ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

বেহুদা প্যাঁচাল

উজিরে জ্বালানির খেল, আমজনতার দৌড়

শামীমুল হক
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার

প্রশ্ন জাগছে কোনদিকে যাচ্ছে দেশ। বহু মানুষ বাড়তি খরচের ভার সইতে না পেরে ঢাকা ছেড়েছে। কেউ কেউ ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানীর মহল্লায় মহল্লায় এখন প্রায় প্রতিটি ভবনে ঝুলছে টুলেট নোটিশ। আবার যারা ঢাকা থাকছেন তাদের বাড়তি বাড়ি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বাড়িওয়ালারা এসে বলে যাচ্ছেন, তেলের দাম বেড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
তাই বাড়ি ভাড়াও এই মাস থেকে দুই, তিন কিংবা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় ঘর খালি করে দেন। তবুও ভালো। খালি পড়ে থাকলেও লাভ। আমরা আর বাড়তি বিল দিয়ে কুলাতে পারছি না। এখানেও আমজনতা পিষ্ট হচ্ছে। পদে পদে আমজনতা পিষ্ট হওয়ার পণ্যে পরিণত হয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার আর কোনো উপায় নেই।  এমন এক কঠিন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীন দেশের অবস্থা এমন হবে কে ভেবেছিল?


আমজনতা। এরা কলুর বলদ। এদের জন্মই হয় পিষ্ট হতে। এদের ওপর দিয়ে ঝড় গেলেও নড়ে না। ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, বন্যা সবকিছুর সঙ্গে করতে হয় এদের লড়াই। ওদের জীবনটা যেন সমুদ্রের মাঝে পড়ে হাবুডুবু খাওয়া। কূল পাওয়া তো দূরে থাক কূলের দেখাই মেলে না। এ ভাবে এরা ডুবতে ডুবতে এক সময় তলিয়ে যায়। এই আমজনতার ওপর ভর করে যারা চলে তারা দিব্যি আরাম আয়েশে দিন কাটায়। আমজনতাকে পুঁজি করে এরা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ হয়। ফকির থেকে রাজা হয়। আমজনতাকে পুঁজি করে এরা বিশ্বভ্রমণ করে। আকাশে উড়ে। আমজনতার ওপর ভর করে এরা টাকার মালিক হয়। এরা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করে। কানাডার বেগম পাড়ায় গড়ে তুলে অট্টালিকা। আরাম আয়েশে জীবন পার করে। যে আমজনতাকে পিষ্ট করে এরা এগিয়ে গেছে সেই আমজনতাকে দেখলে তারা নাক সিঁটকায়। হ্যান্ডশেক করলে সঙ্গে সঙ্গে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে নেয়। ওদের কাছে যেতে হলে আবার আমজনতাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আর কাছে গিয়ে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়াতে হয়। ওরা যে পথে যায় সুগন্ধি উড়িয়ে যায়। এ সুগন্ধি কার পয়সায় কেনা সেটা একবারও ভাবে না। নীতির রাজা রাজনীতি এখন আঁকড়ে ধরেছে নীতিহীনকে। নীতিহীন সমাজে আমজনতা কেবল এখন উইপোকা। আর এই উইপোকারা শত ব্যথা বেদনা বুকে নিয়ে দিন পার করে। মহাসমুদ্র পাড়ি দেয়ার মতো। এদের ওপর সকল চাপ। কারণ ওরা ডাণ্ডাবেড়ি পরা। ওরা হাঁটতে পারে না। ওদের মুখ বাঁধা। কথা বলতে পারে না। ওদের চোখ অন্ধ। কোনো কিছু দেখতে পায় না। ওরা পারে শুধু সহ্য করতে। 

