ঢাকা, ২৮ মে ২০২৪, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪৫ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

মুক্ত স্বর

তিনটি টমেটো ও ক্রয়ক্ষমতা

কাফি কামাল
১৪ মার্চ ২০২৩, মঙ্গলবার
mzamin

এক সময় বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্রয় রীতি নিয়ে রসিকতা করতেন। সেখানে মাছ-মাংসের পিস বিক্রি হয় বলে রসিয়ে গল্প করতেন। সেই দিন এখন আর  নেই। খেয়ে ফেলেছে মূল্যস্ফীতি আর মূল্যবৃদ্ধির বাঘে। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫০-৬০ টাকায় গরুর মাংস পাওয়া যেতো। ২০০১ সালে তা বেড়ে ১০০ টাকা ও ২০০৬ সালে ১৪০ টাকায় উন্নীত হয়। ২০০৮ সালে গরুর মাংসের দাম ছিল দুইশ’ টাকার আশেপাশে। ২০১৩-১৪ সালে এসে কেজি ৪০০ এবং বর্তমানে হাড়সহ  কেজি ৭৫০ এবং হাড়বিহীন ৮৫০ টাকা কেজি। সাধারণ মানুষের আমিষের আশ্রয় ব্রয়লার মুরগির দামও এখন চলে গেছে নাগালের বাইরে। মাংসের দোকানবিমুখ মানুষের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন আড়াইশ’ গ্রাম মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে দেশে।

পৃথিবীর সকল মানুষই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের কাঙাল।

বিজ্ঞাপন
কেউ অর্থের,  কেউ ভালোবাসার, কেউবা প্রভাব-প্রতিপত্তির। কিন্তু প্রায় সব মানুষই একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের কাঙাল। সেটি হচ্ছে ক্ষমতা। না, রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়; ক্রয়ক্ষমতা। যার ক্রয়ক্ষমতা যত  বেশি সমাজে তার প্রভাব প্রতিপত্তিও বেশি। এই ক্ষমতায় যারা যত ক্ষমতাশালী, জীবনযাপনে তারা তত স্বাধীন। ফলে সবাই চায় তার ক্রয়ক্ষমতা বাড়ুক, জীবন কাটুক স্বাচ্ছন্দ্যে। বাংলাদেশের মানুষও নিশ্চয় এর ব্যতিক্রম নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতোটুকু এবং কেমন? সমপ্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের দ্র্রব্যমূল্য নিয়ে একটি সংবাদ ও তার প্রেক্ষিতে সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার সমর্থকদের পোস্টের বন্যা দেখে প্রশ্নটি সামনে এসেছে নতুন করে।  সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা প্রায়ই বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডার পর্যায়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখান। এটা দোষের কিছু নয়। তবে তারা প্রায়ই বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে জায়েজ করতে চান ইউরোপ-আমেরিকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির  দোহাই দিয়ে। যদিও মানুষ  সেটাকে রাজনীতির কৌশল হিসেবেই দেখে। তবে সমপ্রতি বেশ কিছু মূলধারার গণমাধ্যম যেভাবে দেশের মানুষের সঙ্গে যে রসিকতা করেছে তা বড় নির্মম। এবং ভয়াবহও বটে। যুক্তরাজ্যে সবজি সংকটের ইস্যুতে সবাই একটি সংবাদ ছেপেছে- যুক্তরাজ্যে নাকি তিনটির বেশি টমেটো কেনা যাচ্ছে না! একটি গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে- যুক্তরাজ্যে নাকি ৬টি ডিমের দাম ৫৫০ টাকা! খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার সমর্থকদের পোস্টের জোয়ার বয়ে  গেছে রীতিমতো। তারা যেন  দেখিয়ে দিতে চাইলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি কতো স্থিতিশীল। বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে একটি দু’টি খুচরো টমেটো বিক্রি হয় না।

