ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

কাওরান বাজারের চিঠি

ম্যারাডোনা, আম্পায়ারিং এবং পরীমনি

সাজেদুল হক
১২ নভেম্বর ২০২২, শনিবারmzamin

সিটবেল্ট বাঁধুন। আসুন উপভোগ করি পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ধ্রুপদী ফাইনাল। দুটি দলই এখন দুরন্ত ফর্মে। ৩০ বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? নাকি দাপুটে ইংল্যান্ডের দেখা মিলবে ফাইনালে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষেও শেষ হচ্ছে না আনন্দযজ্ঞ। মেসি, রোনালদো, নেইমারের পায়ের জাদু দেখবে বিশ্ব। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। এখানেও রাজনীতিবিদরা ঘোষণা দিচ্ছেন, ‘খেলা হবে।’ আরেক দল অবশ্য রয়েছে আন্দোলনে। নিরপেক্ষ আম্পায়ারের দাবিতে। যাই হোক।

বিজ্ঞাপন
ভালো থাকুক বাংলাদেশ

যে আমাকে ইচ্ছে করেছে,
আমি তার;
আর যে আমাকে করেনি আমি তারো।
প্রেম একটা জীবনের মতো, জীবন অনেকের।
(সৈয়দ শামসুল হক)

ভালোবাসা কিংবা প্রেম আসলেই অদ্ভুত। কখনো পাওয়া হবে না, কিংবা পেয়েও হারানোর ভয়। কিন্তু দুই দণ্ড শান্তি পাওয়া যায় কোথায়? তুমি যার কাছে শান্তি চাও সে তো তোমার কাছে শান্তি নাও পেতে পারে! তার শান্তি হয়তো অন্য কোথাও। কিন্তু ভালোবাসা! এত কেবল মানব-মানবীর সম্পর্ক নয়। ভদ্রলোক এখন ঢাকার শীর্ষ পত্রিকার ডাকসাইটের রিপোর্টার। মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের বিবরণ দিচ্ছিলেন ক’দিন আগে। বললেন, আমি তখন একটি জেলা শহরে থাকি। কলেজে পড়ি। পত্রিকায় ম্যারাডোনাকে নিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরীর লেখা পড়েছি। প্রবল ইচ্ছা হলো, এই মানুষটা ম্যারাডোনাকে কাছ থেকে দেখেছেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করবোই। এক সকালে কাউকে কিছু না বলে ঢাকায় চলে আসি। পরে সাক্ষাৎ পাই মতি ভাই’র (মতিউর রহমান চৌধুরী)। তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেন লেখালেখি নিয়ে।

এই ভালোবাসার কিইবা ব্যাখ্যা আছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কোনো কিছুরই মিল নেই। তবুও বাংলাদেশের গ্রামে, গঞ্জে, আনাচে, কানাচে ম্যারাডোনার জন্য মিছিল হয়েছিল। কতো মানুষ মানত করেছিল। আরেকটি বিশ্বকাপ ফুটবল দরজায় কড়া নাড়ছে। এরই মধ্যে উৎসবের রং লেগেছে বাংলাদেশে। যদিও আমরা বিশ্বকাপে নেই, কখনো ছিলাম না। ফুটবলের প্রতি, বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতি এ ভূমের মানুষের ভালোবাসা বিস্ময়কর, ব্যাখ্যাতীত। জীবনে কি সব কিছুর ব্যাখ্যা মেলে!

ফুটবল বিশ্বকাপের ঘণ্টা যখন বাজছে তখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পথে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে। সে আলোচনায় একটু পরে আসছি। সম্ভবত, এটিই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ। ১৬টি দেশ এতে অংশ নেয়। এত অঘটন বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি। নামিবিয়া, আইয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রতিটি দলই রীতিমতো রূপকথার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত নেদারল্যান্ডস যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য সেমিফাইনালের পথ উন্মুক্ত করে দেয় তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। দক্ষিণ আফ্রিকা যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির সে নায়ক যে শত চেষ্টাতেও তার নিয়তি বদলাতে পারে না। বিশ্বকাপ আসে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না। চাপে ভেঙে পড়ে তারা। তাই বলে নেদারল্যান্ডস এর বিরুদ্ধেও চাপে ভেঙে পড়বে। সত্যি, এটা কেউ ভাবেনি!

বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড। যদিও ক্রিকেটপ্রেমীদের বেশির ভাগই ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল কামনা করছিলেন। সেটি হলে সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় একটি ম্যাচ দেখতে পেতাম আমরা। তবে যা হচ্ছে তাও কম নয়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। তাই বলে এভাবে! ১৯৯২ বিশ্বকাপে যা যা হয়েছিল তাই যেন হচ্ছে এবার। সেবার খাদের কিনারা থেকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ইমরান খানের পাকিস্তান। এবার বাবর আজমের পাকিস্তানের বেলায়ও ঘটছে একই ঘটনা। প্রথম দু’টি ম্যাচ হারার পর লাহোর, করাচিতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পাক ক্রিকেটাররা। অথচ গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলায় তারা এখন খেলবেন মেলবোর্নে।

আগেই বলেছি আমাদের ক্রিকেটাররা দেশে ফিরেছেন। কেউ বলছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য সেরা বিশ্বকাপ। আবার কেউ বলছেন, কম শক্তির দুটি দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়ে এত আত্মতুষ্টির কিছু নেই। বরং দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বাজে পারফর্ম করেছেন। পাকিস্তানকে হারালে সুযোগ ছিল সেমিফাইনালে পৌঁছার। তার আগে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমাদের হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যায়। দুটি ম্যাচেই আম্পায়ারিং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। মূল ধারার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ধরনের প্রচারণা দেখে মনে হয়, কেবল বাজে আম্পায়ারিংয়ের কারণেই বাংলাদেশ হেরেছে। এটি মূলত ক্রিকেটার, কোচ এবং বোর্ডকে দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেয়। এটা সত্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার খেলায় কিছু সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গেছে। ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটা হয়তো আরও কয়েক ওভার কম হতে পারতো। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের টার্গেট আরও কিছুটা সহজ হতো। বিরাট কোহলির ফেক ফিল্ডিং নিয়েও আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাঁচ রানের পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভারতের অনেক সাবেক ক্রিকেটারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো হাতে দশ উইকেট নিয়ে ৯ ওভারে বাংলাদেশ কেন ৮৫ রান করতে পারবে না! ভারতের বিখ্যাত ভাষ্যকার হার্সা ভোগলে যা বলেছেন তা কি খুব অযৌক্তিক? ভোগলের ভাষ্য, ‘আমার বাংলাদেশের বন্ধুদের বলবো, লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারার দায় ফেক ফিল্ডিং বা ভেজা কন্ডিশনকে দেবেন না। যদি একজন ব্যাটসম্যানও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারতো, ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততো। আমরা সবাই এর জন্য দায়ী... অজুহাত খুঁজলে বড় হওয়া যায় না।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ম্যাচেও বাজে আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। শাদাব খানের বলে সাকিব আল হাসান যে আউট ছিলেন না তা পরিষ্কার। তারপরও আম্পায়ার কীভাবে আউট দিলেন তা সত্যিকার অর্থেই বিস্ময়কর। অনেকে এমনও বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল নিশ্চিতের জন্যই এত কিছু করা হচ্ছে। আইসিসিতে ভারতের প্রভাব যে সবচেয়ে বেশি তা মিথ্যা নয়। আর্থিক দিক থেকেও ভারতীয় বোর্ড সবচেয়ে প্রভাবশালী। কিন্তু মাঠের খেলা তো ভিন্ন। সর্বশেষ সেমিফাইনালে তো ইংল্যান্ড তাই দেখিয়ে দিলো।

যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট শেষেই এটা হয়। আম্পায়ার, আইসিসি কিংবা কোনো দল কাউকে আমরা শত্রু আবিষ্কার করি। কিন্তু আমাদের ক্রিকেট বোর্ড যে খেলোয়াড় তৈরিতে যথেষ্ট উদ্যোগী নয়, আমাদের যে যথেষ্ট পারফর্মার নেই সেই আলোচনা বলতে গেলে হয়ই না। শেখা আর আগামী বিশ্বকাপের চক্রে আটকা পড়েছি আমরা। এখন সময় এসেছে আয়নায় নিজের মুখ দেখার।

