ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

কাওরান বাজারের চিঠি

বাংলাদেশে ‘বেহেশ্‌ত’ বেঁচে আছি, গায়ে জামা-কাপড়ও আছে

সাজেদুল হক
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার

এটা সত্য সারা বিশ্বই একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সরকারই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু কে না জানে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের চিত্র এক নয়। সংকটের প্রধান শিকার জনগণ। আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত। তারা কী রকমভাবে বেঁচে আছেন- সেটা শুধু তারাই জানেন। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এক হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়! ভাবা যায়! এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে জনগণকে নিয়ে কৌতুক করবেন না। তাদের পাশে দাঁড়ান। অন্তত সান্ত্বনাটুকু দেন


গ্রামগুলো তখন ঘুমিয়ে।

বিজ্ঞাপন
শহরও ক্লান্ত। প্রস্তুতি নিচ্ছে বিছানায় যাওয়ার। এরইমধ্যে তৈরি হলো চাঞ্চল্য। টিভি পর্দায় গরম খবর। রেকর্ড গড়েছে জ্বালানি তেল। দাম বেড়েছে অকল্পনীয়। পেট্রোল পাম্পে ভিড়। তেল দিতে গড়িমসি। মধ্যরাতেই হঠাৎ বড় লাফ দেয় জীবন যাত্রার ব্যয় নামের ‘দৈত্য’। এমনিতে সে ইদানীং সর্বগ্রাসী। ৬ই আগস্ট শনিবার সকাল। শেওড়াপাড়া। ছুৃটির দিন। রাস্তায় বাসের সংখ্যা একেবারেই কম। মালিকেরা তখনও অপেক্ষায় ভাড়া বাড়ার। রীতিমতো লড়াই করে বাসে উঠতে হলো। শিকড় বাসের ভেতরেও দেখা গেল যুদ্ধ পরিস্থিতি। কন্ডাক্টর অবশ্য অসহায়ত্বও প্রকাশ করলেন। বললেন, সরকার তেলের দাম বাড়াইছে। মালিকরা ভাড়া বাড়াইবো। আমরা কী করুম। এখন আমাদের কাইজ্যা করতে হবে। বাসের ভেতরে আলোচনা আর ঝগড়া চলতে থাকলো। একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতির কথাও উঠলো। এক যাত্রী বলে উঠলেন, আমার বেতনতো এক টাকাও বাড়েনি। হঠাৎ যেন সবাই চুপ হয়ে গেলেন। মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের রেকর্ডের খবর এরইমধ্যে সবার জানা। জানা বলাটা ভুল। ইতিমধ্যে সর্বত্র ব্যয় বেড়ে গেছে। গত কয়েকমাস ধরেই এই পরিস্থিতি। ফর্দ কাটছাঁট করে কোনো রকমভাবে বেঁচে আছে মানুষ। আমাদের সময় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে রাজা মিয়ার জীবনের গল্প। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, বাবা-মা শখ করে নাম রেখেছিল রাজা। একদিন সন্তান জগদ্বিখ্যাত হবে এমন ভাবনাই ছিল হয়তো তাদের। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে এখন পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৩২ হাজার ৮শ’ টাকা বেতনের চাকরিতে টানাটানি। প্রতিমাসেই বাড়ছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এই ঋণ শোধ দেবেন, তাও জানেন না রাজা মিয়া। রাজা মিয়ার বাসা খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায়। রাজা মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘গভীর রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কান্না করি। জানি না এ জীবন কেমনে চলবে। সন্তানদের মুখে একটু পুষ্টিকর খাবারও তুলে দিতে পারি না। একজন পিতার জন্য এ যে কত বড় আর্তনাদের, ভুক্তভোগী ছাড়া তা কেউ বুঝবে না।’ তো বাদশা মিয়াদের গল্প কি ভিন্ন? না। এই শহর, দেশের জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনেরই এখন এই দশা। এক শ্রেণির বিত্তবান ছাড়া অন্যরা জীবনটাকে স্রেফ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। 

