ঢাকা, ২৫ মে ২০২৪, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

নির্বাচন ঘিরে একই প্রশ্ন, আমেরিকা কি ম্যানেজ হয়ে যাবে?

তারিক চয়ন
২৪ আগস্ট ২০২৩, বৃহস্পতিবার
mzamin

চলতি বছরের শেষে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। আসন্ন জানুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বক্তব্য দিলেও চায়ের দোকানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়েও কানাঘুষা চলে। এসবের বাইরে বেশ নিয়মিতভাবেই কানে বাজে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে? বিএনপি কবে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে? বিএনপি কি ঢাকার রাজপথ দখল করতে পারবে? পর্দার আড়ালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে কি সমঝোতা হচ্ছে বা হবে? আওয়ামী লীগ কি পদত্যাগ করবে? বিএনপিকে কি নির্বাচনকালীন সরকারে কিছু মন্ত্রিত্ব দেয়া হবে? সংসদের প্রধান বিরোধী দল, জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি কি সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপি’র সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেবে নাকি তারা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন করে ফের প্রধান বিরোধী দল হতে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর কষাকষি করবে? আবারো কি ১/১১ এর মতো কিছু হবে? তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন অথবা তারা কি নির্বাচনের আগে দেশে আসবেন?  বিএনপি বা বিএনপি জোট নির্বাচন বয়কট করলেও তাদের একটি অংশ কি নির্বাচনে অংশ নেবে? চীন কার সঙ্গে থাকবে? ভারত কি আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে? বিএনপি বয়কট করলেও জামায়াতে ইসলামী কি নির্বাচনে অংশ নেবে? বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? চীন ও ভারতের মধ্যে সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? নির্বাচনের সময় পুলিশের ভূমিকা কেমন হবে? নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া কি ছাড়া পাবেন? জাইমা কি রাজনীতিতে আসবেন? জয় নাকি পুতুল, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে হবেন? নির্বাচনে রাশিয়ার ভূমিকা কেমন হবে?
তবে, এসব প্রশ্ন ছাপিয়ে যে প্রশ্নটি হাটে-ঘাটে-মাঠে-চায়ের দোকানে-টিভি টকশোতে-পত্রিকার কলামে-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ সর্বমহলে উত্থাপিত হচ্ছে সেটি হলো- আমেরিকা কি ম্যানেজ হয়ে যাবে? আরও সুনির্দিষ্ট করে লিখলে, আমেরিকাকে কি ভারত ম্যানেজ করে ফেলবে? কিংবা আরও সুনির্দিষ্ট করে লিখলে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ নিয়ে ভারত কি আমেরিকাকে ম্যানেজ করে ফেলবে? এই প্রথম প্রশ্ন থেকে স্বাভাবিকভাবেই আরেকটি প্রশ্ন জাগে, আমেরিকাকে ম্যানেজ করার প্রশ্ন আসছে কেন? আর সেই আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।

পাঠক, চলুন খুঁজে নেয়া যাক আরেকটি প্রশ্নের উত্তর। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের আমলে নানা কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র আমেরিকাকে ম্যানেজ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কিন্তু, হালে যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করার বিষয়টি টক অফ দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয় মূলত ২০২১ সালের ১০ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাতজন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর।

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে, র‌্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন খোদ সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরদিনই (১১ই ডিসেম্বর) পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ঢং’ হিসেবে উল্লেখ করে, র‌্যাবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অস্বীকার এবং ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও দিন যত গড়িয়েছে ততই ফুটে উঠেছে এ ইস্যুতে দেশটিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা।

দু’সপ্তাহ না যেতেই সুর বদল করেন মোমেন। ২৪শে ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে পাঠানো এক চিঠিতে ‘ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে’ ওই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। সরকারের তরফে যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করার বিষয়টি একেবারে নগ্ন হয়ে পড়ে নতুন বছরের (২০২২ সাল) ২৬শে এপ্রিলে যখন মন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশ ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনাবাসী ভারতীয়রাও দেশটির সরকারকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা হওয়ার পর আমরা তাদের সাহায্য চেয়েছি। তারা আমাদের প্রতি সদয় ছিলেন। তারা বলেছেন ওটা তুলবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী ভারতীয়র সংখ্যা ৪৫ লাখ। তারাও বেশ প্রভাবশালী। তারাও এটি মার্কিন সরকারকে অনুরোধ করছেন প্রত্যাহারের জন্য। এটা সম্ভব হয়েছে প্রতিবেশী ভারত বন্ধুরাষ্ট্র বলে। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি, সাহায্য চেয়েছি। যারা উদ্যোগ নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তাদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে’ (সূত্র: প্রথম আলো)। এই সেদিনও (১৩ই জুলাই, ২০২৩) র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে দেশটিকে অনুরোধ করে সরকার। ওইদিন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার-বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ করেন।

