ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

বাংলারজমিন

ভাগ্য বদলাবে জেলেদের

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
২৪ জুন ২০২২, শুক্রবার

‘আমরা যদি বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারি তাহলে তার প্রভাব পড়ে হতদরিদ্র জেলেদের ওপর। পদ্মা সেতু খুলে গেলে রাতে ধরা মাছ ভোর বেলাই সড়ক পথে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো যাবে ঢাকায়। এতে করে মাছের গুণগত মান যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে তেমনি দামও পাওয়া যাবে বাজারের অন্য এলাকার মাছের চেয়ে বেশি। তাই পদ্মা সেতু খুলে গেলে প্রতিযোগিতার বাজারে আমরাই হবো সেরা। জেলেরা হবেন বেশি লাভবান।’ গতকাল সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ভাই ভাই মৎস্য আড়তের মালিক অমর দাসের সঙ্গে পদ্মা সেতু নিয়ে কথা হলে এভাবেই প্রতিবেদককে কথাগুলো বলেন তিনি। এরপর কথা হয় উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের প্রবীণ জেলে বাদশা মাঝির সঙ্গে। তিনি বলেন, রাতভর কষ্ট করে মাছ ধরি। মাঝে মধ্যে বাজার ভালো পাই আবার কম পাই। মহাজন জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালু হলেই নাকি আমাদের ভাগ্য খুলে যাবে। আমরা নাকি মাছ বিক্রি করে বেশি লাভবান হতে পারবো। 

উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী কালাইয়া বন্দরের মৎস্য আড়তদার সমিতির একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেরা রাতভর মাছ ধরে সকালে নিয়ে আসেন আড়তে।

বিজ্ঞাপন
সেই মাছ ফ্রিজিং করে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এরপর নদীপথে লঞ্চযোগে রাজধানীতে পৌঁছাতে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা লেগে যেতো। আবার কোনো কোনো সময় নদীর নাব্য সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি, ও লঞ্চের ধীর গতির জন্য ২০ থেকে ২২ ঘণ্টাও লেগে যায়। দীর্ঘ সময়ে মাছ বরফে থাকার কারণে মাছের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতো। ফলে ইলিশের বাজারদাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা মাহবুব আলম (ঝান্টা) তালুকদার বলেন, উপজেলার জেলেদের দীর্র্ঘ বছরের একটি সমস্যা ছিল ঢাকায় নদী পথে মাছ পাঠানো। সেই সমস্যা দূর হবে পদ্মা সেতু চালু হলেই। পদ্মা সেতুর ফলে জেলেদের ভাগ্যে পরিবর্তন আসবে। উপজেলায় ১০ হাজারেরও বেশি জেলে পরিবার রয়েছে। যারা তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকার করে এবং জীবিকা নির্বাহ করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে একটা উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। 

বাউফল পৌরসভা থেকে ঢাকায় সরাসরি বিআরটিসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) বাস চালু হবে ২৬শে জুন থেকে। এ ছাড়াও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্য যা নদী পথে আসা-যাওয়া করতো পদ্মা চালু হলে সড়ক পথে আসা যাওয়া করবে। এ সকল যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলেই যোগাযোগ ব্যবস্থায় একধাপ এগিয়ে যাবে এতদিন পিছিয়ে থাকা এ অঞ্চল। আসবে নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন। সড়ক পথে নির্বিঘ্নে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো যাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এতে করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলাবাসীর ভাগ্য খুলে যাবে।  

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com