ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

কাওরান বাজারের চিঠি

পয়েন্ট অব নো রিটার্নে রাজনীতি?

সাজেদুল হক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার

দুই পক্ষই অনড়। যদিও শক্তির বিবেচনায় বিরোধীরা দুর্বল। এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা আন্দোলনের চেষ্টা করছে। কখনও সহিংসতায় অভিযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সরকার এবং সরকারি দলের অলআউট অ্যাকশনের সামনে টিকতে পারেনি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের আমলেও যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি এমন নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজনীতি এখন পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকেই যাচ্ছে। কোনো পক্ষই কোনো ছাড় দেবে না। যারা টেকার টিকে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা সম্পর্কে হ্যামলেটেরই উক্তি, ‘করবো কি করবো না, প্রশ্ন হলো তাই, বিরূপ ভাগ্যের শরাঘাত সয়ে যাওয়া, নাকি দুঃখ সমুদ্রের বিরুদ্ধে  বিদ্রোহ কিংবা বিরোধিতা করে ওদের বিলীন করা, কোনটা মহত্তর।’


নাটক এগিয়ে চলে আপন গতিতে। হ্যামলেটের হাতে খুন। মৃত্যু হয় প্রেমিকা ওফেলিয়ারের। এবং সব শেষে আবার মৃত্যু। এনকাউন্টারের শব্দ। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। হ্যামলেট নাটকে মৃত্যুর মিছিল দেখতে দেখতে উপস্থাপক বলেন, ‘মৃত্যুর মিছিল চলছে, মারা যাচ্ছে মানুষ, আর তোমরা শুধুই নীরব।’ সাড়ে নয় বছর আগে  আমারই  লেখা এই  নিবন্ধ বৃহস্পতিবার রাত থেকে খুব মনে পড়ছিল। মূলত রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পটভূমিতে লেখা। সে সময়কার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক মৃত্যুর ঘটনাও এসেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে  মৃত্যুর মিছিল কি আবার ফিরে আসছে? ভোলা, নারায়ণগঞ্জের পর মুন্সীগঞ্জ। ফের গুলি চললো মিছিলে। এবার মারা গেলেন যুবদল কর্মী। শহিদুল ইসলাম শাওন তখনও মারা যাননি। আমাদের রিপোর্টার ফাহিমা আক্তার সুমির রিপোর্ট পড়ছিলাম। পরিবারের বড় সন্তান শাওন। চালাতেন অটোরিকশা। এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে তার। ঘটনার দিন দুপুরে বের হয়ে যোগ দেন বিএনপি’র মিছিলে। তার আর ঘরে ফেরা হয়নি। লাশ হয়ে ফিরেছেন বাড়ি। পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আধাঘণ্টা এম্বুলেন্স আটকে রেখেছিল। যে কারণে সময়মতো তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা যায়নি। শাওনের ভাই সোহানুর রহমান বলেন, একজন গুলিবিদ্ধ মানুষকে আধা ঘণ্টা আটকে রাখলে কতটুকু রক্তক্ষরণ হয়। আরও কিছুক্ষণ আটকে রাখলে ভাই সেখানেই মারা যেতো। আমার ভাইয়ের যদি কিছু হয় তাহলে তার একটা বাচ্চা ও স্ত্রী আছে তাদের কি হবে? বাচ্চাটা বাবা হারা হয়ে এতিম হয়ে যাবে। তার স্ত্রী স্বামী হারা হবে, আমরা ভাই হারাবো। এই কষ্ট কাউকে বলা যায় না। আমাদের কেমন লাগছে তা আমরা জানি। তার ছোট ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ্ যেন ভাইকে সুস্থ করে দেন। বাচ্চাটা এখনও তার বাবাকে ভালো করে চিনতেও পারলো না।

শাওনের ভাইয়ের প্রার্থনা কবুল হয়নি। সেটা এখন সবারই জানা। কবুল হয়নি তার পিতার প্রার্থনাও। বাবা-মা তার সন্তান হারালেন, ভাই হারালেন প্রিয় ভাইকে। সবচেয়ে বড় কথা, এক বছর বয়সেই বাবা হারা হয়ে গেল একটি শিশু। অনিশ্চিত হয়ে গেল তার পুরো জীবন। দুঃখজনক হলো এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো কথা হবে না। সাধারণ, গরিব একজন মানুষের মৃত্যুতে, বিরোধী রাজনীতিতে যুক্ত এক কর্মীর মৃত্যুতে কারই বা কি আসে যায়! এ সমাজে, রাষ্ট্রে বিভক্তি ক্রমশ আরও বাড়ছে। ঈদের পর আন্দোলন। এ নিয়ে কত ট্রল হলো! কিন্তু আন্দোলনে যে এ প্রাণহানি, একটি পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি এর দায় কে নিবে?

