ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

খোলা চোখে

বিএনপি নেতাদের দ্বারা গঠিত নির্বাচন কমিশনও কি পারবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে?

রুমিন ফারহানা
২৯ জুলাই ২০২২, শুক্রবার

সামনে জাতীয় নির্বাচন। সাধারণ মানুষের এই নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ আছে কতোটা জানি না, কিন্তু নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলগুলো, গণমাধ্যমসহ নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত তাদের উৎসাহ সীমাহীন। পত্রিকার পাতায়, কলাম লেখায়, টকশো টেবিলে সর্বত্র এই এক আলোচনা। এই যেমন আমি নিজেই লিখছি এখন।

এক সময় দেশে নির্বাচন ছিল উৎসব। মানুষের মধ্যে ‘দেশের মালিক’ হওয়া জনিত একটা আনন্দ লক্ষ্য করতাম নির্বাচন এলে। সত্যি কথা বলতে কী সংবিধান কাগজে-কলমে যতই মানুষকে দেশের রাজা বানাক, দুর্বল গণতন্ত্রের দেশে আসলে সেটা হয় না। কিন্তু নির্বাচনটা সুষ্ঠু হলে জনগণ সত্যিকার অর্থে রাজা না হলেও নির্বাচন এলে নিজেকে কিছুটা হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে পারে। নির্বাচনী মৌসুমে ভোট চাওয়া, মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়া, নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া, একটু হলেও গুরুত্ব বাড়ায় মানুষের। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয় আর কতটা হয় না সে হিসাব দূরে সরিয়ে রেখেই বলছি, ভোট অন্তত কিছুটা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা তৈরি করে, তাদের মানুষের কথা ভাবতে, মানুষের ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করে। 

দুর্ভাগ্য আমাদের, নির্বাচন এখন আর সেই চিরাচরিত রূপে আসে না। নির্বাচন মানেই এখন বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলা, গুম, ভয়ভীতি দেখানো, নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা, পুলিশ এবং প্রশাসন ব্যবহার করার মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখা, নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করা অর্থাৎ নির্বাচনে যেকোনো উপায়ে জিততে মরিয়া সরকারি দল মোটামুটি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে।

বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যে নির্বাচন কমিশনের রেফারির ভূমিকা পালনের কথা সেই কমিশনও সরাসরি পক্ষভুক্ত হয়ে কাজ করেছে ২০১৪ সাল থেকে, সকল জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনে। অর্থাৎ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে গত কয়টি বছরে।

নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের এই দায় যেমন এড়াতে পারে না সরকার, সরকারি দল, তাদের নেতাকর্মীরা তেমনি এড়াতে পারে না নির্বাচন কমিশন। এ দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তাতে জিততে মরিয়া সরকারি দল, যেকোনো মূল্যে জিততে গিয়ে পুলিশ, প্রশাসন, অর্থ, ক্যাডারের লাগামহীন ব্যবহার দুঃখজনক হলেও আশ্চর্যজনক নয়। যেটি আশ্চর্যজনক তা হলো কমিশনের আচরণ। কমিশন শুধু যে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, ব্যর্থ হয়েছেÑ নির্বাচনী আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, আইনে তাদের যে ক্ষমতা দেয়া আছে সেটি ব্যবহার করতে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে, ভোটার এবং প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে, নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে, পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দলীয় ক্যাডারের মতো ব্যবহার করা বন্ধ করতে। ব্যর্থ হয়েছে- বিরোধী দলকে ন্যূনতম একটা স্পেস দিতে, যাতে তারা নির্বাচনে আগ্রহী হয়। সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী দল-মতের মানুষকে আশ্বস্ত করতে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিরোধী দলের অভিযোগ আমলে নিতে, সরকারি দলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে।

বিগত দুই ব্যর্থ কমিশন শুধু যে ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল তা হলো কথা বলা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে যা যা বলা সম্ভব তার সবই বলেছেন তারা, সত্য কিংবা মিথ্যা, যৌক্তিক অথবা অযৌক্তিক। মজার ব্যাপার হলো নতুন যে কমিশন গঠিত হয়েছে জনাব হাবিবুল আউয়াল সাহেবের নেতৃত্বে তারাও শুরু থেকেই আছেন কথার উপর। তাও আবার যে সে কথা নয়, একেবারে পিলে চমকানো কথা। নতুন কমিশনের কথায় যাবার আগে শেষ দু’টি কমিশনের কথা একটু দেখে আসি। 

