ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৪, রবিবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

ঈদ সংখ্যা ২০২৪

পরশ পাথর

শামীমুল হক

(২ মাস আগে) ১৩ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

mzamin

এক লোক দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তার স্ত্রী এটাকে হেয় চোখে দেখেন। ওই স্ত্রী তার স্বামীকে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিতে থাকেন। বিদেশে গিয়ে মানুষ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-গয়না কতো কিছু নিয়ে আসে। তুমিও তাই কর। স্বামীর কথা- আমি বিদেশ গিয়ে কী করবো। কোনো কাজ জানি না। স্ত্রী বলেন, অন্য মানুষে যা করে তুমিও তা করবে। অনেক বোঝানোর পর স্বামী বেচারা রাজি হলেন। ওই লোকের এক বন্ধু ছিল কর্মকার।

বিজ্ঞাপন
এদেশে তো দিন আনি দিন খাই। আমি বিদেশে যাবো। সেখানে কাজ করে একসঙ্গে বেশকিছু টাকা নিয়ে এসে কিছু একটা করে খেতে পারবো। তুমি আমার পরিবারের দিকে নজর রাখবে। যদি কোনো অসুবিধায় পড়ে তাহলে সাহায্য করবে। কর্মকার বললো, তোমার পরিবারকে বলবে, কোনো সমস্যায় পড়লে জানাতে। আমি সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। দিনমজুর একদিন সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল অন্য এক দেশে। সে কোনো হাতের কাজ জানে না। কী করবে সে? ভাবতে ভাবতে এক জমিদারের বাড়িতে কাজের জন্য আবেদন করলো। জমিদার তার সঙ্গে কথা বলে তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং বেতন কতো দিতে হবে জানতে চাইলেন। দিনমজুর বললেন, বেতন অন্য মজুররা যা পায় তাই দেবেন। জমিদার বললেন, আমার এখানে দুই ভাবে বেতন দেয়া হয়; একটি হলো প্রতি মাসে আর অন্যটি হলো প্রতি বছরের বেতন একসঙ্গে। আর বছর শেষে যা দেয়া হয় তা হলো- আমার একটা গোডাউন আছে। ওই গোডাউনে আছে মণি, মুক্তা, হিরা, জহরত। দিনমজুরকে বছর শেষে চোখ বন্ধ করে ওই গোডাউনে ছেড়ে দেয়া হবে। চোখ বন্ধ করে যেকোনো একটি জিনিস আনতে হবে। আর সেটিই হলো তার মজুরি। সে এই কথার ওপর রাজি হয়ে এক বছরের জন্য কাজ করতে আরম্ভ করলো। এক বছর কাজ করার পর তার বেতনের সময় হয়েছে। তাকে বেতনের জন্য তৈরি হতে বলা হলো। 

 সে ঠিকমতো তৈরি হয়ে তারিখ মতো গোডাউনের সামনে হাজির হলো। সেখানে আরও অনেক লোক জমায়েত হয়েছে। তাকে গোডাউনের মধ্যে কী আছে আগে দেখতে বলা হলো । দেখে নেয়ার পর তার চোখ বেঁধে গোডাউনে ছেড়ে দেয়া হলো। দিনমজুর নিজের ইচ্ছামতো একটি মুদ্রা উঠিয়ে নিলো। সবাই দেখার জন্য অপেক্ষা করছে কী জিনিস তার ভাগ্যে উঠেছে। দেখা গেল তার ভাগ্যে পড়েছে অচেনা একটি পাথর। এরকম পাথর কেউ কোনোদিন দেখেনি। এই পাথর দিয়ে কী হবে? হতাশ হয়ে সে আবার এক বছরের জন্য কাজ শুরু করলো। কিন্তু পাথরটা সবসময় তার সঙ্গেই রাখে। একদিন নদীতে গোসল করতে গিয়ে দেখলো তার কর্মকার বন্ধু ওই নদী দিয়ে নৌকা নিয়ে যাচ্ছে। দেখামাত্র বন্ধুকে ডেকে বললো, বন্ধু নৌকা ভেড়াও কথা আছে।  অনেক দিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। অনেক কথা জমা আছে। কিন্তু সময়ের অভাবে সব বলতে পারেনি। জানতে চাইলো, আমার বাড়ির কোনো খবর আছে কি? কর্মকার বন্ধু জানালো না ভাই হয়তো ভালোই আছে। আমি কোনো খবর নিতে পারিনি। যাক বন্ধু এবার শোন- এক বছর কাজ করার পর একটি পাথর বেতন পেয়েছি। এই পাথরটা আমার পরিবারের কাছে দিয়ে দেবে। বলে দেবে, আমি এক বছর কাজ করার পর এই পাথরটি বেতন হিসেবে পেয়েছি। এটা যেন যত্ন করে রাখে। আমি এক বছর পর আবার বেতন পেলে বাড়িতে আসবো। কর্মকার পাথরটি নৌকার মধ্যে রেখে দিলো এবং বিদায় নিয়ে চলে গেল। 

