ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৪, শনিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সময় অসময়

আমরা কী জেনে বুঝে তরুণদের লাঠিয়াল বানাচ্ছি

রেজানুর রহমান
৪ জানুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবারmzamin

তরুণদেরকেই গুরুত্ব দেয়ার কারণ কী? হ্যাঁ কারণ আছে। দিন শেষে, মাস, বছর শেষে আপনার, আমার পরিবারে তরুণ সদস্যই কিন্তু ভবিষ্যৎ আশা ভরসার কাণ্ডারি। কাজেই তারা সঠিক পথে হাঁটছে কিনা সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি। এটাই সত্য, অতীতের মতো এবারের জাতীয় নির্বাচনেও তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছে কে? তরুণরাই তো।  মোটরসাইকেলের বহর সাজাচ্ছে কে? কেন তরুণেরাই তো। প্রতিপক্ষকে হুমকি দিতে হবে, কাকে প্রয়োজন? এখানেও তরুণরাই ভরসা। নেতা বলেছেন। কাজেই আগুনেও ঝাঁপ দিতে রাজি আছি। কিন্তু নেতারা কী আদৌ তরুণদের কথা ভাবেন? নেতার ডাকে যে তরুণ অথবা তরুণী আগুনে ঝাঁপ দেয়ার জন্য প্রস্তুত নির্বাচন শেষে নেতারা কী তার বা তাদের কথা ভাববেন? ইতিমধ্যে দেশের অনেক স্থানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
এর নেতৃত্ব দিতে হয়েছে তরুণদেরকেই। নেতার নির্দেশে প্রতিপক্ষের জনসভায় হয়তো বোমা ফাটিয়েছে, অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখিয়েছে, গুলি করে মানুষ মেরেছে। নির্বাচন শেষে তার বা তাদের অবস্থা কী হবে? প্রতিপক্ষ কী তাকে ছেড়ে কথা বলবে? তখন কী নেতানেত্রীরা তার পাশে থাকবেন

ছোটবেলার একটা বিশেষ স্মৃতি মনে পড়ছে। ডিম আর দুধ সবচেয়ে পুষ্টিকর খাদ্য। অথচ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ডিম খাওয়া মানা। কী ডিমভাজি, কী ডিম আলুর রান্না কোনোটাই খাওয়া যাবে না। কেন খাওয়া যাবে না তার  পেছনে যুক্তি দেখিয়ে বলা হতো- ডিম যেহেতু গোল কাজেই ডিম খেয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে গোল্লা অর্থাৎ ডিমের মতো শূন্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কাজেই নো ডিমের তরকারি। ডিম-দুধের পর মাছের মধ্যে পুষ্টিমান অর্থাৎ আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে। অথচ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভেদা নামের একটি মাছের রান্না খাওয়াও বারণ ছিল। ভেদা মাছ আকারে কৈ মাছের মতো। মাথা সুচালো। কালি কলমের নিবের মতো। কথিত আছে ভেদা মাছ নাকি কলমের নিব চুরি করেছে। তাই তার মুখ নিবের মতো সুচালো। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ভেদা মাছের রান্না খেয়ে গেলে নাকি সঙ্গের কলম দিয়ে লেখা বের হবে না। কী জঘন্য কুসংস্কার। 

আমি এই কুসংস্কার মানিনি। ডিম খেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়েছিল। আমার দাদী মাকে এজন্য খুব ভর্ৎসনা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘বউমা তোমরা কেমুন মানুষ বাহে? ছাওয়াটাক ফলের (কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তখনকার দিনে ডিমকে ডিমা এবং ফল বলা হতো) ভাজি দিয়া ভাত খাওয়ায়া পরীক্ষাত পাঠে দিলান বাহে? তোমরা জানেন না ফল খায়া পরীক্ষা দিতে গেইলে ছাওয়া (ছেলে) হামার পরীক্ষার খাতাত গোল্লা পাইবে।’ বলাবাহুল্য পরীক্ষায় গোল্লা পাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং উল্লেখ করার মতো সাফল্য ছিল। 

