ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

সা ম্প্র তি ক প্রসঙ্গ

লঙ্কাকাণ্ডে প্রশ্ন, সংবিধানের জন্য জনগণ নাকি জনগণের জন্য সংবিধান?

তারিক চয়ন
১৭ জুলাই ২০২২, রবিবার

এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা নন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক ভোট দিয়ে থাকেন। ২০শে জুলাইয়ের মধ্যে এত কম সময়ে এমন একটি নির্বাচনের আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব। সুতরাং, এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করছেন। সুতরাং, এ ঘটনা থেকে এটাই স্পষ্ট যে, ‘সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়’

সংবিধান হলো কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানকে এক কথায় শাসনব্যবস্থার মূল গ্রন্থ বলেও বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সংবিধান হচ্ছে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। সংবিধান অনুযায়ী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু, প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে এমনও কিছু সময় আসে যখন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। যুগে যুগে জনগণের দাবির কাছে জনগণের জন্য প্রতিষ্ঠিত সংবিধানই অসার হয়ে পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করলে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

গত ৩১শে মার্চ হাজারো বিক্ষোভকারী দেশটির সদ্য পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে ১লা এপ্রিল প্রেসিডেন্ট দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। ৩রা এপ্রিল গভীর রাতে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীদের প্রায় সবাই পদত্যাগ করেন। কিন্তু, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী গোটাবাইয়া সরকারের সকলের পদত্যাগ দাবি করতেই থাকেন। সরকার তাদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালালেও তারা দমে যান নি। এমতাবস্থায় ৯ই মে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর হামলা চালায় সরকার-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা হামলা চালান। ওই সংঘর্ষের জেরে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়ার ওপরও পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে। কিন্তু, সেটা না করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন। ১২ই মে রণিল শপথ গ্রহণ করেন।

কিন্তু, আন্দোলন থেমে থেমে চলছিলই। রাজাপাকসে পরিবারের অত্যাচার আর দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ জনগণ দিন দিন আরও বেশি ক্ষোভে ফুঁসে উঠছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ৯ই জুলাই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নাটকীয় মোড় নেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়েন। তার আগেই অবশ্য প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছাড়েন গোটাবাইয়া। এরপর কয়েকদিন প্রেসিডেন্ট ঠিক কোথায় ছিলেন তা কেউই জানতো না। ১৩ই জুলাই প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়ার মালদ্বীপে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ১৫ই জুলাই প্রেসিডেন্ট সিঙ্গাপুর থেকে ই-মেইলে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। একই দিন প্রধানমন্ত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু, এর মাঝের কয়েকদিন শ্রীলঙ্কা কীভাবে চলছিল তা নিয়ে সবাই যেনো মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

ওই কয়েকদিন শ্রীলঙ্কা সংবিধান অনুযায়ী চলছিল কিনা সেটা বুঝা যায় শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার এক সাক্ষাৎকার থেকে। ১১ই জুলাই দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সিরিসেনা বলেন,  ‘প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এখনো পদত্যাগ করেননি, জনগণ ক্ষমতা দখল করেছে। এমন বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো মানে নেই। 

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।’ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং বাসভবন দখলে নেয়ার পর তিনি (৯ই জুলাই) বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন স্বীকার করে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিবর্তন সংবিধান অনুযায়ী হয় নি, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে ওইসব লোকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাধ্য করেছে ‘যারা’ অসাংবিধানিক  উপায়ে সরকারকে উৎখাত করেছে।’’ ‘যারা’ বলতে তিনি যে ওই বিক্ষুব্ধ জনতাকেই বুঝিয়েছেন এটা সহজেই অনুমেয়। এই ঘটনা থেকে বুঝা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট সংবিধানের উপরে দেশের জনগণের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হলেও সেটা দেশের মানুষের জন্যই রচিত।
শ্রীলঙ্কায় অনেক কিছুই যে এখন সংবিধান অনুযায়ী হচ্ছে না সেটা বলাইবাহুল্য। আরেকটি ঘটনা থেকেও তা স্পষ্ট। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ই মে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন। এর ফলে, দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু, কে হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক দলগুলো।

 এমতাবস্থায় সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন রণিল বিক্রমাসিংহে। প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকেই শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বুধবার (১৩ই জুলাই) বলেন, প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া তাকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে। সংবিধানের ৩৭ (১) ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 কিন্তু, মুশকিল হলো রণিল বিক্রমাসিংহেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে সরাসরি কিছু বলেননি গোটাবাইয়া। পলাতক অবস্থায় তার সব ঘোষণাই হয় পার্লামেন্টের স্পিকার, না হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে আসছিল। তাছাড়া, শ্রীলঙ্কার বর্তমান পার্লামেন্টে নিজ দল ইউএনপি’র একমাত্র প্রতিনিধি কেবল রণিল বিক্রমাসিংহে। রণিলকে এভাবে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে আবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বানানোটা সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন খোদ সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী, সামাগি জন বালাবেগায়া দলের সাজিদ প্রেমাদাসা। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে রণিলকে নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেন, ‘এক আসনবিশিষ্ট একজন এমপিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। এখন সেই একই ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে...। প্রধানমন্ত্রী তখনই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হতে পারেন যখন প্রেসিডেন্ট তাকে এই পদে নিয়োগ করেন, অথবা প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য থাকে, অথবা যদি প্রধান বিচারপতি স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, প্রেসিডেন্ট নিজ দায়িত্ব পালমে অক্ষম। এসব কারণের যেকোনো একটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না এবং কারফিউ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না।’

