ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

মত-মতান্তর

'তুই তুকারি' বাংলা স্টাইল এবং হিরো আলমদের মান ইজ্জত

যুক্তরাজ্য থেকে ডাঃ আলী জাহান

(২ সপ্তাহ আগে) ১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১:৪৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম তলায় উত্তর দক্ষিণ বরাবর আউটডোরের দিকে যাবার যে লম্বা করিডোর আছে তা দিয়ে আমি যখন নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের দিকে যেতাম তখন প্রায়ই দেয়ালে একটি লেখা চোখে পড়তো। অনেকদিন পরে সেই লেখাটি আমার চোখের সামনে আবার ভেসে উঠছে। ওই লেখাটি এখন আর আছে কিনা জানি না। দেয়ালে লেখা খুবই সাধারণ একটি কথা। কিন্তু এর মর্মার্থ অনেক। বিনিময়ও অনেক বেশি।

২. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিঁড়ির ওপরে দেয়ালে সে লেখাটি নিয়ে কথা বলার আগে আমাদের আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ঘটনা বর্ণনা করা দরকার।

৩. বগুড়ার ছেলে হিরো আলমকে নিয়ে ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তীতে অতি প্রভাবশালী এক  পুলিশ কর্মকর্তার সাংবাদিক সম্মেলনে 'তুই এবং সে'র প্রয়োগ অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিকভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী একজন পুলিশ কর্মকর্তার হিরো আলমকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলা কোন ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে? 'সে এটা বলেছে, সে এটা করেছে, সে এটা জানে না' না বলে ওই কর্মকর্তা যদি 'তিনি এটা বলেছেন, তিনি এটা করেছেন, তিনি এটা জানেন না' বলতেন তাহলে তাঁর কোন ক্ষতি হতো না। আপনার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ কিছুটা হলেও হয়তো বাড়তো। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি আসলেই মানুষের মতামতের পরোয়া করেন? আপনি কি আসলেই মনে করেন যে যাদেরকে 'তুই, তুকারি' করছেন ওদের ট্যাক্সের টাকায় আপনার জীবন চলে, চেহারায় জৌলুস আসে, দামি গাড়ি হাঁকান, কানাডা-আমেরিকায় বাড়ি বানান? আপনি কীভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলমকে নিয়ে এভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে পারলেন?

৪. হিরো আলমকে ডিবি পুলিশের অফিসে যে ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা কি ভদ্র মানুষের ভাষা হতে পারে? ' তুই নামের আগে হিরো লাগাস কেন? তোর চেহারা কি হিরোর মত? তুই কি কখনো আয়নায় তোর চেহারা দেখেছিস?' এমন প্রশ্ন করা কোন ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে তা আমার জানা নেই।

৫. হিরো আলম বয়সে আপনার অনেক ছোট হতে পারেন। ব্যক্তিগত পর্যায় আপনি তাকে হয়তো তুমি বলতে পারেন।কিন্তু সরকারি চেয়ারে বসে আপনি যখন তাঁর সাথে কথা বলবেন, তাঁকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন, তখন তাকে আপনি করেই সম্মোধন করবেন।

বিজ্ঞাপন
কারণ, হিরো আলম এ দেশের একজন নাগরিক। তিনি গান-বাজনা করেন, মাঝেমধ্যে অদ্ভুত পোশাক পরেন, সিনেমা বানান, এবং একবার এমপি পদে নির্বাচনও করেছেন।তাঁর একটি বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। হাসাহাসি করার জন্য বা নিছক বিনোদনের জন্য কেউ কেউ হয়তো তাকে ফলো করেন। আবার অনেকেই তাকে ভালোবেসে ফলো করেন।ইউটিউব এবং ফেসবুকে তাঁর ভিডিওগুলোর ভিউ দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। সেই হিরো আলমকে সরকারি চেয়ারে বসে তুই তুকারি করার কোন অধিকার  আপনার নেই। হিরো আলম সাহেব গান করতে পারেন কিনা, তাঁর অভিনয় ভালো কিনা, তিনি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে পারেন কিনা- এ বিষয়ে দেশের যেকোনো নাগরিক প্রশ্ন তুলতেই পারেন। পুলিশের কাছে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে পুলিশ ডেকে নিয়ে হিরো আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারেন।কিন্তু  তাঁর প্রতি পুলিশের প্রয়োগ করা ভাষা? 'তুই, সে'!'তুই কিসের হিরো? কখনো তুই আয়নায় তোর চেহারা দেখেছিস?'