ওদের বুক ফাটে তবুও মুখ ফুটে না। কারণ ওরা আমজনতা।  ওদের ঘাড়ে চাপে দাম বৃদ্ধির প্রভাব। ওদের ঘাড়ে চাপে চোখ রাঙানির প্রভাব। লুটেরাদের লুট করে নেয়া সম্পদের হিস্যাও  ওদের বহন করতে হয়। আর তা করতে হয় বলেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও ওদের ওপর পড়ে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে খেসারত দিতে হয় আমজনতারই। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাড়ার মাশুলও ওদের দিতে হয়। রমজান এলেও আমজনতাকে পোহাতে হয় পণ্যমূল্যের চোখ রাঙানি। কোরবানি এলে বাজার হয়ে উঠে অস্থিতিশীল। এর মাশুলও দিতে হয় আমজনতাকে। চালের ভরা মওসুমেও এরা চালখেকোদের খপ্পরে পড়তে হয়। আগে ভরা মওসুমে চাল ৩০/৪০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। এখন সেই চাল ৭০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়েছে। চালের বাজারও নাকি এখন ক’টি করপোরেট হাউজের দখলে চলে গেছে। ওদের শায়েস্তা করার কেউ নেই। তাই ওরা যা ইচ্ছা তা করছে। আমজনতাকে পুতুলের মতো নাচাচ্ছে। একবার যখন মওকা পেয়ে গেছে এই করপোরেট গ্রুপ আর এ থেকে রক্ষা নেই। ওদিকে রাস্তায় বেরুলে হাইজাকার, পকেটমার, টানা পার্টির সদস্যদের টার্গেটও এরাই। কোনো সরকারি দপ্তরে কাজ করাতে গেলে স্যারেরা উপরি পয়সা বের করে নেয় ওদের পকেট থেকেই। ওরা কোথাও গিয়ে শান্তি পায় না। 

বিশেষ করে ওরা তখনই কষ্ট পায় যখন বলা হয় জনগণ দেশের মালিক। দেশের মালিকদের  যখন এই অবস্থা তখন দেশের অবস্থা কী হবে তাতো বুঝাই যায়। আবার দেশের মালিক কথাটি শুনলে মুচকি হাসে আমজনতা। তখন তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে জমিদার আর প্রজার সম্পর্কের বিষয়টি। সব কিছু ভেসে যাক- জমিদারকে জমিদারি সময়মতো দিতেই হবে। সেটা যেভাবেই হোক। নিজে মরে গিয়ে হলেও তা শোধ করতে হবে। অন্যথায় নেমে আসবে নির্যাতন। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে আমজনতার ওপর কীভাবে প্রভাব পড়েছে? জ্বালানির বাড়তি দাম তো দিতেই হচ্ছে। এরপর গুনতে হচ্ছে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যয়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ৩০ টাকার পরিবহন ভাড়া এখন গুনতে হচ্ছে ৪৫ টাকা। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বাজারে সবজির দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। কারণ জ্বালানির কারণে ট্রাকের ভাড়া হয়েছে ডাবল। আগে যেখানে ১০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া লাগতো এখন দিতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। পথে পথে চাঁদাবাজি তো রয়েছেই। মুদি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে- একই অবস্থা। পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। ৩৫ টাকার পাউরুটি এখন ৫০ টাকা। ৭০ টাকার তরল দুধ ৮০ টাকা। ৯০ টাকার হুইল পাউডার এখন ১৫০ টাকা। ৩০/৩৫ টাকার সাবান কখন যে হয়ে গেছে ৬০/৬৫ টাকা তা আমজনতা টেরই পায়নি। 

এভাবে সব পণ্যই দ্বিগুণ, তিনগুণ হয়ে গেছে। এসব পণ্যের দাম বাড়ে গোপনে। 

আর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার প্রকাশ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাস ভাড়া বাড়িয়েছে।  ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে ৭ই আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলার অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারিত হলো। ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কোন গাড়ি গ্যাসচালিত আর কোন গাড়ি ডিজেলচালিত আমজনতা জানবে কোথা থেকে? ফলে গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলে আসছে, চলবেই। আবার নৌ যানেও ভাড়া শতভাগ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এ নিয়ে বৈঠক চলছে। অবশ্যই বাড়বে। তবে কতোটুকু বাড়ে তা দেখার বিষয়। এ ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বাস-মিনিবাসে যে কতো দুর্ঘটনা ঘটছে, ঘটবে এর দায় কার? এখন শোনা যাচ্ছে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। আগে যেখানে বিদ্যুৎ বিল আসতো হাজার বার শ’ টাকা।

 বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর পর এখন দিতে হয় কম করে হলেও দুই হাজার টাকা। ওদিকে ওয়াসা চাচ্ছে পানির দামও বাড়াতে। বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়লে আরেক দফা বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম। এরজন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে সবাইকে। করোনার ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন মোক্ষম অস্ত্র হলো করোনা আর যুদ্ধ। ওদিকে করের বোঝা তো আছেই আমজনতার ওপর। ভ্যাট দিতে হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। আমজনতাই এ ভ্যাট পরিশোধ করে। সময়মতো ট্যাক্স না দিলে তো আবার লাল চিঠি এসে যাবে। এ থেকে বাঁচতে আমজনতাকে আগে ট্যাক্সের ফাইল ঠিক রাখতে হয়।  এর আগে সয়াবিন তেল নিয়ে মিল মালিকরা ঘটিয়েছে অকাণ্ড। ৮০/৯০ টাকার সয়াবিন ২২০ টাকা কিনতে হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো- তখন খোলা সয়াবিন তেল বন্ধ করে দেয়া হয়। আবার এক লিটার বোতলও বাজারশূন্য। নিতে হলে দুই লিটার বা পাঁচ লিটার নিতে হবে। উজিরে বাণিজ্য আবার ঘটান আরেক ঘটনা। দাম বাড়ার আগেই তিনি দিন তারিখ ধার্য করে বলে দেন এত তারিখ থেকে তেল এত টাকা ধরে বিক্রি হবে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা তা বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি শুরু করেন। আবার যখন সরকার তেলের দাম কমায় বাজারে এর প্রভাব পড়ে না। কারণ দোকানে দোকানে স্টক করা তেল বাড়তি দামে কেনা। ফলে কমতি দামে আর বিক্রি হয় না। 

তেল কমতি দামে কেনার আগেই শোনা যাচ্ছে আবারো নাকি তেলের দাম বাড়বে।  আমজনতার কোনো দল নেই। তাই তারা কিছু বলতে পারেন না। মুখ বুঝে সহ্য করে নেন। কথায় কথায় এক কথা থেকে আরেক কথায় চলে যেতে হয়। ফিরে আসা যাক জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে।  জ্বালানির দাম হঠাৎ এক লাফে এত বৃদ্ধির সমালোচনা চলছে সর্বত্র। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণকে উল্লেখ করা হলেও দেশের ইতিহাসে এত বৃদ্ধি আর হয়নি কখনো। একান্ন শতাংশ দাম বৃদ্ধি এ যে অকল্পনীয়।  ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষি খাত কঠিন অবস্থায় পড়ে গেল। সেচের পেছনে আরও ৫০ শতাংশ খরচ বাড়বে। এমনিতেই কৃষকের মূলধনের সংকট, তার ওপর হঠাৎ জ্বালানি তেলের একসঙ্গে এত বেশি দাম বাড়ার ধাক্কা সামলানো তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠবে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে চলতি মূলধনের সঙ্গে আরও মূলধন যোগ করতে হবে। কৃষকের কথা- বাড়তি বিনিয়োগের বোঝা টানা তাদের জন্য অনেকটাই অসম্ভব। আগে শ্যালো মেশিনে এক ঘণ্টা সেচ দিতে ১০০ টাকা লাগলেও এখন এর পেছনে ব্যয় হবে ১৫০ টাকা। এরপর সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ায় সেটিও যোগ হবে উৎপাদনে। নিশ্চিতভাবে এই দাম বাড়ার বড় একটা প্রভাব পড়বে উৎপাদন ব্যয়ে। শেষমেশ চালের বাজারে গিয়ে ঠেকবে এর প্রভাব। প্রভাব পড়বে শাক সবজিতেও।

