ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, শুক্রবার, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সা ম্প্র তি ক প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের ফুটবলে কে ফেরাবে প্রাণ

তালহা বিন নজরুল
৩ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবারmzamin

বাংলাদেশের মানুষ এখনও ফুটবলকে ভালোবাসে। দেশের ফুটবলের মান না বাড়াতে পারলে তাদের মাঠে আনা যাবে না। আর এজন্য ক্লাব ফুটবলকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা দরকার। ক্লাবগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জবাবদিহিতার মধ্যে আনা দরকার। ফুটবল অঙ্গনেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার যাতে আসল কাজের লোকেরা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। খুব ভালো খেলোয়াড় মানেই যে খুব ভালো সংগঠক হবেন- তা কিন্তু নয়


শীতের রাত। সূর্য অস্ত যায় পাঁচটা বাজার একটু পরেই। এগারোটা মানে অনেক রাত। ১২টা মানে তো গভীর রাত। তো সেই গভীর রাতেই তরুণেরা কেন বিছানায় না গিয়ে বসছে টেলিভিশন সেটের সামনে।

বিজ্ঞাপন
হাজারো তরুণ বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে উন্মুক্ত কোনো জায়গায়। কেবল তরুণ বললে ভুল হবে, অনেক মধ্যবয়সীরাও বাসার বাইরে চলে যাচ্ছেন। কোথাও কোথাও নারী দর্শকও দেখা যায় অনেক। কেন না ঘুমিয়ে তারা বাইরে যাচ্ছেন?  কী আর বলবেন, খেলা দেখতে।  খেলা? হ্যাঁ, খেলা। বিশ্বকাপের খেলা। কেন, আপনার বাসায় তো টিভি আছে। তবে বাইরে কেন? আরে ভাই, একা একা খেলা দেখে কী মজা আছে? বড় পর্দায় শত শত মানুষের সঙ্গে বসে খেলা দেখার মজাই আলাদা। খেলা তো শেষ হবে রাত প্রায় তিনটা বাজে।  তাতে কি, কোনো সমস্যাই নেই। রাস্তায় মানুষ গিজ গিজ করে। সকালে উঠেই না অফিসে যেতে হবে? তাতেও ভ্রুক্ষেপ নেই। আরে ভাই, সারা জীবন তো অফিস আর ব্যবসা নিয়েই থাকলাম। মনেরও তো খোরাক দরকার আছে, নাকি? হ্যাঁ, ঠিক তাই। ক’দিন ধরে পাড়ায় পাড়ায় এমনই চলছে। দেশের প্রায় সবখানেই এমন অবস্থা।  চলতি শতাব্দীতে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় খেলা ক্রিকেট। ক্রিকেট মানেই আলাদা উত্তেজনা আলাদা আকর্ষণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের খেলা যদি থাকে তবে তো কথাই নেই।

 ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলও এখন বিশ্বকাপে খেলে। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ দল এখন আর অবহেলা করার মতো নয়। যে কোনো দিন যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে তারা। কিন্তু এখন তো ক্রিকেট নয়, চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা। আর এতে তো বাংলাদেশও নেই। নেই ভারত বা পাকিস্তানও। তারপরেও এতে উচ্ছ্বাস, এতো উল্লাস। আনন্দ-উত্তেজনার সে কী বহিঃপ্রকাশ। পছন্দের দল জিতলে হাসাহাসি-গড়াগড়ি। আর হেরে গেলে সে কী মন খারাপ। যেন আপনজনের মৃত্য হলো।  আপনি না বলেছিলেন, এদেশের মানুষ এখন আর ফুটবল খেলা দেখতে চায় না। সবাই ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা নেমে গেছে শূন্যের কোঠায়। এখন তো দেখছি ক্রিকেট নিয়ে যে মাতামাতি হয় তাকেও ছাড়িয়ে গেছে তরুণদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এ সময় পাশ থেকে আরেকজন বললেন, ভাই কী আর বলবো, আর্জেন্টিনা যেদিন, মানে যে রাতে পোল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো তার পরদিন সকালে গেলাম মাছ বাজারে। দেখি মাছ বিক্রিতে মন নেই, একজন আরেক জনের সঙ্গে মেতে আছে আগের রাতের খেলা নিয়ে। এর মধ্যে যারা ব্রাজিলের সমর্থক তাদের প্রতি চলছে তীর্যক ব্যাঙ্গ। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। খালি কি তাই! রিকশা স্ট্যান্ডে, বাসে, অফিসে সবখানেই একই আলাপ। সে কি খেলাই না খেললো আর্জেন্টিনা। 