৬. আমি ভাবছি ক্ষমতার বাইরে থাকা মানুষদের কীভাবে অপদস্ত করে কথা বলতে হয় এ বিষয়ে কি কোন সরকারি ট্রেনিং আছে? থাকার কথা নয়। তবে পুলিশ সহ কিছু অতি উৎসাহী সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের এমন তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ভাষা ব্যবহারের একটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। এবং সে কারণটি হচ্ছে মানুষের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা নিয়ে কোন ট্রেনিং প্রদান না করা। ফলে দেখে দেখেই উনারা শিখেন।উনারা উনাদের সিনিয়রদের ভাষা প্রয়োগ দেখেন। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের মুখে  প্রায় প্রতিদিনই অন্যকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে করে কথা বলা শুনেন। আর সেগুলো শুনতে শুনতে কখন যে এই ভয়াবহ অভ্যাস তাদের ভেতর চলে এসেছে তা তারা বুঝতে পারেন না। হিরো আলম তাদের সেই মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন!

৭. যে দেশের সরকারি বা রাজনৈতিক কর্তাদের মুখে অন্য দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে 'সে জনগণের টাকা চুরি করেছে, সে এখন কারাগারে আছে, সে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, সে কখনো জেল থেকে বের হতে পারবে না'  এমন বক্তব্য প্রতিদিন আসে, সে দেশে পুলিশ কর্মকর্তারা হিরো আলমের মতো নিরীহ বালককে ' তুই তুকারি' করে কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক।  সেখানে হিরো আলম সাহেবের কপাল ভালো যে, তিনি শুধু ভাষা সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ‘অন্য কিছুর’  শিকার হননি।

৮. তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে অধীনস্থদের তুই তুকারি করা কি বাংলাদেশে কিছু মানুষের অভ্যাস ও ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে? শুধুমাত্র কি বাংলা ভাষায় এই অদ্ভুত নিয়মটি চালু আছে? 'আপনি তুমি এবং সে'। কপাল ভালো যে ইংরেজিতে এই বর্ণবাদী নিয়মটি নেই। আপনি, তুমি এবং তুই- আলাদা করার প্রয়োজন নেই। রাজা প্রজা সবাই He/she and YOU. সে কারণেই হয়তো ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা।

৯. আপনি হয়তো বাংলা ভাষার পরিবর্তন করতে পারবেন না। তবে সাধারণ মানুষের সাথে 'তুই তুকারি না আপনি তুমি'  ব্যবহার করবেন তা আপনার একান্ত  ব্যক্তিগত শিক্ষা ও রুচির ব্যাপার। আপনার ভাষার প্রয়োগ দেখে সাধারণ মানুষ আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে একটি ধারণা  নিতেই পারেন। অজান্তেই আপনি আপনার ভেতরের খারাপ মানুষটির পরিচয়টি প্রকাশ করে দিচ্ছেন।

১০. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরে আসি।হাসপাতালের করিডোরে লেখা সেই বাক্যটি ছিল ' মানুষের সাথে সৌজন্য দেখাতে কোন খরচ হয় না, কিন্তু বিনিময়ে পাওয়া যায় অনেক'। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেয়ালে লেখা এই বাণীটি গণভবন, সংসদ ভবন, সচিবালয়, সরকারি অফিস, আদালতপাড়া এবং পুলিশ ভবনের দেয়ালে টাঙ্গানোর সময় চলে এসেছে। বলা যায় না তুই তুকারি করে কথা বলার আগে এ দেয়াল লিখন চোখ পড়লে শব্দগুলো 'তুই, সে' থেকে 'আপনি, তিনি' হয়েও যেতে পারে।


ডা: আলী জাহান

কনসালটেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট, UK

সাবেক পুলিশ সার্জন, UK

[email protected]

 