 বিক্রি হয় ৩৫০ গ্রাম থেকে এক কেজির বক্সে। যুক্তরাজ্যের সুপারশপগুলো  নোটিশ দিয়েছে ক্রেতারা তিনটির  বেশি বক্স (ইউনিট) কিনতে পারবেন না। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ইউনিট বিষয়টিকে বুঝেছেন তিনটি হিসেবে। ফলে  বেশ মজা করেই নিউজটি তারা প্রকাশ করেছেন। হ্যাঁ, এটা সত্য  যে, যুক্তরাজ্যে টমেটো ও শসাসহ কয়েকটি সবজির সাময়িক সংকট চলছে। অন্যদিকে ডিম নিয়েও করা হয়েছে ডাহা মিথ্যাচার। যুক্তরাজ্যে নানা সাইজ ও পরিমাণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিম বিক্রি হয়। সবচেয়ে দামি অর্গানিক ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬টি আড়াইশ’ টাকায়। আর ফার্মের সাধারণ ডিমের ডজন দুই থেকে আড়াইশ’ টাকা। সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেল, অনেকেই যুক্তি দেখাচ্ছেন- যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য দাম কম। কথা সত্য। তবে লোকগুলো একচোখে দেখা দৃশ্য বর্ণনা করছেন। যদি তারা দুই চোখে দেখেন বা খেয়াল করেন তবে নিশ্চয় তাদের চোখে পড়বে বাংলাদেশের মানুষের আয় যুক্তরাজ্যের সমান নয়। অর্ধেকও নয়। চার ভাগের একভাগও নয়। দুই দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও সমান নয়। যুক্তরাজ্যে জিনিসপত্রের দাম যেমন বেশি  তেমনি শ্রমিকের মজুরিও বেশি। তার উপর এই সব দেশে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে সরকারি সহায়তা। যুক্তরাজ্যেও পণ্যের দাম বেড়েছে সামপ্রতিক সময়ে, তবে সেটা বাংলাদেশের মতো অসহনীয় পর্যায়ে নয়।         

 

 

 সব সরকারের আমলেই মন্ত্রী-এমপিরা সে সরকারের কৃতিত্ব বর্ণনায় সুবিধামতো তথ্য উপস্থাপন করেন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরাও তাদের বক্তব্যে সরকারের সুবিধামতো তথ্য দেন।  দেশের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলে সরকার নাখোশ হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে। গণতন্ত্র বা বিরোধী দল নিয়ন্ত্রণ ইস্যুর চেয়েও সব সরকারের কাছেই নাজুক ইস্যু অর্থনীতি। ফলে কোনো সরকারই তাদের অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে না। তাই কোনো বেসরকারি সংস্থার তথ্য নয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। বিবিএসের মজুরি সূচকের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে মজুরি সূচক ছিল ১০০ পয়েন্ট, যা ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে দাঁড়িয়েছে ১৮০.৮৩ পয়েন্ট। মানে ২০১০ সালে মানুষের গড় মজুরি যদি ১০ হাজার টাকা হয়, ২০২১ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৩০ টাকা। একযুগে মানুষের আয় বেড়েছে ৮১ শতাংশ প্রায়। অন্যদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৮২৫ ডলার। ২০২১ অর্থবছরে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৯১ ডলার। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৭৬৬ বা তিন গুণ। দুইটি সূচকই দিচ্ছে বাংলাদেশের উন্নতির সাক্ষ্য। আনন্দে লাফ দেয়ার আগে, আসুন পরিসংখ্যান নিয়ে একটি বিখ্যাত মন্তব্যের কথা স্মরণ করি। পরিসংখ্যান নিয়ে পৃথিবীব্যাপী রয়েছে নানা মুখরোচক গল্প। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত উক্তিটি মার্কিন কথাসাহিত্যিক মার্ক টোয়েন তার ‘চ্যাপ্টারস ফ্রম মাই অটোবায়োগ্রাফি’তে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন ডিসরাইলিকে উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন।

 সে উক্তিটি হচ্ছে, ‘তিন ধরনের মিথ্যা আছে- মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা ও পরিসংখ্যান।’  আসলেই কি পরিসংখ্যান প্রায়শই মিথ্যার বেসাতি? বাংলাদেশের মানুষের মজুরি সূচক ও মাথাপিছু আয়ের যে ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ পাওয়া  গেল তা একটু পরিষ্কার জলে ধুয়ে  দেখা যেতে পারে। আমরা কেবল মাথাপিছু আয়ের গল্প শুনি। মাথাপিছু আয় বিষয়টি কি সেটাও  জেনে নেয়া দরকার। মাথাপিছু আয় কোনো একক ব্যক্তির আয় নয়। দেশের সব আয়কে দেশের সকল নাগরিকের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যেটা দাঁড়ায় সেটিই হলো মাথাপিছু আয়। অর্থাৎ এখানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং দেশের একজন  বেকার নাগরিকের মাথাপিছু আয় সমান। আবার মাথাপিছু আয়ের সংখ্যাটি বিশ্বাস করার আগে আরও দুইটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, কৃতিত্ব নেয়ার প্রয়োজনে সরকারের সুবিধামতো হিসাব প্রণয়ন এবং দ্বিতীয়ত, আদমশুমারির প্রকৃতচিত্র। বাংলাদেশে এই দুইটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক সবসময়ের। পাশাপাশি আমাদের মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফনের দিকে নজর দেয়া দরকার। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ সালে মূল্যস্ফীতি সূচক ছিল ১০০, যা বেড়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে এসে উন্নীত হয় ১৫৬ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৮৮। সুতরাং ২০১০-১১  থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১৩২। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে? ২০১০ সালে যে ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা আয় করতেন তার আয় এখন ১৮ হাজার। কিন্তু সে ব্যক্তির ২০১০ সালে যে ক্রয়ক্ষমতা ছিল তা এখন নেমে এসেছে অর্ধেকে। অন্যদিকে এই সময়ে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। বাংলাদেশে গত একযুগে যে হারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, সেই হারে সব মানুষের ক্ষয়ক্ষমতা বাড়েনি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এই একযুগে  বেড়েছে মানুষের নিত্যনতুন চাহিদা। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাস্তবতা হচ্ছে, মানুষ তাদের নিত্যদিনের চাহিদা কাটছাঁট করেই মানিয়ে নিচ্ছে পরিস্থিতি।        

