ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

খোলা চোখে

তাহলে বিএনপি’র কর্মসূচিতে হামলা করছে কারা?

লুৎফর রহমান
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

এখন প্রশ্ন হলো দলের অবস্থান যদি বিরোধী দলের কর্মসূচির বিষয়ে নমনীয় বা সহনীয় হয় তাহলে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে কারা? কারা কর্মসূচিতে হামলা করছে। কারা বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করছে? বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী নেতাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দিতেও দেখা গেছে কাউকে কাউকে। প্রশ্ন হলো দলের নির্দেশনা না থাকলে তারা কেন হামলায় জড়াচ্ছেন?

গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন বোধহয় খুব কাছে। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিপরীতে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের তরফে পাল্টা কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি কোথাও কোথাও সংঘর্ষে রূপ পাচ্ছে। আবার দুই পক্ষ একই সময়ে একই স্থানে সমাবেশ করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বিএনপি আগে ঘোষণা দিয়েও কর্মসূচি পালন করতে পারছে না। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে জনমনেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

বিজ্ঞাপন
উদ্বেগ আছে বিরোধী দলগুলোর মাঝেও। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্নস্থানে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। সরকারি দলের কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন বিএনপি’র বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাও। 

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার দলীয় এক সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি নির্দেশনা একটি স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের বলেছেন, বিএনপি’র ওপর হামলা করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো নির্দেশনা দেয়নি। দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে কেউ এ ধরনের হামলায় জড়ালে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি হামলায় জড়িয়ে পড়েন, আমরা কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। এখানে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশ নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে দুয়েকটা ঘটনা ঘটিয়ে আজকে সরকারের দুর্নাম, আওয়ামী লীগের দুর্নাম- এগুলো যারা করবে সহ্য করা হবে না। আর এটার সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের অপবাদ দেবে। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বার্তায় স্পষ্ট দলটির কেন্দ্র থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি যে, বিএনপি সমাবেশে বাধা দিতে হবে বা হামলা করতে হবে। তিনি তার বক্তব্যে ‘নেত্রীর নির্দেশনা’ উল্লেখ করে এটিও বুঝাতে চেয়েছেন যে ইতিপূর্বে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে যে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন বা অবস্থান প্রকাশ করেছেন তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। 
এখন প্রশ্ন হলো দলের অবস্থান যদি বিরোধী দলের কর্মসূচির বিষয়ে নমনীয় বা সহনীয় হয় তাহলে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে কারা? কারা কর্মসূচিতে হামলা করছে। কারা বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের ওপর হামলা করে রক্তাক্ত করছে? বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী নেতাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দিতেও দেখা গেছে কাউকে কাউকে। প্রশ্ন হলো দলের নির্দেশনা না থাকলে তারা কেন হামলায় জড়াচ্ছেন? 

অনেকে বলছেন, নেতাদের এই অতি উৎসাহের দুটি কারণ থাকতে পারে। একটি হলো কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধীদের মাঠে চাঙ্গা হওয়াকে তারা ভয় পাচ্ছেন। আর এই ভয়ের মূলে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। অনেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। বিরোধী পক্ষ যদি হঠাৎ মাঠ দখল করে ফেলে। তারা যদি অবাধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে তাহলে ক্ষমতাসীন নেতাদের আধিপত্য হয়তো খর্ব হবে। যারা যেসব সুযোগ-সুবিধা অব্যাহতভাবে নির্বিঘ্নে ভোগ করে আসছিলেন তাতে ছেদ হতে পারে। এসব চিন্তা থেকেই হয়তো দলের স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা, হামলায় অতিউৎসাহী হচ্ছেন। 