পাঠকের মতামত

যারা হিরো আলমকে পছন্দ করেন না তাদেরকে তার youtube চ্যানেল দেখার দরকার নাই। তাকে ক্রিটিসাইজ করার কি হলো। এমন হলে তো মানুষ চার্লি চাপলিন বেশি থ্রী স্টুজেস ও দেখবে না, কারণ ওটাও তো ভারামি। হিরো আলম কমেডিয়ান তার কাজ মানুষ হাসানো। সে তা ভালোই জানেন। তার সমালোচকরা তা জানেন না। ঈমান আলী নামক ব্যাক্তি যদি চোর হতে পারে, আলম কেন হিরো আলম হবে না। জজ মিয়ার নাম শুনেন নাই, সে কি জজ ছিল?

আরশাদ পারভেজ
৩ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৫:৩২ অপরাহ্ন

Hiro alom gan geye apradi hoi tahole police namok durniti baj team ta to maha aparadi .deser Tula tola santras ke lalon kore chor dakatder bondhu banai ar politikal leaderder golami kore kalo takar pahar gore.nirdos personke gus na dile dosi banai.dosi taka dile nirdosi kore mongara boyan diye chere Dey...Hiro alom Hiro hoyeche manus ke valobese jakan flood hoi food water niye manuser ghore chole jay . he officer tumi 50 paysa ki kharach korech o paper taka

Monoyar
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:০৩ অপরাহ্ন

একটু আগে দেখলাম র‍্যাবের ব্রিফিং এ মাদক ব্যবসায় নিয়োজিত আটক এক ব্যাক্তিকে 'তিনি','উনি' করে সম্বোধন করছেন,দেখে ভালো লাগলো। হোক না ব্যক্তিটি আমেরিকা থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আসছে,, উচচবিত্ত ঘরের ছেলে,,নিজ উদ্যোগ এ মারাত্মক সব মাদক নিজের ফ্লাটে উৎপাদন করছেন । হিরো আলমের এসব যোগ্যতার কোনটি আদৌ আছে?সুতরাং তাকে তুই তোকারি করাই যায়।

মাহবুবুর রহমান
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:৫২ পূর্বাহ্ন

এমন হলে তো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ,এবং হাতুড়ে ডাক্তারের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না ।

BBS
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ৬:০৬ পূর্বাহ্ন

মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার যা সংবিধান দিয়েছে পুলিশ তা লঙ্ঘন করে। এর উপর এসেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

Rashids
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১:৩৩ পূর্বাহ্ন

হিরো আলমের জন্য কিছু আঁতেল টাইপের মানুষ ইনিয়েবিনিয়ে কিছু লেখালেখি করে নিজেকে জাতির সামনে মহাজ্ঞানী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এই লেখার লেখক সাহেবকে তেমনি একজন মানুষ মনে হলো আমার কাছে। এই ছেলেটা নামের আগে হিরো লাগিয়ে হিরো নামের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, যে কারণে রিয়েল হিরোরা বিব্রত। একজন মানুষ ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ডাক্তার লাগালে আমরা যেমন প্রতিবাদ করি, তেমনি হিরো না হয়ে নামের আগে হিরো শব্দটা লাগালেও প্রতিবাদ করা উচিৎ। এই আশরাফুল আলম, এটিএন মাহাফুজরা যখন আমাদের সুন্দর সুন্দর গানগুলো কে তাদের কন্ঠে গাওয়ার নামে কৌতুক বানায়, ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে খারাপ লাগে। এদেরকে এখন রুখতে না পারলে আরও এমন অনেক হিরো আলম, মাফুজ তৈরী হবে, যারা আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি নিয়ে খেলা করতে শুরু করবে। প্রত্যেককেই তার নিজের যোগ্যতা বুঝতে হবে এবং সেভাবে এগুনো উচিৎ।

Md. Shah Alam Mojumd
২ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১:০১ পূর্বাহ্ন

হিরো আলমের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে কিছু লোক নিজের অযোগ্যতা আড়াল করতে চাইছে।