২০১৪ সালে ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচন উপহার দেন রকিব কমিশন। এই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে ইতিহাসে রেকর্ড করে আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের যে শর্ত আছে তাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে একটি ভোট পড়ার আগেই গঠিত হয় সংসদ। নজিরবিহীন এই নির্বাচনে শেষমেশ মহাজোট থেকেই অভিনব কায়দায় এক প্রকার জোর করেই গঠিত হয় বিরোধী দল যা গৃহপালিত বিরোধী দল নামেই বেশি পরিচিত।

এখানেই শেষ নয়। আইনে অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। কিন্তু সেই কমিশন ইউপি নির্বাচনে অনিয়ম-সংক্রান্ত প্রার্থীদের অভিযোগ আমলেই নেয়নি। উল্টো এক চিঠিতে সব প্রার্থীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের চরভৈরবী ইউনিয়নের এক প্রার্থী হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। হাইকোর্ট কমিশনকে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। কমিশন সেই আদেশও আমলে নেয়নি। এ জন্য হাইকোর্ট কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় সিইসি ও চার কমিশনার আদালতে গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। উপজেলা নির্বাচনের পর বিরোধী দলসহ সমালোচকদের অনেকে সেই কমিশনকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে কমিশনার জাবেদ আলী টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কোমর দুলিয়ে বলেছিলেন, ‘মেরুদণ্ড তো ঠিকই আছে।’ এই হলো আমাদের নির্বাচন কমিশন। 

‘কোমর দোলানো’ নির্বাচন কমিশনের পর আমরা পেলাম নুরুল হুদা কমিশন। যারা দিনের ভোট রাতে করে পুরো নির্বাচনের সংজ্ঞাই পালটে দিলেন মানুষের কাছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন কেবল যে বিরোধী দলের কাছে সমালোচিত হয়েছে তাই নয় বরং সুজন, টিআইবি’র মতো সংগঠন, মহাজোটের শরিক দলগুলো, বিদেশি গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষকরা পর্যন্ত বলেছেন এই নির্বাচন ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার মতো নির্বাচন ছিল না। টিআইবি দৈবচয়নের ভিত্তিতে নেয়া ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৭ (৯৪%)টিতেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ (৬৬%)টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতেই সিল মারা হয়ে গেছে। 

সুজন ২০১৮ সালের নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল থেকে দেখিয়েছে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ এই কেন্দ্রগুলোতে কেউ মারা যায়নি, কেউ অসুস্থ হয়নি, কেউ দেশের কিংবা এলাকার বাইরে ছিল না। ৯৬-১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে ১৪১৮টি কেন্দ্রে। ৯০-৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে ৬৪৮৪টি কেন্দ্রে। এসবই অস্বাভাবিক। আরও মজার বিষয় হলো ৭৫টি আসনে ৫৮৭টি কেন্দ্রের সব বৈধ ভোট একটি প্রতীকে পড়েছে। এর মধ্যে ৫৮৬টিতে সব ভোট পেয়েছে নৌকা প্রতীক আর একটিতে পেয়েছে ধানের শীষ। ১১৭৭টি কেন্দ্রে বিএনপি শূন্য ভোট পেয়েছে আর নৌকা পেয়েছে ১ কেন্দ্রে শূন্য ভোট। রাজনৈতিক মহলে এই নির্বাচনটি নিশি রাতের নির্বাচন নামেই বেশি পরিচিত। 