আপনি যদি টকশো দেখে থাকেন, পত্রিকায় কলাম পড়ে থাকেন কিংবা নেতাদের কথা শুনে থাকেন, তবে একটি পরিষ্কার বার্তা পাবেন। সেটি হচ্ছে, জোর যার মুল্লুক তার। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালও একবার তলোয়ার-রাইফেলের কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।  মাঝে টকশো’তে ঢাকার এক সম্পাদকের কথা শুনছিলাম মনোযোগ দিয়ে। তার মেসেজও ছিল লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। বিএনপি কেন আন্দোলন করতে পারে না? যা করার আন্দোলন করেই করতে হবে! তো আন্দোলন মানে কি? মারামারি? আগুন? রক্তপাত? মৃত্যু? যে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজও এখন পর্যন্ত প্রাচীন এই চিন্তায় আবদ্ধ সেখানে পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব।

ব্যালট পৃথিবীতে কেন এলো? প্রধানত ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের জন্য। রাজা আসবে, রাজা যাবে কিন্তু ক্ষমতার হস্তান্তর নিয়ে কোনো রক্তপাত হবে না, কাটাকাটি হবে না। জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে। হ্যাঁ, গণতন্ত্রের একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে, এখানে সংখ্যালঘুর সঠিক মতামতও গুরুত্ব পায় না। কিন্তু এ দুর্বলতা সত্ত্বেও দেশে দেশে গণতন্ত্র এগিয়ে গেছে। আমরাও বলছি, আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। অতীতের লেখার পুনরাবৃত্তি করে বলি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পেছনেও এই ব্যালটের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু এখন এখানে ব্যালট হয়ে পড়েছে গৌণ।  

রাজনীতির ময়দানে স্লোগানটির জনক শামীম ওসমান। পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে তা আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান, রুমীন ফারহানা। সবার মুখে এক কথা। খেলা হবে। দৃশ্যপট পরিষ্কার। এ খেলা এরইমধ্যে মাঠে গড়িয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো এতে মারা যাচ্ছে মানুষ, গুলি খাচ্ছে মানুষ, আহত হচ্ছে মানুষ। আহত হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। নেতারা বলছেন, ফয়সালা হবে রাজপথে। কিন্তু রাজপথে ফয়সালা কি গণতন্ত্রের মেকানিজম।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্ট্যাটাসকো চলছে। এমনিতে যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদতো হতেই পারে। সংঘাতও প্রাচীন কাল থেকে মানুষের সঙ্গী। কিন্তু বাংলাদেশে প্রধান সংকট নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। নির্বাচন এখানে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গায়েবি ভোট, গায়েবি এমপি কম দেখিনি আমরা। ক’দিন আগে এক সংসদ সদস্যতো নিজেই দাবি করলেন, জনগণ তাকে এমপি বানায়নি। যাক সে কথা। নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাংলাদেশে নিজস্ব একটা পদ্ধতি তৈরি করেছিল। ১৯৮০ সালের ৭ই ডিসেম্বর জামায়াত অনির্বাচিত ব্যক্তি সমন্বয়ে ‘তত্ত্বাধায়ক’ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে (সংগ্রাম, ৮ই ডিসেম্বর ১৯৮০)। ১৯৮৩ সালের ২০শে নভেম্বর এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানে জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এক জনসভায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ফর্মুলা দিয়েছিল (সংগ্রাম, ২১ নভেম্বর ১৯৮৩)। (সূত্র: তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দুই ব্যক্তির ছায়া: মিজানুর রহমান খান, প্রতিচিন্তা)

এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হন। পরে বিএনপি’র আমলে মাগুরার বিতর্কিত নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে ফের জোরালো করে। বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনগুলো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাতেই হয়েছে এবং এসব নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। পরে সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেয়। তবে অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে সব বিচারপতিই গুরুত্ব আরোপ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর দু’টি নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার যদিও বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দল সে অর্থে কখনও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বিএনপি। বিরোধী শিবিরের অন্যান্য দলকেও তারা আন্দোলনে টানার চেষ্টা করছে। বিএনপি কয়েক সপ্তাহ ধরে মাঠে বিক্ষোভ করে আসছে। আর এ কর্মসূচি ঘিরেই তৈরি হয়েছে সংঘাত। কোথাও সরকারি দল, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে। রক্তাক্ত হয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা । লাশ পড়েছে ভোলা, নারায়ণগঞ্জ সবশেষ মুন্সীগঞ্জে।

দুই পক্ষই অনড়। যদিও শক্তির বিবেচনায় বিরোধীরা দুর্বল। এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা আন্দোলনের চেষ্টা করছে। কখনও সহিংসতায় অভিযুক্ত হয়েছে। কিন্তু সরকার এবং সরকারি দলের অলআউট অ্যাকশনের সামনে টিকতে পারেনি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের আমলেও যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি এমন নয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, রাজনীতি এখন পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকেই যাচ্ছে। কোনো পক্ষই কোনো ছাড় দেবে না। যারা টেকার টিকে থাকবে। প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা সম্পর্কে হ্যামলেটেরই উক্তি, ‘করবো কি করবো না, প্রশ্ন হলো তাই, বিরূপ ভাগ্যের শরাঘাত সয়ে যাওয়া, নাকি দুঃখ সমুদ্রের বিরুদ্ধে  বিদ্রোহ কিংবা বিরোধিতা করে ওদের বিলীন করা, কোনটা মহত্তর।’
কিন্তু রাজনীতিতো যুদ্ধ নয়, বিনাশের খেলাও নয়। খেলা হতে পারে, তবে গণতন্ত্রে সেটা হতে হবে ব্যালটে। বলা হয়, পলিটিক্স ইজ আর্ট অব কম্প্রোমাইজ। তাহলে কেন এতো সংঘাত, লড়াই। ক্ষমতার জন্য? সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটি কি ক্ষমতা? কিন্তু রাজনীতিতে সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটির নামতো গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে সংঘাত, রক্তপাত জায়েজ নয়। যদিও এ ভূমে তাই হয়ে আসছে। মুখে গণতন্ত্র, মনে লাঠিতন্ত্র। গণতন্ত্রে ছাড় দিতে হয়, ছেড়ে দিতে হয়। দুই শিবিরের নেতাদেরই তা  বোঝা প্রয়োজন।
 

লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, মানবজমিন
[email protected]

 

 

পাঠকের মতামত

জনগণের ব্যালটের অধিকারকে বুলেটের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেবার সরকারের যে পরিকল্পনা, যা ইতিমধ্যেই অনেকগুলো প্রান পুলিশের গুলিতে ঝরে যাবার মাধ্যমে শুরু হয়েছে, তা ভেস্তে যেতে বাধ্য। ২০১৪ এবং ২০১৮ এর মতো নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে আর মেনে নেয়া সম্ভব নয় । অবকাঠামোর দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে মানুষ আগের নির্বাচনগুলোর বিরুদ্ধে কোন কঠোর অবস্থান নেয়নি। কিন্তু উন্নয়নের নামে মহা লুন্ঠন , বিদেশে টাকা পাচার, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতি , আর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে মানুষ এখন সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে।‌‌আমি বিশ্বাস করি দেশের আন্দোলন আর বিদেশের চাপ সরকারকে বাধ্য করবে একটি ভালো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে। একটি ভালো নির্বাচনে এ সরকারের পরাজয় সুনিশ্চিত। তখন‌ সরকারের দালালরা পালানোর জায়গা পাবে না ।