Abdus Sobahan
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১১:২২ অপরাহ্ন

শুধুমাত্র কি বাংলা ভাষায় এই অদ্ভুত নিয়মটি চালু আছে? 'আপনি তুমি এবং সে'। কপাল ভালো যে ইংরেজিতে এই বর্ণবাদী নিয়মটি নেই। আপনি, তুমি এবং তুই- আলাদা করার প্রয়োজন নেই। রাজা প্রজা সবাই He/she and YOU. সে কারণেই হয়তো ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। কিছু লোকের অভদ্রতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে, পুরা বাংলাভাষাকে অভদ্র বানিয়ে দিলেন! শুনুন লেখক সাহেব, এটা বাংলা ভাষার সীমাবদ্ধতা নয়, এটা আপনার হীনমন্যতা। বরং এটা ভাষার উৎকৃষ্টতা।

zadidul Banna
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৮:৪৪ অপরাহ্ন

Actually nobody is above controversy for his acts.However an ideal gentleman is recognised for his dealings with others and courtesy costs nothing.To insult someone by showing power will increase the tendency of humiliation because only the Honourable Court of Law can declare someone as guilty if he or she is found accused.We usually torture an undetermined offender but salute a Gangstar criminal who are the looters of million to billion dollars people's property.

Dr.Abu Ahmed Adiluzz
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৪:০৫ অপরাহ্ন

আমাদের সবাইকে শালীনতা বজায় রেখে কথা বলা উচিত। বর্তমানে আমাদের জাতীয় পর্য্যায়ের নেতাদের মুখথেকে যে ভাবে গিবত পরনিন্দা পরর্চচা বের হয় এর প্রভাব তো প্রাশানের অনেকের উপরেই পরবে এটাই স্বাভাবিক। আর হিরো আলম এর মতো উদ্ভট মস্তিক্ষ বিকৃত লোক নিয়ে এতো মাতামাতির কি দরকার । ধন্যবাদ ডাঃ আলি জাহান স্যার কে

নুরুল ইসলাম
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৪:৪১ পূর্বাহ্ন

হিরো আলমের কাজ কর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। কিন্তু তার সাথে তুই তোকারী করা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না ।

Md.Mahafuzur Rahman
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্রশাষনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা বানদের ব্যবহার শুনলে শুধু বলতে ইচ্ছে হয় আবার তুরা মানুষ।

ফরিদ আহম্মেদ
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

হিরু আলম সমাজ সংস্কৃতির বিষফোঁড়া হিসাবে পরিচিত। সুস্থ সবল জীবনমুখি মননশীল সংস্কৃতি চর্চার লেশ তার মাঝে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সে সমাজের সর্বস্তরের নয় একটা বিশেষ অধঃগতির শ্রেণীর মানুষের বিকৃত মনের বিনোদন সঙ্গী। শিল্প সঙ্গীত চর্চার মৌলিক গুন বর্জিত হিরু আলমের প্রতি এত নমনীয়তা প্রকৃত শিল্প সংগীত চর্চার বিকাশকে নিঃসন্দেহে বাধাঁগ্রস্থ করবে। হিরু উপাদির দম্ভে সে আরো বেপরোয়া আরো উদ্ভট আরো বিকৃত হতে উৎসাহ উদ্দীপনা পাচ্ছে। হিরু উপাদির মর্যাদা রক্ষার্থে হিরু আলমের হিরু উপাদিটি কর্তন করা উচিৎ।

আকাশ
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:২৮ পূর্বাহ্ন

হিরো আলম এই দেশের আশি ভাগ মানুষের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি। হিরো আলমের ভিডিও গুলোর লাইক কমেন্টস ফলোয়ার ভিউ দেখলে সেটা অনুুমান করা যায়। অহেতুক তাঁকে নিয়ে টানা হ্যাচরা করা হচ্ছে যা খুবই অনুচিত বলে আমার মনে হয়। যিনি হিরো আলমকে পছন্দ করেন না তিনি ভিডিও না দেখলে বা গুরুত্ব না দিলেই ভালো হয়।

মোঃ আতাউর রহমান
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:১৯ পূর্বাহ্ন

