ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, বুধবার, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

আন্তর্জাতিক

অটল ইমরান, রাজনীতির খেলায় জিতবে কোন পক্ষ?

মোহাম্মদ আবুল হোসেন
১১ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবারmzamin

শক্তিধর সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুধু তা-ই নয়। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের লেজে পাড়া দিয়েছেন। যে সেনাবাহিনী তাকে নির্বাচিত করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। বলেছেন, তারা তাকে নির্বাচিত হতে সহায়তা করেনি। তিনি নিজের জনপ্রিয়তার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জিতেছেন। পাল্টা সেনাবাহিনীকে তুলোধোনা করে ছেড়েছেন। বলেছেন, জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো (এনএবি)কে নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী। তারা রাজনীতিতে যুক্ত। সেনাবাহিনীর কারণে তিনি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন
এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে তার সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও তার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। ৩রা নভেম্বর তাকে গুলি করার জন্য নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ এবং সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের একজন মেজর জেনারেল ফয়সলকে দায়ী করেছেন। ফলে সেনাবাহিনী ক্ষিপ্ত হয়েছে। 

তাদের বিরুদ্ধে যে বা যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের জন্য মিথ্যা প্রচারণা করবে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করবে, তাকে ছেড়ে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এমন ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেবে না সেনারা। আইএসপিআর থেকে বিবৃতিতে সাফ এ কথাই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পর ইমরান আরও শাণিত আক্রমণ করেছেন সেনাবাহিনীকে। তিনি বলেছেন, তিন যখন ক্ষমতায় তখন আলিম খানকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে তাকে চাপ দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। এ ছাড়া দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের বাঁচাতে এনএবিকে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে বাধা দেয়ার জন্য দায়ী করেছেন সেনা সদরদপ্তরকে।  ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইমরান খান আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন চুপ ছিল সেনারা। শেষ পর্যন্ত আইএসআইয়ের মহাপরিচালক নাদিম আনজুম প্রকাশ্যে বিরল এক সংবাদ সম্মেলন করেন ইমরানের বিরুদ্ধে। 

পর্দার আড়ালে এই বিরোধের কথা সবাই জানলেও তাতে এরপর আর কোনো রাখঢাক থাকেনি। ফলে সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্র এবং নিজ দেশের সরকার- এই বৃহৎ তিনটি শক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য লড়াইয়ে নেমেছেন ইমরান খান। তিনি কি এই মহারণে টিকতে পারবেন! যদি পারেন, যদি তার বিজয় হয়, তাহলে তা হবে এক বিস্ময়কর অর্জন। আর যদি তা না পারেন, তার ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া জনমতকে যদি উস্কে দেন, তাহলে দেশে আরও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।  সম্প্রতি পাকিস্তানের ডন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে ইমরান খানকে আসলে ক্ষমতায় এনেছিল সেনাবাহিনী। এ কথা শুধু পাকিস্তান নয়, তাবৎ দুনিয়ায় চাউর হয়ে গেছে। সেনারা এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও এটা ছিল ওপেন সিক্রেট। কিন্তু ইমরান-সেনাবাহিনীর সেই হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়ে যায় এ বছর। মূলত আইএসআইয়ের প্রধান কে হবেন তা নিয়ে বিরোধ ইমরান ও সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ কমর বাজওয়ার মধ্যে প্রকাশ্য রূপ পেতে থাকে।  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হন। বেছে নেন চীনকে, যে চীন হলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘোর শত্রু। 

এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই তিনি রাশিয়া সফর করেন। বোদ্ধারা মনে করেন সর্বশেষ রাশিয়া সফর তার জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ, তিনি তার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে হাস্যোজ্বল পোজ দিয়েছেন ক্রেমলিনে। এ দৃশ্য কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখার কথা নয় তাদের। বিরোধীদের জোট পিডিএম তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে পার্লামেন্টে। সেই অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র আছে বলে অভিযোগ ইমরানের। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া একটি নোটের কথা উল্লেখ করেন। তবে অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি। সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ এনেছিলেন- তা তিনি গুলি খাওয়ার আগে ও পরে উড়িয়ে দিয়েছে উভয় পক্ষই। বরং তিনি গুলি খাওয়ার আগেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ উত্থাপন করেন আইএসআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিম আনজুম। তিনি বিরল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন- বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ কমর বাজওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইমরান খান তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 