Andalib
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

'জোর যার মুল্লুক তার', কথাটা অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত একইভাবে সত্য। বয়সের ভারে অথবা রোগাক্রান্ত হয়ে শরীরের জোর কমে গেলে অথবা দৈবদুর্বিপাকে মানুষের যেমন মৃত্যু হতে পারে তেমনি মুল্লুকেরও পরিসমাপ্তি ঘটে। শরীরের জোর, জীবনকাল এবং মুল্লুক চিরস্থায়ী নয়। যা চিরস্থায়ী নয় তার জন্য মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম কতোই না অদ্ভুত! তবে আমাদের মানসিকতার বাইরেও পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে তাঁরা মুল্লুকের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেনা। 'জোর যার মুল্লুক তার' ধারণাটা আমাদের মধ্যে যতো বেশি বদ্ধমূল তাঁদের মধ্যে কল্পনার অতীত। একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে তাঁদের মধ্যে মুল্লুক তথা ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। নিয়মটা হচ্ছে বাধাহীন গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতার লোভ এবং দাপট একেবারেই অনুপস্থিত। অন্যের গনতান্ত্রিক অধিকারে কস্মিনকালেও তাঁরা হস্তক্ষেপ করেনা। তাই তাঁদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় হস্তক্ষেপ মুক্ত, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিদায় এবং লিজ ট্রাস-এর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার যে সৌন্দর্য আমরা দেখলাম তা শুধু চর্মচক্ষু দিয়েই দেখলাম, মনের চোখ দিয়ে দেখিনি। মনের চোখ দিয়ে দেখলে গনতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে কেউ আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিতে মারা যাবে কেন। আমাদের বিপত্তির মূল কারণ হচ্ছে, অস্থায়ী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চাই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ব্যালট পেপারে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো কিনা সন্দেহ। এই অকাট্য দলিল আমাদের সামনে থাকার পরেও শুধুমাত্র অস্থায়ী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে গিয়ে জোরজবরদস্তির নির্বাচন এবং ব্যালটের বদলে মেশিনের ভোটে বদ্ধপরিকর। ব্যালটের ভোটে দিনের আলোতে সামনাসামনি কারসাজির কারচুপি করা যায়না তাই যা করার রাতে করতে হয়েছে। এজন্য দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। রাতের সেই কাজটা দিনেদুপুরে হাজারো মানুষের সামনে ইভিএমের উপর ভর করে যতোই কৌশলে করা হোক মানুষ কিন্তু ঠিকই বুঝবে, ফলে সমালোচনার তীর আগের মতোই চলবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না বিধায় দলীয় সরকারের অধীনের নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনে দেশের বেশুমার ক্ষতি হয়েছে। অনেক সম্মানিত লোককে দিনেদুপুরে হাজারো মানুষের সামনে রাস্তায় পরিধেয় কাপড় খুলে নেয়ার অসভ্যতাও করা হয়েছে। অনেকের প্রাণ সম্পদের হানী হয়েছে। খালের উপর দিয়ে এপাড় থেকে ওপাড়ে যাওয়ার জন্য সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে সাঁকো তৈরি করা হলো। 'জোর যার মুল্লুক তার' নিয়মে একজন সাঁকোর উপর দিয়ে খাল পার হয়ে সাঁকোটি ভেঙে দিলো। এখন অন্যরা সাঁকোর দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়, গুলির মুখে পড়ে, আহত হয়, নিহত হয়, মামলার আসামিও হয়। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে গিয়ে মানবতার কী অপমানই না করা হচ্ছে! ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া আঁকড়ে ধরার পরিণতি কী হতে পারে সেকথা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, 'এই লোকেরাই আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন কিনে নিয়েছে। কাজেই তাদের শাস্তি কমানো হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না।' সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত:৮৬। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী জানার পরেও আমরা দুনিয়ার ক্ষমতার লোভে দুনিয়া আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকি। অথচ আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী এবং দুনিয়ার চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'কিন্তু তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকো। অথচ আখেরাত উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।' সুরা আল-আ’লা আয়াত:১৬-১৭। উপরিউক্ত আয়াতে কারিমায় বলা হয়েছে, দুনিয়া ও তার আরাম-আয়েশ এবং তার স্বার্থ ও আনন্দ স্বাদ লাভ করার জন্যই তোমাদের সমস্ত চিন্তা ও কর্মপ্রচেষ্টা উৎসর্গিত। তোমরা মনে করে থাকো, এখানে যা কিছু পাওয়া যায়, তাই নীট লাভ এবং এখানে যা থেকে বঞ্চিত হও তাই তোমাদের জন্য আসল ক্ষতি। আসলে কিন্তু তা নয়। মূলত, আখেরাত দু’দিক দিয়ে দুনিয়ার মোকাবিলায় অগ্রধিকার পাওয়ার যোগ্য। প্রথমত তার সুখ, স্বাচ্ছন্দ, আরাম-আয়েশ দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামতের চাইতে অনেক বেশী ও অনেক উচ্চ পর্যায়ের। দ্বিতীয়ত, দুনিয়া ধ্বংসশীল এবং আখেরাত চিরস্থায়ী।