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকে তো মাথাই নষ্ট। গোটা দেশ যেন এখন আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে বিভক্ত। হবেই না কেন? অনেকের প্রিয় ইতালি এবার নেই মূল পর্বে। অনেকের সমর্থনপুষ্ট জার্মানিও বিদায় হয়ে গেল। ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের হাতে গোনা সমর্থকরা উচ্চবাচ্য করছেন কমই। ফ্রান্স ইতিমধ্যে হারের স্বাদ নিয়ে ফেলেছে। ইংল্যান্ডকে এবার অনেকেই ফেবারিট ভাবছেন। দেখা যাক কী হয়। বলছিলাম এই বাংলাদেশের মানুষেরই ফুটবলপ্রিয়তার কথা। প্রায় দুই যুগ ধরে বাংলাদেশের ফুটবল মাঠে দর্শক নেই বললেই চলে। ক্রিকেটের সাফল্যে ম্লান হয়ে গেছে ফুটবল। বলা হয়, মানে ফুটবল সংগঠকরা সুযোগ পেরেই বলে থাকেন যে, বাংলাদেশের মানুষ আর ফুটবলকে ভালোবাসে না। তারা নাকি ক্রিকেটেই বুঁদ হয়ে থাকে। এমন কথাকে কি আপনি ঠিক বলবেন? বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে মানুষের আগ্রহ-উদ্দীপনা, উচ্ছ্বাস-উল্লাস দেখে কি তাই মনে হয়? তাহলে এই মানুষগুলো কোন দেশের? এরা এই দেশেরই, ভিন্ন দেশের কেউ নয়। তবে দেশের ফুটবল খেলার সময় তারা কোথায় থাকে? তারা তাদের জায়গাতেই থাকে। আসলে আকর্ষণ করার মতো কিছু হয় না বলেই তাদের অন্য সময় পাওয়া যায় না, দেখা যায় না।

 তরুণ-যুবারা খেলা দেখতে চায়, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের আস্ফালন দেখতে চায় না। ওদের দোষ দিয়ে কি লাভ আছে? মোটেও না। কারণ খোঁজ নিয়ে দেখুন ওরা কিন্তু এখনও সময় পেলে ফুটবল খেলা মিস করে না। কার খেলা? আপনি যেমন জানেন সংগঠকরাও জানেন, প্রতিটি ঘরে কিশোর-তরুণরা স্প্যানিশ লীগ, ইংলিশ লীগ, ইতালিয়ান লীগ, জার্মান লীগ এবং মেসি-নেইমারের কল্যাণে ফরাসি লীগের দর্শক বাড়ছে। তারা প্রায় সারা বছরই রাত জেগে খেলা দেখে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, ইউরোপিয়ান কাপ কোনোটিই বাদ দেয় না তারা। বরং আমাদের তথাকথিত সংগঠকরাই ফুটবলের অনেক খবর রাখেন না যা আমাদের তরুণরা রাখে।  শাক দিয়ে নাকি মাছ ঢাকা যায় না। তেমনি উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়েও রেহাই পাওয়া যায় না।

  অবশ্য শুধুমাত্র ফুটবল বলে নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থাই নাজুক। প্রায় সব খেলাতেই চলছে অদক্ষ আর অপেশাদার লোকদের খবরদারি। অর্থ বিলাতে নয়, অর্থ কামাতেই তারা ব্যস্ত। একসময় অর্থের ঘাটতি ছিল এখন তা বলা যাবে না। পৃষ্ঠপোষকতার অভাব নেই, অভাব স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার। অভাব নিঃস্বার্থ সংগঠকের। যারা অতীত দেখেননি, তারা অতীত সম্পর্কে কতটুকুই বা বলতে পারবেন? বর্তমানই তাদের কাছে সব। এই দেশের মানুষ কি বরাবরই ক্রিকেটের ভক্ত ছিল? মোটেও না। আমরা যারা সত্তর দশক, আশির দশকের ফুটবল দেখেছি তাদের কাছে তো লুকানোর কিছু নেই। গত শতকের নব্বই দশক থেকে ফুটবল তার জৌলুস হারাতে থাকে। ফুটবল খেলাকে অর্থাৎ ঢাকা ফুটবল লীগের খেলা মিরপুর স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম ধাক্কা লাগে ফুটবলের পালে। বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সে সময় ক্রিকেটও খেলা হতো। 

