ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

খোলা চোখে

এজেন্ডাবিহীন সংলাপ এবং সিইসি’র তরিকা

লুৎফর রহমান
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একের পর এক সংলাপ করে আসছে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ ১৭ই জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে ইসির তৃতীয় ধাপের সংলাপ শেষ করেছে কমিশন। এই সংলাপ বা আলোচনায় নির্ধারিত কোনো এজেন্ডা ছিল না। দলগুলোকে খোলামেলা আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। আগের সংলাপের জের ধরেই সর্বশেষ সংলাপে অংশ নেয়নি রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এরসঙ্গে বিএনপি’র জোটমিত্র দলগুলোও সংলাপে যায়নি। কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের ৯ দল সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। বাকি দলগুলো যথারীতি সংলাপে অংশ নিয়েছে। নিজেদের মতামত দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বক্তব্য তুলে ধরেছে। সংলাপটি এজেন্ডাবিহীন হলেও আলোচনায় অংশ নেয়া দলগুলো নির্ধারিত এজেন্ডা ঠিক করেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাবও জমা দেয়া হয়েছে। প্রায় দুুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সংলাপের সার সংক্ষেপ করলে এটা দাঁড়ায় যে আগামী নির্বাচনকে সামনে নিয়ে চলা আলোচনায় দুই বিষয় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তা হলো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন এবং নির্বাচনকালীন সরকার।

  এই ইস্যু দুটির প্রথমটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন আগেই দলগুলোর মতামত নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বিশিষ্টজনরা মতামত দিয়েছেন। ইভিএম নিয়ে প্রায় সব পক্ষই নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বেশির ভাগ দল ইভিএমের বিপক্ষে নিজেদের মতামত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ ইভিএমের বিপক্ষে কথা বলেছেন। ওই সংলাপের পরই ইভিএম’র পাট চুকিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আলোচনা জারি রেখেছে। ইভিএম’র নানা সুবিধার বিষয় নির্বাচন কমিশন থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। কমিশন বলছে ইভিএম নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা করেই সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কমিশন।  এজেন্ডা না থাকলেও সর্বশেষ ধাপের সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় এই ইভিএমকে সামনে এনেছে। বেশির ভাগ দল ইভিএম-এ নিজেদের আস্থাহীনতার কথা তুলে ধরেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করতে ইসিকে পরামর্শ দিয়েছে। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি গতকাল সংলাপে অংশ নিয়ে ইভিএম’র এর বিপক্ষে মতামত দিয়েছে। বিকালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইসির সংলাপ শেষ হয়েছে। দলটির জন্য দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ ছিল। আলোচনার শুরুতে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে দলের অবস্থান ও ইসির প্রতি পরামর্শ তুলে ধরা হয়। পরে সিনিয়র নেতারা কথা বলেন। দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটেই আলোচনা শেষ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ইভিএম ইস্যুতে আওয়ামী লীগের পক্ষ আগের অবস্থানই জানানো হয়েছে। আগামী নির্বাচন ইভিএম করার পক্ষে মতামত দেয়া হয়েছিল ইসির আগের সংলাপে। আওয়ামী লীগ এও বলেছে, সম্ভব হলে তিনশ’ আসনেই ইভিএমে নির্বাচন করার পক্ষে তারা।  

যদিও দুই ধাপের সংলাপে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল সংলাপের বিপক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী কয়েকটি দলও মেশিনে ভোট নেয়ার পক্ষে মত দেয়নি। ইসির সঙ্গে সংলাপে যেসব দল অংশ নিচ্ছে না তারা তো এই মেশিনে ভোট নেয়ার ঘোরতর বিরোধী। এমন অবস্থায় সর্বশেষ ধাপের সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন মূলত নিজেদের দায় আরও বাড়িয়েছে। ইভিএম নিয়ে দলগুলোর অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে। গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল অবশ্য সেই দায়ের চাপ থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অনেক দলই ইভিএম’র বিপক্ষে মতামত দিয়েছে।  দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নির্বাচনকালীন সরকার। যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো বক্তব্য বা মতামত দিতে পারছে না। কারণ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো এখতিয়ার সংবিধান অনুযায়ী নেই। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কীভাবে হবে সেটি সংবিধানই ঠিক করে দেবে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী গত যে নির্বাচনগুলো হয়েছে তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই পদ্ধতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। তাই তারা বিকল্প চাইছে। বিকল্প হিসেবে কিছু প্রস্তাবও দিয়েছে দলগুলো।  