এই নির্বাচনের পর একমাত্র কমিশনার মাহবুব তালুকদার ছাড়া নির্বাচন নিয়ে আর কারো কোনো অসন্তোষ বা উদ্বেগ ছিল বলে মনে হয় না। তিনিই একমাত্র বলেছিলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা এখন আইসিইউতে আর গণতন্ত্র লাইফ সাপোর্টে’। তার মেয়াদকালের পুরোটা সময়ই তিনি সাধ্যমতো কমিশনের ভেতরে, বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করে গেছেন। যেহেতু কমিশনে ৫ জন কমিশনারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তাই সঙ্গত কারণেই তার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব ছিল না, কিন্তু নানান সময় প্রতিবাদ করে, নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে, সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ ভোটারদের মনের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ইতিহাস নিশ্চয়ই একদিন তার মূল্যায়ন করবে। 

নির্বাচন কমিশনার থাকাকালীন পুরোটা সময় সিইসি নূরুল হুদা নিজেদের সফল বলে দাবি করলেও মেয়াদ শেষে স্বীকার করেছেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। বলেছেন, বিএনপির মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়াকে অস্বস্তিকর বলেছেন তিনি এবং স্বীকার করেছেন যে রাজনৈতিক দল, প্রশাসনসহ অংশীজনদের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া শুধু কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এই কথাগুলো মেয়াদ শেষে না বলে মেয়াদকালীন সময়ে যদি ব্যবস্থা নিতেন কিংবা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং বলে যদি পদত্যাগ করতেন তাহলে দায়িত্ব কিছুটা হলেও পালনের চেষ্টা করেছেন বলে মনে হতো। 

রকিব এবং হুদা কমিশনের ২০১৪ আর ২০১৮ সালের অভূতপূর্ব নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গঠিত হলো আউয়াল কমিশন। এই কমিশনের অধীনে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো নির্বাচন হয়নি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এক সংসদ সদস্য বাহারকে সামলাতে কী ধরনের চাপে পড়েছিল কমিশন সেটি নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। যদিও শপথ নিয়েই সিইসি পরিষ্কার বলেছিলেন, উচ্চরক্তচাপ ছাড়া তার উপর আর কোনো চাপ নেই। দায়িত্বের চাপ বড় চাপ, তবে সেটা এড়ানোর কায়দা জানা থাকলে সে চাপ থেকেও মুক্ত থাকা যায়। ভেঙে পড়া নির্বাচন ব্যবস্থায় দাঁড়িয়ে তিনি যদি কমিশনের দায়িত্ব বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন তবে তো চাপমুক্ত থাকারই কথা। তাই হয়তো বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘আমি বলতে চাচ্ছি, মাঠ ছেড়ে চলে আসলে হবে না। মাঠে থাকবেন, কষ্ট হবে। 

এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হয়তো দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারতেন, কিন্তু উনি পালাননি। তিনি বলছেন, ‘আমি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করব।’ তিনি রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরোধযুদ্ধ করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ নির্বাচন যে একটি মল্লযুদ্ধ এটি পরিষ্কার তার কথায়। রাজনীতি এবং নির্বাচনী মাঠের এই যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতিতে সরকারি দল তার রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ে ভøাদিমির পুতিনের মতো যখন ঝাঁপিয়ে পড়বে বিরোধী দলের ওপর তখন নির্বাচন কমিশনের যে আসলে তেমন কিছু করার নেই, সেটাও তিনি বলে ফেলেছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক দলের ময়দান ছাড়িয়ে কূটনীতির পাড়ায় পর্যন্ত ঝড় তুলেছিল। ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস এই বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে। এখানেই শেষ নয়Ñ ইভিএমের ভুলত্রুটি ধরতে পারলে কমিশনার আনিসুর রহমানের ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণাকে ‘কিছুটা স্মৃতিভ্রম’ এবং ‘মিডিয়ার সামনে খেই হারিয়ে ফেলা’ ‘সিøপ হয়ে যাওয়া’ বলে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। তবে এরপর তিনি যা বলেছেন সেটি নিশ্চয়ই ‘খেই হারিয়ে’ কিংবা ‘সিøপ হয়ে’ বলেননি তিনি। ভেবে-চিন্তে হয়তো ভোটারদের আশ্বস্ত করার জন্যই বলেছেন, ‘দিনের ভোট দিনেই হবে। ভোট রাতে হবে না।’ তবে এই বলার মধ্য দিয়ে নিজের অজান্তেই হয়তো ২০১৮ সালের নির্বাচনের রাতের ভোটের স্বীকারোক্তি করেছেন তিনি। 