১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপ হকি খেলাও হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। কিন্তু ফুটবল খেলা ঘিরে প্রায়ই দর্শকদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যেত। আর এতে আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস-আদালতের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ফুটবলকে সরানোর জন্য মিরপুর স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন। তখন থেকেই মাঠের দর্শক কমতে থাকে। কারণ মূল ঢাকা থেকে মিরপুরে যাতায়াত ব্যবস্থা তখন ভালো ছিল না। বিশেষ করে রাতের বেলা খেলা শেষে ফেরার পথে দর্শকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এরপর ক্রিকেটের উন্নতি আর ফুটবলের অবনতি দর্শকদের চোখ ঘুরিয়ে দেয়।  ১৯৮৩ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়, অস্ট্রেলেশিয়া কাপ জয়, ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তানে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজন এবং ইমরান-কপিলের নেতৃত্বে সেমিফাইনাল খেলা এবং বাংলাদেশের টেলিভিশনে সেই সব খেলা দেখতে পাওয়া ইত্যাদি কারণে ফুটবল থেকে দর্শক ক্রিকেটের দিকে ভিড়তে থাকে। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতি এবং ঢাকা লীগে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে থাকে।

 

 

 ওয়াসিম আকরাম, অর্জুনা রানাতুঙ্গার মতো বিশ্বজয়ীরা খেলেছেন এখানে। এর আগে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে এশিয়া কাপ ক্রিকেট খেলতে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিশ্বখ্যাত তারকারা খেলতে আসেন। ওই সময় ক্রিকেটকে আরর এগিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার কেরি প্যাকার সিরিজ। প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে ও শারজায় নানা ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকতো। এখন অবশ্য সেই সব প্রতিযোগিতা ছাপিয়ে গেছে আইসিসি’র নানা আয়োজনে। বলতে দ্বিধা নেই, ওই সময়ে পড়ন্ত ফুটবলের লাগাম টানার মতো দক্ষতা দেখাতে পারেননি সংগঠকরা। যার ফলে মিরপুর থেকে ফুটবলকে ফের ঢাকা স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনা হলেও প্রাণ ফেরানো যায়নি। যে ফুটবলের জন্য ঢাকার দর্শকেরা জীবন দিতে কুণ্ঠিত ছিল না সেই ফুটবল কেন দর্শকশূন্য হবে। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সীদের মনে নিশ্চয়ই সেই দিনগুলোর স্মৃতি আজো অমলিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ঢাকার ফুটবল সীমাবদ্ধ ছিল ঢাকা মোহামেডান, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামালের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন এক ক্লাব আবাহনী ক্রীড়া চক্র, বর্তমানে যার নাম ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। আমরা যারা স্বাধীনতার পরে বালক হয়েছি তাদের কাছে বাংলাদেশের ফুটবল বলতেই ছিল আবাহনী আর মোহামেডানের দ্বৈরথ।

 এই দুই দলের খেলা মানেই সারা দেশ দুই ভাগে বিভক্ত। ওই দিন বাড়িতে বাড়িতে উড়তো পতাকা, বিভিন্ন মার্কেটের সামনেও দেখা যেত আলাদাভাবে উড়ছে দুই দলের পতাকা। ঢাকার আশে পাশের জেলা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা চলে আসতো লীগের খেলা দেখতে। টিকিট পাওয়া যেত না কাউন্টারে, চড়া দামে বিক্রি হতো কালোবাজারিদের হাতে। খেলার দুই-তিন ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় ভরে যেত সব আসন। দুই দলের সমর্থকদের আলাদা আলাদা এলাকা ছিল বসার জন্য। এক দল আরেক দলের ওপর যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে থাকতো। মাঠে একটু এদিক-ওদিক হলেই শুরু হতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ। কত দর্শক আহত হয়েছেন তার হিসাব নেই। একবার তো দু’জন দর্শক মারাই যান। রেফারিদের ওপরও আক্রমণ হতো। দল হারলে ক্লাবে গিয়েও হামলা হতো। যে কারণে এরশাদের সময় স্টেডিয়ামপাড়ায় থাকা কয়েকটি ক্লাবকে সরিয়ে মতিঝিলে জায়গা দেয়া হয়। ঢাকাই ফুটবলের সেই সব দিনগুলো এখন ইতিহাস। লিখে শেষ করা যাবে না। তবে ঢাকা লীগের দুইজন স্বনামধন্য তারকা অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের ফুটবলের অভিভাবকের দায়িত্বে। একজন সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন , যিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রথম মডেল, প্রথম মহাতারকা। তার খেলা যারা যারা দেখেছেন তারা এখনও তা ম্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারেননি। 