 এমনিতেই আমজনতা দিন চালাতে গিয়ে খরচে কাঁটছাট করছে। আরাম আয়েশ তুলে রেখেছে বাক্সবন্দি করে।  প্রশ্ন জাগছে কোনদিকে যাচ্ছে দেশ। বহু মানুষ বাড়তি খরচের ভার সইতে না পেরে ঢাকা ছেড়েছে। কেউ কেউ ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজধানীর মহল্লায় মহল্লায় এখন প্রায় প্রতিটি ভবনে ঝুলছে টুলেট নোটিশ। আবার যারা ঢাকা থাকছেন তাদের বাড়তি বাড়ি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বাড়িওয়ালারা এসে বলে যাচ্ছেন, তেলের দাম বেড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে। তাই বাড়ি ভাড়াও এই মাস থেকে দুই, তিন কিংবা পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় ঘর খালি করে দেন। তবুও ভালো। খালি পড়ে থাকলেও লাভ। আমরা আর বাড়তি বিল দিয়ে কুলাতে পারছি না। এখানেও আমজনতা পিষ্ট হচ্ছে। পদে পদে আমজনতা পিষ্ট হওয়ার পণ্যে পরিণত হয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার আর কোনো উপায় নেই।  এমন এক কঠিন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীন দেশের অবস্থা এমন হবে কে ভেবেছিল?   সবচেয়ে বড় কথা আসল খেলা খেলে দিয়েছেন উজিরে জ্বালানি। ক’দিন ধরেই বলে আসছিলেন জ্বালানির দাম বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি যে হঠাৎ করে মধ্যরাতে চিন্তা করবেন এটা আমজনতা বুঝতেই পারেনি। আর বুঝতে পারেনি বলেই আমজনতা মধ্যরাতের এ ঘোষণার পর দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। বাইকাররা তাদের বাইক নিয়ে হাজির হন তেলের পাম্পগুলোতে।

 প্রাইভেট কারের চালকরা ছুটে যান পাম্পে। কি এক অবস্থা সে রাতে দেখেছে আমজনতা। তেল নিয়ে কাড়াকাড়ি। এর সুযোগ নিয়েছে পাম্পগুলোও। তারাও পাম্পগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কোনো কোনো পাম্প জ্বালানি দিলেও দুই লিটারের বেশি দেয়নি। এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয় সেখানে। সবাইকে তেল নিতেই হবে। না  হলে সকালে আর পাওয়া যাবে না- এমন অবস্থা।  সবশেষে বলতে হয়, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, চলতি বছরে তেল বিক্রি করে ১ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা লাভ করলেও ৮ হাজার ১৫ কোটি টাকা লোকসানের কথা বলছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ ছাড়া ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা লাভ করেছে বিপিসি। অন্যদিকে সামপ্রতিক মাসগুলোতে সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমছে অথচ আমাদের দেশে বৃদ্ধি করা হলো। কেউ বলছে, আমাদের দেশ থেকে নাকি অন্যদেশে কম। কিন্তু নেপাল ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া কোথাও তেলের দাম বাড়তি নেই। সিপিডি’র দেয়া এ তথ্য ঠিক হলে নিশ্চয় অন্য কোনো মতলব আছে সরকারের। সেটি আমজনতাকে জানিয়ে দিলেই হয়।

পাঠকের মতামত

আমজনতার পক্ষে কলম ধরাটা ও আমজনতার কাজ।এই নিপুণ লেখনীর মাধ্যমে আমাদের মত আমজনতার প্রতি আপনার কত দরদ তা প্রমাণিত, আমরা আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

Md Zonayed khan
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

এতো পেচাল পারেন ক্যান ! আম জনতা বেহেশতে আছে ! বেহেশতে যাওয়ার আগে মরতে হবে না ?

Jalal
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ৬:৫৬ অপরাহ্ন

এদেশের মুদ্রানীতি মানে একটি ছবি ছাপানোর জন্য আরও আরও মুদ্রা বাজারে ছাড়া। অর্থনীতির নিয়ম কানুন মানার দরকার নেই। সারা বছর জুড়ে একটি পরিবারের জন্ম মৃত্যু দিবস পালনের জন্য জনগণের ট্যাকস এর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ। দিবসের শেষ নাই। কতগুলো প্রত্যাবরতন দিবস!! ( পলায়ন দিবস নাই কেন?) দেশের প্রতি ইঞ্চিতে ম্যুরাল/ ছবি। ১৪ বছর চলছে এই প্রদর্শনী।জোর করে মানুষকে মিথ্যা ইতিহাস গেলানোর জন্য রাজকোষ খালি করা হচ্ছে। সিংহাসন রক্ষার জন্য যেসব বাহিনী পোষা হয় তাদের অবাধ দুর্নীতির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ফ্রিগেট, যুদ্ধ বিমান, সাবমেরিন, মিসাইল ইত্যাদি কেনা হয়েছে।কার সাথে যুদ্ধ হবে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষিত স্বামীর সাথে? শুধু কমিশনের জন্য এইসব সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় অস্ত্র সজ্জা। সারাবছর দিবস পালন সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নুতন নাম করণ, জনগণকে পারিবারিক মিথ্যা ইতিহাস গেলানোর জন্য নুতন নুতন প্রকল্প গ্রহণ ইত্যাদি বন্ধ হলে দেশ স্বাবলম্বী হয়ে চলতে পারবে।

nasym
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

সব গুলোকে বাদ দিয়ে সেনাবাহিনির হাতে ক্ষমতা আসলে।এবং দেশে গনতন্ত্রের সরকার আসলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।ইনশাআল্লাহ।

