ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

বাংলারজমিন

বিজয়নগরের ৩১ রেলক্রসিংয়ের ২৬টিতেই নেই গেটম্যান

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার

ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা অংশের মোট ২৭ কিলোমিটারে ক্রসিং আছে ৩১টি। এরমধ্যে ২৬টি রেলক্রসিং অবৈধ। এসব ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান। ফলে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে এসব রেলগেট। অবৈধ ও গেটম্যানবিহীন এসব রেলক্রসিং পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যাওয়াসহ হতাহতের বহু ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে।  আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের হিসাব মতে, সম্প্রতি কয়েক বছরে বিজয়নগরের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যানবাহনের চালক এবং যাত্রীসহ ৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ৮ই সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিঙ্গারবিলের অবৈধ রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় স্থানীয় শ্রীপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ হামদু ভূঁইয়া ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রথমে মারাত্মক আহত হন। পরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।  এর আগে, গত বছরের ২৬শে অক্টোবর ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বোরহান উদ্দিন রাব্বি (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন
জানা যায়, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বেশির ভাগ সড়ক স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে। কিন্তু রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তায় কোনো উদ্যোগ নেয় না এলজিইডি। তাছাড়া রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেও ক্রসিংগুলোর একটা বড় অংশই অরক্ষিত। রেলওয়ের আইন অনুযায়ী, রেলপথে ক্রসিং তৈরি করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পূর্বানুমতি নিতে হয়। ক্রসিংয়ের স্থানে রেলপথের দুই পাশে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফটক নির্মাণ করতে হয়। এ ছাড়া কমপক্ষে ৩ জন প্রহরীর মজুরি, সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার খরচও বহন করতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এরপর সরজমিন পরিদর্শন করে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের পর নিকটস্থ রেলস্টেশন থেকে ওই ক্রসিংয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু অনুমোদন নিয়ে রেলক্রসিং নির্মাণ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ায় লোকজন অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের মতো করে রেলপথের দুই পাশে রাস্তা দেখিয়ে লেভেল ক্রসিং হিসেবে ব্যবহার করে। জানা যায়, চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের বিজয়নগর উপজেলাধীন সিঙ্গারবিল থেকে হরষপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার রেলপথ। রেলওয়ের হিসাব মতে, এই ২৭ কিলোমিটার রেলপথে থাকা ৩১টি ক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ৫টির অনুমোদন রয়েছে। সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নেই রয়েছে অনুমোদনহীন ৪টি রেলক্রসিং। এগুলোতে কোনো গেটকিপার নেই। লোকজনেরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব অবৈধ ক্রসিং পার হন। বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা লুৎফর রহমান বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট রেলপথের বিজয়নগর উপজেলায় রয়েছে ৪টি রেলস্টেশন। এর মধ্যে দু’টি রেলস্টেশনে ঢাকা ও সিলেটের আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত যাত্রাবিরতি দেয়। কিন্তু এই উপজেলার অনেক রেলক্রসিংয়েই কোনো গেটম্যান নেই। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর জানমাল রক্ষার্থে এসব রেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মনিরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়েতে এমনিতেই লোকবলের অভাব। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে যত্রতত্র রেল ক্রসিং গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান লোকবল দিয়ে এসব রক্ষণাবেক্ষণ করা রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে যেসব ক্রসিং বৈধ আছে, সেগুলো নষ্ট হয়ে গেলে দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করি।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status