অবশ্য পর্যবেক্ষক এবং বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই বলছিলেন যে, কেবল আলোচনা বা অনুরোধের মাধ্যমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কোনো পরিবর্তন আসবে না। নিষেধাজ্ঞার মাস চারেকের মধ্যেই (এপ্রিল, ২০২২) যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে সেটার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষে আলাদা করে হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। এটা একটা প্রক্রিয়ার বিষয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এবং যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, সে সমস্ত অভিযোগের ব্যাপারে এক ধরনের ধারণা তাদের আছে। তারা সেটা নজরদারিতে রেখেছে।’

নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইস্যুটি জড়িয়ে তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমার জানা মতে, র‌্যাবের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি যুক্ত আছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর, গণতন্ত্রের বিষয়, মত প্রকাশের অধিকারের প্রশ্ন এবং আগামী নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়- সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নজর রয়েছে।’

প্রফেসর রীয়াজের কথার মিল খুঁজে পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে দেয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বক্তব্য গুলোতে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাসখানেক পর (জানুয়ারি, ২০২২) এই লেখককে দেয়া নিজের বিদায়ী সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দু’মাস পর (মার্চ, ২০২২) ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ‘র‌্যাবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কঠিন’ এমন ইঙ্গিত করে বলেন,  মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নিশ্চুপ থাকবে না। এর আগের দিন নুল্যান্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও মন্ত্রী তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে র‌্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

এদিকে, গত বছর (২৯শে সেপ্টেম্বর) সেন্টার ফর গর্ভনেন্স স্ট্যাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্ও ‘র‌্যাবের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে না’ জানিয়ে বলেন, বাহিনীটিতে ‘সংস্কার’ আনলে সেটি বিবেচনা করা হবে। এর আগে (৩১শে মে, ২০২২) ডিক্যাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উক্ত সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন পিটার হাস্, ‘র‌্যাবের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে’। এরপরও র‌্যাবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকারের প্রকাশ্য আহ্বান এবং পর্দার অন্তরালে দেন- দেরবার যেমন থেমে থাকেনি, তেমনি থেমে থাকেনি নিষেধাজ্ঞার জন্য বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপানো। এ বছরও (১৪ই জানুয়ারি) একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার পর মন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আমেরিকা অন্য বুদ্ধিতে তাদের ওপর প্রেসার দিয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে এ জিনিসগুলো ওভারকাম করবো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হবে’। ২রা মার্চ র‌্যাবের মহাপরিচালক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যা জানতে চেয়েছিল; তাদের অনেক ভুয়া তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত, তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল’। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র সঙ্গে বৈঠকের পর ‘র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহার করা হবে’  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমন আশা প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ঠিক পরদিনই ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র জেফ রাইডেনুর এই লেখককে জানিয়েছিলেন যে, ঢাকায় নিজের বৈঠকগুলোতে ডোনাল্ড লু র‌্যাবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে কোনো সময়সীমা নির্দেশ করেননি।

র‍্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার ইস্যুটি ছাড়াও আরেকটি ইস্যুতে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ’ করার জোর আলোচনা চলেছিল। র‌্যাবের বিরুদ্ধে যে সময় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় ঠিক সেই মুহূর্তে (৯ই ও ১০ই ডিসেম্বর, ২০২১) চলছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত প্রথম গণতন্ত্র সম্মেলন। ওই সম্মেলনে বাইডেন বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে (১১০টি) আমন্ত্রণ জানান। দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারত, নেপাল এমনকি পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী মোমেন সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল গণতন্ত্রের দেশগুলোকে নিয়ে ‘গণতন্ত্র সম্মেলন’ ডেকেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, যেসব দেশ গণতন্ত্রের দিক থেকে দুর্বল হয়তো তাদের ডাক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা দুই পর্বে এই সম্মেলন করবে। প্রথম পর্বে এমন কয়েকটি দেশ নিয়ে সম্মেলন করছে, যারা গণতান্ত্রিক দিক থেকে খুবই দুর্বল। দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়েছে সেটি আমি বলি না। হয়তো পরে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের ডাকবে’।

মন্ত্রী মোমেনের উক্ত বক্তব্য শোনে অনেকেই তখন বলাবলি করছিলেন যে, ‘হয়তো পরে যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যানেজ করা হবে এবং পরবর্তী গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হবে’। কিন্তু, বছর দেড়েক পর (২৯ ও ৩০শে মার্চ, ২০২৩) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনেও আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল সূত্র মানবজমিনকে জানায়, এবারের সম্মেলনে আমন্ত্রণের পূর্বশর্ত হিসেবে কিছু বিষয়ে বাংলাদেশের আগাম প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ঢাকা তাতে তাৎক্ষণিক সাড়া না দেয়ায় আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ঝুলে যায়! এবারের সম্মেলনেও আমন্ত্রণ না পাওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, অনেক দেশকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) দাওয়াত দেয়, যাদের মধ্যে গণতন্ত্রের নাম গন্ধও নেই।

এই প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার অপেক্ষাকৃত চুপ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা সম্প্রতি ‘হাসিনাকে দুর্বল করলে ক্ষতি সবার, বার্তা আমেরিকাকে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সূত্রবিহীন প্রতিবেদনটির সত্যতা এখনো যাচাই না হলেও নির্বাচন ঘিরে সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন, আমেরিকা কি ম্যানেজ হয়ে যাবে?

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status