এ,কে আজাদ
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

একটা গল্প বলি – এক গ্রামে ছিল এক চোর। তার চুরির জ্বালায় গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ। সব সময় লোকজন তাকে গালি দেয়। এরকম ভাবে অনেক বছর চলে গেল। চোরের বয়স হয়েছে। সে এখন মরণ পথের যাত্রি। মরার আগে সে তার ছেলেকে ডেকে বললো, “বাবা, গ্রামের লোকজন তো আমাকে দেখতে পারে না। তো আমি মারা যাবার পর তুমি এমন কিছু কোরো যাতে লোকজন আমাকে ভাল বলে।” কিছু দিন পর চোর মারা গেল। চোর মারা যাবার পর তার ছেলে সেই একই পথ ধরলো। তবে সে চুরিতে তার বাপকেও কয়েকগুন ছাড়িয়ে গেলো। তার চুরির জ্বালায় গ্রামের লোকজন খুবই অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো। গ্রামের লোকজন তখন নতুন চোরকে নিয়ে কথা বলা শুরু করলো, “ওর বাপ তো হাজার বছরের সেরা চোর ছিল। তার পরেও ওর বাপ ওর চেয়ে অনেক ভাল ছিল। সে তো আমাদেরকে এতো জ্বালায়নি।” ছেলে তার বাপের শেষ কথা ও সন্মান দু’টোই রেখেছে। এবার বলুনতো গল্পটা বাংলাদেশের কোনো তথাকথিত রাজনীতিবিদের সাথে মিলে কিনা।

Desher Manush
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৫:০৮ পূর্বাহ্ন

সোজা কথা দেশ ডাকাতের কবলে। আমজনতা বলির পাঁঠা। কিছু চোর, ডাকাত, বাটপার রাষ্ট্র-ক্ষমতা দখল করে বিভিন্ন পন্থায় জনগণকে জিম্মি করে তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করে অট্রালিকা গড়ে উঠাচ্ছে, বিলাসী জীবন যাপন করছে। বলার কিছুই নেই।

salim khan
১১ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩:৪৩ পূর্বাহ্ন

Zero tolerance, Hard action will be taken , higher GDP growth, higher per capita Income.....,higher reserves..., higher Export, higher remittance..Development every where??

No name
১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

ভাই কিছুই বলার নাই

Md Tushar
১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১০:৪২ অপরাহ্ন

বৈদেশিক মুদ্রা কিভাবে বাচাবেন - বাংলাদেশে যে সব Products প্রস্তুত করা হয় এবং পাওয়া যায় যেমন- কাপড়, সাবান, প্রসাধনী, বিলাসবহুল সামগ্রী, ইত্যাদি- এই যাতিও জিনিষ আমদানি বন্ধ করুন। বড় বড় যীপ গাড়ি ব্যবহার কমান - একটা যীপ গাড়ি ১০ টা করলা গাড়ি তেল consume করে। পথে পথে অনেক বড় বড় যীপ গাড়ি দেখা যায়- এগুলি আস্তে আস্তে কমান। বাংলাদেশ কে একটি উৎপাদন মুখী ও রফতানি মুখী দেশে পরিনত করুন। পরনির্ভরতা কমান। এতে করে দেশের কর্ম সংস্তান বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা বাচবে।