 

 

সর্বশেষ ধাপের সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোর প্রায় সবাই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা নেই। নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থা ঠিক করতে তারা কিছু প্রস্তাবও জমা দিয়েছে। শুরু থেকে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বলে আসছে বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এর একটি সমাধান বের করতে হবে। বিষয়টি সুরাহার ওপর আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা সেটিও নির্ভর করছে। সিইসিও বলেছেন, বিএনপি’র মতো দল নির্বাচনে না এলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এটি তিনিও মনে করেন না। বিদ্যমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে যাবে না এমন ঘোষণা বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আগেই দিয়ে রেখেছে। এমনকি তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা করতেও নারাজ। এই দলগুলো মনে করছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই। তারা সব দলের সহঅবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে না। তাদের অধীনে নির্বাচন হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। নির্বাচন কমিশনের আগে বিরোধী এই জোট নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার সমাধান চায়। এরজন্য প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন করারও কথা বলা হচ্ছে।  এই ইস্যুতে নিজেদের করণীয় না থাকলেও সিইসি অবশ্য সমাধানের কিছু তরিকা বাতলে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র কয়েকটি বৈঠক হলেই এই সমস্যার একটা সমাধান বের হয়ে আসতে পারে। 

রাজনৈতিক দলঘগুলো যদি এর একটা সমাধান বের করে ফেলতে পারে, তখন প্রয়োজন হলে নিজের পদটি ছেড়ে দেয়ার মতো ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজি আছেন হাবিবুল আউয়াল।  সিইসি’র বাতলে দেয়া এই পথে আওয়ামী লীগ হাঁটবে কিনা এটি তাদের দলীয় বিষয়। তবে তাদের বর্তমান অবস্থান অবশ্য আলোচনায় বসার মতো কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে নিজস্ব যুক্তি পরামর্শ তুলে ধরেছে। বলা হয়েছে বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে।  নির্বাচন কমিশনের সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে লিখিত প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি ‘পাস্ট অ্যান্ড ক্লোজড চ্যাপ্টার’। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক এবং অবৈধ ঘোষণা করেছেন। আইন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১-এর বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে সাংঘর্ষিক কোনো মন্তব্য করা সংবিধান লঙ্ঘন করার শামিল। সংলাপে দলের নেতারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।  সংলাপে অন্য দলগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসলেও নির্বাচন কমিশন এটিকে এজেন্ডাভুক্ত করতে পারেনি নিজেদের এখতিয়ারের মধ্যে নেই বলে।  সদ্য বিদায়ী কে এম নুরুল হুদা কমিশনও দলগুলোর সঙ্গে নানা সময়ে আলোচনা করেছে। 

অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু আদতে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি নির্বাচনে। দিনে দিনে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা বেড়েছে। বেড়েছে ভোটের প্রতি মানুষের অনীহা। এমন অবস্থায় দায়িত্ব নেয়া কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের সামনে সব বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের, দলগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনা। ভোটের মাঠে ভোটারদের ফিরিয়ে আনা। দায়িত্ব নেয়ার পর বর্তমান কমিশন যে সংলাপের আয়োজন করেছিল সেখানে এই আস্থা অর্জনের পরামর্শটিই এসেছে সবার আগে। জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সামনে রেখে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে আসা এজেন্ডাগুলো কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন আমলে নেবে কিনা এটি অবশ্য এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ তাদের সামনে আসা দলগুলোর বেশিরভাগ এজেন্ডা সর্বশেষ বৈঠক করা আওয়ামী লীগের মতামতের পুরোই উল্টো। অতীতের কমিশনগুলো সিরিজ বৈঠক শেষে ক্ষমতাসীন দলের মতামতকেই গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান কমিশন যে এর বাইরে যাবে এমন কোনো ইঙ্গিত কিন্তু এখনও মিলছে না।  আগের কমিশনগুলো সংলাপ করে দলগুলোকে নির্বাচনে রাখার নানা চেষ্টা করেছে। দলগুলোও অনেক সময় তাদের কথায় প্রলুব্ধ হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচন শেষে তারাই আবার হায় হায় করেছে। ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাতের ভোট, দিনের ভোটের বিতর্ক সামনে এসেছে। রাজনৈতিক দলকে ভোটে রাখতে ইসির কৌশলও বদল হয়েছে সময়ে সময়ে। 

সেই কৌশল ধরতে না পেরে একই ফাঁদে দলগুলোও বার বার পা দিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এবার দলগুলো বেশি সতর্ক। রাজপথের প্রধান বিরোধী জোট নতুন কমিশনের শুরু থেকেই দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। এমন অবস্থায় সব দলকে নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সব দলের হয়ে উঠতে হবে। সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান কমিশন কী তেমন কিছু করতে পারবে? সর্বশেষ হয়ে যাওয়া সংলাপেও কিন্তু এমন প্রশ্ন এসেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে সংলাপে এ নিয়ে একটা বিতর্কও হয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর দলকে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টার সময় দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু বড় দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে সময় দেয়া হয় দুই ঘণ্টা করে। কাদের সিদ্দিকী সংলাপে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে সব দল সমান। সব দলকে সমান চোখেই দেখতে হবে ইসিকে। শুধু মুখে প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি এই বীরউত্তম। তিনি ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা করেছেন ইসির সঙ্গে। দুই ঘণ্টা পূর্ণ করেই তিনি সভা ত্যাগ করেন। কাদের প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার কথা বললেও দলগুলোর জন্য কমবেশি সময় নির্ধারণ করে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। কাদের সিদ্দিকী কমিশনকে মেরুদণ্ড শক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, নীতির সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে মনে হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তখন মানুষের মাথার মণি হয়ে থাকবেন।  দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে নির্বাচন কমিশন এখন কী করে এটিই দেখার বিষয়। আমরা আশা করবো অতীতের মতো ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে শেষ বৈঠকে আসার দাবি আর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ‘শেষ কথাই সব কথা’ এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করবে না কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন।  

 

লেখক: মানবজমিনের নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক।

পাঠকের মতামত

আমার মোবাইলে একটা এসএমএস আসলো। পড়ে দেখি তাতে লেখা ইভিএমএ কারচুপি করা যায় না- ইসি। আমি ইসিকে সামনে পেলে জিজ্ঞেস করতাম, আপনি নিজেই যখন ইভিএম বুঝেন না তখন আমাকে কেন এাই সান্ত্বনা দিতে গেলেন? আপনি দেখলেন, সরকারি দল ছাড়া কেউ ইভিএম এর পক্ষে নয়, তখন সংলাপের পরদিন কেন ঘোষণা দিলেন না, আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ইভিএম চায়না। সুতরাং একটা দলের দাবি অনুযায়ী ইভিএম এ ভোট করা সম্ভব নয়। ইভিএমএ আগামী নির্বাচন হবেনা। আসলে ইসির হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আছে শুধু মুখ। এই মুখে যত নির্দেশ দিক কেউ শুনবে না তাদের কথা। কাউকে সাময়িক শাস্তি দিলেও সরকার তাকে পুনর্বহাল করবে।তাই ইসির কথা নয়, সরকারের কথাই শুনবে প্রশাসন।

