ঢাকা, ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১ জিলহজ্জ ১৪৪৩ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

চলতি পথে

বাজারে আগুন, বিপন্ন ভোক্তা, কে দেবে পরিত্রাণ?

শুভ কিবরিয়া
২ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার

করোনার পর মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছে তখন হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আয়োজন শুরু হলো। রান্নার তেলের বাজারে আগুন লাগলো। চালের বাজারে তার আঁচড় পড়লো। ধানের ভরা মৌসুমে এখন নতুন করে আবার বেড়েছে চালের দাম। প্রতিবছর এ সময় চালের দাম কম থাকে। চালের আড়ত নওগাঁয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা ৫০ কেজি চালের দাম ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। সংবাদপত্র জানাচ্ছে ২৯শে এপ্রিল ২০২২ মিলগেটে ৫৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল ২৮শে মে ২০২২ বিক্রি হয়েছে ৬৩-৬৪ টাকায়। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুর রশিদ মিডিয়াতে বলেছেন ‘আমার লাইফে এই ভরা মৌসুমে এভাবে মিনিকেট চালের দাম বাড়তে দেখিনি। দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টরা হয়তো ধান ও চাল মজুত রেখেছে।’ ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার বিষয়ে, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, ‘কেন চালের দাম বাড়বে এবং কোথায় কে চাল মজুত করেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ 

শুধু চাল, ভোজ্য তেলই নয় বাজারে আগুন দ্রুত বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। সব ভোগ্যপণ্য, নিত্যব্যবহারসামগ্রীসহ সবজি, ডিম, কলা, মাছ, মাংস, আনাজ, সাবান, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট, বনরুটি, পাউরুটি... প্রতিটি জিনিসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলেছে।

বিজ্ঞাপন
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে এক বছর আগের তুলনায় এখন ময়দার দাম ৭২ শতাংশ, খোলা পামওয়েল ৫৯ শতাংশ এবং চিনির দাম ০৮ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে আবার সরকারিভাবে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৫.১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কারিগরি কমিটি বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দাম ৫.১৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.১৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে। সে হিসাবে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়বে ৫৮%। এর ফলে ভোক্তাপ্রান্তে খুচরা বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। এর আগে মার্চ, ২০২২ মাসে গ্যাসের দাম ভোক্তা পর্যায়ে গড়ে ২০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের প্রধানতম অজুহাত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ফলে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য হচ্ছে, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। আমাদের মূল্য সমন্বয়ের দিকে যেতেই হবে। সরকার কতদিন ভর্তুকি দিয়ে চালাবে। এভাবে ভর্তুকি দিয়ে চলতে পারে না। সরকার ভর্তুকি দেবে, আবার জনগণকেই ভর্তুকির চাপ বহন করতে হবে’। 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বরাবরের মতো ভোক্তা সংগঠনের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি এসেছে। তারা বলেছেন, বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন কম ছিল, দরপতন অব্যাহত ছিল, তখন কম দামে তেল কিনে সরকার জনগণের কাছে বেশি দামে বিক্রি করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এভাবে মুনাফা করেছে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। তখন বিদ্যুতের দাম কমানো হয় নাই। শুধু তাই নয়, তাদের বক্তব্য হচ্ছে, দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা-অদক্ষতায় যে অপচয় হচ্ছে তার দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে জনগণের ঘাড়ে। তারা বরং যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিদ্যুতের দাম কমানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দিয়েছেন। 

 

ব্যবসায়ীদের কথাবার্তা আর নীতিনির্ধারকদের কথা শুনলে মনে হয়- এই দুই প্রান্তে সমন্বয়ের অভাব আছে ভীষণ। কখন কোন জিনিসের দাম বাড়ানো উচিত, দাম বাড়লেও কিসের মানদণ্ডে, কতটুকু মুনাফার নিরিখে, পণ্য বা সেবার মূল্য কতটুকু হওয়া উচিত তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন নেই। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন আছে সেখানেও ন্যায্যতার সঙ্গে আইন-বিধি কেউই মানছেন না। যেকোনো জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানোর আইনি এখতিয়ার কেবলমাত্র বিইআরসি বা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক সময় আইনের তোয়াক্কা না করেই সরকারের মন্ত্রণালয় অথবা বিভাগ বা কোনো দপ্তর জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। এভাবে বহুক্ষেত্রে আইন-বিধি না মানার খেসারত দিচ্ছে জনগণ

 

অন্যদিকে এবার প্রথমবারের মতো সরকারের এই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র ও প্রবল প্রতিবাদ এসেছে। যে ব্যবসায়ীরা একসময় বলতেন, দাম যতই হোক, তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান, তারাই এখন ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। সংবাদ সম্মেলন করে ব্যবসায়ীদের সব চাইতে বড় সংগঠন এফবিসিসিআই পরিষ্কার করে বলেছে বিদ্যুৎ খাত অস্বচ্ছ অদক্ষ। অব্যবস্থাপনার দায়ভার অর্থনীতি ও মানুষের ওপর চাপানো ঠিক হবে না। অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে অব্যাহত রাখা হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর একসময় প্রয়োজন ছিল এখন আর দরকার নেই, এগুলো বন্ধ করা উচিত। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় তাহলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে মানুষের ওপর। দেশের এই সংকটের সময়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও তারা অভিমত দিয়েছেন।
উল্লেখ করা দরকার, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত সাড়ে ১৩ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১০ বার, আর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ বার। ২০০৯ সালে দুই চুলার গ্যাসের বিল ছিল ৪০০ টাকা এখন তা ৯৭৫ টাকা। 