সেই দিন আর এই দিন কতো পার্র্থক্য। পরীক্ষার আগে ডিম খাওয়া নিষেধ ছিল। এখন ডিম খেতে নিষেধ নাই। যত পারো ডিম খাও। যত পারো মাছ খাও। হোক সে ভেদা মাছ। সাজনার পাতার যে এতগুণ আগে কেউ জানতো না। এখন সাজনার পাতা করপোরেট বাণিজ্যে ঢুকে গেছে। আগে বুড়োরা অর্থাৎ বয়স্ক ব্যক্তি শিশুদেরকে জ্ঞান দিতেন। এখন শিশুরাই বয়স্কদের জ্ঞান দেয়। অধিকাংশ পরিবারে মোবাইল ফোনের খুঁটিনাটি, কম্পিউটারের অ, আ বয়স্কদের চেয়ে শিশু-কিশোররাই বেশি জানে। তারাই দাদা-দাদীকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কায়দা-কানুন শেখায়। কম্পিউটারের জ্ঞান দেয়। এই সব ঘটনা প্রমাণ করে পৃথিবী আর আগের মতো নাই। তথ্যপ্রযুক্তির জাদুর কাঠি পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কেউ কী কোনোদিন ভেবেছিল নিজের ছবি নিজে তোলা যাবে। সাত সমুদ্র তের নদীর পারে অবস্থান করা ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যখন খুশি সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। 

ভিডিওতে উভয়ের চলমান ছবি দেখা যাবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জীবন আরও সহজ করে দিয়েছে। আপনি কিছু একটা ভাবছেন, অথবা কোনো বিষয়ে লিখতে চান। নিজে কষ্ট করার কোনো মানে হয়? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই আপনার ভাবনাকে বাস্তবে করে দেখাবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই বিস্ময়কর অগ্রগতি উন্নত বিশ্বে তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছে। বাংলাদেশের অবস্থা কী? জাতীয় নির্বাচনের কথাই যদি ধরি এবার দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ নতুন ভোটার হয়েছে। তরুণ ভোটার। জাতীয় নির্বাচনে প্রথম ভোট দিবে। আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচন মানেই সারা দেশে ভোট উৎসব। পারিবারিক ক্ষেত্রে যেকোনো আনন্দ উৎসব আয়োজনে তরুণ সদস্যরাই বেশি ভূমিকা রাখে। জাতীয় নির্বাচনেও তাই ঘটছে। মিছিলের অগ্রভাগে তরুণরা। দেয়ালে পোস্টার লাগাতে হবে এখানেও তরুণদেরই অংশগ্রহণ বেশি। এলাকায় মাইকিং করতে হবে, সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠকের আয়োজন করতে হবে তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া হবে না। কিন্তু তরুণদের এই আত্মত্যাগের যথার্থ মর্যাদা কী দিতে পারবো আমরা?
অনেকে হয়তো ভাবছেন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কতো কথাই তো বলা যায়। সেখানে শুধুমাত্র তরুণদেরকেই গুরুত্ব দেয়ার কারণ কী? হ্যাঁ কারণ আছে। দিন শেষে, মাস, বছর শেষে আপনার, আমার পরিবারে তরুণ সদস্যই কিন্তু ভবিষ্যৎ আশা ভরসার কাণ্ডারি। কাজেই তারা সঠিক পথে হাঁটছে কিনা সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি। এটাই সত্য, অতীতের মতো এবারের জাতীয় নির্বাচনেও তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছে কে? তরুণরাই তো।  মোটরসাইকেলের বহর সাজাচ্ছে কে? কেন তরুণেরাই তো। প্রতিপক্ষকে হুমকি দিতে হবে, কাকে প্রয়োজন? এখানেও তরুণরাই ভরসা। নেতা বলেছেন। কাজেই আগুনেও ঝাঁপ দিতে রাজি আছি। কিন্তু নেতারা কী আদৌ তরুণদের কথা ভাবেন? নেতার ডাকে যে তরুণ অথবা তরুণী আগুনে ঝাঁপ দেয়ার জন্য প্রস্তুত নির্বাচন শেষে নেতারা কী তার বা তাদের কথা ভাববেন? ইতিমধ্যে দেশের অনেক স্থানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এর নেতৃত্ব দিতে হয়েছে তরুণদেরকেই। নেতার নির্দেশে প্রতিপক্ষের জনসভায় হয়তো বোমা ফাটিয়েছে, অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখিয়েছে, গুলি করে মানুষ মেরেছে। নির্বাচন শেষে তার বা তাদের অবস্থা কী হবে? প্রতিপক্ষ কী তাকে ছেড়ে কথা বলবে? তখন কী নেতানেত্রীরা তার পাশে থাকবেন? 