Md mainul Islam
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

আমার মোবাইলে একটা এসএমএস আসলো। পড়ে দেখি তাতে লেখা ইভিএমএ কারচুপি করা যায় না- ইসি। আমি ইসিকে সামনে পেলে জিজ্ঞেস করতাম, আপনি নিজেই যখন ইভিএম বুঝেন না তখন আমাকে কেন এাই সান্ত্বনা দিতে গেলেন? আপনি দেখলেন, সরকারি দল ছাড়া কেউ ইভিএম এর পক্ষে নয়, তখন সংলাপের পরদিন কেন ঘোষণা দিলেন না, আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ইভিএম চায়না। সুতরাং একটা দলের দাবি অনুযায়ী ইভিএম এ ভোট করা সম্ভব নয়। ইভিএমএ আগামী নির্বাচন হবেনা। আসলে ইসির হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আছে শুধু মুখ। এই মুখে যত নির্দেশ দিক কেউ শুনবে না তাদের কথা। কাউকে সাময়িক শাস্তি দিলেও সরকার তাকে পুনর্বহাল করবে।তাই ইসির কথা নয়, সরকারের কথাই শুনবে প্রশাসন।

এ,টি,এম,তোহা
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মূল্যহীন আলোচনা। নির্বাচন কালীন সরকার ব্যবস্থার আগে সুরাহা হতে হবে।

Harun Rashid
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৪:০২ পূর্বাহ্ন

একটা অন্তর্নিহিত এজেন্ডা আছে তা যত না উহাকে গ্রহনযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রমান করা তার চেয়ে বেশী নিরাপদ পক্ষ ঠিক করে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়া। কয়েকটি পক্ষ যোগ না দিয়ে বিষয়টিকে পূর্নতা পেতে সহায়তা করেনি।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
১ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ২:৪৭ পূর্বাহ্ন

সরকার ইভিএম এবং তাদের অধীনে নির্বাচনের আবদার থেকে সরে আসবে। বিরোধী দলগুলো এক দফার ভিত্তিতে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে সরকার তত্বাবধায়ক পুণর্বহাল করে বিদায় নিতে বাধ্য হবে। এত সহজে তত্বাবধায়ক সরকার মেনে নেয়ার অর্থই হলো আত্বহত্যার সামিল। আর তত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনে আলীগের ভরাডুবি নিশ্চিত। আর ভরাডুবি হলে অনেকগুলো ইস্যু তাদের আষ্টেপিষ্টে ধরবে। সুতরাং সাধারণ দাবীতেই তত্বাবধায়ক মেনে নেয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। তাছাড়া নির্বাচনের এখনো প্রায় দেড় বছর বাকী, তাই সরকার ধীরে চলো নীতিতে আছে। আর তত্বাবধায়ক মেনে নিলে নেতাদের বিশেষ করে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে তাদের দেশে ধরে রাখা কঠিন হবে।