দ্বিতীয়ত কিছু কিছু নেতা এমন ঘটনার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্যের বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে জানান দিতে চাইছেন। সামনে দলের পদ-পদবি বাগিয়ে নেয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াসহ নানা হিসাব সামনে রেখে তারা এমন সব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। সোমবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে এও বলেছেন, এখানে-ওখানের দু’একটা ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং সরকারের দুর্নাম হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিরোধীরা অপবাদ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই উপলব্ধি দলের নেতাকর্মীরা ধারণ করেন কিনা এটি একটা প্রশ্ন। কারণ ইতিমধ্যে বহু জায়গায় বিএনপি’র সমাবেশ পণ্ড হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা প্রশাসনের বাধায়। হামলা হয়েছে অনেক জায়গায়। কূটনৈতিক জোন বলে খ্যাত বনানী এলাকায় বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের অতিউৎসাহীরা হামলা চালিয়ে কি বার্তা দিয়েছেন?  বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ফুটপাথে দাঁড়িয়েছিলেন। স্বল্প সময়ের ওই কর্মসূচি শেষ করে হয়তো তারা চলে যেতেন। ওই কর্মসূচিতে সড়কে যান চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়নি। কিন্তু এমন একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কেন তারা বাধা দিতে গেলেন? এই হামলায় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও বিগত সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। বিদেশি মিশন ও কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এমন একটি কমিটির একজন সদস্যকে মেরে রক্তাক্ত করার ছবি গণমাধ্যমে এসেছে। নিশ্চয় এই ছবি বিদেশি দূতদের দৃষ্টি এড়ায়নি। এমন ঘটনা নিশ্চয় একটি খারাপ বার্তা দেবে বিদেশিদের কাছেও। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া রাজনীতিক অবশ্যই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন। দলের নেতাদের বিবেচনায়ও হয়তো বিষয়টি আছে। কিন্তু অতি উৎসাহী, সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের কারণে এমন দুর্নাম তো ইতিমধ্যে অর্জন হয়ে গেছে। সর্বশেষ কুমিল্লায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লা বুলু ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার বিষয়ে কোনো জবাব কি আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে আছে? বুলু স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসছিলেন। পথে গাড়ির চাকায় হাওয়া দিতে থেমে ছিলেন মনোহরগঞ্জে। সেখানে পরিচিত এক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ, রেস্টুরেন্টে বসে কফি খাওয়ার সময় তার ওপর অতর্কিতে হামলা হয়। লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। আহত বুলুর মাথায় ৩২টি সেলাই পড়েছে। সিনিয়র এই নেতা কেন হামলার শিকার হয়েছেন তার জবাব কেউ প্রকাশ্যে দেয়নি। দিবে বলেও মনে হয় না। তিনি তো কুমিল্লায় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাননি। তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে তো দলীয় নেতাকর্মীদের সমাগমও ছিল না। ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে হয়তো কিছু নেতাকর্মী সেখানে গিয়েছিলেন। 

বরকত উল্লা বুলু অবশ্য মানবজমিনকে হামলার নেপথ্যের বিষয়ে কিছুটা আভাস দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আগের কোনো ঘটনার রেশ ধরে তার ওপর হামলা হয়েছে। ওই এলাকাটি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী তাজুল ইসলামের এলাকা। এই এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি দীর্ঘদিন। সর্বশেষ সেখানে সমাবেশ হয়েছে এবং ভুলু ওই সমাবেশে অতিথি ছিলেন। এ কারণেই হয়তো তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো দলের বড় নেতা বা দলীয় মন্ত্রীর এলাকায় বিরোধীদের কোনো কর্মসূচি পালন করতে না দেয়ার মাধ্যমে আসলে কি বার্তা দেয়া হচ্ছে? 

রাজধানীর পল্লবীতে সম্প্রতি বিএনপি’র সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়টি নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেছেন। বিএনপি’র দাবি তারা পল্লবীর তিনটি স্থানে সমাবেশের অনুমতির আবেদন করেছিলেন। সমাবেশের নির্ধারিত দিন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসন সমাবেশের অনুমতি দেয়। বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে ওই স্থানে অস্থায়ী মঞ্চ  তৈরি করতে যান বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে থেকেই ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলে করে হাতে লাঠি নিয়ে মহড়া দেয়ার ছবি গণমাধ্যমে এসেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মঞ্চ তৈরির সময়ই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হলো দুটি বড় এবং উন্মুক্ত স্থানে অনুমতি না দিয়ে একটি পাড়ার ভেতর কেন তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। বেলা একটায় অনুমতি দেয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কীভাবে ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহড়া দিতে যান। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ওই দিনের সমাবেশ পণ্ড করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করেছে। তা নাহলে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশ শুধু বিএনপি কর্মীদের ওপর চড়াও হতো না। আওয়ামী লীগ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করলেও শুধু বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর মামলা দেয়া হতো না। বিএনপি’র অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেয়ার শুরু থেকে প্রথম দুই সপ্তাহে সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী আসামি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকায় থাকতে পারছেন না বলেও অভিযোগ আছে। 
এসব ঘটনা নিশ্চয় দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগের জন্য দুর্নামের। এসব ঘটনা সামনে এনে বিরোধীরা অপবাদ দেবে এটাও তো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। দলের সাধারণ সম্পাদক সর্বশেষ যে বার্তা দিয়েছেন তা সবার জন্যই স্বস্তির খবর। তিনি যদি সত্যিই দলের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করে থাকেন তাহলে আগামীকাল থেকেই বিরোধীদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার ঘটনা থেমে যাওয়ার কথা। বিরোধীদের সভা- সমাবেশে হামলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। এটি আসলে হবে কিনা তা যদিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। 