আমরা তরুণদের নিয়ে অনেক কথাই বলি। প্রকৃতপক্ষে দেশে তরুণরাই বেশি অসহায়। কারণ কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ নাই। ফলে দিনে দিনে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এই সুযোগ নিচ্ছেন তথাকথিত অনেক রাজনৈতিক নেতা-আমার সঙ্গে থাক। মিছিল মিটিং-এ নেতৃত্ব দিবি, স্লোগান ধরবি। নেতা আছে রে... কোন সে নেতা... ভবিষ্যৎ শঙ্কায় থাকা অসহায় তরুণের তখন আর কিছু করার থাকে না। নেতা বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি আমার ভবিষ্যৎ দেখবেন... এই ভরসায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও মিছিল-মিটিংয়ে ভিড়ে যাচ্ছে অনেক তরুণ। 

গ্রামের তরুণদের বিরাট অংশই মোবাইলে আসক্ত। মোবাইলে খায়, মোবাইলে খেলে, মোবাইলেই ঘুমায়। মোবাইল ফোনই যেন তাদের জীবনের নিয়ন্ত্রক। কেউ কেউ নেতাদের পেছনে ঘুরতে পছন্দ করে। শহরে তরুণদের একটি অংশ তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নির্মাণের স্বপ্নে বিভোর। আরেকটি অংশ নেতাদের দৃষ্টি কাড়তে ব্যস্ত। লটারির টিকিটের মতো ‘যদি লাইগ্যা যায়’ এমন ভরসায় নেতার মন পেতে চায়। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রবণতা বেড়েছে। 
অন্যদিকে তুষের আগুনের মতো অজান্তে পুড়ে যাচ্ছে অনেক অসহায় তরুণের জীবন। যারা ভোট বর্জনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন তারাও ব্যবহার করছেন এই তরুণদেরকেই। গাড়ি পোড়াও, যানবাহনে আগুন দাও, তথাকথিত হরতাল, অবরোধে ঝটিকা মিছিল করো- তরুণরাই ভরসা। রেলপথে নাশকতা চালাতে হবে, প্রতিপক্ষের মিছিলে হামলা করতে হবে। গুলি চালাতে হবে এখানেও তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বপ্নটা কী? লেগে থাকো। ভবিষ্যৎ সুখের হবে। 

এবার নতুন ভোটারের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নতুন ভোটারদের অধিকাংশই রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাস, সহিংসতা পছন্দ করে না। ফলে তারা অনেকটাই রাজনীতিবিমুখ। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মাঝে রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রাম তেমন একটা টানে না। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও তাদের মোটেই পছন্দ নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের মানুষ সবাই এক সঙ্গে থাকুক তারা সেটাই চায়।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা কী তরুণদের এই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিচ্ছি? তাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো পথ তৈরি করতে পেরেছি? উচ্চ শিক্ষা শেষে নির্দিষ্ট পথের ঠিকানা কী তারা জানে? ফলে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের বিদেশমুখী প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটু সুযোগ পেলেই তারা বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশে বৃহৎ দুটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে অসংখ্য শিক্ষার্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা ছাত্র রাজনীতি কী সেটা বোঝে? সাংগঠনিক আদর্শ-উদ্দেশ্য সম্পর্কে কতোজন সম্যক ধারণা রাখে? শুধু বোঝে, যেকোনো মূল্যে সাংগঠনিক প্রভাব বজায় রাখতে হবে। প্রতিপক্ষকে জায়গা দেয়া যাবে না। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণই যদি ছাত্র রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হয় তাহলে আদৌ তা গুরুত্ব পাচ্ছে কী? দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী সংসদ দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে আছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রছাত্রী সংসদ ডাকসু’র অবিস্মরণীয় ভূমিকা ছিল। সেই ডাকসু এখন ভুলতে বসা একটি নাম। বর্তমান সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ‘ডাকসু’ সম্পর্কে বোধকরি কোনো ধারণাই দিতে পারবে না। এই দায় কার?

লেখাটি শুরু করেছিলাম কয়েকটি সাধারণ কুসংস্কারের প্রসঙ্গ দিয়ে। এখন হয়তো কুসংস্কারগুলো সেই অর্থে মানা হয় না। কিন্তু প্রভাব-প্রতিপত্তির কুসংস্কার আধিপত্যবাদের কবল থেকে আমরা কি আদৌ মুক্ত হতে পেরেছি। এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভাই, ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাবা মেয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। এই ধরনের নির্বাচনী লড়াইয়ে লাঠিয়ালের ভূমিকায় দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে মূলত তরুণদের। অন্যদিকে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে অন্য পক্ষ তরুণদেরই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এখানেও তরুণরাই লাঠিয়াল। হায়রে তারুণ্য...। 

ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতে অনেক শুভ কামনা সবার জন্য। আর মাত্র ৩ দিন পর জাতীয় নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে বহু কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হোক- এই প্রত্যাশা সবার। নির্বাচনের পর সবাই যেন নির্বাচনী যোদ্ধা তরুণদের মনে রাখেন এই আশায় থাকবো।

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ/ তাসে কি তবে টোকা লেগেছে?

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status