আমরা কথ্য ভাষায় অনেক সময় বলি, ‘তিনি তো কথার দোকান খুলেছেন।’ শপথের পর থেকে নতুন কমিশন বিশেষ করে সিইসিকে দেখে আমার তাই মনে হচ্ছে। ১৭ই জুলাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেন, ‘কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আপনি যদি দৌড় দেন, তাহলে আমি কি করবো?’ তাহলে আমি কী করবো- কথাটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ। এই কথাটির মধ্য দিয়ে সিইসি স্বীকার করে নিচ্ছেন যে নির্বাচনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। সংবিধান কিংবা নির্বাচনী আইন যাই বলুক না কেন কমিশন যদি নিজেই নিজেকে অসহায় দেখাতে চায় তবে সেই কমিশনকে শক্তিশালী করার সাধ্য কোনো সংস্থা বা আইনের নেই। শপথ নেয়ার পরপরই বিরোধী দলকে জেলেনস্কির মতো মাঠে থাকার পরামর্শ দিয়ে নির্বাচনকে মল্লযুদ্ধের যে স্বীকৃতি তিনি দিয়েছিলেন ‘তলোয়ার বনাম রাইফেলের’ এই কথা সেই স্বীকৃতিরই ধারাবাহিকতা মাত্র বলে মনে হয়েছে। 

নতুন কমিশন গঠিত হওয়ার পর সিইসি’র অতিকথন ছাড়া আগের কমিশনগুলোর সঙ্গে আর কোনো ভিন্নতা নেই। আউয়াল কমিশন যে রাকিব বা হুদা কমিশনেরই ধারাবাহিকতা মাত্র সেটি বুঝতে খুব বড় বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না যেÑ ‘এটা নতুন বোতলে পুরনো মদ’। আসলে দলীয় সরকারের অধীনে সব কমিশন এক হবে সেটাই স্বাভাবিক। এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় চমৎকার নির্বাচন করা প্রশংসিত নির্বাচন কমিশনগুলোকে এনে বসালেও দলীয় সরকারের অধীনে ভিন্ন কিছু হওয়ার কারণ নেই বর্তমান বাংলাদেশে। আর তাই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি খুব সঠিকভাবেই বলছে, তাদের নেতাদের দিয়ে কমিশন গঠন করেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- যদি নির্বাচনকালীন সরকারটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ না হয়।

 

 

 

পাঠকের মতামত

নির্বাচন নিয়ে যত সংকট দেখা যায় ,তা সব সময় সংবিধানিক সংকট, সংবিধানে আছে তাই সংবিধানের রক্ষকেরা সংবিধান রক্ষায় বদ্ধ পরিকর,94থেকে র্পযালচনা করলে দেখবেন ,96র্নিবাচন সংবিধান রক্ষার জন্য হয়েছে, তারপর মোটামুটি ভালোই চলছিল, তবে বাঙ্গালী তো তাই কিছুটা হলেও মনে হয় ,সংবিধানের রক্ষক আমি তাই আমি যা খুমি তাই করবো,কাট সাট করা দরকার হলে আমি করবো তাতে আরেক জন কে ডাকবো কেন, আসলো 6 বিভ্রতকর আবস্থা যাই হউক 8 র্নিবাচন দিয়ে সংবিধান ফেরত দিলো ,দলিও চিন্তা ভাবনা এটা দরকার এটা ভালো এটা হলে আমাদের ভালো ,হলো কাট সাট সংবিধানের রক্ষক রা ,তারপর তেকে সংবিধান রক্ষা করেই চলছে, ,,ফলাফল সবাই দেখে,,,। এখন আমার প্রশ্ন সংবিধানের রক্ষক শুধু দায়িত্ব প্রাপ্তরা না হয়ে যদি দেশের সকল মানুষ সংবিধান রক্ষার জন্য কাজে লাগানো যেত দল মত সকল (বেশির ভাগ)বা 80% মানুষ মিলে যদি সংবিধান সংয়োজন/বিয়োজন করা যেতো তাহলেই সম্বব ,তাছাড়া আমাদের এভাবেই চলতে হবে,

md firoj khan
৩০ জুলাই ২০২২, শনিবার, ৯:৪৬ অপরাহ্ন

নিরপেক্ষ ভাবে একটা ভোট দিতে চাই যা গত 12 বছর দিতে পারছি না।

Mozammel
২৯ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ৬:১৫ পূর্বাহ্ন

কেউ ই যখন পারবে না তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। দেশ তো ভালই চলছে।

