ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

রাজনীতিতে ছাড় দেয়ার মানসিকতা এবং...

তারিক চয়ন
২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার

দেশের স্বার্থে সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে এবং বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে সরকারের হাতেই। বিএনপি যেমন ‘নিরপেক্ষ বা নির্বাচনকালীন সরকার’ নিয়ে গোঁ ধরে রয়েছে, আওয়ামী লীগও তেমনি ‘সংবিধান রক্ষা’ নিয়ে গোঁ ধরে রয়েছে। এভাবে, গোঁ ধরে থাকা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। দুটি দলকেই এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর কে না জানে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র মাঝে সমঝোতা হলে দেশের স্বার্থে এগুলো কোনো বিষয়ই নয়। সিইসি আউয়াল যেমনটি বলেছেন

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দদ্বয় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে, জনপ্রিয়তাও পায়। ওই বছর জুড়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে বছরখানেক চেষ্টা চালানোর পর ১৩ই অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সভাপতি এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা করা হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দদ্বয় বহুল ব্যবহৃত হতে থাকলেও তারও অনেক আগে থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতাদের মুখ থেকে কথাটি শোনা যাচ্ছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল স্বাগত জানালেও জন্মের পর থেকেই জোটটিকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে মেতে ওঠেন। তারা জাতীয় ঐক্য কথাটিকে রীতিমতো কৌতুকে পরিণত করেন। অবশ্য সে উপলক্ষও তারা বারবার পেয়েছিলেন বটে।

বিজ্ঞাপন
২২শে সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে কামাল হোসেনদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাতে হাত ধরে ঐক্যের বার্তা ছড়ানো বিকল্পধারা সভাপতি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ছাড়াই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ১১টি রাজনৈতিক দল নিয়ে বিকল্পধারার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘যুক্তফ্রন্ট’।

কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরী এক ছাতার নিচে না আসলেও জাতীয় ঐক্য নিয়ে ইয়ার্কি করতে ছাড়েননি বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা এবং তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি (১লা ডিসেম্বর) বলেছিলেন, “নীতিহীন নেতাদের মানুষ পছন্দ করে না। কিছুদিন পর দেখবেন বি. চৌধুরী ময়মনসিংহে আর ড. কামাল হোসেন থাইল্যান্ডে। কিছুদিন পর দেখবেন জাতীয় ঐক্যের একেক জন একেকটা বলবে।”

তোফায়েল আহমেদের কথামতো বি. চৌধুরী ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন কিনা জানা নেই। তবে, তার দল যে তোফায়েলের দলের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে সমঝোতা করে, নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে সংসদে জায়গা পেয়েছে তা বলাবাহুল্য। তোফায়েলের ওই বক্তব্যের মাস দুয়েক আগে কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক থাইল্যান্ড গেলেও ওই বক্তব্যের পর তিনি থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। তবে, নির্বাচন শেষ হতেই তোফায়েলের কথামতো জাতীয় ঐক্যের একেক জন একেক ধরনের কথা বলতে শুরু করেন। শুরুটা হয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত গুটিকয়েক প্রার্থী যারা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন তাদের সংসদে যাওয়া না যাওয়াকে কেন্দ্র করে। এরপর বিভিন্ন সময় বিশেষ করে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রক্রিয়া, জামায়াতকে সঙ্গে রাখা না রাখা, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করেও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের একেক জনকে একেক কথা বলতে শোনা গেছে।
তবে, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ তোফায়েল হয়তো এটা ভুলে গিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। একেক জন একেক কথা বলা এবং একজনের অন্যজনের কথা তথা মতকে (এমনকি পুরোপুরি অসহ্য বা অযৌক্তিক লাগলেও) গুরুত্ব দেয়া, সম্মান জানানোই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত টমাস প্রিনজ সাংবাদিক কামাল আহমেদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “(গণতন্ত্রে) গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেই একটি বা একাধিক কণ্ঠস্বর, যা আপনি শুনতে চান না। একটি গণতন্ত্রে সেই ভিন্নমতের ও সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে সহ্য করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রশংসাকারী অথবা ধরুন যা আপনি শুনতে চান, তাই-ই বলছে এমন শত শত মানুষের সঙ্গে আপনি কেমন আচরণ করেন, সেটি ধর্তব্যের বিষয় নয় বা তা গণতন্ত্রকে গতিশীল বা শক্তিশালী করে না।”