Muhammad Jalal Hussa
১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

সোজাসাপটা কথা ------------------------------------------ ----------------------------------------------------- দৈনন্দিন আহার্যের, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের, ওষুধ ও শিক্ষা উপকরণের দাম এবং পরিবহন ও যাতায়াত ভাড়া দিনে দিনে বাড়তে থাকে, আর আমরা আমজনতা আছি দৌড়ের ওপরে। জনগণ গণশাস্তির মুখে পড়েছে। এ শাস্তি বিধাতার পক্ষ থেকে নাকি মনুষ্য সৃষ্ট তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারেনা। কারণ মানুষের কর্মের ফল ভোগ করতে হবে তা দুনিয়ায় এবং আখেরাতেও। রাশিয়া ইউক্রেন এবং তারও আগে দুইটা বিশ্বযুদ্ধ, ইরান ইরাক যুদ্ধ, ইরাকে ও আফগানিস্তানে আমেরিকার আক্রমণ এসব তো আল্লাহর নির্দেশে কেউ করেনি। দখলদারি, বড়ত্ব ও শক্তি জাহির এবং প্রভাববিস্তার করতে গিয়ে পৃথিবীর মানুষেরাই এসব যুদ্ধের খেলা খেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের খেলা এখনো চলছে। এসব যুদ্ধের পরিণতির ফল আজকের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয়। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো অশান্তির জন্য দায়ী। তাঁদের রেষারেষির বলির পাঠা বানানো হচ্ছে আমাদের আমজনতাকে। আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে অনেক দেশ এবং বাংলাদেশও। বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মতো আমাদের ছোটো দেশগুলোর সরকারও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেছে। পরাশক্তিরা অন্য দেশের ওপর শক্তি খাটাতে চায়। আর কর্তৃত্ববাদী সরকার চায় জনগণের ওপর শক্তি খাটাতে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও গনতন্ত্র তাঁদের কাছে নাক মোছা টিস্যু পেপারের মতো যার গন্তব্য ডাস্টবিনে। আমাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের আপ্রাণ চেষ্টা করেও কূলকিনারা করতে পারছিনা। কি পাপ, যার শাস্তি এতোটা কঠোর! বিধির বিধানের নিয়মে জন্মেছি এদেশে। সবুজ শ্যমল বাংলা। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যে নয়ন জুড়িয়ে যায়। ছেলেবেলায় ৬০ এর দশকে বাড়ি বাড়ি দেখেছি গোলা ভরা ধান, গোয়ালে গাভী, পুকুরে মাছে-পানিতে একাকার। এক পয়সা, দু’পয়সা, এক আনা, দু'আনা দিয়ে পেট ভরে খাবার খাওয়া যেতো। আজকের দিনের ছেলেমেয়েদের কাছে এসব কথা অবিশ্বাস্য মনে হবে। আমরাই ছেলেবেলায় পড়েছি সায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেতো। ইতিহাসের এই ঘটনাটি যাদুঘরে লিখে রাখার মতো। আর আজকে অজানা কোন পাপের শাস্তি আমাদের দেয়া হচ্ছে তাও একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমরা অতি সাধারণ মানুষ। নিরীহ মানুষ। কর্তারা আমাদের চালান, আমরা চলি। ভোটের সময় হলে কর্তাদের ভোট দিতে যাই। গত আট বছরে দুইটা বড়ো নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) হয়ে গেছে। আমরা কিন্তু আগের মতো ভোট দিতে পারিনি। কি পাপের শাস্তি হিসেবে কর্তারা আমাদের ভোটের অধিকার বাজেয়াপ্ত করলেন তা অজানা। কি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে চলছি আমরা তাও অজানা। বিনে পয়সায় সার, দশ টাকায় চাল, ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম। আমাদের মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়েছিলো ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাঠে উৎসবের আয়োজনে। মনের উষ্ণতা ভোটের উষ্ণতায় রূপ নিয়েছিলো। ফলে আমাদের কাঙ্খিত কর্তারা ক্ষমতায় বসতে পারলেন। আমরা কোনো পাপের অংশীদার নই বলেই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু, শাস্তি কেনো, কি কারণে, কোন পাপের তাও অজানা। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ২০০৯ সাল। ধীরে ধীরে আমাদের মাথার ওপর বজ্রপাত আছড়ে পড়তে থাকে। আজ চালের দাম, কাল তেলের দাম, পরশু ডালের দাম, আবার তরিতরকারির দাম, মাছ, মুরগী, মাংসের দাম বাড়তে থাকে। উচ্চ মূল্য একেক সময় বজ্রপাত হয়ে মাথায় পড়ে। বাড়তে থাকে ওষুধের দামও। জীবন রক্ষার জন্য অনেকের কাছে ওষুধও খাদ্যের মতো। প্রতিদিন সকাল দুপুর রাতে ওষুধ খেতে হয়। ওষুধ ছেড়ে দিলে প্রাণ বাঁচবেনা। ২০০৮ সালের তুলনায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে বিশ গুণ। শুনি বাজারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট কারা তাও পত্রিকায় বেরিয়ে আসে। তাঁরা নাকি আমারা যাঁদের মুগ্ধ মনে ভোট দিয়েছি তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকজন (oligarch). এ এক অজানা পাপের কঠিন প্রায়শ্চিত্ত! ক্যাঙারুর মতো লাফ দিয়ে চলতে থাকে সব জিনিসপত্রের দাম। এরসঙ্গে চলতে শুরু করে গ্যাসের দাম, পানি ও বিদ্যুতের দাম। আমাদের জীবন-জীবিকা যেসব কিছুর সাথে জড়িত, যা কিছু ছাড়া আমরা বাঁচতে পারিনা সেসবের দাম ক্যাঙারুর মতো লাফালাফি করতে থাকে। আর দাম বাড়ার একেকটা লাফ বজ্রের মতো আমাদের আঘাত করতে থাকে। এ কোন পাপের শাস্তি! গত বছরের নভেম্বরে একলাফে বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। শুরুতে পরিবহনের ভাড়া নিয়ে হুলুস্থুল পড়ে যায়। এরপর ভাড়া বৃদ্ধির হুকুম জারি হয়। আমরা কবুল করে নিই। তারপরের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আমাদের মাথায় পড়ে বজ্রের আঘাত। এরপর সয়াবিন তেলের তেলেসমাতি আমাদের বেহুঁশ করে ছাড়ে। আমরা অজ্ঞান হয়ে পড়ি। অজ্ঞান অবস্থায় মিটিমিটি চোখ মেলে দেখি আরেক হুলুস্থুল কাণ্ড। রাতের আঁধার কোনো কোনো প্রাণী, পাখির কাছে খুব প্রিয়। ওইসব প্রাণী দিনের আলোতে বেরোতে চায়না। আমরা দিনের আলোতে চলাফেরা করি আবার রাতের জ্যোৎস্নাও আমাদের বিমোহিত করে। তা-ই বলে দিনের নির্ধারিত কাজ রাতে করছি আমরা কোন পাপ মোচনের জন্য তা এক অজানা রহস্য! ভোট করা হয় রাতে, জ্বালানির দাম বাড়ানো হয় রাতে। আমরা এখন রাতের সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। কিন্তু, কথিত আছে রাতের বেলায় পাপী আর অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। গণশুনানি করা হলোনা, বিশেষজ্ঞদের মতামতের তোয়াক্কা করা হলোনা, হঠাৎ বাজ পড়ার মতো না বলে, না কয়ে, জ্বালানি তেলের দাম অভূতপূর্ব হারে বাড়িয়ে আমাদের কোন পাপের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে? আর রাতের বেলায় এ ঘোষণা কেনো? বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্ন অবস্থায় আছে। অথচ বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি কথা বলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব মিডিয়া উন্মুক্ত। তাই যা তা বললেই হবেনা। মানুষ আসল খবর রাখে। প্রথম আলো লিখেছে, 'মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের কথা বলছে। তবে দেখা যাচ্ছে, বিপিসি ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত টানা সাত অর্থবছরে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৪৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ওই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম থাকলেও সরকার দেশে তেমন একটা কমায়নি।' (প্রথম আলো, ০৯ আগস্ট ২০২২) সরকারের এতো মুনাফার টাকা গেলো কোথায়। কয়েক সপ্তাহ আগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এরপর সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। উৎপাদন করতে হলে সার লাগবেই। একেবারে নাড়ি ধরে টান। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং পরিবহন ভাড়াও বাড়বে। সুতরাং, বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে পকেট কাটা পড়বে মহা ধুমধামে। দাম বাড়ানোর সময় ভোক্তাদের উপেক্ষা তো বরাবরই করা হয়েছে। এটাই কি আমাদের পাপ যে, আমরা জনগণ! জ্বালানি তেলের দাম অভূতপূর্ব হারে বাড়ানোর বিষাদময় ফল ইতিমধ্যে ভোগ করতে আমরা শুরু করেছি। নিত্যপণ্যের বাজারে, গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্যের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ার ফলাফল। আমাদের পিঠ বহু আগেই দেয়ালে ঠেকেছে। আর সরার রাস্তা নেই। পেছনে দেয়াল, সামনে মনুষ্যসৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের আঘাত। এ অবস্থায় আমাদের বাঁচার উপায় অজানা! স্রস্টা যদি মেহেরবানি করে কোনো ত্রাণকর্তা পাঠান আমাদের জন্য তাহলে হয়তো বাঁচার রাস্তা করে দিতে পারেন। নাহয় কি হবে জানা নেই। আমরা বোধহয় আখের মতো। চিবিয়ে চিবিয়ে রস বের করতে হবে। খেজুর গাছের মাথা কেটে মিষ্টি রস বের করা হয়। আমাদের মাথায় বজ্রাঘাত করতে করতে রস, রক্ত, পানি শুকিয়ে গেছে। এখন খেজুর গাছের মতো মাথা কেটে, আখের মতো চিবিয়েও কোনো রস পাওয়া যাবেনা। আজকে মোবাইলে ফোনে একটি মেসেজ এসেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে। তা হচ্ছে, '৯ আগস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। এবছরের প্রতিপাদ্য 'বহুমুখী জ্বালানি, বহুমুখী আগামী'। আসুন আমরা সকলে জ্বালানি সাশ্রয়ী হই। -জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।' কয়েকদিন আগেই তো খবর বের হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে কাওরান বাজারে কর্মচারী পাঠিয়েছেন বাজার করার জন্য। গাড়ি রাস্তার পাশে রেখে ড্রাইভার এসি চালিয়ে ততোক্ষণ পর্যন্ত বিশ্রামে কাটিয়েছেন যতোক্ষণ সময় বাজারের কাজ সারতে লেগেছে। সেখানে সরকারি অন্যান্য সংস্থার গাড়িও একই কাজে গিয়েছিলো। এছাড়া সরকারি গাড়িতে করে কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাতায়াতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। জনগণকে লোডশেডিং- এর জ্বালা ভোগ করে সাশ্রয়ী হতে হবে আর সরকারি কর্মকর্তারা যাচ্ছেতাই পেট্রোল পুড়িয়ে যাবেন। এ কেমন নছিহত! জনগণের সাথে উপহাসের মাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। যারা পাহাড়সম ঋণ নিয়ে ব্যাংক ফোকলা করে দিয়েছে, যারা ঋণ খেলাপির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে, যারা লুটপাট ও দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে, যারা বেগম পাড়ার কারিগর তাঁদের পাপ নেই, শাস্তিও নেই। সব পাপ আমাদের জনগণের। কুইক রেন্টাল কোম্পানির লোকজনও নাকি কর্তাদের ঘনিষ্ঠজন (oligarch). এসব কোম্পানি এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও তাঁদেরকে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে দেয়া হয়েছে কোনো এক রহস্যময় কারণে। বর্তমানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের গতি শত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেও শতভাগ রুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। তাই কোন ফাঁকফোকর গলিয়ে কতো টাকা কোথায় গেছে তা মিডিয়ার বদৌলতে সবাই জানতে পারছে। যে দুর্নীতি, লুটপাট, অপখরচ ও টাকা পাচার হয়েছে তার বলির পাঠা জনগণ। যারা লুটপাট ও দুর্নীতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তাঁদের কোনো পাপ নেই, তাই শাস্তি হয়না। অজানা পাপের যে গণশাস্তি চলছে এখন জনগণের ওপর এর শেষ কোথায় কে জানে? মেগা মেগা প্রকল্পে আমাদের পেট ভরবেনা। সুতরাং, আমারা আর মেগা প্রকল্পের গল্প শুনতে চাইনা। দু'বেলা দুমুঠো খেয়ে পরে শান্তিতে বাঁচতে চাই। ভোটের, ভাতের ও গনতান্ত্রিক অধিকার আমাদের ন্যায্য পাওনা। আমরা আমাদের পাওনা চাই।

আবুল কাসেম
১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৮:৩৪ অপরাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status