হেলাল
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০৯ অপরাহ্ন

সংসদ বলি,রাজপথ বলি আর সরকারে থাকা বিএনপি বলি এর জন্য দায়ী আজ বিএনপিই। যদি সাহস থাকে আমার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন। ১. ১৯৯০ এর পর ৯৬ সালে(অজুহাত সংবিধান সংশোধন)কেন আপনারা একক নির্বাচনের আয়োজন করে ক্ষমতায় থাকতে না পেরে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় ব্যবস্থা দেয়ার এতো ঠেকায় পরে ছিলেন? ২. শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেল,সময় শেষ তত্বাবদায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হলো, শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন,ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কোন একক নির্বাচনের চেষ্টা করেননি।আপনার বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেল।আবার ৯৬ এর মতো আপনাদের মেয়াদ শেষ ২০০৬সালে আবার একক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার চেষ্টা, এরশাদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো তার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠালেন।তখন এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে গেলো।আপনারা তবুও ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন,দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলো।পর পর দুই এবারই ক্ষমতা ত্যাগের সময় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথে হাটলেন, প্রশ্ন হচ্ছে আওয়ামীলীগ কে কারা এই পথ দেখালো? বিএনপি না আওয়ামীলীগ? প্রশ্ন এড়িয়ে ৭৩ এ যাবেন না,এই ইতিহাস আমাদের জানা আছে। আর শেখ হাসিনা আপনাদের দেখানো পথে পা বাড়িয়ে দেখেছেন কেন আপনারা বার বার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন,তিনি আপনাদের ব্যর্থতার লিকেজগুলো ঝালাই করে ক্ষমতায় পাকাপোক্ত ভাবে আঁকড়ে আছেন,এটা কি ঠিক নয়?(এর বিশদ ব্যাখাও আছে)। ৩. ২০১৪ সালের সংসদ থেকে পদত্যাগ করে কেন আপনার দল ১ দফার নির্দলীয় তত্বাবদায়ক সরকারের আন্দোলনে গেলেন না? কিসের মোহে আপনারা এমপি পদ আঁকড়ে ছিলেন?যেখানে ততকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছিলেন,একই আসনে একজন এমপি বহাল রেখে আবার একজন এমপি কি ভাবে হন? আপনারা কেন পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙ্গে ও তত্বাবদায়ক সরকারের আন্দোলনে গেলেন না? কারন ২০১৪ সালে তো খালেদা জিয়ার সাজাসহ দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়নি,এ ছাড়া প্রশাসনে আওয়ামীলীগ জেকে বসতে পারেনি।দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিলো পুরোই আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে, তাই আপনাদের সিদ্ধান্তহীনতা,জাতির প্রত্যাশার সাথে বিশ্বাসঘাতকার কারনে বিএনপি যেখানে ব্যর্থ হয়েছে (১৯৯৬ ও ২০০৬) এ শেখ হাসিনা তার ক্যারিশমায় সফল হয়ে ক্ষমতায় টিকে গেছে( এখানে জনগন,সংবিধান ভোটাধিকার এই সব প্যাচাল শোনাবেন না,এদেশে রাজনৈতিকদের মধ্যে নুনতম দেশপ্রেম নেই)।আওয়ামীলীগকে এই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথপ্রদর্শক ও সুযোগ দিলো কে এদেশের জনগন না আপনার বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি? আন্দোলন বলেন,২০১৫ সালে তিনমাস আপনাদের ঢাকা (যদিও আপনাদের কর্মসূচি ছিলো রুট ফর ডেমোক্রেসি)তা পাল্টে দিলেন) অবরোধ কর্মসূচিতে এদেশের পরিবহন ব্যবসায়ীরা তাদের বাস,ট্রাক গাড়িঘোড়া, মার্কেট শপিং মূল সব বন্ধ রেখেছিলো,আপনাদের তৃণমূল নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলো,কিন্তু আপনারা যারা রাষ্ট্র চালাবেন এখন ভোট ডাকাতির সংসদে এমপিগির করছেন তারা সেই দিন কোথায় ছিলেন, কেন আপনি কিংবা আপনার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জনগন কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন না?আপনাদের ব্যর্থায়ই কি এ সরকার আজ বটবৃক্ষে পরিনত হয়নি?আপনাদের ব্যর্থতার কারনেই কি এই সরকার আজ ক্ষমতায় নয়?আপনাদের দেখানো পথেই কি সরকার সফলতা পায়নি? আপনারা ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনারা(বেগম জিয়ার ভাষায়)সফল হচ্ছেন।আপনাদের ব্যর্থতার কারনেই আজ এই সরকার এখনো টিকে আছেন।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কে স্ব-পরিবারে হত্যা করে আওয়ামীলীগ তার দলের সঙ্গে ও সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো,আর আপনার দল বিএনপি ২০১৪ সাল থেকে এদেশের সাড়ে ষোল কোটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছেন।মনে করছেন কেউ আপনাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে।যদি তা না হয় তবে আপনাদের যে খানে মাঠে দাঁড়াতে দেয় না বলে অভিযোগ করেন,তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রাজপথ দখল করতে আপনাদের অসুবিধা কোথায়? ৯৬এ মেয়র হানিফ সাহেব কি জনতার মঞ্চ বানিয়ে ছিলো আওয়ামী লীগের ব্যানারে?আজ দেশের এই সব ব্যর্থতার দায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনার দলকেও নিতে হবে।মনে রাখবেন একক ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথপ্রদর্শক আপনার দল, আওয়ামীলীগ বা শেখ হাসিনা নয়।আবারও বলছি আপনারা ব্যর্থ হয়েছিলেন আর তিনি সফল হচ্ছেন।দেশপ্রেম আর গনতন্ত্রের কবর এদেশে বহু আগেই রচিত হয়েছে।আর এ সব দেশপ্রেম আর সংবিধানের কথা কাগজে আর নেতাদের মুখের বুলি,বাস্তবতায় নয়।