তবে, গণতন্ত্র শুধু নিজ দল বা জোটের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা চর্চা করতেই শেখায় না, প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দলের মতামত বা বক্তব্যকেও সম্মান জানাতে শেখায়। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের কটাক্ষ করতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ কিন্তু সেই কথাই বলেছিলেন, “জাতীয় ঐক্য কাকে বলে? যখন সমস্ত দল এক হয়ে যায়, তাকে জাতীয় ঐক্য বলে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মতো বড় দল বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় কীভাবে?” তোফায়েল আহমেদ একেবারে সঠিক প্রশ্নই করেছিলেন। তবে, তিনি শুধু নিজ দলের পক্ষেই সাফাই গেয়েছিলেন। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি হলেও বাস্তবে দেশের সবচেয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই দুই দলের যেকোনো একটিকে বাদ দিয়েই জাতীয় ঐক্য হয় না কিংবা জাতীয় ঐক্য গঠন করা যায় না। এভাবে বিবেচনা করলে জাতীয় নির্বাচনে এই দুই দলের কোনো একটি যদি অংশগ্রহণ না করে, সেই নির্বাচনকেও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বলা যায় না। আর জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে সেটিকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বলা যায় কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

২০১৮ সালে সকল দল অংশ নিলেও ওই নির্বাচনটিকে যেমন বিতর্কিত নির্বাচন বলা হচ্ছে, তেমনি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটিকে দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক সচেতন মহলের (আওয়ামী লীগপন্থি ছাড়া) সবাই ‘একতরফা নির্বাচন’ বলে অভিহিত করে থাকেন। ‘৫ই জানুয়ারির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’ বলে খ্যাত ওই নির্বাচন কেবল বিএনপি-ই নয়, অন্য অনেক দলও বর্জন করেছিল। এর ফলশ্রুতিতে ১৫৪ জন জাতীয় সংসদের সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান! ওই নির্বাচনের সময় থেকেই সাম্প্রতিককালে এ দেশে গণতন্ত্রের সংকটের উৎপত্তি বলে অনেকের মত। ওই নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে কিনা সে প্রশ্নও উঠতে থাকে।

অবশ্য, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মুখে তার আগেও দেশে বেশ কয়েকটি একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল তেমনি একটি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রচলনের দাবিতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজপথের মিত্র জামায়াতের আন্দোলনের পটভূমিতে ১৫ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জয়লাভ করেছিল। ওই সংসদেই সংবিধান সংশোধনের করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এরপর জুনে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল।

এখানে লক্ষণীয় যে, দেশের দুই বড় দলের একটি (আওয়ামী লীগ) বর্জন করায় ২৭ বছর পরেও দেশে-বিদেশে ওই নির্বাচন নিয়ে হাসিঠাট্টা হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলেও সেটিকে গণনায় ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মীই। কিন্তু, ৯ বছরেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে গর্ববোধ করেন আওয়ামী লীগের অনেক রুই-কাতলা নেতারাও! ২০১৮’র নির্বাচনের আগে তোফায়েল আহমেদ যখন ‘আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় কীভাবে?’ এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন, সে সময়ও তিনি আরেক বড় দল বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী। যদিও, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে সরকার বিরোধীরা ‘সরকার মনোনীত’ বলে থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বলেছেন, “অতীতের অনেক নির্বাচন নিয়েই সমালোচনা বা তর্ক-বিতর্ক হলেও ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অতিমাত্রায় সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে।”

