ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৪, রবিবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

ঈদ সংখ্যা ২০২৪

ঘৃণা নয়, চাই ভালোবাসার বীজ

সিরাজুল ইসলাম কাদির
৯ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবারmzamin

রোববার দুই নভেম্বর। মোবাইলে ফোন এলো লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের কম্যুনিকেশন ম্যানেজার মহিউদ্দিন বাবর-আমাদের বাবর ভাইয়ের কাছ থেকে। ইফতারির জন্য আন্তরিক দাওয়াত। কবুল করলাম। কিন্তু পেশাগত কাজের চাপে শেষতক যেতে পারিনি। পরের দিন সোমবার বাবর ভাইকে ফোন করলাম। উদ্দেশ্য, ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু তিনি সে সুযোগ না দিয়ে বললেন, আজকের মধ্যেই পাসপোর্টটা দিবেন। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেলেই মনটা আনন্দে নেচে ওঠে। আবেগ সংবরণ করে জানতে চাইলাম কোথায়? বললেন, শিলং।

বিজ্ঞাপন
মেঘালয়ের রাজধানী। পাহাড়ের কোলে এই রাজ্য। ১৯৯৬ সালে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে গিয়েছিলেন শিলং ও গৌহাটিতে। সেই দলে আমারও থাকার সুযোগ হয়েছিল। সাংবাদিক হিসেবে ওটাই ছিল আমার প্রথম বিদেশ সফর। এরপর এই ৬/৭ বছরে কতো দেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। আমার জবাব না পেয়ে বাবর ভাই তাঁর রাশভারী কণ্ঠে বললেন, আপনাকে কিন্তু যেতেই হবে। এই সফরে আপনাকে সাথী হিসেবে পাশে চাই। আমি হাঁ-না কিছুই বলতে পারলাম না। তিনি আন্তরিকভাবেই চাইছেন আমি যেন তাদের সাথী হই। বিনীতভাবে বললাম, অফিস থেকে আমার অনুমতি নিতে হবে। সৌভাগ্যবশত অনুমতি পাওয়া গেল। এই একটি জায়গায় আমাদের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী উদার। তিনি সব সময় আমাদের বলেন, আমি রিপোর্টারদের বিদেশ যাওয়াকে উৎসাহিত করি। কারণ বিদেশে না গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানটা বোঝা যায় না।
মঙ্গলবার আমাদের যাওয়ার দিন ধার্য হলো। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়ায় আমাদের যাত্রাও একদিন বিলম্বিত হলো। বুধবার আমরা বাংলাদেশ বিমানের শেষ ফ্লাইটেÑ অর্থাৎ রাত সাড়ে ৮টার ফ্লাইটে সিলেট গেলাম। সেখানেই রাত যাপন। বৃহস্পতিবার লাফার্জের ব্যবস্থাপনায় তামাবিল। এত চমৎকার রাস্তা। দুপাশে সবুজ ধানের বিস্তীর্ণ খেত। অদূরে মেঘের কোলে পাহাড়ের চূড়ার মিতালী। গত বছর মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলাম। সেখানে সাত কি আটটি রাজ্য ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল নাবরাসকা। এই রাজ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে সয়াবিনের খেত। ঢেউ খেলানো রাস্তা। প্রান্তরের পর প্রান্তর। সেই সুমধুর স্মৃতি মনকে দোলা দিতে থাকে। ঢাকা শহর ছেড়ে বাইরে এলে বাংলাদেশের এ দৃশ্য নতুন কিছু নয়। নেই বিষবাষ্প। শব্দের উৎপাত। জনসমুদ্রের চাপ। বুক ভরে শ্বাস নিলাম। বাংলাদেশ সীমান্তে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে মোটেই বেগ পেতে হলো না। ইমিগ্রেশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আমাদেরকে দ্রুত সব কাগজ গুছিয়ে দিলেন। ভদ্রলোক মধ্যবয়সী। মিতভাষী, কিন্তু কাজ করলেন দ্রুত। টিনের চালাঘর। এখন থেকে ছ’বছর আগে যে অবস্থা দেখেছিলাম- সেটাই রয়ে গেছে। পুলিশের অনেক দুর্নাম আছে। কিন্তু তাদের এই দৈন্যদশার কথা আমরা কেউ বলি না। আলোতে নিয়ে আসি না। কতো কম বেতনে তারা কাজ করেন। আশার কথা, সরকার দাতাদের পরামর্শে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার তথা আধুনিকায়নের দিকে নজর দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, সরকারের আকার ছোট করুন। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাস্তবসম্পন্ন করুন।