এর কারণ কিছু গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে খবর প্রকাশ হয়েছে, আওয়ামী লীগের মনোভাব হলো জাতীয় প্রেস ক্লাব ও নয়া পল্টনের বাইরে বিরোধীদের কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন, তাদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পাহারা দিতে। দল হয়তো বলেছে সতর্ক থাকতে, কিন্তু নেতাকর্মীরা বুঝে নিয়েছেন যে, বিরোধীদের মাঠে নামতে দেয়া যাবে না। কারণ বিরোধীরা মাঠ দখল করে নিলে তো আর তাদের সতর্ক থাকার অর্থ হয় না।  

কেন্দ্রের নির্দেশেই যদি নেতাকর্মীরা সংযত থাকতেন তাহলে তো বিএনপি’র কর্মসূচি শুরুর পর কোনো ধরনের বাধা আসারই কথা ছিল না। কারণ গত ২৩শে জুলাই আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদের কর্মসূচির বিষয়ে এক ধরনের নির্দেশনাই দিয়েছিলেন। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করে তাহলেও ‘বাধা দেয়া হবে না’।  তিনি বলেছিলেন, আসুক না হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে। কোনো আপত্তি নেই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনো বাধা নেই। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পর্যন্ত বিএনপি নেতারা গেলে তাদের বসিয়ে চা খাওয়াবেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি কথা বলতে চাইলে তিনি তা শুনবেনও বলে জানিয়েছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, আন্দোলনের নামে বোমাবাজি ও ভাঙচুর করলে  উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। 

দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশনা মানলে বিএনপি বা বিরোধী কারও সমাবেশে তো বাধা আসার কথা ছিল না। কিন্তু তারা দলীয় সভানেত্রীর ওই নির্দেশনা মানেননি এটিই প্রকাশ হয়েছে পরে। বিএনপি বা তাদের সমমনা দলগুলো যদি কর্মসূচির নামে সহিংসতা করতো বা ধ্বংসাত্মক কিছু করতো তখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্র্মীদের মাঠে নামার যৌক্তিকতা হয়তো থাকতো। কিন্তু বিরোধীরা সহিংসতা করলে তা ঠেকাতে সরকারি দলকে মাঠে নামতে হবে এই সংস্কৃতি বোধহয় খুব বেশি দেশে নেই। কারণ যে কেউ কর্মসূচির নামে বা অন্য কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে, মানুষের জানমালের ক্ষতি করলে বা করার সম্ভাবনা তৈরি করলে তা মোকাবিলার দায়িত্ব সরকার এবং প্রশাসনের। বিরোধীরা যদি এমন কোনো কর্মকাণ্ড করে এবং তা মোকাবিলায় সরকারি দলকে মাঠে নামতে হয় তাহলে তা সরকার এবং প্রশাসনের ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ সময় সরকারে থেকে আওয়ামী লীগ এমন একটা ব্যর্থ প্রশাসন তৈরি করেছে এটিও তো আসলে ভাবা যায় না। 

লেখক: মানবজমিনের নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক

পাঠকের মতামত

@Morshed - Kazi is a true BAL cadre. However, once in a while he is critical of BAL just to disguise his true identity.