১। হিরো আলমের পোশাকে বাংলাদেশ পুলিশের লোগো না থাকলে , পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসবাদ করবে কেন? তাহলে, ডাক্তার চরিত্রে অভিনয় করলে কি কেউ ডাক্তারদের কাছে অনুমতি দেবে? ২। কিছুদিন আগে ইউটিউবে দেখলাম, বাংলা গান কিছু বলিউডি নর্তকি দিয়ে নাচাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের এক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান। তখন কি আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট হয়না? ৩। এই পুলিশ নামক তোতাপাখিরা আবার গান বাজনা দেখভালের দায়িত্ব কবে থেকে পেল? ৪। সে, তুই ইত্যাদি ইত্যাদি বলার জন্য হারুনেরও মুছলেখা নেয়া দরকার। রাষ্ট্র ক্রমানয়ে বাড়ি নেই আর, দিন দিন রাজুবিদ ও জনাবদের দায়িত্বে গোয়ালঘরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

rasu
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:১৮ পূর্বাহ্ন

বাংগালীর নিজস্ব কোন সংস্কৃতি নেই, তাই সুশীলরা চিল্লাই। হাফ পেন্ট পড়া যদি সংস্কৃতি হতে পারে তাহলে হিরো আলম শিল্পি। দেশে কোন আইন নেই কিভাবে গান গাইতে হবে। তাই যে কেউ যে কোন ভাবেই গাইতে পারে। গায়ক নোবেলের ভাষা গ্রহন যোগ্য।

Golam Soroar
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:০৫ পূর্বাহ্ন

পারস্পরিক সদাচারণ ভদ্রতা সভ্যতা বংশীয় উচ্চতার প্রমাণ দেয়।কিন্ত হিরু আলমের হিরু উপাদিটা যথাযোগ্য কিনা তাতেও প্রশ্ন আছে মননশীল শিল্প চর্চার মান উপাদান বৈশিষ্ট্যে হিরু আলম কতখানি উত্তীর্ন তাও বিবেচনার দাবী রাখে।হিরু শব্দের ব্যবহার প্রয়োগকে যদি সস্তা কিছু কর্ম আচরণ বিচরণে যেনতেন ভাবে প্রয়োগ করা হয় তবে হিরু শব্দের মান মর্যাদা ভুলুন্ঠিত হয়। তখন প্রকৃত হিরুরা হিরু উপাদি নিতে বিভ্রত বোধ করবে এবং হিরু হওয়ার চেতনা পরিত্যাগ করবে। কারো মাঝে যদি অপ্রত্যাশিত অকল্পনীয় বিস্ময়কর কলাকৌশল কিংবা বিশেষ কোন গুনের সমাহার পরিলক্ষিত হয় তবে তার গুনের জন্য তাকে হিরু উপাদিতে ভূষিত করা যায় বা হয়। হিরু আলমের মাঝে এমন কি বিস্ময়কর গুন বা বৈশিষ্ট্য বিরাজমান যে তাকে হিরু বাচক সম্বোধন দিয়ে তাকে সম্মানিত না করলেই নয়। উদ্ভট অসংলগ্ন দৃষ্টিকটু উপস্থাপনা অশুদ্ধ বিকৃত বাক্যাচারণ বিরক্তের উদ্রেক অসহ্য সুর লয় তাল, এসবই কি হিরু হওয়ার উপাদান? অধিকমাত্রার অনুসারী আর সমর্থকই কি কারোর কোন গুনবাচক কৃতিত্বের প্রমাণ? ভাল মন্দের পার্থক্য করে গ্রহন বর্জন মতামত ব্যাক্তকরণ কি অনাইনগত?

আলমগীর
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১:৪৯ পূর্বাহ্ন

হিরো আলমের মতো একজন সাংস্কৃতি সন্ত্রাসীর জন্য এধরনের কঠিন বাক্য প্রয়োগের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সি ডি ও লোকাল ক্যাবল ব্যবসায়ী হিসাবে একপ্রকার মেনে নেয়া যায় কিন্তু সে ক্রমান্বয়ে যেভাবে আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতি নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেছে তা একজন সন্ত্রাসবাদীর চেয়ে কম নয়। বর্তমানে কেহু ধর্মীয় কেহু আঞ্চলিকতার প্রভাবদুষ্ট হয়ে তাকে যেভাবে সমর্থন করছে তারাও সমদোষে দোষী বলে গণ্য হবে।

বাবুল চৌধুরী এইচ এম
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১:৩৬ পূর্বাহ্ন

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

মত-মতান্তর থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status