবিআইয়ে হস্তান্তর করে সিআইডি।

 মামলার তদন্তে আছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই জানিয়ে তনুর বাবা বলেন, ‘পিবিআই তদন্ত ভার পাওয়ার পর ভেবেছিলাম হত্যার বিচার পাবো। কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই দুই বছরের বেশি সময় ধরে। মামলা কী অবস্থায় আছে সেটাও জানি না আমরা।’ এদিকে মামলার কাজ ‘এগিয়েছে’ জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, ‘মামলাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা আন্তরিকভাবে তদন্ত করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে বেশকিছু অগ্রগতি আছে। তবে এখনই তা গণমাধ্যমে বলা ঠিক হবে না।’ তনুর পরিবারের অভিযোগ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘আমি তদন্তভার নেয়ার পর সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শক্রমে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তনুর পরিবার, স্কুলের শিক্ষকসহ কয়েকজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আমরা তদন্তে কোনো অবহেলা করছি না।’ ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ রাতে  তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে উদ্ধার করা হয়। সেনানিবাসের ভেতরে স্টাফ কোয়ার্টারে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তনু। হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় ৩০০ গজ দূরে আরেকটি স্টাফ কোয়ার্টারে ছাত্র পড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তনুর বাবা।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status