ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

বিশ্বজমিন

১৬ কোটি রুপির প্রতারণা

মানবজমিন ডেস্ক

(১ মাস আগে) ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সোমবার, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

mzamin

ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোর অন্যতম আইসিআইসিআই ব্যাংক। সেই ব্যাংকের একজন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি রুপি বা ১৯ লাখ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে চুরি করে নেয়ার অভিযোগ করেছেন শ্বেতা শর্মা নামে এক নারী। তিনি বলেছেন, তার যুক্তরাষ্ট্রের একাউন্ট থেকে এই ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তার দাবি ছিল এই অর্থ একটি ফিক্সড ডিপোজিটে জমা হবে। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা তার স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া একাউন্ট খোলেন। তারপর শ্বেতার নামে একটি ডেবিট কার্ড এবং চেকবই তোলেন। তা ব্যবহার করে তিনি একাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নিতে থাকেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। 

শ্বেতা শর্মার ভাষায়- ওই কর্মকর্তা আমাকে ভুয়া ব্যাংক বিবরণী পাঠাতেন। আমার নামে একটি ভুয়া ইমেইল আইডি খুলেছিলেন। ব্যাংক রেকর্ডে আমার মোবাইল নাম্বার ম্যানিপুলেট করেছেন।

বিজ্ঞাপন
ফলে একাউন্ট থেকে যে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে এ সম্পর্কে আমি কোনো নোটিফিকেশন পাইনি। ব্যাংকটির এক মুখপাত্র প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বলেছেন, আইসিআইসিআই ব্যাংক স্বনামধন্য। এই ব্যাংকটি লাখ লাখ ভোক্তার জমানো ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন রুপি জমা রাখে। এ ঘটনায় যিনি দায়ী হবেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংয়ে কয়েক দশক বসবাসের পর ২০১৬ সালে শ্বেতা শর্মা ও তার স্বামী ভারতে ফিরে আসেন। এ সময় একজন বন্ধুর মাধ্যমে একজন ব্যাংকারের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে সুদের হার যেহেতু খুব সামান্য, তাই শ্বেতার স্বামী তাকে বুদ্ধি দেন অর্জিত অর্থ ভারতে স্থানান্তর করতে। কারণ, ভারতে সুদের হার শতকরা ৫.৫ থেকে ৬ ভাগ পর্যন্ত। ২০১৯ সালে দিল্লির কাছে পুরনো গুরুগ্রামে আইসিআইসিআইয়ের একটি শাখায় স্বামীর বুদ্ধিতে অনাবাসিক ভারতীয়দের জন্য এনআরই একাউন্ট খোলেন শ্বেতা। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে তার একাউন্ট থেকে এই একাউন্টে অর্থ পাঠাতে থাকেন। শ্বেতা বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছর ধরে আমাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি জমা করি এই ব্যাংকে। এর সঙ্গে সুদ যোগ হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ কমপক্ষে ১৬ কোটি রুপি। 

শ্বেতা বলেন, কখনো তার মধ্যে কোনো সন্দেহ জন্মেনি। কারণ শাখাটির ম্যানেজার তাকে সব সময় ব্যাংকে অর্থ জমার যে রশিদ, যথাযথ সেই রশিদই আমাকে পাঠিয়েছেন। তার আইসিআইসিআই একাউন্ট থেকে ইমেইলে নিয়মিত আমাকে স্টেটমেন্ট পাঠাতেন। কখনো কখনো ডকুমেন্টের ফোল্ডার ধরে পাঠাতেন। কিন্তু প্রতারণার বিষয়টি প্রথম জানুয়ারিতে সামনে আসে। কারণ, এ সময় ওই ব্যাংকের নতুন একজন কর্মকর্তা মিস শর্মাকে তার অর্থের বিপরীতে আরও ভাল লাভ পাওয়ার প্রস্তাব দেন। বলেন, বেশি বেশি অর্থ পাঠাতে। তার একাউন্টে তেমন কোনো টাকা নেই। এ সময়ই শ্বেতা শর্মা দেখতে পান তার যে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল তার সবটাই নিঃশেষ হয়ে গেছে। শ্বেতা বলেন, এতে আমি ও আমার স্বামী হতাশ হয়ে পড়লাম। আমি অটো-ইমিউন ডিজঅর্ডারে ভুগতে লাগলাম। আমি মানসিকভাবে এতটাই আঘাত পেয়েছি যে, পুরো এক সপ্তাহ ধরে বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। আমার চোখের সামনে পুরো জীবনটাকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়া হলো। তার বিপরীতে কিছু করতে পারলাম না। 