বলেছিলেন, তিনি যদি বিরোধীদের অনাস্থা ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাপ্রধান রাখা হবে। ইমরান খানের যুক্তি খণ্ডন করেন দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তিনি। এতে তিনি তার অভিযোগ যেমন খণ্ডন করেছেন, তেমনি ইমরানকে পাল্টা আক্রমণ করে অনেক প্রশ্ন করেছেন।  এ ঘটনার পরেই লংমার্চে নেতৃত্ব দেয়া ইমরান খানকে ৩রা নভেম্বর গুলি করে দুর্বৃত্ত (রা)। তাদের কমপক্ষে একজন ক্যামেরার সামনে সাক্ষ্য দিয়ে স্বীকার করেছে। বলেছে, ইমরানের কর্মকাণ্ড সহ্য হচ্ছিল না। তাই সে শুধু তাকে গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছে। কিন্তু ইমরান খানের পক্ষে যে মামলা করা হয়েছে তাতে অভিযোগ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও আইএসআইয়ের মেজর জেনারেল ফয়সলকে। সরকারের তরফ থেকে যেমন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তেমনি সেনাবাহিনীও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, তাদের অবমাননা করতে কাউকে অনুমতি দেয়া হবে না। সেনাবাহিনী বা এর কোনো সেনা সদস্যের অবমাননাকারীকে দায়মুক্তি দেয়া হবে না। ইমরানের পক্ষ থেকে দায়ের করা ওই মামলা নিবন্ধন নিয়ে নানা নাটকীয়তা চলতে থাকে। 

 

 

সরকারের পক্ষ থেকে মেজর জেনারেলের নাম বাদ দেয়ার জন্য দেন-দরবার চলতে থাকে। কিন্তু তার নাম বাদ দিতে ইমরান খান অস্বীকৃতি জানান। এখনও ইমরান তার অবস্থানে অটল আছেন। মামলা হয়েছে তার অভিযুক্তের বাইরের ব্যক্তিদের আসামী করে। এই খেলায় জিতবে কে- ইমরান খান, সেনাবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্র নাকি পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন সরকার? অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বিচার বিভাগীয় তদন্তের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ইমরান খান। পাকিস্তানে সব সময়ই যেন নির্বাচনের মওসুম। এ বছর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান। তার আগে এপ্রিলে তার দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) ১৩১ জন এমপি একযোগে পদত্যাগ করেন। ফলে প্রায় মাসেই সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। শেষ দফা উপনির্বাচন হয়েছে ১৬ই অক্টোবর। এ সময়ে পার্লামেন্টের আটটি আসনে নির্বাচন হয়। সাতটি আসনে পিটিআইয়ের আগের প্রার্থীই দেয়া হয়। তার মধ্যে ইমরান খান নিজেও ছিলেন প্রার্থী। এই নির্বাচনকে তিনি তার জনপ্রিয়তার এক গণভোট হিসেবে অভিহিত করেন। নির্বাচনে তার দল ৬টি আসনে জয়ী হয়। সেনাবাহিনীর আশীর্বাদপুষ্ট বিরোধীদের জোট তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। 

পর্দার আড়ালে সব কিছু পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী এটা মনে করা হয়। তখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল ইমরান খানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু মুখ বন্ধ করে থাকার পরিবর্তে ইমরান খান রাস্তা বেছে নেন। একের পর এক র‌্যালি করতে থাকেন। সেখানে অভিযোগ করতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্র ও বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। কারণ, তিনি বিদেশিদের দাবি পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। তার এই অভিযোগকে যথাযথ যৌক্তিক হিসেবে মেনে নেন সমর্থকরা। তারা ইমরানের র‌্যালি বা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাণের পানির মতো ছুটে আসতে থাকেন। কয়েক মাস ধরে তিনি আগাম নির্বাচন দাবি করে যাচ্ছেন। এই নির্বাচন শিডিউল অনুযায়ী আগামী বছর নভেম্বরে হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগে আগাম নির্বাচন দাবিতে তিনি ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ শুরু করেন।