আবুল কাসেম
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, শনিবার, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

এই দেশে একটাই সমস্যা , ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা ছাড়তে রাজী নয় । সালিশ মানি তাল গাছ আমার । দেশ আজ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে । আবার সেই কথা বার বার মনে পড়ে , আমার প্রিয় স্বাধীনতা , অনেক দামে কেনা কম দামে বেচা ।

Zakiul Islam
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৮:২৬ অপরাহ্ন

দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বৃহৎ মাঝারি ও ক্ষুদ্র মানের নির্বাচনেও ব্যাক্তি তথা পারিবারিক প্রভাব যত দিন না মুক্ত হচ্ছে তত দিন এমন গোষ্ঠি সংঘাত লেগেই থাকবে। ইহা অনেকটা জেগে উঠা নূতন চরের দখল নেয়ার মত। এখানে আর্ট অব কম্প্রোমাইজ এর পরিবর্তে ওয়ার অব ডেসট্রাকসন বা নিধন মারনের বিভৎস খেলা চলে। গুলী করে বা বোমা মেরে নিবৃত হয় না- অকুস্থল থেকে আক্রান্তদের উদ্ধার কার্যক্রমকে বাধগ্রস্থ করে বা চিকিৎসা বঞ্চিত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। লাউড এন্ড ক্লিয়ার বলে যারা সংঘাতকে উসকে দিচ্ছেন তারাই মূলত সংলাপ বা আর্ট অব কম্প্রোমাইজ তথা গনতন্ত্রের প্রধান অন্তরায়।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৮:১৪ অপরাহ্ন