ইকবাল কবির
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:০৮ অপরাহ্ন

There is a solution..... Election under UN.....

Dr. Alamgir
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:০০ অপরাহ্ন

বিএনপি ভোটার তালিকায় ভূয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করলে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের আইন বিলুপ্ত করলে, অগণতান্ত্রিক পথে চললে অন্য কারো জন্য তা বৈধ হতে পারেনা। মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামী লীগের জন্য তা লজ্জার ও হতাশার। কেউ চুরি ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ করলে অন্য আরেকজনের জন্য তা বৈধ হতে পারেনা। সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকারের বিধান আন্দোলনের মুখে হলেও বিএনপি-ই অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তা বিলুপ্ত করেছে। যদিও মাননীয় আদালত আরো দুটি নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাঁদের সরকারের অধীনে জোরপূর্বক নির্বাচনের পথে হাঁটতে গেলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। রকিব ও হুদা কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে একটি সরকারের ক্ষমতায় বহাল থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্লজ্জভাবে। এটা করতে গিয়ে তাঁরা আবহমানকাল থেকে চলে আসা সকলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর প্রতিযোগিতা মূলক নির্বাচনের চিরাচরিত ঐতিহ্য ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোটের আমেজ, ভোটারের উপস্থিতি এবং ভোট প্রদানের রীতিনীতি একটি গদিনসীন সরকারের পদমূলে তাঁরা বিসর্জন দিয়েছেন। ভোটার ও ভোটবিহীন নির্বাচনের অভিনব ব্যবস্থা তাঁরা চালু করেছেন। সরকারের কেউ কেউ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় বহাল থাকার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। তবে জনগণ চাইলে অনন্তকাল পর্যন্ত যে কারোরই ক্ষমতায় থাকার ন্যায্য অধিকার আছে। কিন্তু জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করেনি রকিব ও হুদা কমিশন। তাঁরা সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে গিয়ে নিজেদের মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয়েছে হাবিবুল আউয়াল কমিশন। তিনি কমিশনে আসার পর থেকে 'কথার দোকান' নয় বিভিন্ন কথামালার হাট বসিয়েছেন। কিন্তু তাঁর হাটের কথামালা সুধীমহলে বিকায়নি, বরং সমালোচনার ঝড় তুলেছে। বাধ্য হয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে নিয়েছেন। নূরুল হুদা কমিশন বিএনপিকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছেন। সেই প্রশংসা ছিলো বিএনপিকে বশে আনার কৌশল মাত্র। নূরুল হুদার পথ ধরে হাবিবুল আউয়ালও বিএনপি না এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবেনা বলে ইনিয়েবিনিয়ে নানান কথা বলে বিএনপিকে নরম করার কৌশলে অগ্রসর হচ্ছেন, তা একটি বালকও বুঝে। আগামী নির্বাচনের সময় যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বহাল থাকে এবং হাবিবুল আউয়াল কমিশনও বহাল থাকে তাহলে অতীতের মতো ভোট ছাড়াই আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হবেনা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যদি আওয়ামী লীগ সরকারে থাকে আর হাবিবুল আউয়াল কমিশনকে বরখাস্ত করে বিএনপির পরামর্শে তাঁদের পছন্দের লোকজন দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় তাহলে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব? এককথায় তার উত্তর হচ্ছে, সম্ভব নয়। একটি উদাহরণ থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যায়। হাবিবুল আউয়াল কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তাঁদের সামনে আবির্ভূত হয় তাঁদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষতা প্রমাণের স্বদিচ্ছা দেখাতে গিয়ে স্থানীয় একজন মাননীয় সংসদ সদস্যকে চিঠি দিয়েও নির্বাচনে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর প্রচারণা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে নানারকম নাটকীয়তা শেষে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন মাননীয় সংসদ সদস্যকে নির্বাচনের প্রচারণা থেকে বিরত রাখতে না পারার কারণ হচ্ছে তিনি তখন স্বপদে বহাল ছিলেন এবং তাঁর দল সরকারে বহাল ছিলো। প্রশাসনযন্ত্র সরকারের আজ্ঞাবহ থাকে। ফলে নির্বাচনের সময় সরকার ক্ষমতায় বহাল থাকলে প্রশাসন যন্ত্র সরকারি দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়। আবার, যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছেড়ে দেয় কেয়ারটেকার সরকারের কাছে, আর আওয়ামী লীগের নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন যদি বহাল থাকে তবুও নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। কারণ একটা সরকারের পছন্দের লোকজন দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে কমিশন ওই দলকে বিজয়ী করার চেষ্টার ত্রুটি করবেনা তা বলাই বাহুল্য। সেজন্যই হয়তো বিএনপি ও তাঁদের সমমনা দলগুলো বর্তমান হাবিবুল আউয়াল কমিশন নিয়ে আগ্রহী নয়। আর বিএনপির দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, তাহলে তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। নির্বাচনী ব্যবস্থা তছনছ হওয়ার ফলে গনতন্ত্রও তছনছ হয়ে গেছে। ফলে বহু জায়গায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে- যা পশ্চিমা উন্নয়ন সহযোগীদেশগুলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ হয়নি। ফলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে সকল দলের অংশগ্রহণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। বাংলাদেশ এখন একটা কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলছে। যে সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে দেশ তার মধ্যে প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশে হঠাৎ বিদ্যুতের লোডশেডিং, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়া, হটহট মূল্যস্ফীতি, আমাদানি তেলের সংকট ইত্যাদি একটা অশনিসংকেত। এমতাবস্থায় সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ অর্থ ঋণ চেয়েছে। নির্বাচন, গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের সংকট জিইয়ে রেখে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ করা সহজ হবেনা। একারণেই হয়তো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক, গ্রহণযোগ্য ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