 বাড়িতে গিয়ে নৌকায় থাকা সমস্ত লোহা নৌকা থেকে নামিয়ে যথাস্থানে রেখে দিলো। পরের দিন দেখা গেল সমস্ত লোহা হলুদ রং হয়ে গেছে। সে চিন্তায় পড়ে গেল। ভাবতে লাগল কিনে আনলাম লোহা হয়ে গেল তামা। এগুলো দিয়ে তো আমার কোনো কাজ হবে না। সে চিন্তা করে এক টুকরা লোহা কেটে স্বর্ণকারের দোকানে নিয়ে গেল। স্বর্ণকার পরীক্ষা করে দেখলো এটি স্বর্ণ। কর্মকারকে জিজ্ঞেস করলো ভাই এই কাঠি তুমি কোথায় পেয়েছ? বিক্রি করলে অনেক টাকা পাবে। কর্মকার তা বিক্রি করে দিলো এবং অনেক টাকা নিয়ে বাড়ি গেল। বুঝতে পারলো বন্ধুর দেয়া পাথরই লোহাকে স্বর্ণ বানিয়েছে। এই পাথরই পরশ পাথর। আর পরশ পাথরের ছোঁয়ায় লোহা স্বর্ণ হয়ে যায়।  এখন কর্মকারের আর কোনো অভাব নেই। স্বর্ণ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হতে লাগলো। আশপাশের সকল জমি কিনতে লাগলো। নিজে থাকার জন্য বিরাট আলিশান বাড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলো এবং বাড়ির কাজে হাত দিলো। এসব দেখে আশপাশের মানুষ বলতে লাগলো- এটা কী করে সম্ভব। কর্মকার নতুন রাজা হয়েছে। সে লোহা এনে স্বর্ণ বানিয়ে বিক্রি করতে লাগলো। এবং স্বর্ণের রাজপুরি বানিয়ে সেখানে বসবাস করতে লাগলো। তার নাম বদল করে নতুন রাজা রাখা হয়েছে। আদেশ দেয়া হয়েছে কেউ কর্মকার বলতে পারবে না। কর্মকার বললে জঘন্য শাস্তি দেয়া হবে। এই অবস্থায় দেশের রাজাও তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