০২. 
বাজারে যখন রান্নার তেলের দাম একলাফে লিটার প্রতি ৩৮ টাকা বেড়ে গেল, তখন বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা শুনলাম, ব্যবসায়ীদের বিশ্বাসভঙ্গের কথা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিপু মুনশি ৯ই মে ২০২২ এক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করেছিলাম, এটাই আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্বাস করা ভুল হয়েছে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখেছি মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। মিল মালিকরা কথা রাখলেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে।’

এই যে পরিস্থিতির সুযোগ কিংবা বিশ্বাসভঙ্গ- বাজার অর্থনীতিতে এর কোনোটাই নতুন কথা নয়। সরকারকে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। মুক্তবাজারের অবাধ প্রবাহ যাতে লাগামহীন না হয়, সরকারকে তার বিধি ব্যবস্থা করতে হয় নানা তরিকায়। কখনো রেগুলেশন বা নীতি দিয়ে বাজারের রাশ টানতে হয়, অথবা কখনো বাজারে সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করে, খোলা বাজারকেও প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে রাখতে হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ কথা সত্য, বাজারের ওপর আমাদের সেই প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বা সেই প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করতে চাওয়াই হয়নি। বলা বাহুল্য বহু বছর ধরে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারের হাতে থাকা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)কে কখনো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। উল্টো আমরা দেখছি সরবরাহ লাইনে না দাঁড়িয়ে, বিপদের সময়, বাজারের প্রান্তিক অবস্থানে নানারকম ম্যাজিস্ট্রেসি ব্যবস্থা আরোপ করে বাজারের অনিয়মকে থামাবার চেষ্টা করে সরকার তার প্রশাসনের মাধ্যমে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম- অসুখ যাতে না হয় সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে নজর না দিয়ে, অসুখকে বাড়তে দিয়ে, তারপর ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতুড়ে সার্জারির আয়োজন করা।

এবার অবশ্য নতুন মওকা পাওয়া গেছে বাজারকে অস্থির করার কৌশল হিসেবে। সেটা হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাত। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, এই যুদ্ধ গোটা বিশ্ব পরিস্থিতির পালে নতুন হাওয়া তুলেছে। বিশেষ করে, জ্বালানি তেলের বাজারে এই যুদ্ধের একটা চাপ পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা অস্থিতিশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে, পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু তার আগেই সেই আওয়াজকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বাজারে সব শ্রেণির পণ্য ও সেবার দাম বাড়ানো হয়েছে। মানুষ যখন নানাভাবে আর্থিক চাপে আছে ঠিক তখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 

জনগণের একটা বড় অংশ করোনার ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যারা দৈনন্দিন আয় করে ব্যয় করে, যারা শ্রমিক শ্রেণির মানুষ, যারা রিকশাচালক, দিনমজুর, শ্রমিক, স্বল্প আয়ের মানুষ, নিম্নবিত্ত, নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত- সবাই দারুণভাবে বিপাকে পড়েছেন, হঠাৎ বাজারের এই ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বমূল্যের চাপে। আক্ষরিক অর্থেই মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে ন্যূনতম মানে জীবনযাত্রার ব্যয় চালিয়ে নিতে।

০৩.
ব্যবসায়ীদের কথাবার্তা আর নীতিনির্ধারকদের কথা শুনলে মনে হয়- এই দুই প্রান্তে সমন্বয়ের অভাব আছে ভীষণ। কখন কোন জিনিসের দাম বাড়ানো উচিত, দাম বাড়লেও কিসের মানদণ্ডে, কতটুকু মুনাফার নিরিখে, পণ্য বা সেবার মূল্য কতটুকু হওয়া উচিত তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন নেই। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন আছে সেখানেও ন্যায্যতার সঙ্গে আইন-বিধি কেউই মানছেন না। যেকোনো জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানোর আইনি এখতিয়ার কেবলমাত্র বিইআরসি বা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক সময় আইনের তোয়াক্কা না করেই সরকারের মন্ত্রণালয় অথবা বিভাগ বা কোনো দপ্তর জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। এভাবে বহুক্ষেত্রে আইন-বিধি না মানার খেসারত দিচ্ছে জনগণ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মূল প্রবণতা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা অথবা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টা। গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক চর্চার অনুপস্থিতিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা থেকে, জনগণের মূল ইস্যুগুলো হারিয়ে গেছে। এক সময় পণ্য বা সেবার দাম বাড়লে তার রাজনৈতিক প্রতিবাদ হতো। বহু বছর হলো বাংলাদেশে তা অনুপস্থিত। সেটাও বাজারের স্বাভাবিক আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে, ভোক্তারাও অসংগঠিত। ফলে, তাদের যৌক্তিক কথাগুলো, তাদের অসহায়ত্ব ও বিপন্নতার কথাও কাউকে শোনানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের জনগণের বড় অংশ তাই এক সংকটাপন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তারা জানে না তাদের সামনে কী আছে।
বাজারের এই চলমান আগুন থামাতে কেউ কি দেবদূত হয়ে দেখা দেবে !

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 [email protected]

 

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com