 এক সময় বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্রয় রীতি নিয়ে রসিকতা করতেন। সেখানে মাছ-মাংসের পিস বিক্রি হয় বলে রসিয়ে গল্প করতেন। সেই দিন এখন আর  নেই। খেয়ে ফেলেছে মূল্যস্ফীতি আর মূল্যবৃদ্ধির বাঘে। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫০-৬০ টাকায় গরুর মাংস পাওয়া যেতো। ২০০১ সালে তা বেড়ে ১০০ টাকা ও ২০০৬ সালে ১৪০ টাকায় উন্নীত হয়। ২০০৮ সালে গরুর মাংসের দাম ছিল দুইশ’ টাকার আশেপাশে। ২০১৩-১৪ সালে এসে কেজি ৪০০ এবং বর্তমানে হাড়সহ  কেজি ৭৫০ এবং হাড়বিহীন ৮৫০ টাকা কেজি। সাধারণ মানুষের আমিষের আশ্রয় ব্রয়লার মুরগির দামও এখন চলে গেছে নাগালের বাইরে। মাংসের দোকানবিমুখ মানুষের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন আড়াইশ’ গ্রাম মাংস বিক্রি শুরু হয়েছে দেশে। মুরগির মাংসের পিস বিক্রির কথা শোনা যাচ্ছে বাজারে। প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যদি সত্যিই  বেড়ে যায় তবে কেন কেজির মাংস গ্রামে কিনতে হচ্ছে? ব্যবসায়ীরাই বা কেন এমন বিক্রি চালু করছেন?  ২০২২ সালের ২রা জুন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন- ‘দেশের সাড়ে ৪  কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উন্নত বিশ্বের মতো।’ এ কথা মিথ্যা নয়। পাকিস্তান আমলে বাইশটি ধনাঢ্য পরিবারের কথা বলা হতো। 

লোকে বলে, এখন ধনাঢ্য পরিবারের সংখ্যা  বেড়ে হয়েছে বাইশ হাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী দেশে কোটিপতির সংখ্যা লাখের উপর। বাস্তবে এই সংখ্যা দ্বিগুণের কম নয়। কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এই ধনিদের আয় বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতা  বেড়েছে এবং তারা আনন্দে আছে। আর বাণিজ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী দেশের বিশ কোটি মানুষের মধ্যে বাকি পনের কোটি মানুষ যারা নির্দিষ্ট আয়ের, তাদের আয় বাড়েনি। বরং নতুন করে তাদের একটি বড় অংশ দারিদ্রসীমার মধ্যে প্রবেশ করেছে। সুতরাং ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে বলে সরকারের  কোনো কোনো মন্ত্রীর তরফে যে দাবি করা হয় তা সাধারণ মানুষের প্রতি এক ধরনের নিষ্ঠুর উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে আসলে হাসিন মোয়াজ্জেমের ‘ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আছি’ কবিতার মতো- “ডিমের হালি পঁচিশ টাকা, শসার কেজি কুড়ি/এক টাকাতে খাচ্ছি কিনে গরম গরম পুরি/কেজি পাঁচেক আলু নেবো একশ টাকার নোটে/এমন সস্তায় সওদাপাতি বাংলাদেশেই  জোটে/বাংলাদেশেই জোটে, তবে বাস্তবে নয় তাহা/গতরাতে স্বপ্নে ঘটলো এমন কাণ্ড-আহা!”

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status