লক্ষণীয় যে, সাজিদ প্রেমাদাসা কেবল রণিলের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে কিনা সে প্রশ্নই তুলেন নি, প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া পালিয়ে মালদ্বীপে চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে রণিল দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য যে জরুরি অবস্থা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশজুড়ে যে কারফিউ জারি করেছিলেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। শ্রীলঙ্কার বিরোধী দল এবং বিশ্লেষকরাও বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিক্রমাসিংহে কারফিউ জারির এখতিয়ার রাখেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব না পেয়ে এ ধরনের আদেশ দিয়ে তিনি সংবিধানকে তোয়াক্কা করেন নি। কিন্তু, কিইবা করার ছিল বেচারা রণিলের! প্রেসিডেন্টের দেশত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার তার কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে এগুচ্ছিল একদল বিক্ষোভকারী। এর আগে তার বাসভবনও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু, পলাতক হলেও আইন অনুযায়ী গোটাবাইয়া রাজাপাকসে যেহেতু তখনো প্রেসিডেন্ট, তাই প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে কোন ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই প্রশ্ন রেখেছিল ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দু। এর জবাবে তার মুখপাত্র দিনুক কলোম্বেজ বলেছিলেন, “এ বিষয়ে আইনি (সাংবিধানিক) ব্যাখ্যা আমরা পরে দেবো। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।”

এই ঘটনা থেকেও বুঝা যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সংবিধানের উপরে দেশের জনগণের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অবশেষে, ১৫ই জুলাই প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছিলেন গোটাবাইয়া। সংবিধানের ৩৭ (১) ধারা অনুযায়ী রণিল কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে পার্লামেন্টের স্পিকার ইয়াপা আবেওয়ার্ডেনে জানিয়েছেন যে, ২০শে জুলাই শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। কিন্তু, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেও কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে কিছুই জানাননি স্পিকার।

এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা নন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক ভোট দিয়ে থাকেন। ২০শে জুলাইয়ের মধ্যে এত কম সময়ে এমন একটি নির্বাচনের আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব। সুতরাং, এক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই ধারণা করছেন। সুতরাং, এ ঘটনা থেকে এটাই স্পষ্ট যে, ‘সংবিধান জনগণের জন্য, জনগণ সংবিধানের জন্য নয়’। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায় না। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধানের মধ্য থেকেই সংবিধানকে সংশোধন করা সম্ভব। রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সমঝোতা থাকলে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সময় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকতে পারে না।

পাঠকের মতামত

১৯৯৬ সালে জামাত-আলীগ একটি নিরপেক্ষ তত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে যখন আন্দোলন করছিল তখন বিএনপিও সংবিধানের দোহাই দিয়েছিল, যদিও জামাতের মস্তিস্ক প্রসুত তত্ববধায়কের ধারণা চিল নতুন। শেষ পর্যন্ত জামাত-আলীগের আন্দোলনে বিএনপি তত্বাবধায়কের দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং সংসদে তত্বাবধায়কের বিল আনে এবং পাশ করে। তখন তত্ববধায়ক ইস্যুতে বিএনপি সংবিধানের দোহাই দিয়েছিল এখন আলীগও তাই করছে। আলীগের মনের জোর হলো তারা গত ১৩/১৪ বছরে রার্ষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভ এমনকি বিচার বিভাগসহ নজিরবিহীন দলীয়করণ সম্পন্ন করেছে। এখন ভোটের দিন দলীয় কর্মীদের কষ্ট করে জাল ভোট দিতে হয়না, সেই কাজটি কেন্দ্র পাহাড়ায় নিয়োজিত পুলিশ এবং নির্বাচন কর্মকর্তারাই সম্পাদন করেন।