মুনাফা বনাম ভর্তুকি 

এই অবস্থায় সরকার কেন রেকর্ড পরিমাণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে গেল? কর্তা ব্যক্তিদের অবশ্য সাফ কথা তারা এতো পরিমাণে ভর্তুকি আর দিতে পারছেন না। কিন্তু এটি গল্পের এক দিক। গত ক’দিনে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর এবং সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কাহিনীর অন্যদিকটার কথাও। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার অকটেনে ২৫ টাকা লাভ করছে বিপিসি। প্রতিলিটার পেট্রোলে এর চেয়ে ৫ টাকা কমবেশি লাভ হতে পারে। ডিজেলে এখনো লোকসান হচ্ছে লিটারপ্রতি ৬ টাকা। গত মাসের মতো একই পরিমাণ বিক্রি হলে ডিজেল ও অকটেন থেকে এ মাসে ২০৫ কোটি টাকা মুনাফা করতে পারে বিপিসি। ইংরেজি দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৮ বছর ধরে সরকারের একমাত্র লাভজনক সংস্থা হিসেবে গ্রাহকদের কাছে বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করে ৪৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বিপিসি। দাম না বাড়িয়ে এই হারে লোকসান করতে থাকলেও মুনাফার টাকায় প্রায়  ২১ মাস জ্বালানি সরবরাহ করতে পারতো বিপিসি। কিন্তু, গত ছয় মাসে তেল বিক্রিতে বিপিসি’র মোট ৮ হাজার ১৪.৫১ কোটি টাকা পরিচালন লোকসানকে যুক্তি হিসেবে দেখিয়ে গত ৫ই আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তেলের মূল্য ৪২.৫ শতাংশ  থেকে ৫১.৬ শতাংশ বাড়িয়েছে যা ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

 

এর আগে গত নভেম্বরে সরকার একই যুক্তিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতিলিটারে ১৫ টাকা বাড়ায়। বিপিসি’র তথ্যানুসারে, ২০১৮ অর্থবছর  থেকে সংস্থাটি শুল্ক, কর ও লভ্যাংশ বাবদ সরকারি কোষাগারে ৫৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তথ্য অনুসারে, নিয়মিত পরিচালন খরচ এবং অন্যান্য কর দেয়ার পরও বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে বিপিসি’র রয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে, এর তিনটি বিতরণকারী  কোম্পানি- পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক আমানত রয়েছে বলে জানাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশনের তথ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সূত্র জানিয়েছে, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, ডিজেল ও অকটেনের আমদানির ওপর কাস্টমস শুল্ক ও অন্যান্য কর বাবদ রাজস্ব কর্তৃপক্ষটি প্রায় ৩৪ শতাংশ কর আদায় করে। 

সিপিডি’র তথ্য 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, গত মে পর্যন্ত শেষ আট অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বিপিসি। সরকার জ্বালানি তেলে প্রায় ৩৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর নেয়। বিপিসি’র কাছ থেকে প্রতি বছর লভ্যাংশ নিচ্ছে। উদ্বৃত্ত অর্থ হিসাবে বিপিসি’র তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামপ্রতিক মাসগুলোতে সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমছে অথচ আমাদের দেশে বৃদ্ধি করা হলো। আপনারা  দেখতে পারেন নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া কোথাও তেলের দাম বাড়তি নেই। ভিয়েতনাম উদীয়মান অর্থনীতির একটা দেশ অথচ  দেখেন ভিয়েতনামে ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ৯৭.৯ টাকা। 

কী বলছেন বিপিসি চেয়ারম্যান 

বিডিনিউজের এক রিপোর্টে বলা হয়, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ছয় বছরে যে মুনাফার অঙ্ক দেখিয়েছে, তার সঙ্গে বড় ধরনের ফারাক দেখা যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে। অর্থ বিভাগের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত বিপিসি প্রকৃত মুনাফা করেছে ৪৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। কিন্তু বুধবার বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ এক সংবাদ সম্মেলনে এই সাত বছরে ৪২ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা মুনাফার তথ্য দেন। ফলে সরকারের অর্থ বিভাগ যে হিসাব দিচ্ছে, তার সঙ্গে বিপিসি’র হিসাবে ফারাক থাকছে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ছয় বছরে বিপিসি’র বিপুল মুনাফা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই গরমিলের হিসাব এল। 

