ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

বেহুদা প্যাঁচাল

ইউএনও’র ভাষার শ্রী, হুজুরের সম্মান এবং সাংবাদিক

শামীমুল হক
২৭ জুলাই ২০২২, বুধবার

অনেক ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে সাংবাদিকের কলমে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ হওয়ার পর। তারপরও সমাজে সাংবাদিকরা হচ্ছেন প্রতিনিয়ত নিগৃহীত। হচ্ছেন লাঞ্ছিত। কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন। কেউ দিনের পর দিন জেল খাটছেন। শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু এড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলছেন। নির্যাতিত সাংবাদিক যখন দেখেন নির্যাতনকারী কিছুটা হলেও শাস্তি পেয়েছেন তাহলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেন। এটাই কম কিসের। যেমনটা কায়সার খসরুর বেলায় ঘটেছে


সাংবাদিকের প্রতিটি শব্দ কারও না কারও পক্ষে যায়। এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন
আর পক্ষে গেলে অন্যের বিপক্ষে যায়। এই বিপক্ষে যাওয়াটাই হলো কাল। ওই ব্যক্তি হন ক্ষুব্ধ। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নানা রটনা ছড়ান। কখনো কখনো সাংবাদিকের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। আবার কেউ মুখের ভাষার শ্রী ঝাড়েন সাংবাদিককে ফোন করে। কারণ সাংবাদিকরা নিরীহ প্রাণী। অবলা প্রাণী। তারা দুর্বল। দুর্বলরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে  চেঁচাতে পারেন। তারা কাউকে আক্রমণ করতে পারেন না। ভাষার শ্রীও বদলাতে পারেন না। যেমনটা পেরেছেন টেকনাফের ইউএনও কায়সার খসরু। কারণ কিছু কিছু ইউএনও মনে করেন তারা ওই উপজেলার রাজা বা বাদশাহ। কিংবা জমিদার। আর জনগণ হলো সব প্রজা। নিকৃষ্ট শ্রেণির। সাংবাদিক হলে তো কথাই নেই। তারা হলো হুকুমের গোলাম। কক্সবাজারের সাংবাদিককে ইউএনও কায়সার খসরুর ভাষার আক্রমণ- এটাই বলে দেয়। ক’দিন ধরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সাংবাদিক ও ইউএনও’র কথোপকথন শোনে লজ্জায় মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে। 

ইউএনও যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা দেশের চিহ্নিত ক’টি স্থানের ভাষা। যে স্থানের নাম শুনলে মানুষ ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেন। উচ্চ আদালতও ইউএনও’র ভাষাকে মাস্তানের ভাষা বলে অবহিত করেছেন। কিন্তু কায়সার খসরু কি দেশে একাই এমন মাস্তান?  খোঁজ করলে এমন মাস্তানের সন্ধান পাওয়া যাবে উপজেলায় উপজেলায়। যারা রাজা সেজে রাজ্য শাসন করছেন। বলা হয়ে থাকে সাংবাদিকতা মহান পেশা। সম্মানের পেশা। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রিপোর্ট যখন কারও পক্ষে যায় তখন এ শব্দগুলো সুন্দর করে ব্যবহার হয়। আর বিপক্ষে গেলে সাংবাদিকের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা যেন রেওয়াজে পরিণত হয়। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক টাকা খেয়ে রিপোর্ট করেছে। বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ইত্যাদি সব বিশেষণে আখ্যা দেয়া হয়। অবশ্য দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই কায়সার খসরু তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, তার এভাবে বলা ঠিক হয়নি। কি কারণে ইউএনও এত ক্ষুব্ধ? কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় নিচু জমিতে উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে সেখানকার ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঢাকা পোস্ট। প্রতিবেদনে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরায় ঢাকা পোস্টের কক্সবাজার প্রতিনিধির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য গালিগালাজ করেছেন টেকনাফের ইউএনও মোহাম্মদ কায়সার খসরু। 