অথচ মাঠ থেকে অবসরে গেছেন সেই ১৯৮৪ সালে। আরেক জন আবদুস সালাম মুর্শেদী। খেলোয়াড় হিসেবে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতিত না হলেও লীগের এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড তারই। সেই সালাউদ্দিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আর সালাম মুর্শেদী সিনিয়র সহ-সভাপতি। তারা তাদের পদ যেমন একইভাবে আঁকড়ে আছেন দেশের ফুটবলও ঘুরে ফিরে ওই একই জায়গায়। তাদের পদ যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে আছে। সালাউদ্দিন সাহেব বলেছিলেন তার স্বপ্ন ২০২২ সালে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ মূলপর্বে খেলাবেন। কিনু্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাংলাদেশ এখন সাফ ফুটবলেরও ফাইানালে খেলতে হিমশিম খায়। মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান সবাই ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাংলাদেশ এখন সাফ ফুটবলেরও ফাইানালে খেলতে হিমশিম খায়। ভারত তো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান সবাই ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তো গাঁটের পয়সা আর অমূল্য সময় খরচ করে কে যাবে এই ফুটবল খেলা দেখতে। সংগঠকরা অনেক সময় মিডিয়ার ওপর দোষ চাপাতেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো বাংলাদেশের ফুটবল এখন মিডিয়াতেই বেঁচে আছে। আসলে যখন থেকে ক্লাবগুলোকে আর্থিকভাবে দুর্বল করা হয়েছে তখন থেকেই ফুটবল আকর্ষণ হারাতে বসেছে।

 বিশ্বজুড়ে ক্লাব সমর্থকরাই ফুটবলের প্রাণ। উন্নত বিশ্বের আলোকে পেশাদার লীগ চালু করলেও তা বাস্তবে ক্লাবগুলোকে পেশাদার বানানো যায়নি। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগী হওয়া দরকার। কিন্তু ১৯৯৬ থেকে যে ক’জন ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েছেন তাদের কারো খেলার প্রতি তেমন টান ছিল না। কাকেই বা দোষ  দেবেন। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয়কে ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা করেছেন। সে পরীক্ষায় তিনি চরমভাবে অকৃতকার্য হয়েছেন। বর্তমান ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক খেলাপ্রিয় মনে হলেও খেলার মানোন্নয়নে খুব একটা কাজ তরতে পারেননি। অবকাঠামো নেই বলে এতদিন কান্না করলেও এখন কিন্তু তার অভাব নেই। দেশজুড়ে মাঠ আছে খেলা নেই। আগে দেশে কত আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো তার ছিটে-ফোঁটাও এখন নেই। এখন যে সব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয় তাতে মানসম্মত দলকে আনা হয় না। নিজেদের মান অনেক ভালো প্রমাণ করার জন্য নিম্নমানের দল আনা হয় যা দর্শকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়।

 বাংলাদেশের মানুষ এখনও ফুটবলকে ভালোবাসে। দেশের ফুটবলের মান না বাড়াতে পারলে তাদের মাঠে আনা যাবে না। আর এজন্য ক্লাব ফুটবলকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা দরকার। ক্লাবগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জবাবদিহিতার মধ্যে আনা দরকার। ফুটবল অঙ্গনেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার যাতে আসল কাজের লোকেরা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। খুব ভালো খেলোয়াড় মানেই যে খুব ভালো সংগঠক হবেন- তা কিন্তু নয়।  

লেখক: সাবেক স্পোর্টস এডিটর, মানবজমিন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status