প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন- 

বিপিসি’র আগের লাভ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিপিসি আগে যে লাভ করেছে, সেগুলো বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে। গত শনিবার নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। নসরুল হামিদ আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিপিসি ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে লস করেছে। ওই টাকা তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে চলে গেছে। এখন অনেকে বলেন, লাভের টাকা কি আপনারা ধরে রাখছেন? আমরা লাভের টাকা তো ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইনে খরচ করে ফেলেছি। আমরা গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে আসতেছি, সেখানে খরচ করছি। ভবিষ্যতে আমরা রিফাইনারি করবো, সেই জায়গাতে আমরা কনসালটেন্সিতে খরচ করেছি প্রচুর টাকা। বিভিন্ন প্রজেক্টে খরচ করছি যেন নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহটা রাখা যায় কিন্তু তেলের দাম তো নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ববাজার।  

বেঁচে আছি, গায়ে জামা কাপড়ও আছে 

মানুষ যখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে তখন তিনজন মন্ত্রীর বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। আরটিভি অনলাইনের রিপোর্টে বলা হয়েছে,  জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনও কেউ মারা যায়নি’- বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। যারা আমাদের পছন্দ করে না তারা বলছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, মানুষ মরে যাবে। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে সত্য, তবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনও কেউ মারা যায়নি, আশা করি মরবেও না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের একটি বক্তব্যও ভাইরাল হয়েছে। বিডিনিউজে মন্ত্রীর বক্তব্যের শিরোনাম, ‘সবাই খেতে পারছে, গায়ে জামা-কাপড় আছে।’ দুই মাননীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে হয়! এদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন অসহায় বোধ করছেন তেমন একটি কঠিন সময়ে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। দাম বাড়ার কারণে কেউ মারা যায়নি এটি নিশ্চয় একটি বড় অর্জন। এখানেই পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় থেমে থাকেননি। তিনি আশাবাদী মানুষ, আশা করেছেন দাম বাড়ার কারণে কেউ মরবেও না। অনলাইন ভিডিওতে এটাও শুনলাম, মাননীয় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, তিনি আগে থেকেই বড়লোক। বড়লোকদের অবশ্য এদেশে কোনো সমস্যা নেই। কয়েক কোটি লোকের ক্রয় ক্ষমতা যে ইউরোপ-আমেরিকার মতো সে কথা অস্বীকার করার জো নেই। এই লেখা যখন শেষ করে আনছি তখন চোখ গেল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে। সেখানে বাংলা বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের একটি বক্তব্য। যেখানে বলা হয়েছে, সিলেটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমপ্রসারণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ  বেহেশতে আছে। 

নোট: এটা সত্য সারা বিশ্বই একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সরকারই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। কিন্তু কে না জানে উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের চিত্র এক নয়। সংকটের প্রধান শিকার জনগণ। আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত। তারা কী রকমভাবে বেঁচে আছেন- সেটা শুধু তারাই জানেন। এই অবস্থায় জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এক হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়! ভাবা যায়! এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে জনগণকে নিয়ে কৌতুক করবেন না। তাদের পাশে দাঁড়ান। অন্তত সান্ত্বনাটুকু দেন।  

লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, মানবজমিন

পাঠকের মতামত

সরকার আমাদের মেরে ফেলেছে বলেইতো, মোমেন মন্ত্রী বলছে যে, বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে‌

Hm Kabir
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ১:৪৩ পূর্বাহ্ন

সরকার আমাদের মেরে ফেলেছে বলেইতো, মোমেন মন্ত্রী বলছে যে, বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে‌

Hm Kabir
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ১:৪১ পূর্বাহ্ন

আ‌গে জানতাম, মরার প‌রে জান্নাতবাসীরা বে‌হেশতী সুখ ভোগ ক‌রে । আর আমরা বাংলা‌দেশীরা সবাই এখনই বে‌হেশতী সু‌খে আ‌ছি। তাহ‌লে আমরা কি ম‌রে গে‌ছি ? য‌দি মন্ত্রীম‌হোদয় একটু বল‌তেন ?

