ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৪, শনিবার, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

মত-মতান্তর

অক্টোবর সারপ্রাইজ!

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন

(৭ মাস আগে) ২১ অক্টোবর ২০২৩, শনিবার, ২:৩৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

mzamin

আমেরিকার রাজনীতিতে 'অক্টোবর সারপ্রাইজ' কথাটি ব্যাপকভাবে চালু রয়েছে। প্রতি নির্বাচনের বছরে অক্টোবর মাসটি আলোচিত হয়ে উঠে আমেরিকার রাজনীতিতে। নিয়ম করেই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনের ঠিক আগের মাসে এমন কিছু ঘটে যায়, যা আমেরিকার নির্বাচন বা রাজনীতিকে প্রচণ্ড রকমের প্রভাবান্বিত করে।
একসময় আমেরিকার রাজনৈতিক আড্ডায় অক্টোবর সারপ্রাইজ নিয়ে আলোচনার প্রাধান্য ছিল। এখন এ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হয়। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপকরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন। ফলে অক্টোবর আসলেই আমেরিকার রাজনীতির মাঠে কী ঘটছে, তারচেয়েও আমেরিকার লোকজন অপেক্ষা করে থাকে বিস্ময়কর কিছু কি ঘটবে মাসটিতে?

এ বছরটি আমেরিকার নির্বাচনের বছর নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে যদিও প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আসছে বছরের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ডেমোক্র্যাট দলের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় দফা নির্বাচন করবেন, বিষয়টি স্বভাবিক।

বিজ্ঞাপন
যদিও খোদ ডেমোক্র্যাট দলের লোকজনই একান্ত আলাপে বলে থাকেন, শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচনে থাকবেন না।  

জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় এবং বয়স বিবেচনায় জো বাইডেন প্রার্থী না হলে কে প্রার্থী হবেন? এমন জানার জন্য অবশ্য আগামী অক্টোবর সারপ্রাইজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

একইভাবে রিপাবলিকান দলের এগিয়ে থাকা প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিয়তিও আগেই নির্ধারিত হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রার্থিতায় টিকে থাকলে তাঁকে কেন্দ্র করে 'অক্টোবর সারপ্রাইজ' হতেই পারে।

আমেরিকার রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট রিগানের সময়ের 'অক্টোবর সারপ্রাইজ' নিয়ে এখনও  আলোচনা হয়। ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট রিগান নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য ইরানের সাথে গোপন চুক্তি করেছিলেন। নিকট অতীতে ডনাল্ড ট্রাম্পের ট্যাক্স ফাঁকি, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেংকারী, জর্জ বুশের ঘটনা, ট্রাম্পের কেলেংকারীর রগরগে বর্ণনা -সবই অক্টোবর সারপ্রাইজের ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে!

১৯৭২ সালের ৮ অক্টোবর হঠাৎ করেই ভিয়েতনামের সাথে শান্তি আলোচনার ঘোষণা দিয়েছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। তখনো ভিয়েতনাম যুদ্ধে চরমভাবে লিপ্ত ছিল আমেরিকা। বলা হয়, এমন ঘোষণার কারণেই রিচার্ড নিক্সন নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয় ভোটে জয় লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ২৭ অক্টোবর ওসামা বিন লাদেন এক ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। এ বার্তায় প্রথমবারের মতো তিনি নাইন ইলেভেন হামলায় নিজের দায় স্বীকার করেছিলেন।

এবারে বাংলাদেশে এমন 'অক্টোবর সারপ্রাইজ' নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে দেশে বিদেশে। সরকার পতনের একদফা দাবিতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে শেষ বার্তা দিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নির্বাচনী সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা না ছাড়লে নির্বাচনে যাবে না। রাষ্ট্রপ্রধান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে। উত্তেজনাকর বাংলাদেশের এ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ একজন নির্বাচন কমিশনার।

বর্তমান সংসদের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনের মধ্যে ভোট হতে হলে ১লা নভেম্বর থেকে দিন গণনা শুরু করার কথা কমিশনের। কিন্তু ভোটের সময় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা থাকবেন কি না-এমন প্রশ্নে দুই প্রধান দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি ঘোষণা দিয়ে উল্টো অবস্থানে আছে।

বাংলাদেশেও কি কোনো 'অক্টোবর সারপ্রাইজ' ঘটতে যাচ্ছে? হঠাৎ করে শান্তির আলোচনায় বসে যেতে পারে পক্ষগুলো?  প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন? কোনো শর্ত ছাড়াই রাজনীতির বিবদমান পক্ষ আলোচনায় বসতে পারে নির্বাচন প্রশ্নে? এক তরফা নির্বাচনের ঘোষণা দেবে সরকার? বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমাদের আরও আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যাবে? যুক্তরাষ্ট্র  বাংলাদেশ বিষয়ে কি কোনো তুরুপের তাস নিয়ে খেলছে? যা প্রকাশ্যে চলে আসবে? বিএনপি আন্দোলনে সফল হয়ে উঠবে?

অবশ্য এসবের কিছু না ঘটাকেও অক্টোবর সারপ্রাইজ মনে করা হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
অনেক কিছুই ঘটতে পারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। যেকনো অক্টোবর সারপ্রাইজের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ঘটুক, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার অবসান ঘটুক- দেশ বিদেশের স্বদেশীরা এমনটাই প্রত্যাশা করেন।  


নিউইয়র্ক- অক্টোবর ২০, ২০২৩
[email protected]

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবদলই সরকার সমর্থিত / ভোটের মাঠে নেই সরকারি দলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বিরোধীদল

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status