ফের শিরোনামে পরীমনি
ফের শিরোনামে ঢাকার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। স্বামী শরীফুল রাজ এবং অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এ দফায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি লিখেছেন, ‘তাহলে কিছু বিষয় ক্লিয়ার করি। এই যে মিম বললা আমি জেলাসি করলাম তোমার সাথে! এটা দশজন আননোন লোকে বলতেই পারে কিন্তু তুমি কি করে এটা বলো? যেখানে ‘পরাণ’ রিলিজের পর সব খানে আমি বলে আসছি রাজের সঙ্গে তুমি জুটি হয়ে কাজ করো। তোমাদের জুটি দেখতে ভালো লাগে পর্দায়। এটা তোমরাও চাও। তোমার মাও সেদিন আমাদের লিভিং রুমে আমার সঙ্গে এই নিয়ে কতো কথা বললেন। এই তো সেদিন ‘ইনফিনিটি সিজন ২’ এর জন্য তোমাকে নক দিলাম আমি। কি করে ভুলে গেলি রে ভাই। ৫ দিন আগেও আবু রায়হান জুয়েল ভাইকে বললাম, রাজ আর মিমকে জুটি করে নেক্সট কাজটা করে ফেলেন ভাই। কিন্তু বিশ্বাস করো ভাই মিম, রাজের সঙ্গে তোর এই অতি মাখামাখিটা আমার সংসার, আমার বাচ্চা, আমার লাইফ সব কিছুতে ঝামেলা করে দিচ্ছে। এই যে ‘দামাল’ এর তিন মাসের হল রাইটস নিলা রাজ, তুমি। এটাই হলো কাল, এখন আমার জীবনের। এখন তোমাদের ব্যবসায়িক ছুতোয় আলাপ চলে রাত দিন। বিশ্বাস করো তোমাদের এই মাঝ রাত্তিরের ফোন আলাপ আমার সত্যিই প্রবলেম করে। আমি একা সারারাত বাচ্চাটাকে সামলাই। এসব বন্ধ করো।’

পরীমনি, শাকিব খানের মতো নায়ক-নায়িকারা ইদানীং দফায় দফায় বিতর্ক তৈরি করছেন। তাদের নিয়ে দেদারছে সংবাদও প্রকাশিত হচ্ছে। পাঠকদের অনেকে এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তারা বলছেন, এদের নিয়ে কেন এত খবর প্রকাশিত হবে। পাঠকদের একটি বড় অংশ আবার যে এসব খবর পড়ছেন তাও সত্য। প্রথমত, এটা স্বীকার করতেই হবে। ভালো বা মন্দ যাই হোক, উনারা এদেশে চলচ্চিত্র জগতের স্টার। সারা দুনিয়াতে সিনে স্টারদের নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয়ত, সংবাদমাধ্যমের পাঠক-দর্শক হিসেবে নানা শ্রেণি-পেশার, বয়সের, মতাদর্শের মানুষ রয়েছে। পছন্দের ভিন্নতা রয়েছে মানুষের। সবার কথা চিন্তা করেই সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। তবে হ্যাঁ, বস্তুনিষ্ঠতার দিকে সংবাদমাধ্যমের নজর দেয়া উচিত সর্বোচ্চ। দেখা উচিত সমাজের নৈতিকতার বিষয়টিও।

শেষ কথা: সিটবেল্ট বাঁধুন। আসুন উপভোগ করি পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ধ্রুপদী ফাইনাল। দুটি দলই এখন দুরন্ত ফর্মে। ৩০ বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? নাকি দাপুটে ইংল্যান্ডের দেখা মিলবে ফাইনালে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষেও শেষ হচ্ছে না আনন্দযজ্ঞ। মেসি, রোনালদো, নেইমারের পায়ের জাদু দেখবে বিশ্ব। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। এখানেও রাজনীতিবিদরা ঘোষণা দিচ্ছেন, ‘খেলা হবে।’ আরেক দল অবশ্য রয়েছে আন্দোলনে। নিরপেক্ষ আম্পায়ারের দাবিতে। যাই হোক। ভালো থাকুক বাংলাদেশ।

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status