Masud Kabir
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৪:৪৯ অপরাহ্ন

জনগনের পকেট কেটে লুটপাট করছেন আপনারা এতো নির্লজ্জভাবে কথা বলেন মনেহয় নুন্যতম শিক্ষাটা পাননি রাতের আধারে এসেছেন। পতন হবেই কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয় ভুলে যাচ্ছে কেন। চোর ডাকাতদের কাছে দুনিয়া বেহেশতই মনেহবে।রাবিশ

Engr Tariqul Islam
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৯:২৭ পূর্বাহ্ন

A sob kotha record thakbe

sajun khan
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রীরা একটাও রাজনীতি করেনি জীবনে, সবগুলাই আমলা, বলাটা স্বাভাবিক। উলটা পালটা বলাই মন্ত্রীদের ধর্ম। দেশ চালাচ্ছে ব্যবসায়ী মহল, তারা হাসিনা থেকে বেশি ক্ষমতাবান।কনসালটেন্সি করে নাকি অনেক খরচ,,, বাহ!!! খরচের লিস্ট কই? কি কি খাতে কতো, জাতি জানতে চায়।

সাগর চৌধুরী
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ২:৫৫ পূর্বাহ্ন

বেহেস্তে ৬০ টাকা হালি ডিম ও ৩২০ টাকায় কাঁচা মরিচ কিনলাম।

গোলাম মোস্তফা
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ২:০৪ পূর্বাহ্ন

আসলে এই দেশে বেহেশতে আছে চোর বাটপার লুটেরা!

Harun Rashid
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

সারা রাত ইবাদাত করে ক্লান্ত এক দরবেশ ভোরে এক পুকুরে নেমেছে গোসল করে ক্লান্তি দূর করতে। ঐ সময়ে অন্য পারে এসে এক চোরও গোসল করতে নামল। ......। গল্পের বাকি অংশ সবাইর জানা। ঠিক তেমন। চালের কেজি ২০০/, ডিমের হালি ১০০/, সয়াবিন তেল ১০০০/ আর পেট্রল বা ডিজেল লিটার প্রতি ৫০০০/ হলেও যাদের গায়ে লাগবে না, তারাতো ভাববে সবাই বুঝি তেমনি আছে।