 


ইমিগ্রেশন বিভাগের কাজ শেষ করার পর আমরা ছুটলাম কাস্টমসে। সেখানেও দ্রুত সব কাজ হলো। তবে ফেরার দিন একজন কাস্টমস কর্মকর্তার ব্যবহার ভালো লাগলো না। ফেরার দিন পুলিশের সেই কর্মকর্তা ছিলেন একই রকম আন্তরিকতাপূর্ণ। দ্রুত সব করে দিলেন। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তার কথার আড়ালে একটি লোভ উঁকি দিচ্ছিল। বললেন, কী এনেছেন আমাদের জন্য? তিনি স্পষ্টতই দেখছিলেন আমার ছোট একটা হ্যান্ডব্যাগ। এর মধ্যে কী-বা থাকতে পারে। কথাটি তিনি হেসেই বললেন। কিন্তু এই কথায় তার ইচ্ছে আমার কাছে আর অনাবৃত থাকলো না। আমি কোনো মন্তব্য করলাম না। তিনি পুনরাবৃত্তি করলেন। বললেন, আমাদের জন্য কিছু আনেননি? বিভিন্ন সময় কাস্টমসের কর্মকর্তাদের এ ধরনের লোভের কথা শুনেছি। সাংবাদিক শোনার পরও যিনি লোভ সামলাতে পারলেন নাÑ তার প্রকৃত চেহারা কী হতে পারে, অনুমান করে নিলাম। অথচ বিমান ভ্রমণে অসংখ্যবার বিদেশ গিয়েছি। কিন্তু কখনই কাস্টমস কর্মকর্তাদের এই ধরনের মানসিকতার পরিচয় মেলেনি। সে যা হোক আমরা তামাবিল পেরিয়ে ভারতের সীমান্তে গেলাম। ডাউকি, পাকা ভবন। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস’র কাজ সেরে নিলাম আমরা। তারাও সহযোগিতা করলেন। আমাদের জন্য আগে থেকেই লাফার্জের গাড়ি অপেক্ষা করছিল। দক্ষ ড্রাইভার। তরুণ। নাম তার রাজা। আমি সামনের দিকে বসলাম, তার পাশে। একটু পরপর পান খাচ্ছিলেন। ইচ্ছে করে বাংলায় কথাবার্তা শুরু করলাম। তিনিও বাংলায় জবাব দিলেন। বাড়ি তার পুলকলপে। শিলং জেলার মপুলের কাছে। তিন মেয়ের পিতা। সবাই লেখাপড়া করছে। আমি আলাপ জমালাম। আমরা ক্রমেই উপরে উঠছি পাহাড়ের শরীর বেয়ে বেয়ে। মাঝে মাঝে নিচে চোখ পড়লে বুকের পানি শুকিয়ে যায়। গাড়ি চলছে তো চলছেই। দুপুর একটা নাগাদ আমাদের গাড়ি চেরাপুঞ্জি যাওয়ার পথে থামলো। শিলং থেকে খাবার নিয়ে আমাদের জন্য একটি গাড়ি সেখানে অপেক্ষা করছিল। আমরা সবাই ক্ষুধার্ত ছিলাম। খাওয়ার জন্য যাত্রা বিরতি নয়। চলতে চলতে খাওয়া। আমরা ওয়ার্কিং লাঞ্চে অভ্যন্ত। এবার অভ্যস্ত হলাম মুভিং লাঞ্চে। ডানে শিলংয়ের রাস্তা রেখে আমাদের গাড়ি ছুটলো চেরাপুঞ্জির দিকে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিবহুল এলাকা।
ছোটবেলায় ভূগোলে পড়েছি চেরাপুঞ্জির কথা। চেরাপুঞ্জি একটি মহকুমা শহর। চেরাপুঞ্জির স্থানীয় নাম ‘সোহরা’। পাহাড়ের নিকষ পিঠে এই শহর গড়ে উঠেছে। চেরাপুঞ্জি শহর ছেড়ে আমাদের গাড়ি ছুটলো লাফার্জের মাইনিংয়ের উৎসস্থল নংট্রাই’র দিকে। দুপাশে ঘন পাহাড়। কখনো কখনো পাহাড়ের ম্লান অবস্থান। এই বৈচিত্র্য দু’চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছিল ঢাকায়। চোখের বিশ্রাম চাই। এইজন্যই এই বৈচিত্র্য। মেঘের আনাগোনা। নজরুলের গানের একটি লাইন মনে পড়ে গেলÑ আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ঐ...। সত্যি সত্যি এখানে আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমিয়ে আছে। নজরুলের এই লাইনটির মর্ম উপলব্ধি করলাম। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল। আরেকবার তার প্রতিভার কাছে আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করলাম। আমাদের সামনে দিয়ে মেঘ আনাগোনা করছে। এক অপূর্ব দৃশ্য। আমাদের গাড়ির সঙ্গে আলতো করে নরম মেঘ ধাক্কা খাচ্ছে। পাহাড়ের গা ফুঁড়ে মেঘ বেরিয়ে আসছে। সানফ্রান্সিসকোর কথা মনে পড়লো। কী চমৎকার শহর। পাহাড়ের কোলে এই শহর। কোলে কোলে মেঘ। এখানেও তাই। আমাদের পা ছুঁয়ে ছুঁয়ে মেঘ হেসে হেসে উড়ে যাচ্ছে। এক সময় আমাদের গাড়ি থেমে যায়। এবার একটু হাঁটতে হবে। সুযোগটা লুফে নিলাম। দীর্ঘ পথ গাড়িতে চড়ে চড়ে জং ধরে গেছে শরীরে। শরীরের ক্লান্তিটা ঝেড়ে নেমে পড়লাম। বাবর ভাই এগিয়ে এলেন। আতিথেয়তার আন্তরিকতা নিয়ে। কষ্ট হচ্ছে? বললাম, মোটেই না। উপভোগ করছি। পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। একটি শীর্ণকায় নদী। দুইদিকের পাহাড়ের মাঝে এই নদী Ñ নাম তার উমিয়াম। নৌকা, সরু, দীর্ঘ। আমরা উঠলাম। আমি মাঝখানে একটি সুবিধাজনক জায়গায় বসলাম। কী স্বচ্ছ নদী। তল দেখা যায়। নানা আকারের পাথর কী তার সৌন্দর্য। লাফার্জের পরিচালক রহিম ভাই বললেন, তল দেখা গেলেও মাঝখানে অনেক গভীর। এ যেন সেই নারী যাদের মনে হয় অনেক কাছের- কিন্তু কতো দূরে তারা। নারী আর নদীর এই রহস্যময়তা সৃষ্টির আদিকাল থেকে পুরুষকে বিভ্রান্ত করছে। রহস্যের জাল আবিষ্কারে কতো পুরুষ নিজেকে নিবেদন করেও সেই অতলের সন্ধান পায়নি। রহিম ভাই বললেন, বর্ষাকালে এই নদীর রূপ অন্যরকম। দুই প্রান্ত ছাপিয়ে ওঠে। প্রবল স্রোতে দু’পাশ তরতাজা হয়ে ওঠে। আরও রকম বিপদেও আমাকে পাড়ি দিতে হয় এই নদী। আমি রহিম ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালাম। তরুণ। শ্মশ্রুমণ্ডিত। কেমন একটি নিষ্পাপ চেহারা। তার আচরণ, কথা সবকিছু আমাকে মুগ্ধ করে। ঢাকার রহিম ভাইÑ আর ঢাকা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে এসে আরেক রহিম ভাইকে আবিষ্কার করি। তার ডান হাতটি নেই। খুবই ব্যক্তিগত। কিন্তু সংবেদনশীল বিষয়। তারপরও কৌতূহল চাপিয়ে রাখতে পারি না। কৈশোরে সাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। চিকিৎসকের ভুলের জন্য সারা জীবনের জন্য তিনি হাত-হারা। আমার নিজের জীবনে কতো বড় মূল্য দিয়েছি এই চিকিৎসা ভুলের। আমার অতি আদরের, পরম আদরের ছোট বোন চিকিৎসকের ভুলের জন্য আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। আমি রহিম ভাই’র দিকে তাকিয়ে থাকি। বছরের পর বছর তিনি এই এলাকায় আছেন। কখনো কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। পাহাড়ের দুর্গম পথ। খরস্রোতা এই নদী। আমার ভেতরে প্রশ্ন জাগে। 