  পাকিস্তান এমনিতেই সংকটে জর্জরিত। করোনাভাইরাস মহামারির পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। তার ওপর ভয়াবহ বন্যা দেশটিকে শেষ করে দিয়েছে। অর্থনীতি তলানিতে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে সরকার আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে। ধরনা দিচ্ছে বেইজিংয়ে। নিজের কিছু না থাকলে অন্যের দেয়া ধারের ওপর ভর করে শুধু সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়। কিন্তু একটি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ইমরান খানের লংমার্চ কর্মসূচি সেখানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, তিনি চাইলেই সহজে নির্বাচন আদায় করে নিতে পারবেন না। নির্বাচন হতে হলে আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করতে হবে। কিন্তু তিনি কি তা করবেন? জবাবে শেহবাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পার্লামেন্টের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। এ বিষয়ে অটল তিনি। তিনি আশা করছেন, এ সময়ের মধ্যে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) আইএমএফের সহায়তায় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে পারবে।

  অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার জন্য ৫ মাসের মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে পরিবর্তন করেছেন শেহবাজ শরীফ। দেশটিতে এখনো বছরের সঙ্গে বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতি শতকরা ২০ ভাগের উপরে। এই গ্রীষ্মে প্রলয়ঙ্করী বন্যা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর পরিমাণ ৩২০০ কোটি থেকে ৪০০০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংক বলেছে, সেখানে দারিদ্র্যের শতকরা হার বৃদ্ধি পেতে পারে ৪ ভাগ। এর অর্থ হলো সামনের মাসগুলোতে আরও ৯০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়বেন। এমন অবস্থায় ২৭০০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধের সময় রি-শিডিউল করানোর চেষ্টা করছে সরকার। এ ঋণের বেশির ভাগই চীনের কাছে। তবে চীন ঋণ পরিশোধের বিষয়ে রি-শিডিউল করবে বলে মনে হয় না। কয়েক মাসে সার্বভৌম ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। তবে সেই ঝুঁকি একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তার ওপরে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এই শীতে জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে পাকিস্তান।  এসব চ্যালেঞ্জ এবং ইমরান খানের অব্যাহতভাবে সেনাবাহিনীর ভেতরে হস্তক্ষেপের কারণে সরকার নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। তারা ইমরান খানের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করেছে। 

তার বিরুদ্ধে বেশ কতোগুলো মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় ইমরানকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মামলাগুলোও খুব কঠিন। তার বিরুদ্ধে বিচারক জেবা চৌধুরী এবং দু’জন পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার কারণে মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। এসব মামলায় যদি তিনি অভিযুক্ত হন তাহলে নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি অযোগ্য হতে পারেন। তদুপরি নভেম্বরের শেষের দিকে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দেবেন শেহবাজ শরীফ। এই আঁচিলটি তার কাঁধে বড় হতে পারে। এ ইস্যুতে সেনাবাহিনী তার পক্ষে থাকবে কিনা- সেটা বড় এক প্রশ্ন। কারণ, পাকিস্তানে সেনাবাহিনী প্রচুর ক্ষমতাধর। তারা একটি সরকার গঠন করতে বা তাকে ভেঙে দেয়ার সামর্থ্য রাখে। মূলত বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান। তার সময়কার প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অনেক গোপন রেকর্ডিং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ফাঁস হওয়া অডিও ইমরান খানের কৃতিত্বকে খর্ব করেছে। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকার নেতৃত্বে তাকে উৎখাতের যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন তাকে খণ্ডন করে দেয়। এ অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী  শেহবাজ শরীফের কথোপকথনও আছে। সঙ্গত কারণেই এই তদন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় ইমরান খান বলেছেন, তার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করতে বানোয়াট ‘নোংরা ভিডিও’ প্রকাশ করবে সরকার।  

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status