parvez
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

দুনিয়ার জীবনে আমাদের বেহেশতী সুখ ও মন্ত্রী মহোদয়গণের আশীর্বাদ!------------------------------------------------------------------------------------------ আমরা সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া ও ব্যাংককের সুখ ভোগ করতে করতে বেহেশতবাসী হয়ে গিয়েছি কবে কখন, মন্ত্রী মহোদয় তা স্মরণ করিয়ে না দিলে অজানাই থেকে যেতো। এরচেয়ে সৌভাগ্যের আর কি আছে, আমরা ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ এ দুনিয়ায় বেহেশতের সুখে আছি! বেহেশতবাসী অথবা দোজখের বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টি মৃত্যুর পরের জীবনের সাথে জড়িত। মৃত্যুর পরের জীবনের পরিধি অনন্তকাল। আর দুনিয়ার জীবনকাল ক্ষণস্থায়ী। ঈমানদারগণের প্রত্যাশা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন যেভাবেই কাটুক আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে জান্নাতবাসী হওয়া চাই। তাই, সেই লক্ষ্যে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও পাপ-পুণ্যের হিসেব মিলিয়ে তাঁরা দুনিয়ায় জীবন যাপন করেন। পক্ষান্তরে, আখেরাতের অনন্ত জীবনের বেহেশত অথবা দোজখবাসী হওয়ার বিষয়ে যারা উদাসীন তাঁরা দুনিয়ায় জীবন যাপন করতে গিয়ে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও পাপ-পুণ্যের হিসেবের ধারধারেনা। তাঁদের কার্যকলাপে দুনিয়াটা জুলুমের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। কোটি কোটি মানুষের জীবন জীবীকা হুমকির মুখে পড়ে। সমাজ জীবনে তৈরি হয় স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল ও ধনী-দরিদ্রের গগন জমিন বৈষম্য। বৈষম্য সব সমাজেই কমবেশি থাকতে পারে। তবে, আমাদের সমাজে বৈষম্যটা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে পড়েছে। ইতিহাসের পাতায় উল্টালে দেখা যায়, খুলাফায়ে রাশেদার যুগে সমাজে ধনী-গরিবের ব্যববধান একদম ঘুচে গিয়েছিলো। সমাজে অর্থনৈতিক শোষণ ছিলোনা, ক্রয় ক্ষমতা সকলের প্রায় সমান ছিলো। ওই সময় জাকাত ফেতরার অর্থ গ্রহণ করার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিলো। অবশেষে জাকাত, ফেতরা ও দান, ছদকার অর্থ অবকাঠামো নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে হয়েছে। এ অবস্থা এজন্যই হয়েছিলো, সে সমাজের শাসকবর্গ থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত সকলের কাছে পরকালের অনন্ত জীবনে জান্নাতবাসী হওয়ার তীব্র আকাঙ্খা ছিলো। ফলে শোষনমুক্ত সমাজ জীবনে অর্থনৈতিক বৈষম্য উধাও হয়ে গিয়েছিলো এবং সমাজের সকল মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রায় সমান হয়ে গিয়েছিলো। ফলে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনেও তাঁরা কমবেশি স্বর্গীয় সুখ ভোগ করতে পেরেছিলেন বটে! যারা দুনিয়ার জীবনকে আঁকড়ে ধরে তাঁদের কমবেশি জুলুমের থাবা অন্যের ওপরে পড়তে বাধ্য। কারণ সম্পদের মোহ তাঁদেরকে ন্যায়-অন্যায় ও জুলুমের বিষয়টা ভুলিয়ে দেয়। এভাবে তাঁরা যাকিছু অর্জন করে তা পেরেশানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে, যারা দুনিয়ার জীবনের ওপর আখেরাতের অনন্ত জীবনকে প্রাধান্য দেয় তাঁদের দুনিয়ার জীবনটা কিছুটা হলেও স্বর্গসুখে ভরে ওঠে। আমাদের সমাজে কারো কারো অর্থনৈতিক সংকট প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে ইদানিং কালে। তবুও কেউ কেউ আবার বেহেশতী সুখে বসবাস করার দাবি করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ  বেহেশতে আছে।' নিজের ও আশপাশের অবস্থার দিকে তাকিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে থাকা তো দূরের কথা বেহেশতের ধারেকাছেও নেই, এমনকি বেহেশতের গন্ধও পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে, কারা 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' হয়েছে গত তেরোচৌদ্দ বছরে তাও বুঝতে অসুবিধা হয়না। তাঁরা হয়তো স্বর্গীয়সুখ অনুভব করতে পারেন। বেহেশতের সাথে দুনিয়ার জীবনের তুলনাই চলেনা। আবূ হুরাইরাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, 'আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি।' সহিহ মুসলিম, হাদীস নম্বর-৬৮৭১, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন। কুরআনুল কারিমেও আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'কোনো মানুষই জানেনা, কী ধরনের নয়নাভিরাম বস্তু তাদের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত সেটাই হবে তাদের কর্মের যথার্থ পুরষ্কার।' সূরা আস্ সাজদাহ্, আয়াত-১৭।পরকালে বেহেশতবাসীরা যা কিছু কামনা করবে তা-ই পেয়ে যাবে। ফেরেশতারা হবে তাঁদের সঙ্গী সাথী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আমরা (ফেরেশতারা) দুনিয়ার জীবনে তোমাদের বন্ধু ছিলাম, আখেরাতেও আমরা তোমাদের বন্ধু, সেখানে তোমাদের মন যাকিছু কামনা করবে তা-ই তোমাদের জন্য মওজুদ থাকবে এবং যাকিছুই তোমরা সেখানে তলব করবে তা-ই তোমাদের সামনে হাজির থাকবে। পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তা হচ্ছে তোমাদের জন্য মেহমানদারি।' সূরা হা-মী-ম আস্ সাজদাহ্, আয়াতঃ৩১-৩২। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'আরটিভি অনলাইনের রিপোর্টে বলা হয়েছে,  জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখনও কেউ মারা যায়নি’- বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।' পেটে দানাপানি না পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ মারা যায়না বটে, তবে কঙ্কালসার হয়ে ধীরে ধীরে মানুষ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। কঙ্কালসার মানুষের এবং মৃত্যুর মিছিল তো আমরা আরো একবার দেখেছি স্বাধীনের পরে। শীর্ষ নেতা দেশের পুনর্গঠনে যখন হিমসিম খাচ্ছিলেন, তখন দলের লোকজনই গরীবের জন্য ভিক্ষা করে আনা রিলিফ সামগ্রী (কম্বল, ঢেউটিন, খাবার ইত্যাদি) লুটপাট করতে দেখা গিয়েছে। ফলে, একশ্রেণির 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' হওয়ার গল্পটার সূচনা তখন থেকেই অতিমাত্রায় শোনা গিয়েছিলো। অভুক্ত মানুষদের নিয়ে তাঁরাই ঠাট্টা মশকরা করতে পারেন, যারা অষ্টপ্রহর গাড়ি, অফিস, বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকেন। প্রতিবেদক লিখেছেন, 'স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের একটি বক্তব্যও ভাইরাল হয়েছে। বিডিনিউজে মন্ত্রীর বক্তব্যের শিরোনাম, ‘সবাই খেতে পারছে, গায়ে জামা-কাপড় আছে।’ মন্ত্রী মহোদয়ের যেখানে বসবাস, যে পরিবেশে তাঁর ওঠাবসা সেখান থেকে তাঁর দেখবার কথা নয় অভুক্ত এবং অর্ধ বস্রাবৃত বা দিগম্বর মানুষও খোদ রাজধানীতে কম নয়। হযরত ওমর ফারুক রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর মতো রাতের বেলায় যদি রাজধানীর অলিগলি ও ফুটপাত ধরে বস্তিতে যাওয়া যেতো দেখা যেতো প্রান্তিক মানুষ পেটপুরে কতোটা খাবার খেয়ে আরামে ঘুমোচ্ছেন। কার কার গায়ে কতো দামী জামাকাপড়, স্লিপিং ড্রেস আছে তাও দেখা যেতো। টাই স্যুট পরা অবস্থায়, বিলাসবহুল জীবন যাপন করে অভুক্ত মানুষের খবর রাখা সম্ভব নয়। এজন্যই কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন, 'চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন/ ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।/ কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/ কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে।/ যতদিন ভবে, না হবে না হবে,/ তোমার অবস্থা আমার সম।/ ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে/ বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।' মানুষ এখনো অভুক্ত থাকতে থাকতে কঙ্কালসার হয়ে মৃত্যু বরন করেনি বটে, তবে হলফ করে বলা যায় মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় কষ্টে আছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। গত কয়েক বছর ধরে একটার পর একটা জিনিসের দাম বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় বাসাবাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বর্ধিত বিল। এভাবে নাকানিচুবানি খেতে খেতে মানুষের যখন দম যায় যায় অবস্থা সে মুহূর্তে অবিস্মরণীয় ভাবে জ্বালানি তেলের দামে অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে, যখন বিশ্ববাজারে দাম নিম্নমুখী। বুঝাই যাচ্ছে সরকারের কোষাগার ক্রমশ খালি হয়ে আসছে, ডলারের দাম সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছে, ফলে লোডশেডিং মানুষের জীবন জীবীকার ওপর আঘাত হানছে। সরকার দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমসিম খাচ্ছে কিনা জানিনা, তবে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দেশের কাছে ঋণের জন্য ধর্ণা দেয়া সরকারি পর্যায়ে অর্থ শূন্যতার প্রমাণ। বিশ্লেষকগণের মতে এ অবস্থার জন্য দায়ী সরকারের মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, কুইক রেন্টাল কোম্পানিকে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও ভর্তুকির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে যাওয়া, ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করা। এসব তছরুপ হয়েছে সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের (oligarch) মাধ্যমে। আর নিত্য পন্যের বাজার অস্থির হওয়ার পেছনেও ওইসব অলিগার্কদের দায়ী করছেন বিশ্লেষকগণ। যে মুহূর্তে জীবন জীবীকা নির্বাহ করতে গিয়ে মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে, ঠিক সে মুহূর্তে টাই কোর্ট পরে মন্ত্রী মহোদয়গনের মন্তব্য তির্যক তীর হয়ে মানুষের বুকে বিঁধছে। তাই এ মুহূর্তে আলাউদ্দিন আলী'র লেখা ও সুরে একটি গানের কথা মনে পড়ছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রয়াত শিল্পী জাফর ইকবাল। গানটির প্রথম কয়েকটি চরণ: 'তুমি আজ দুলছো সুখের দোলায়/ আমি নই জ্বলছি দুখের জ্বালায়।/ যে ভাবেই বাঁচি বেঁচে তো আছি / জীবন আর মরণের মাঝামাঝি।'