  ওদিকে ওই দিনমজুরের এক বছর সময় পার হয়েছে। তার বেতনের তারিখ এসেছে। এইবার তাকে চোখ বন্ধ করে গোডাউনে ছেড়ে দিলো। এবার সে একটি স্বর্ণের চাকা পেলো। স্বর্ণের চাকা পেয়ে সে মহাখুশি। এটা থেকে কিছু স্বর্ণ বিক্রি করে কাপড়-চোপড়, গহনা, আসবাবপত্র অনেক কিছু বাজার করে বাড়িতে এসেছে। অনেক দিন পর বাড়িতে আসায় পরিবারের সবাই খুশি। কিছুদিন যাওয়ার পর কথায় কথায় পরিবারের কাছে জানতে চাইলো, আমার এক বছরের রোজগার একটি পাথর পেয়েছিলাম। সেটি তোমার কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেটি কোথায়? কর্মকার তোমাকে পাথর দেয়নি? স্ত্রী বললো, না কর্মকার এমন কোনো পাথর দেয়নি। সে তো এখন নতুন রাজা হয়েছে। তাকে কেউ কর্মকার বলতে পারে না। আর কর্মকার বললে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হয়।  দিনমজুর সব শুনে বললো আমি কালকেই তার কাছে যাবো। আমার পাথর আমি নিয়ে আসবো। পরদিন সকালে দিনমজুর তার কর্মকার বন্ধুর বাড়ি গেল। সেখানে গিয়ে যা দেখলো তাতে সে অবাক। আশপাশের সব বাড়ি সরিয়ে দিয়ে সে রাজবাড়ি তৈরি করেছে। বাড়ির মেইন গেটে দারোয়ান পাহারা দিচ্ছে। গেটের সামনে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলো, ভাই এটা কি কর্মকারের বাড়ি? হ্যাঁ, এটাই। তবে কর্মকার বলবেন না। তিনি এখন নতুন রাজা হয়েছেন। দারোয়ানকে দিনমজুর জানালো কর্মকারের সঙ্গে আমার বিশেষ দরকার আছে। দারোয়ান বললো, কর্মকার বলো না। কর্মকার বললে গর্দান কেটে নেয়া হবে। দিনমজুর বললো- আমি কর্মকারকে কর্মকারই বলবো। তুমি গিয়ে বলো আমার দরকার আছে। দারোয়ান বললো, তুমি দাঁড়াও আমি আসছি। দারোয়ান গিয়ে নতুন রাজাকে বললো, এক আজব লোক এসেছে আপনার সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য। রাজা বললো, যাও তাকে নিয়ে এসে বসাও। দারোয়ান গিয়ে মজুরকে এনে বসালেন। বললো, রাজা আপনার সঙ্গে দেখা করবেন। মজুর ভেতরে গিয়ে অবাক। স্বর্ণের সবকিছু। আসবাবপত্র, টেবিল-চেয়ার সবই স্বর্ণের তৈরি। দিনমজুর তো আশ্চর্য হয়ে গেছে। এরই মধ্যে নতুন রাজা এলেন দিনমজুরের সামনে। জিজ্ঞেস করলেন, কি ভাই, কি মনে করে আসলেন? আমি আসলাম কারণ তোমাকে একটি পাথর দিয়েছিলাম। আমার পাথর আমাকে দিয়ে দাও। ওহ ভাই! আমি তোমার পাথরের কথা ভুলেই গিয়েছি। একটা কেন তোমাকে বহু পাথর দিয়ে দেবো।  না ভাই, আমার বহু পাথরের দরকার নেই। আমার পাথরটাই আমাকে দিয়ে দাও। আমি আমার পাথর ছাড়া অন্য পাথর  নেবো না। তোমার পাথর কী করে দেবো। আমার বাড়িতে অনেক কাজ হয়েছে। কোথায় সেই পাথর গিয়ে পড়েছে। এখন আমি সেটা কোথায় পাবো? আর তোমাকেই কী করে দেবো? আমার বাড়িতে বহু পাথর আছে। তুমি কয়েক বস্তা পাথর নিয়ে যাও। আমি দিয়ে দেবো।  