২১শে জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে কায়সার খসরু তার অফিসিয়াল নম্বর থেকে কল করেন ঢাকা পোস্টের কক্সবাজার প্রতিনিধি সাইদুল ফরহাদকে। ফোনে যে ভাষা ব্যবহার করা হয় তা এ নিবন্ধে উল্লেখ করতেও লজ্জাবোধ হয়। অডিও রেকর্ডটি সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আচরণে হতভম্ব। তারা এর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। প্রতিবাদ জানান। এরই মধ্যে কক্সবাজারের সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগে ইউএনও কায়সার খসরুকে প্রত্যাহার করে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এই কথা জানান। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তাকে ওএসডি করে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। এর আগে এ প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত বলেন, যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। রং হেডেড পারসন ছাড়া কেউ এভাবে বলতে পারেন না। যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা কোনো ভাষা হতে পারে না। দেখা যাচ্ছে, ইউএনও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্বীকার করে নিচ্ছেন।  সাংবাদিকেরা সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে আদালত বলেন, তারা অপরাধ করলে আইন আছে, প্রেস কাউন্সিল আছে। তবে কেউ এভাবে গালিগালাজ করতে পারেন না। আইন নিজের হাতে তুলেও নিতে পারেন না। ঘর উপহার দেয়া প্রসঙ্গে আদালত বলেন, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে যে ভাষা ব্যবহার করেছে ইউএনও, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।  মনে পড়ে কি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বরগুনা সদরের ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে এক মামলায় হাতকড়া পরিয়ে আদালতের গারদখানায় নিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্যের কথা? বরিশাল আদালত অঙ্গনের ওই ছবি সাংবাদিকরাই প্রথম সবার নজরে আনেন। ওই ছবি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এর পরই বিষয়টি নজরে আসে ঊর্ধ্বতন মহলের।

 প্রশাসনে সৃষ্টি হয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। এ ঘটনায় ইউএনও’র পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকরাই কিন্তু প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের ওপর দেশের সিভিল প্রশাসনের কর্তাদের কৃতজ্ঞতার বন্যা বয়ে গিয়েছিল। সে ঘটনাটি কী ছিল। ২০১৭ সালের  ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আগৈলঝাড়ায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। চিত্রাঙ্কনের বিষয় ছিল ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’। সিদ্ধান্ত ছিল ওই প্রতিযোগিতায় আঁকা যে ছবি প্রথম হবে, সেই ছবি স্বাধীনতা দিবসের কার্ডের পেছনে ছাপা হবে। সেটাই করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল প্রশ্ন তুলে এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় জাতির মানহানি হয়েছে অভিযোগে ৭ই জুন আগৈলঝাড়ার তৎকালীন ইউএনও গাজী তারেক সালমনের বিরুদ্ধে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওই মামলায় ১৯শে জুলাই বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন গাজী তারিক সালমন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় আদালতে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুরের মৌখিক আদেশ দেন। এরপর পরই আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের কয়েকজন সদস্য ইউএনও তারিক সালমনকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় দেশে যখন তীব্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় তখনই বিবিসি বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, ইউএনওকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার ছবি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী বিস্মিত হয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, ক্লাস ফাইভের ছেলেমেয়েদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা করে ওই অফিসার ভালো কাজ করেছে। ওই ছবি দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এতে বিকৃত করার মতো কিছু হয়নি বরং এটি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ওই অফিসারও পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। সেখানে আমরা ইউএনও’র সঙ্গে এই ব্যবহার করছি বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করেন এবং নিন্দা জানান। এরপর ওই ঘটনার ইতি ঘটে।  যেখানে অন্যায় সেখানেই সাংবাদিকরা কলম ধরেন। অন্যায়কে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। এমন অনেক ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে সাংবাদিকের কলমে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ হওয়ার পর। তারপরও সমাজে সাংবাদিকরা হচ্ছেন প্রতিনিয়ত নিগৃহীত। হচ্ছেন লাঞ্ছিত। কেউ কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন। কেউ দিনের পর দিন জেল খাটছেন। শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু এড়িয়ে সামনে এগিয়ে চলছেন। নির্যাতিত সাংবাদিক যখন দেখেন নির্যাতনকারী কিছুটা হলেও শাস্তি পেয়েছেন তাহলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দেন। এটাই কম কিসের। যেমনটা কায়সার খসরুর বেলায় ঘটেছে। তাকে ওএসডি করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ওএসডি কোনো শাস্তি নয়। তারপরও বলবো, কায়সার এখন কর্মহীন। আগে যেখানে উপজেলার রাজা ভাবতেন এখন তো তিনি রাজ্য হারিয়েছেন। আর এটা হওয়ায় কায়সারের মতো যারা নিজেকে রাজা ভাবেন তারাও এখন সজাগ হবেন। রাজা থেকে নিজেকে সাধারণের কর্মচারী মনে করবেন।