Barkatullah
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

@ Mr. Kazi, আপনিও আওয়ামীলীগের এজেন্টদের মধ্যে একজন। ২১ শে আগস্টের ঘটনা অবশ্যই অমার্জনীয় । কিন্তু আওয়ামীলীগ যেখানে সভা করবে বলে এত আগে থেকে সারাদেশে প্রচার করলো, পুলিশের অনুমতি নিল, পুলিশ নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করল, সেখানে সভা না করে, জনসভার ২ ঘন্টা আগে কেন স্থান পরিবর্তন করলো ? কেন সেখানে কেন সভা করলো না?

F. Amin
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৬:৩০ পূর্বাহ্ন

যারা ২০১৪ এবং ২০১৮ তে দুই দুইবার পুরা দেশের জনগনের ভোট নিয়ে প্রতারণা করে চুরি ও জবরদস্তি করে নির্লজ্জভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে! নিজেদের ভোটে নির্বাচিত বলে মিথ্যা প্রচারণা করে! তারা ক্ষমতার স্বাদ পেতে ২১ আগস্ট সহ দেশের আলোচিত বোমা হামলা ও জংগি নাটক সহ নানা ঘটনায় মদদ দেয়নেই এটা এখন বিশ্বাস করা খুব কঠিন।

Alam
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:৪২ পূর্বাহ্ন

শ্রদ্ধাভাজন মন্তব্যকারী কাজী ভাই, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। প্রথমেই ২১ আগস্ট ঘটনার নিন্দা জানাই। এটার সঙ্গে কি আপনি বিশ্বজিত হত্যা, পল্টনে লগিবৈঠা দিয়ে দিনের আলোতে পিটেয়ে হত্যার সঙ্গে মিলাবেন? ২১ আগস্ট ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু বিশ্বজিত একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আপনাদের চোখের সামনে কি সেই দৃশ্য ভাসে না? হেলমেট পরে এর আগে কবে, কখন দেখেছেন ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালাতে? কবে দেখেছেন? বলবেন প্লিজ। প্রশ্ন রইল ইতি আবাল জনতা

-দাই বাঙালি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৩:০৫ পূর্বাহ্ন

@kazi. ২১ আগষ্ট কে ঘটিয়েছে? জনসভার ২ ঘন্টা আগে কেন স্থান পরিবর্তন করলো আওয়ামিলীগ? একমাস আগে থেকে যেখানে সভা করবে বলে প্রচার করলো সেখানে কেন সভা করলো না? মুক্তাঙ্গন এর জন্য ডিএমপি থেকে অনুমতি নিয়েছিল সেখানে কেন সভা করলো না?

Morshed
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ২:৪৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান সব দেশেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক বিরোধী দলের উপর হামলা করে। পশ্চিম বঙ্গে তৃণমূল সমর্থক বিজেপি কে হামলা করার খবর অনেকবার পত্রিকায় পড়েছি । বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগের উপর ঐতিহাসিক হামলার ঘটনা কি বাঙালি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল । একুশ আগস্ট ঘটনা । পাকিস্তানে ইমরান খান কে সন্ত্রাসী মামলা দেওয়া হয়েছিল, হাইকোর্ট সে মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার খবর আজই এই পত্রিকায় পড়লাম । মন্তব্য কারি সবাই এমন ভাবে মন্তব্য করেছেন যেন এসব ঘটনা একেবারেই নতুন দেশে । আমি হামলা সমর্থক নয়। কিন্ত সংযত মন্তব্য পছন্দ করি। দেশে আমাদের ভোটাধিকার নাই, তাই দেশের এসব ঘটনা আমাদের স্বার্থ নষ্ট করে না । কিন্ত দেশের এমন হানাহানি আমরা বিদেশ থাকলে ও পছন্দ করি না। বিদেশে আমরা হেয় হই ভিন্ন দেশীয়দের কাছে ।

Kazi
২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ১:১৭ পূর্বাহ্ন

This kind of torture only can do by Awami lig. This political team has less than 1% support from common people . They have no guts to provide a fair election because they knows very well that if they provide fair election they will not get a single seat in the parliament. Unofficially they already sold our country to India like sikkim. A day will come when India will takeover our country by the help of this Aawmi lig

Tanweir
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গোপন নির্দেশনা ছাড়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর হামলা হতেই পারে না। এটা কেওই বিশ্বাস করবে না। M. Shafiq Absolutely Right.