শ্বেতা শর্মা জানান, সব তথ্য তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মিটিং করেছেন। শ্বেতা বলেন, ১৬ই জানুয়ারি প্রথম সাক্ষাৎ হয় ব্যাংকটির আঞ্চলিক, জোনাল ও আভ্যন্তরীণ নজরদারি বিষয়ক প্রধানদের সঙ্গে। তারা মুম্বই থেকে উড়ে গিয়েছিলেন সেখানে। তারা আমাকে বলেছেন তারা স্বীকার করেন এটা তাদের ত্রুটি ছিল। ওই শাখা ম্যানেজার প্রতারণা করেছেন। তারা আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পুরো অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার। কিন্তু প্রথমেই তারা বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে যে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে তা শনাক্ত করতে তাদেরকে আমার সহায়তা করতে হবে। 

মিস শর্মা ও তার একাউন্ট্যান্ট টিম কয়েকদিন চার বছরের স্টেটমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। তা তারা ওই টিমের কাছে উপস্থাপন করেন। তাতে দেখা যায় শতভাগ প্রতারণা করা হয়েছে। শ্বেতা শর্মা বলেন, কিভাবে এই অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে আবিষ্কার করা হতাশাজনক। তা কোথায় খরচ করা হয়েছে তাও জানতে চাই। তিনি বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ৬ সপ্তাহ পরেও তিনি অপেক্ষায় আছেন তার অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য। এর মধ্যে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি লেখেন এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। 

এ বিষয়ে বিবিসির জিজ্ঞাসার জবাবে ব্যাংকটি একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে ব্যাংকটি বলেছে, তারা শ্বেতা শর্মার একাউন্টে ৯ কোটি ২৭ লাখ রুপি জমা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। বাকি অর্থ তদন্তাধীন। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মিস শর্মা। তিনি বলেন, আমি পাবো ১৬ কোটি রুপি। কিন্তু আমাকে তার চেয়ে খুব কম অর্থ প্রস্তাব করা হচ্ছে। এখন পুলিশ এই মামলাটি ক্লোজ না করা পর্যন্ত একাউন্টের অর্থ জব্দ অবস্থায় থাকবে। এর অর্থ মামলাটি নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। 

শ্বেতা শর্মার প্রশ্ন- আমার কোনো ত্রুটি না থাকার পর আমি কেন শাস্তি পাবো? আমার জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। এখন আমি ঘুমাতে পারি না। প্রতিক্ষণ দুঃস্বপ্ন দেখি। পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্যাশলেস কনজুমার পরিচালনা করেন শ্রীকান্ত এল। তিনি বলেন, এমন ঘটনা খুব বেশি পাওয়া যায় না। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য ব্যাংকগুলো অডিট ও চেক করে। কিন্তু যদি আপনার ব্যাংক ম্যানেজার আপনার সঙ্গে প্রতারণা করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে আপনার করার কিছু নেই বললেই চলে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যাংক ম্যানেজার ছিলেন, তাই তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন শ্বেতা। কিন্তু কাস্টমারকে আরও বিচক্ষণ হতে হয়। সবসময় তাদের একাউন্ট থেকে অর্থ কোনদিকে যাচ্ছে তা মনিটরিং করতে হয়।

 

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত

‌‌‘‌আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা নয়’‌/ আমেরিকাকে সতর্ক করলো উপসাগরীয় দেশগুলো

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status