  সাংবাদিকদেরও সবসময় সচেতন থাকতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরতে হবে স্বচ্ছ হিসেবে। কিন্তু ইদানীং নামধারী সাংবাদিকদের কারণে সত্যিকার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এ ছাড়া গত ক’বছর ধরে তৈল সাংবাদিকের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বিশেষ করে জেলা-উপজেলায় এমন সাংবাদিকের আধিক্য বেশি। এরা ডিসি, পুলিশ সুপার, ইউএনও, এসি ল্যান্ড, এমনকি কোনো এসআই কর্মস্থলে যোগ কিংবা বিদায় নিলে ফেসবুকে অভিনন্দনের বন্যা বইয়ে দেয়। কোনো কোনো আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকায় এসব কর্মকর্তার ছবি বড় করে দিয়ে তিন কলাম রিপোর্টও ছাপা হয়। এসব দেখে পেশাদার সাংবাদিকরা আফসোস করেন। তাদের প্রশ্ন কোথায় গিয়ে ঠেকেছে সাংবাদিকতা? সরকারি কর্মকর্তা আসবেন, যাবেন- এটাই নিয়ম। তারা তাদের কর্মস্থলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। নিজের জীবনের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু তিনি স্বাভাবিক কোনো কাজ করলেও বাহ্‌ বাহ্‌ রব ওঠে। ইদানীং ফেসবুকে পত্রিকার মতো রিপোর্ট আকারে এমন রিপোর্ট চোখে পড়ে। সেখানে লেখা থাকে- জেলা বা উপজেলার নাম দিয়ে প্রতিনিধি। এরপর রিপোর্ট শুরু হয়। আশ্চর্য! যেন ফেসবুক একটা পত্রিকা। যেখানে পত্রিকার মতো করে রিপোর্ট লিখছে। ওইসব তৈল সাংবাদিকরা আবার যাকে তেল দিয়ে রিপোর্ট লিখেছেন তার কাছে গিয়ে ফেসবুকের সে রিপোর্ট দেখান। তিনিও বুঝে কিংবা না বুঝে আনন্দে লাফান। আর রিপোর্টে যে সব বিশেষণ ব্যবহার করা হয় তা সাংবাদিকতার সঙ্গে মিলে না। জনবান্ধব, কর্মঠ, গরিবের বন্ধু, অপরাধীদের আতঙ্ক অমুক যোগ দিয়েছেন এ উপজেলায়। 

এসব দেখে সাধারণ মানুষ হাসে। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে এরা এসব করে। অথচ সাধারণ মানুষ জানেন না এরা সাংবাদিক নন। তৈল সাংবাদিক। নামধারী সাংবাদিক। নিজেই একটি অনলাইন বের করে সাংবাদিক সেজেছেন। নতুবা ফেসবুকে লিখে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। আবার তার সঙ্গে টেনে এনেছেন তারই মতো চাটুকার কিছু মানুষ। যারা তৈল রিপোর্ট করে বিভিন্ন জায়গায় দেখিয়ে ভিক্ষায় নামেন। পেশাদার সাংবাদিকরা লাজে মরলেও তাদের করার কিছু থাকে না। কারণ কিছু কিছু ইউএনও, ওসি তেল পছন্দ করেন। কিছু কিছু ডিসি, পুলিশ সুপার তেলের ডালির জন্য অপেক্ষা করেন। আর এ তেল পেয়ে তারা সব জেনেও চুপ থাকেন। সত্যিকারের সাংবাদিকরা এসব দেখে আফসোস করেন। আর মনে মনে সেই কৌতুকটি আওড়ান। এক হুজুর তার নারিকেল গাছ থেকে ডাব পারতে এক ছেলেকে ডেকে আনেন। ছেলেটিকে হুজুর বলেন, তুমি ডাব গাছে উঠে ক’টি ডাব পেড়ে দাও। ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, হুজুর একি বলছেন? আপনি নিচে থাকবেন আর আমি গাছের উপরে উঠবো। এটা হয় কী করে। আমার পা যে আপনার মাথার উপরে থাকবে। এমন বেয়াদবি আমি করতে পারবো না। 