এদেশের নাগরিক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৯:৫৫ অপরাহ্ন

এখন বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা করছে কারা, এটা বুঝতে পি,এইচ,ডি ডিগ্রির প্রয়োজন লাগে না। আর কেউ যদি এটা বুঝতে না পারে তাহলে কারো সাধ্যনাই তাকে বুঝাবার। তবে এটা খুব সত্য কোন কিছু করেই আর এবার পার পাওয়া যাবে না। ২০১৪,২০১৮ সাল ভূলে যান, এটা ২০২২ সাল। আগামী জাতীয় নিরবাচনে মানুষ ভোট দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ।

SM Rafiqul Islam
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৯:১০ অপরাহ্ন

এ সব কিছুই না। আসল কথা হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পাঁয়ের তলায় মাটি নেই। তার ভয়ে অস্থির। কারন তারা জানে তারা কি করেছে। এখন ক্ষমতা হারালে সুদে আসলে খেসারত দিতে হবে। উপরন্তু তারা ভোট চোর। একে তো ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করে আছে। দ্বীতিয়ত তাদের অন্যায়, অপকর্ম, গুম, খুন, নৈরাজ্য, দুর্নীতি, জনগনের অর্থ বিদেশে পাচার, শোষন, নিপীড়ন ইত্যাদির কারনে ক্ষমতা হারালে তারা বাঁচতে পারবে না। বিচারের আওতায় আসতে হবে, তাই তারা যে কোন মুল্যে BNP কে হামলা মামলা করে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আজ হোক কাল হোক ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে এ চিন্তা তারা করছে না। তারা ভয় পাচ্ছে যে যদি ক্ষমতা হারায় হয়তো বাংলার জমীনে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাস্তবে ও পারবে বলে আমর মনে হয় না। বরং তাদের কৃতকর্মের হিসাব চুকাতে হবে। আর তা অবশ্যই চুকাতে হবে। ৪০ বছর পর ও যদি মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার হতে পারে, তাহলে তাদের মানবতা বিরোধী কর্মের ও তো বিচার হওয়া দরকার। এবং সেটা হবে। তাই তারা মরন কামড় দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে। যার ফলে তারা বিরোধী দলকে রাস্তায় দাঁড়াতে দিচ্ছে না, দিতে চাইছে না। কিন্তু তাদের অপরাধের পাল্লা যে আরো ভারী করছে সে চিন্তা তারা করছে না। যত তাড়াতাড়ি তারা বিদায় নিবে ততই যে তাদের জন্য ভাল এটা তারা উপলদ্বি করার চেষ্টা করছে না। অতএব সব কিছু উপরের নির্দেশেই হচ্ছে। বক্তব্য দিয়ে অন্য কিছু বুঝানোর চেষ্টা করলে সেটা জনগন বুঝবে না। জনগন খুব ভাল করেই জানে কাদের নির্দেশে এগুলা হচ্ছে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। অতএব কাদের সাহেবের বক্তব্যে জনগন এটা বুঝে নিবে যে এগুলা উপরের নির্দেশ ছাড়াই হচ্ছে এটা ভাববার কোন কারন নেই। জনগন এত বোকা না। আর পুলিশ প্রশাষনের বুঝা উচিত তারা জনগনের সেবক। জনগনের টাকায় তাদের বেতন ভাতা চলে। আর আন্দোলন সংগ্রাম জনগনের অধিকার। সে অধিকার কোন দলের পক্ষে গিয়ে, তাদের বাঁচানোর জন্য হরন করা, তাদের উপর গুলি ছোড়া, আন্দোলন পন্ড করে দেওয়া তাদের কাজ না, হতে পারে না। এরকম হলে পরবর্তিতে তাদের ও খেসারত দিতে হবে এতে কোন ভুল হবে না। তাদের বেতন ভাতা কোন দল দেয় না যে সে দলকে বাঁচাতে হবে।

Salim Khan
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৬:২৮ অপরাহ্ন

সব কিছুর একটা শেষ আছে এখন দেখা যাক কি ভাবে শেষ হয়ে।

A. R. Sarker
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৬:২৫ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গোপন নির্দেশনা ছাড়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর হামলা হতেই পারে না। এটা কেওই বিশ্বাস করবে না।

M. Shafiq
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ২:৫৮ অপরাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status