দিনমজুরের এক কথা- আমি অন্য পাথর নেবো না। আমার পাথর আমাকে দিতে হবে। এসময় কর্মকার রেগে যায়। বলে যাও, আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। আর আমার বাড়িতে আসবে না। দিনমজুর বের হয়ে চলে গেল দেশের রাজার কাছে। রাজাকে সমস্ত কিছু জানিয়ে মামলা করলো। রাজা দিনমজুরকে একটা তারিখ দিয়ে বললেন, ওইদিন তুমি আসবে, কর্মকারও আসবে। সেদিনই সবকিছু ফয়সালা হবে। তারিখ মতো দিনমজুর এসে হাজির হলো। কর্মকারও আসলো। রাজবাড়ির কাজী অফিসে বিচার বসালেন রাজা। বিচারে সওয়াল জবাবে একপর্যায়ে কর্মকার বললেন, আমি তাকে একটি পাথরের বদলে অনেক পাথর দিতে রাজি আছি। তাহাকে অনুমতি দেন পাথর নেয়ার জন্য। দিনমজুর বললো, আমাকে আমার পাথর দিতে বলেন। আমি আমার পাথর ছাড়া অন্য কোনো পাথর নেবো না। তাহলে মামলা এখানেই শেষ। মজুর হতাশ হয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। এমন সময় মাঠের মধ্যে গরু চড়াচ্ছে রাখালের দল। রাখালের রাজা দিনমজুরকে দেখে বুঝতে পারলো লোকটা খুবই চিন্তিত। রাখালের রাজা অন্যদের হুকুম দিলো ওই লোকটাকে এখানে নিয়ে এসো। কথামতো কাজ। দিনমজুরকে নিয়ে আসা হলো। দিনমজুর রাখালের রাজাকে বললো, বাবা আমি তো কোনো দোষ করিনি। আমাকে কেন এখানে ধরে আনা হয়েছে। রাখালের রাজা জানতে চাইলো- আপনার মধ্যে কীসের চিন্তা তা নির্ভয়ে বলুন। আমরা এর প্রতিকার করবো। বাবা এর সমাধান দিতে দেশের রাজাই পারেনি। আপনারা কী করবেন? আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনার যেকোনো দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ খুলে বলুন। আমরা এর সমাধান দিতে পারবো। দিনমজুর বলতে লাগলেন, ‘আমি এক বছর কাজের মূল্য হিসাবে একটি পাথর পেয়েছিলাম। সেই পাথরটি কর্মকারকে দিয়েছিলাম আমার বাড়িতে পৌঁছে দিতে। সে পাথর এনে আমার বাড়িতে দেয় নাই। সে এখন নতুন রাজা হয়েছে। আমি পাথরের দাবি করাতে সে আমাকে তার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এ কারণে আমি কষ্ট পেয়েছি। আপনারা যদি এর বিচার করতে পারেন তাহলে খুশি হবো অবশ্যই। রাখালের রাজা বললো, আপনি অপেক্ষা করুন। আজ থেকে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আপনার যাবতীয় খরচ আমাদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। রাখাল রাজার হুকুমে সকল রাখাল যার যার বাড়ি থেকে চাল আর টাকা এনে জমা করলো।