ডক্টর রেজা কিবরিয়া এবং এম. এ. আরাফাত। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের সপ্তাহে সিএনজি নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলাম। চালক ছিল অতিশয় বৃদ্ধ। পথে হঠাৎ সিএনজিকে থামিয়ে এক ট্রাফিক কনস্টেবল ওই বুড়ো চালককে জয় বাংলায় ভোট দেওয়ার জন্য বললে সাথে সাথে চালক বললো আমি জয় বাংলায় ভোট দিবো না, স্বাধীন বাংলায় ভোট দিবো? নির্বাচনের ঠিক পরের সপ্তাহে কাকতালীয়ভাবে সেই সিএনজি নিয়ে ওই একই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। অনুবৃত্তিক্রমে সেই একই ট্রাফিক কনস্টেবল আবার সেই সিএনজিকে থামিয়ে তার বুড়ো চালককে জিজ্ঞেস করলো 'চাচা ভোট কেমন হইসে?' উত্তরে চালক বললো; "আইয়ূব ইয়াহিয়া তো ভোট দিতে দিছে, দেশ চালানোর অযোগ্যতায় ক্ষমতা দেয় নাই। কারণ সেই ক্ষমতা তোরা দাদাবশুদের পদতলে সমর্পণ করে দিতি। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে নিজ ভূমিতে ক্ষমতা তো দূরের কথা ভোট দিতে না দিয়ে ওই সময়ে আইয়ুব ইয়াহিয়ার আশংকাকেই সত্যি করলি।" অত্যন্ত ঘৃনা ভরে কথা গুলো বললো। স্বাধীনতা আর স্বচেতনা যে ভিন্ন কথা তা আমাদের আবর্জনা আর গবাদি পশু মার্কা আরাফাতরা না বুঝলেও ওই সিএনজি চালক ঠিকই বুঝেছিল। এজন্যই সকল নবী রাসূলদের অনুসারী ছিলেন গরীব ধোপা, কৃষক, মজুর, ব্যাবসায়ী লোকেরা। আরাফাতের মতো কপট ধনিক আর শয়তানি শিক্ষায় শিক্ষিতরা না। নূহ আলাইহিস সালাম ৯০০ বছর ন্যায় আর নেয্যতার মহান বাণী প্রচার করলেও একমাত্র গরীব লোকেরা ছাড়া ধনী কেউ কর্ণপাত করে নি। শেষ পর্যন্ত মহা প্লাবনের হুকুম এলে সব গরীব শ্রেণীর লোকেরাই তার নৌকায় আরোহণ করেছিল, একজন ধনীও না। মোহাম্মদ এ. আরাফাত তার নামের আগে মোহাম্মদ টা বাদ দেন না কেনো? তার কথামত তালেবান ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের কিছু লোক খুশি হয় আর তারা নাকি উগ্রবাদী, তো তালিবানরাতো মোহাম্মদের ধর্মই আল্লাহর জমিনে কায়েম করসে? তাহলে মোহাম্মদ টাইটেল রাখার জন্য আপনি উগ্রবাদী নন কেনো? এই আরাফাতরা সুস্থ চেতনা বিকৃতকারী এক বিকার সম্রদায়। এদেরকে দেখে গোটাবাইয়া ও লজ্জা পাবে। আঠারো কোটি মেহনতি মানুষের গোপনাঙ্গ চা*টা*নোই হবে এর একমাত্র শা*স্তি। এর দল আওয়ামী মলুরা দিনের ভোট রাতে করে, ডিজিটাল আইন করে, জোর করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, বিচার বিভাগকে বন্দি করে মানুষের ব্যাক্তি আর বাক স্বাধীনতাকে হরণ করেছে আর এই আরাফাত মলুরা আওয়ামী মলু থেকেও ভয়ংকর। এরা স্রষ্টার সৃষ্ট মানুষের চিন্তার সত্ত্ব এবং স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে ২+২=৫ বলাইতে চাচ্ছে। প্রকারান্তরে এতে মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলমীন কেইকেই চ্যালেঞ্জ করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। শুধু কি তাই এরা ইসলামের ডেফিনেশন পর্যন্ত নির্ধারণ করে!!! আর এদের নির্ধারণ করা ইসলামের ডেফিনিশন অনুযায়ী আমরা মুসলমানরা শুধু ইসলামের দাওয়াত দিবো, হালুয়া রুটি খাবো, আর মধু মধু কথা বলবো। আর সি ফাকে উনারা ঘুষ, দুর্নীতি, সুদ, জুয়া, অশ্লীলতা, ধর্ষণ, ব্যভিচার, মধ্যপান, মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি, কুৎসা, গীবত, উলঙ্গপনা, বেহায়াপনার মাধ্যমে পুরো মানব সমাজকে বিবর্তিত করে ভয়াল দুর্নীতি আর সর্বগ্রাসী লুণ্ঠনের এক মগের মুল্লোক তৈরি করে কানাডায় বেগম পাড়া, সুইস ব্যাংকে লুটের টাকার পাহাড় গড়া, সিঙ্গাপুরে শীর্ষ ধনী হওয়া প্রতিযোগিতায় মেতে উঠবে। এর আওয়ামিতো আইয়্যাম এর চাইতেও নিকৃষ্ট কিন্তু তুইতো লেজকাটা আবু জেহেলের বংশের চাইতেও অধঃপতিত। চোষন প্রক্রিয়ায় সজোরে নিক্ষিপ্ত লিকুইড পরম তৃপ্তি সহকারে আস্বাদন করাই হবে এই জা*নো*য়ারের একমাত্র পানিও আর খাবার। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জাতি ফিলিস্তিনের উপরও ইহুদি ইসরাইল এইরকম রক্তক্ষয়ী অত্যাচারের ধৃষ্টতা দেখায় না, যেটা আওয়ামী মালাউরারা নিরীহ জনতার রক্ত ঝরিয়ে দেখাচ্ছে। এই আরাফাতদের জন্যই দেশ আজ সতীত্ব হারিয়ে পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য হয়েছে। "সৎ লোকরাই হুকুমতের অধিকারী। পৃথিবীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী হচ্ছে সেই যোগ্য লোকেরা যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। ওহীর আবেদন কি এছাড়া অন্য কিছু?" আরাফাত মালাউরা মোহাম্মদ নাম রেখে ওহীর এই সত্য নিবেদন অস্বীকার করে কারণ তারা আওয়ামী উচ্ছিষ্টভোগী এক আবর্জনা আর গবাদি পশু সম্প্রদায়। ধিক এইসব মুনাফেক আরাফাত মলুদের!

আতাউল হক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status