সম্প্রতি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ কিংবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ দিক, কোনো রোড ম্যাপ কাজ করবে না। কারণ নির্বাচনকালে সরকার পরিবর্তন ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনেই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেখতে চায় না। সেটা জাতীয় নির্বাচন হোক কিংবা অন্য নির্বাচনেই হোক।’ অবশ্য রোডম্যাপ ঘোষণার বহু আগে থেকেই বিএনপি বারংবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বা শেখ হাসিনার অধীনে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।

যদিও অনেকেই মনে করেন, বারবার বললেও, নির্বাচন একেবারে সন্নিকটে চলে এলে বিএনপি ঠিকই তাতে অংশ নেবে। বিভিন্ন শর্ত দিয়ে, ছাড় দিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে কিছুটা নমনীয় হবে বিএনপি। অনেকেই এসব নিয়ে রসিকতাও করছেন। কিন্তু, গণতন্ত্রে ‘ছাড় দেয়া’ লজ্জার কিছুতো নয়ই, বরং বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ত্যাগ করে ‘ছাড় দেয়ার মানসিকতা’ই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে, শুধু বিএনপি-ই নয়, ছাড় দিতে হবে আওয়ামী লীগকেও। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার মানসিকতা সবচেয়ে বেশি দেখাতে হবে বরং আওয়ামী লীগকেই। কিন্তু, তাদের নেতারা বারবারই বেশ শক্তভাবে বলে আসছেন, ’সংবিধান অনুযায়ী আর কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না সেটা তাদের বিষয়।’ আওয়ামী লীগ নেতাদের এ ধরনের কথা গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো শুভ বার্তা নয়। তাছাড়া, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ‘এবার সাজানো নির্বাচন করা সহজ হবে না’ ভবিষ্যৎবাণী করে এই লেখককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর গণপ্রজাতন্ত্রী নেই’! জাতীয় পার্টি আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে নেই বলেও সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

মূল কথা, দেশের স্বার্থে সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে এবং বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে সরকারের হাতেই। বিএনপি যেমন ‘নিরপেক্ষ বা নির্বাচনকালীন সরকার’ নিয়ে গোঁ ধরে রয়েছে, আওয়ামী লীগও তেমনি ‘সংবিধান রক্ষা’ নিয়ে গোঁ ধরে রয়েছে। এভাবে, গোঁ ধরে থাকা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। দুটি দলকেই এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আর কে না জানে, আওয়ামী লীগ-বিএনপির মাঝে সমঝোতা হলে দেশের স্বার্থে এগুলো কোনো বিষয়ই নয়। সিইসি আউয়াল যেমনটি বলেছেন, “বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নতুন সরকার বা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন করে তাতেও বর্তমান কমিশনের কোনো আপত্তি নেই।”
সুতরাং, দেশ বাঁচাতে, দেশের মানুষকে রক্ষা করতে, সহিংসতার সম্ভাবনা দূর করতে যতো দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সবাইকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। অতীতে পর্দার আড়ালে বা প্রকাশ্যে এমন অনেক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে একথা হয়তো ঠিক। কিন্তু, ‘ব্যর্থতাকে লক্ষ্য ধরে এগুলেতো চলবে না। পরিকল্পনামাফিক ‘ব্যর্থ হয়েছে’ এমন আলোচনা আয়োজন করারও কোনো মানে নেই। যতদূর জানি, তোমাদের সমস্যা তোমরাই ঠিক করো- বিদেশিরা নিয়মিতভাবে এমন কথা বলে আসলেও ভেতরে ভেতরে এমন একটি সমঝোতার চিন্তা তাদের মাথায়ও রয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক মহল থেকেও এমন আভাস মিলছে। দেশের স্বার্থে এমন যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে, সহায়তা করতে আমাদের নিশ্চয়ই কার্পণ্য করা উচিত নয়!

 

 

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status