আবুল কাসেম
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সঠিক সিদ্ধান্ত হয় নি । কারণ এর নেতিবাচক প্রভাব দেশকে রসাতলে নিয়ে যাবে । তাই সিদ্ধান্ত অদুরদর্শী। বিপিসির দাবি - লোকসান যাচাই করা উচিত ছিল। কারণ অপব্যয়, দুর্নীতির কারণে এসব লোকসানের সিংহ ভাগ জড়িত।

Kazi
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৯:৪০ অপরাহ্ন

এতো দিন জানতাম বেহেস্ত হচ্ছে অপার সুখের জায়গা । হুর থেকে শুরু করে সবকিছুই ফ্রী । এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল। এখানে এক হালি ডিমও ৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয় । এখানেও মধ্য রাতে জ্বালানি তেলের দাম ৫০% বাড়িয়ে দেয়া হয়। গায়ে কাপড় থাকলেও মন্ত্রীরা খোঁটা দেন । বেহেস্তে কেউ না খেয়ে মারা যাচ্ছে না বলে কোন মন্ত্রী তৃপ্তির ঢেকুর তুলেন । যাক , এতোদিনে বেহেস্ত চিনলাম মন্ত্রীদের বদৌলতে।

Andalib
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:৪৩ অপরাহ্ন

প্লিজ, টাট্টা বিদ্রূপ না করে চুপথাকুন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৭:১৫ অপরাহ্ন

বেহেশতে কি রাতের আঁধারে এত বেশী তেলের দাম বাড়ানো হয়? এক বেহেস্ত থেকে কি আরেক বেহেশতে টাকা পাচার হয়? মন্ত্রী সাহেব বোধ হয় ওনারা নিজেদের জন্য সাদ্দাদের মত যে বেহেশত তৈরী করেছেন তার কথা বলছেন।

Khaja
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১:২৪ অপরাহ্ন

মন্তব্য করে আইনের আওতায় আসতে চাইনা আমি নন্দরাল হয়ে বাঁচিবার চাই

জাবের হোসাইন
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১:০৬ অপরাহ্ন

"ইংরেজি দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৮ বছর ধরে সরকারের একমাত্র লাভজনক সংস্থা হিসেবে গ্রাহকদের কাছে বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করে ৪৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বিপিসি।" - Can a government organization (e.g., BPC) get involved in commodity business like commercial enterprises? Can a government organization be a for-profit organization? Governments in other countries in the world cannot be involved in business of any kind. But this is Bangladesh - common sense does not work here.

Hasan Kader
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১২:২৪ অপরাহ্ন

বেহস্তী বাগানে বসি দুনিয়াবী গল্প শুনতে ভাল লাগেনা। সংবাদ ভাষ্য লিখার অভ্যেসটা লইয়া বেহস্তে নসীব হইলে এমনি হয় বুঝি। দেখেন তেলতেলে গতরে কত সুন্দর জামা কাপড় পরে বেহস্তী ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বেহস্তীগন ঠাডা রোদে রাস্তায় আওয়াজ তোলে। বেহস্তেও বুঝি শান্তি নাই।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

বাপ দাদার সম্পত্তিএর মতই বাংলাদেশে ক্ষমতাবানরা ক্ষমতা পেয়ে যায়। এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিইবা আশা করতে পারি!!! যোগ্য ব্যাক্তিরা রাজনীতি করলেও তৈলবাজি লোকদের কারণে তারা যোগ্য আসন পায়না। বাংলাদেশের রাজনীতি বা প্রশাসনের কর্মকর্তা সবই পরিবারতন্ত্র কেন্দ্রিক তাই এই অবস্থা! আফসোস, মহান আল্লাহ তুমি রহম করো।

Rubel Chowdhury
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status