জামশেদ পাটোয়ারী
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

হাবিবুল আউয়াল কমিশনের সামনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংলাপে চ্যালেঞ্জটি বড়ো আকারে প্রকাশ পেয়েছে। চ্যালেঞ্জ হতোনা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন ও ভোট গ্রহণ বিষয়ে ঐকমত্য থাকতো। দেখার বিষয় হচ্ছে, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি নির্বাচন ও ভোট গ্রহণের পদ্ধতি চায় একরকম ভাবে আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চায় অন্যরকম ভাবে। বেশিরভাগই চায় নির্বাচন কালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ। আর আওয়ামী লীগ চায় ক্ষমতায় বহাল থেকে তাঁদের অধীনে নির্বাচন এবং ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ইভিএমে ভোট গ্রহণ। কিন্তু, পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে প্রতিটি নির্বচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি গত দুটি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এতোটাই বিতর্কিত হয়েছে, যে বিতর্ক এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। ভোট কেন্দ্রে মানুষ যেতে পারেনি অথবা গিয়ে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ, ভোটের প্রতি ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত করা, ভোট কেন্দ্রের গোপনকক্ষ ডাকাত মুক্ত করা এবং ভোটাররা ভয়ভীতিমুক্ত মনে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারার ব্যবস্থা করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে বীরপুরুষ। বিগত রকিব ও নূরুল হুদা কমিশন বীর পুরুষের ভূমিকা দেখাতে পারেনি। ফলে তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের অনুগত কর্মীর মতো ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। তাঁরা জাতির কাছে এতোটাই নিন্দনীয় হয়েছেন রাস্তায় প্রকাশ্যে অন্য দশজনের মতো বুক ফুলিয়ে চলার সাহস রাখেন কিনা সন্দেহ আছে। তাঁরা তাঁদের বিবেকবান আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্য ও সমাজের দশজনের সামনে মুখ দেখাতে গিয়ে বিবেক তাঁদের দংশন করে কিনা সে প্রশ্ন কোনো বিবেকবান মানুষের মনে আসতেই পারে। এখন হাবিবুল আউয়াল কমিশন যদি বীরপুরুষের চ্যালেঞ্জে এবং অগ্নি পুরুষের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন তাহলে জাতি আজীবন তাঁদের মাথায় তুলে রাখবে তাতে সন্দেহ নেই। অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে অগ্নিপুরুষ। আগামী নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় আসবে সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের মাথাব্যথা ভোটের অধিকার নিয়ে। ভয়ভীতিমুক্ত মনে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার পরিবেশ ছাড়া এবং নির্বাচন কালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যতিত ভোটের অধিকার রক্ষা করা যে অসম্ভব তা ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বিগত নির্বাচনগুলো এবং বিশেষকরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগই ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জবরদস্তির নির্বাচন করে জাতিকে বুঝিয়ে দিয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারেনা। এখন আবারো যদি তাঁরা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় তাহলে বুঝতে হবে তাঁরা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিপক্ষে। জেনে বুঝে তাঁরা মানুষের বিরাগভাজন হওয়ার বিপদজনক পথে চলছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গনতান্ত্রিক অধিকার পাওয়ার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে। আজ আওয়ামী লীগের হাতেই সুষ্ঠু নির্বাচন ও গনতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানিরা আমাদের মাথাব্যথা নয়, আজকে আমরাই আমাদের মাথাব্যথা। ভোটের ও গনতান্ত্রিক অধিকার পাওয়ার জন্য ঘরে ঘরে, ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের যুদ্ধ শুরু হয় যদি তাহলে আমাদের ধ্বংস হওয়ার জন্য আর কী লাগে! যাইহোক, অনেকে বলেন, হাবিবুল আউয়াল কমিশন আওয়ামী লীগের পছন্দের লোকজন দিয়ে গঠন করা হয়েছে। কে কার পছন্দের বা অপছন্দের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বসে যদি তা ভাবা হয় তাহলে রকিব ও নূরুল হুদা কমিশনের মতো নিন্দা কুড়াতে হবে। তবে অগ্নিপরীক্ষা অথবা চ্যালেঞ্জ যা-ই বলা হোকনা কেনো আসল পরীক্ষা দিতে হবে 'সততার'। কে সৎ, কে অসৎ তাঁর কর্ম দিয়েই তাঁকে চেনা যায়।

আবুল কাসেম
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৮:৩৯ অপরাহ্ন

প্রধান এবং একমাত্র শর্ত হল আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতা থেকে বিদায়। তাহলেই একমাত্র সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব।আর তা নাহলে বাংলাদেশে আওয়ামী রাজতন্ত্র কায়েম করে গণতান্ত্রিক জনগণকে মরে যাওয়া উচিত।

মোঃ আজিজুল হক
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৭:৪৩ অপরাহ্ন

সি-ই-সি ঘোষণা দিলেই সকল সমস্যার সমাধান / ইলেকশন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, ই-ভি-এম থাকবেনা এবং পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতদের ইলেকশনকে বৈধতা দিতে হবে /

mohd islam
৩১ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status