ছেলের কথা শুনে হুজুরও চুপ হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে আমিই উঠছি। হুজুর গাছে উঠে ডাব নিয়ে নিচে নামলেন। এবার ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে হুজুর বলেন- তাহলে এখন ডাব কেটে দাও? ঝটপট ছেলেটি বলে উঠেন, না না হুজুর। এটাও করতে পারবো না। কারণ আপনার সামনে আমি দা উঁচু করে ডাব কাটবো এটা তো আরেক বেয়াদবি। কথা শুনে হুজুর নিজেই ডাব কাটলেন। আর পানি একটি মগে নিলেন। ভদ্রতার খাতিরে হুজুর বললেন- নাও পানি খাও। ছেলেটি বলে উঠলো- হুজুর আপনি যেহেতু বলছেন না খেলে তো আরও বেয়াদবি হবে- বলেই মগটি নিয়ে সব পানি খেয়ে ফেললেন। হুজুরকে ছেলেটির সম্মান জানানোর মতোই সমাজে সাংবাদিকের সম্মান। আর তাই তো কায়সার খসরুরা মাঝে মাঝে সম্মান জানান শ্রীহীন ভাষায়।  

পাঠকের মতামত

ব্যাঙের ছাতার মতো দেশের আনাচে কানাচে অনলাইন তথাকথিত পত্রিকার নামে লিফলেট প্রকাশের মুক্ত সুবিধা করে দিয়েছে ফেসবুক, যে ফেসবুকে না আছে কোনো এডিটর বা মডারেটর, যার যা ইচ্ছে তাই লিখে দিতে পারে। আগে তো সাংবাদিক সাজতে গেলে কাঁধে নিদেনপক্ষে একটা ক্যামেরা ঝুলানো লাগতো এখন তা ও লাগে না, লম্বা চওড়া একটা মোবাইল হলেই হলো, গ্রামে গঞ্জের পুঁটি সন্ত্রাসী, নব্য চাঁদাবাজ, সরকারী কাজের উপজেলা ভিত্তিক কনট্রাকটরদের চুরি বাটপারির খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারা ও বেশ দুই পয়সা কামাচ্ছে,গ্রামীণ জনপদে আয়ের একটা নতুন এভিনিউ, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক উদ্ভাবনী সংযোজন । শহরে ও এ শ্রেণির সাংবাদিক নেই তা না কিন্তু তাদেরকে ঘাটাতে গেলে আমার এই মন্তব্য প্রকাশ হবে না।

Jafrul Amin
২৬ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ৬:৪০ অপরাহ্ন

In every Upazila there are numerous public positions to public works and interest. An Agriculture officer is responsible for manage agriculture related issues, a election officer handles election related matters, AC land deals with land related issues, Family Planning and Health office steered by MBBS doctors, Bank has its Manager to resolves all the financial needs, Upazila Statistics officer maintains all the necessary statistics of his area, Upazila Project implementation officer is an engineer whose job is to carry out civil planning and construction, OC of Police Station is assigned maintain law and order...... there are so many responsible posts and positions in every Upazila for every aspects of responsibilities and duty. My question is what is the separate and specific job, duty and responsibility an UNO has in an Upazila? This post is totally unnecessary and just an waste of public interest in terms of paying huge hard earned tax money in form of salaries, bonus, allowances, transports and so on. UNO is quite unnecessary and for the greater interest of the common people of Bangladesh this post must be abolished soon.

Monsur
২৬ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ২:২০ অপরাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status