কোম্পানির উচিত তাকে আরও বড় রকমের পুরস্কার দেয়া। নদী পার হয়ে পাথরের মাঠ। আমরা মাথায় হেলমেট পরে নেই। পা ফসকে পড়ে গেলে দুর্ঘটনা হতে পারে। রহিম ভাই, বাবর ভাই তাগাদা দেন দ্রুত চলার জন্য। নদীর এপারে গাড়ি অপেক্ষা করছিল। আমরা গাড়িতে উঠে পড়ি। এক সময় আমরা মাইনিং স্থলে পৌঁছে যাই। কী মূল্যবান পাহাড়। মাইন বিস্ফোরণ করে পাহাড়ের শক্ত গাঁথুনি আর শেকড়কে আলগা করা হচ্ছে। সুউচ্চ পাহাড়ের গা ভেঙে ভেঙে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। ক্রমেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আমরা রাতের বিশ্রামের জন্য চেরাপুঞ্জির পথে রওয়ানা হলাম। প্রায় একঘণ্টা চলার পর চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্টের সন্ধান মিললো। আমাদেরকে দেখেই এগিয়ে এলেন হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ডেনিস পি. রায়ান। আমাদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন তার পত্নী কারমেলা স্বাতী। ডেনিস তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে এখানে এই অতিথিশালা খুলে বসেছেন। ছটি কক্ষ। ছিমছাম। পরিচ্ছন্ন। এক নজরে আমাদের সবার ভালো লেগে গেল। ভূমি থেকে ৮ হাজার ফুট উঁচুতে। হাড় কাঁপানো শীত। বনফায়ারের ব্যবস্থা করা হলো সামনের লনে। আমরা সবাই চেয়ার পেতে গোল হয়ে বসলাম। ডেনিস হালকা পানীয়’র ব্যবস্থা করলেন। আড্ডা চললো অনেক রাত পর্যন্ত। কারমেলা এক সময় এসে ঘোষণা দিলেন রাতের খাবার তৈরি। ঘরোয়া পরিবেশে আমরা রাতের খাবার খেলাম। সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে এক সময় বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মনে হলো এই পৃথিবীতে কেউ স্বর্গের সৌন্দর্য নামিয়ে এনেছে। আমাদের চারপাশে মেঘেরা খেলা করছে। আমরা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে পারছি। এই নম্র শান্ত পরিবেশে কোনো উদ্বেগ নেই। আছে কেবল প্রশান্তি। সবুজ চাদর দিয়ে পাহাড়ের গায়ে কে যেন প্রকৃতির অপরিমেয় সৌন্দর্যকে বন্দি করে রেখেছে। দূরে দুধ-সাদা ওয়াটার ফল্স। মেঘালয়ের অর্থ হচ্ছে মেঘের বাসভূমি। আর চেরাপুঞ্জি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকা। নামের সঙ্গে প্রকৃতির কী অসাধারণ মিল। চেরাপুঞ্জিতে ১৯৯৯ সালে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২,৫০২.৮ মিলিমিটার। গত বছর এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১২,২৬২ মিলিমিটার।
দিনের আলোতে হলিডে রিসোর্টের আশপাশ দেখে নিলাম। ভবনের এক জায়গায় যিশুখ্রিস্টের দৃষ্টিনন্দন ছবির নিচে প্রার্থনার বাণী লেখা রয়েছে। প্রার্থনায় বলা হয়েছে:

Lord, make me an
instrument of your Peace.
Where there is hatred,
let me sow love...
Where there is injury, pardon,
Where there is doubt, faith,
Where there is despair, hope,
Where there is darkness, light,
and where there is sadness, joy.
O Divine master, grant that
I may not so much seek
to be consoled as to console;
To be understood as to understand;
To be loved as to love;
For it is in giving that we receive
it is in pardoning that
we are pardoned;
And it is in dazzling that
we are born to eternal life.
 

হে ঈশ্বর আমাকে আপনার
শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক করুন।
যেখানে ঘৃণা সেখানে যেন
ভালোবাসার বীজ বপন করতে পারি।
এই মহান ব্রত অর্জনে যদি ক্ষত সৃষ্ট হয়, ক্ষমা করে দিও,
যদি অবিশ্বাস দানা বাঁধে, যেন সেখানে আস্থা নির্মাণ করতে পারি,
যদি নিরাশা কুরে কুরে খায়, সেখানে আশার আলো জাগিয়ে দিও,
যেখানে অন্ধকার হে মহান সেখানে জ্বেলে দিও আলো,
আর যেখানে দুঃখ-বেদনা, সেখানে আনন্দের বৃষ্টি যেন বরষে।
হে আমার স্বর্গের প্রভু, তুমি আমার এই প্রার্থনা মঞ্জুর করো
আমি এর চেয়ে বেশি আর কোনো সান্ত্বনা বা প্রবোধ চাই না।
আমি ততটাই বুঝতে চাই, যতটা বোঝা যায়:
ততটা প্রেম চাই, যতটা প্রেম পাওয়া যায়:
আমরা যতটা গ্রহণ করি ততটাই যেন সমর্পণ করতে পারি
আমরা যেভাবে ক্ষমা পাই সেভাবেই যেন ক্ষমা করতে পারি
আর আজ এ কথা ক্রমেই মুমূর্ষু হয়ে উঠছে যে
আমাদের জন্ম হয়েছে শাশ্বত জীবনের জন্য।

দীর্ঘ কবিতা। কবিতার চরণে চরণে ডুবে যাই। পাশে এসে এক সময় দাঁড়ালেন কারমেলা স্বাতী। নিচু স্বরে ইংরেজিতে বললেন, ইজ ইট নট হেভেনলি? আমি বললাম, অবভিয়াসলি। এই দম্পতি এই রিসোর্টের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন। পর্যটন যে একটা জাতিকে সচ্ছল, সমৃদ্ধ করতে পারে তার প্রত্যক্ষ প্রতিচ্ছবি এই দম্পতি। তিন সন্তান উচ্চ শিক্ষারত। হলিডে রিসোর্টের গায়ে একটি ব্যানার ঝুলছে। গাড়িতে উঠতে উঠতে ব্যানারের লেখায় চোখ আটকে থাকে অনেকক্ষণ।

লেখাটি ছিল এ রকম:
Tourism: A driving force for poverty alleviation, job creation and social harmoû.
আমাদের গাড়ি চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্টের প্রাঙ্গণ ছেড়ে ধীরে ধীরে শিলংয়ের পথে এগুতে থাকে। ডেনিস-স্বাতী দম্পতি হাত নেড়ে বিদায় জানালেন। তাদের যুগল হাত বিদায়ের পতাকা হয়ে আমার চোখের সামনে জেগে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

লেখাটি সিরাজুল ইসলাম কাদিরের ‘সময়ের পথে পৃথিবীর পথে’ বই  থেকে  নেয়া। প্যাপিরাস থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

 

ঈদ সংখ্যা ২০২৪ থেকে আরও পড়ুন

   

ঈদ সংখ্যা ২০২৪ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status