 একজন মজুরের জন্য দশজনের দেয়া টাকা আর চাল অনেক হয়েছে। এগুলো আপনার বাড়িতে পৌঁছে দেবো। আর আপনি আমাদের বিচারের তারিখ মতো পরিবারসহ উপস্থিত হতে হবে। দিনমজুরকে চাল এবং টাকাসহ বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হলো। রাখালের রাজা ও উজির দেশের রাজার কাছে গিয়ে মজুরের বিচার কী করেছেন জিজ্ঞাসা করলো। রাজা জানালেন, কর্মকার পাথর দিতে রাজি আছে কিন্তু দিনমজুর তা নিতে রাজি নয়। বিচারই যদি হবে দিনমজুর পাথর নেবে না কেন? কর্মকার তার পাথর দেবে না কেন? আমরা এর বিচার করবো। আপনি খালি বিচারের ব্যবস্থা করুন। বিচার হবে রাখালের মাঠে। ওইখানেই সবাইকে থাকার জন্য আমন্ত্রণ করবেন। বিচারের জন্য বারো দেশের বারো রাজাকে নিমন্ত্রণ করে আনতে হবে। আগামী মাসের ১৬ তারিখ বিচার হবে। প্রত্যেক রাজা ও বাদী-বিবাদীকে পরিবারসহ উপস্থিত হতে হবে। বিচারের সমস্ত ব্যবস্থা প্রস্তুত। ঠিক তারিখ মতো সবাই উপস্থিত। রাখালের রাজা বললেন, আপনারা বারো দেশের বারো রাজা এসেছেন। আমিও একজন রাখালের রাজা। আমাকে হুকুম দেন আমি বিচার করবো। রাখালের রাজাকে সবাই হুকুম দিয়েছেন বিচার করার জন্য। রাজা দিনমজুর ও তার পরিবারকে বললো, ওই দূরে একটি পালকি দেখা যাচ্ছে সেটা উঠিয়ে এখানে নিয়ে আসেন। এটা আনতে না পারলে পাথর পাবেন না। পালকি আনতেই হবে।  পালকির কাছে গিয়ে আগে দিনমজুর পেছনে তার স্ত্রী উঠাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু পালকি বেশি ভারী তাই উঠাতে পারছে না। মজুর বললো, ‘তুমি একটু উঠাইয়া রাখো। আমি ছেচরাইয়া নিয়ে যাবো।’ আমার এক বছরের বেতন পাথরটা। আমি তা ছাড়তে পারি না। স্ত্রী বললো, আমরা পাথর দিয়ে কী করবো। পালকি উঠানো যাবে না। এ অবস্থায় রাখাল রাজা বললেন, আপনারা এসে পড়েন। এবার কর্মকার ও তার পরিবারকে পাঠানো হলো। পালকি আনতে পারলে পাথর দিতে হবে না। কর্মকার আগে স্ত্রী পেছনে, পালকি উঠাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু পারছে না। কর্মকার তার পরিবারকে বলে যেভাবেই হোক পালকি নিতে হবে। না পারলে পাথর দিয়ে দিতে হবে। স্ত্রী বলে, পাথর দিয়ে দাও। আমরা যতটুকু বড় হওয়ার, হয়ে গেছি। তার পাথর তাকে দিয়ে দাও। পালকি নিতে পারবো না। এ অবস্থায় রাখালের রাজা বললেন, আপনারা এসে পড়েন। বোঝা গেছে, তা আনতে পারবেন না। 

রাখালের রাজা উজিরকে বললো যাও, বিচারক নিয়ে এসো। উজির গিয়ে পালকি খুলে দিলেন। পালকির ভেতর থেকে দুইজন উকিল বের হয়ে আসলেন। তাদের হাতে কাগজপত্র। উপস্থিত সবাই এবার বুঝতে পারছেন কী হতে যাচ্ছে। প্রথম উকিলকে রাখালের রাজা বললেন, আপনি আপনার বয়ান দিন। প্রথম উকিল বলতে লাগলেন- প্রথম পুরুষ বলেছেন, ‘তুমি একটু উঠাইয়া রাখো। আমি ছেচরাইয়া নিয়ে যাবো।’ আমার এক বছরের বেতন পাথরটা। আমি তা ছাড়তে পারি না। স্ত্রী বললো, আমরা পাথর দিয়ে কী করবো। পালকি উঠানো যাবে না। দ্বিতীয় উকিল এবার এলেন তার বয়ান নিয়ে। দ্বিতীয় পুরুষ বলেছেন, তার  পরিবারকে বলেছেন- যেভাবেই হোক পালকি নিতে হবে। না পারলে পাথর দিয়ে দিতে হবে। স্ত্রী বলেছেন, পাথর দিয়ে দাও। আমরা যতটুকু বড় হওয়ার, হয়ে গেছি। তার পাথর তাকে দিয়ে দাও। পালকি নিতে পারবো না। এবার রাখালের রাজা হুকুম দিলেন- কর্মকারের কাপড় খুলে সে যেন দিনমজুরের কাপড় পরে নেন। আর মজুরের বাড়িতে কাজ করবে। আর দিনমজুর কর্মকারের কাপড় পরে তার বাড়িতে গিয়ে উঠুক। একইসঙ্গে নতুন রাজ্য পরিচালনা করুক। এই বিচারে সবাই খুশি। 

ঈদ সংখ্যা ২০২৪ থেকে আরও পড়ুন

   

ঈদ সংখ্যা ২০২৪ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status