আবুল কাসেম
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৯ অপরাহ্ন

যদি বি এন পির কোনো নেতাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে নির্বাচন করা হয় ,তবে নির্বাচন আওয়ামীলীগের পক্ষে যাবে ,কেননা প্রশাসন, পুলিশের বিভিন্ন পদে আওয়ামী ভারতীয় দালালদের বসিয়ে রেখেছে । দরকার শ্রীলঙ্কার মতো গণ আন্দোলন ।

ABMK
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:২৫ অপরাহ্ন

রুমিন ফারহানা আপনি অনেক কথাই লিখেছেন, কিন্তু অতি চতুরতার সাথে কিছু সত্য এড়িয়ে গেছেন। আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন কাদের আমলে ছিলো ? ১ কোটি ৬০ লাখের উপর ভুয়া ভোটার কাদের সময়ে ছিলো ? হা /না মার্কা ভোট কোন টাইপের আদর্শ ভোট? আপনি সুজন' এবং টিআইবি কথা লিখেছেন, এরা এখন সরব তখন এদের গলার পানি শুকিয়ে ছিলো। আপনি ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচন নিয়ে লিখেছেন, আপনারাতো ২০০৯ এর নির্বাচন ও তো মানেন না, বলেন ফখরুদদিন /মঈনউদ্দীন এর চক্রান্তের নির্বাচন। আপনাদের নেতৃি কয়দিন ঐ সংসদে গিয়েছেন? আপনার কিন্তু ঠিকই মনে আছে কিন্তু লিখবেন না বা বলবেন না! এই নির্বাচন সবার কাছে গ্রহন যোগ্য হলেও আপনারা মানেন নাই। কারন কোনো নির্বাচনই আপনাদের কাছে মনমতো হবে না যতোকখন না আপনারা জিতেন। আর ২০১৪ এর নির্বাচন আটকানোর জন্য কারা হাজারো School এ আগুন দিলো? সারা দেশে সনতাস কায়েম করলো। আপনারা নির্বাচনে না গেলে আরেক জন তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেই, সেটা কি ওর দোষ না আপনাদের ও দায় আছে? ২০১৮ এর নির্বাচনে দুপুর পরযন্ত আপনারা বললেন সব ঠিক আছে, এরপর আপনারা দিলেন পিছুটান, অথচ কতো বড়ো বড়ো কথা বললেন ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাহারায় থাকবেন। আপনাদের পিছু টানে অন্য পক্ষ কে দিলেন সুযোগ। নিরপেক্ষ সরকার কই পাবেন? আপনি তো দেখি নেতৃির কথাও মানেন না? নেতৃি না বলেছেন " পাগল ও শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ কেউ নাই "। (জানিনা মানবজমিন আমার এই মতামত ছাপাবে কিনা, এর আগেও ছাপায় নি, তারা মতামতের সাধীনতার কথা লিখে /বলে কিন্তু মানে না, আমার এ ধারণা ভুল হলে আমি খুশি হবো)

তাজিক শাওন
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৭:১৯ অপরাহ্ন

এটা লক্ষ্যনীয় যে আগামি জাতিয় সংসদ নির্বাচনে একটা বড় দলকে অংশ গ্রহনে উৎসাহি করতে নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞাপনের মত নিরন্তর বলেই চলছে "নির্বাচনে আসুন, নির্বাচনে আসুন" যেমন এক সময় স্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে নিয়ত বলা হতো " চোখে লাগলে চোখ জ্বলেনা কান্নাও পায় না"। আসলে চোখও জ্বলতো কান্নাও পেত। কিন্তু প্রতিকারের কোন ব্যবস্থাই বলতো না।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১:০১ অপরাহ্ন

সেইতো বুঝলা, তবে ১৫ ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনটা কেন করেছিলে? কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তালবাহানা করেছিলে? তখন হুস ছিল না?

ড. হারুন রশিদ
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ/ কি খেলা হবে ১০ই ডিসেম্বর?

প্রেম-পরকীয়া নিয়ে দুই নায়িকার বাহাস/ হারিয়ে যাচ্ছে কি ভালো সিনেমার আলোচনা?

১০

কাওরান বাজারের চিঠি/ ম্যারাডোনা, আম্পায়ারিং এবং পরীমনি

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status