জামশেদ পাটোয়ারী
২২ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

জনগণের জন্য সংবিধান / কিন্তু সকল দল নিজেদের স্বার্থে ইচ্ছাখুশি ভাবে সংবিধান পরিবর্তন করায় সমস্যা দেখা দিয়েছে / জনগণকে মেনে নিতে হবে বর্তমান অবস্থা ১৫ থেকে ২০ বছর চলবে /

mohd islam
১৮ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৯:২৬ অপরাহ্ন

সোজাসাপটা কথা ----------------------- ------------------------------- একটি রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মকানুনের দলিল হচ্ছে সে রাষ্ট্রের সংবিধান। রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ এবং সরকারের কার্যাবলী কিরকম হবে জানা যায় সে দেশের সংবিধান থেকে। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণ পরিষদের অধিবেশনে এবং কার্যকর হয় একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে। সংবিধান একটি জাতির প্রয়োজনে ওই জাতির রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রচিত হয়। মানুষের জীবন, সময়, পরিবেশ ও পরিস্থতি সবসময়ই পরিবর্তনশীল। পরিবর্তিত পরিস্থতিতে যদি দেখা যায় সংবিধানের কোনো ধারা অথবা কোনো অংশ মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা অথবা যদি দেখা যায় সংবিধানের কোনো ধারা অথবা কোনো অংশ দ্বারা মানুষের অকল্যান হয় তাহলে সংবিধানের সেই ধারা বা অংশ সংশোধন করার প্রয়োজন পড়ে। দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান এপর্যন্ত মোট ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে চার বার। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এপর্যন্ত সংবিধানের আরো তিন বার সংশোধন করা হয়েছে। বিএনপির শাসনামলে ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়না বিধায় ওই সময় আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে। বিএনপি তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে তখন সংবিধান সংশোধন করে সংবিধানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংযোজন করেছে। ২০০৮ সালের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মানুষের ভোটের অধিকার তছনছ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ একেবারে গায়ের জোরে প্রমাণ করে দিয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কস্মিনকালেও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হতে পারেনা। এখন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে তার জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী। এমন একটা পরিস্থিতিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দাবি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সংসদে এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাঁরা সরকারে থেকেই সংবিধান সংশোধন করেছে গত এক দশকে তিন বার। জাতির প্রয়োজনে জনগণের ভোটের অধিকার ও নির্বাসিত গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে পুনরায় সংযোজন করতে পারে। এবং তা করলেই কেবল বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। তাঁরা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে যেহেতু প্রমাণ হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না, মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে তাই তাঁরা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা। ইতিপূর্বে স্থানীয় সরকারের সবকয়টি নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছে। তাতে ধরে নেয়া যায় বিএনপি তাঁদের দাবিতে অনঢ়। সংবিধান মানুষের জন্য। সংবিধানের জন্য যেমন মানুষ নয় তেমনি বিশেষ কোনো দল একটি দেশের জন্য অপরিহার্য নয়। একটি দেশের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে গনতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার যা আওয়ামী লীগ হরণ করেছে ও তছনছ করে দিয়েছে। তাই যারা জাতির কাছ গনতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের মুচলেকা দিতে পারবে তারা একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে ভোট দেবে। জনগণ যাতে অবাধে ভোট দিতে পারে সেজন্যই তারা একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। আওয়ামী লীগ যুক্তি দেখায়, ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে তত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু আদালত তখন দেশের গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে আরো দুইটি নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আদালতের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। গায়ের জোরে বা কৌশলে ছলাকলা করে তাঁরা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছেন মাত্র। আদালতের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধাবোধ থাকলে আরো দুইটি নির্বাচন তাঁরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করে প্রমাণ করতে পারেন আইনের শাসনে তাঁরা বিশ্বাসী। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার রাজাপাকসে পরিবারের সরকারকে সংবিধান রক্ষা করতে পারেনি। কারণ, মানুষের প্রয়োজনেই মানুষ সংবিধান তৈরি করে, আবার সংশোধন করে, আবার বর্জনও করে। আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা আছে কিনা বা জনগণের কাছাকাছি আওয়ামী লীগ রয়েছে কিনা এবং বিএনপি জনগণ থেকে কতোটা বিচ্ছিন্ন তা দেখার জন্য জনগণকে অবাধে ভোট দেয়ার অধিকার ও ক্ষমতা দিতে হবে। আর তার জন্য দরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

আবুল কাসেম
১৬ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১১:৫০ অপরাহ্ন

সংবিধান মনুষ্য সৃষ্ট কিছু নিয়ম নীতি যা মানুষকে তাদের সমাজের অন্য সবার সাথে পারস্পরিক মতপার্থক্য তার সমাজের সমসাময়িক প্রচলিত যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করে সমাজের সমস্ত সামাজিক প্রক্রিয়াকে চালিয়ে নিতে সাহায্য করে। অর্থাৎ সংবিধান স্পষ্টতই একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্টির জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করা হয় এবং তা জনগনের প্রয়োজনেই তা করা হয়। আমাদের মত কিছু উদ্ভট কিছিমের দেশের কিছু রাজনীতির বিষ্টা শ্রেণীর নেতারা আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে জনগন সংবিধান এর জন্য। এর মাধ্যমে এরা বলদ জনগনকে বিভ্রান্ত করে দেশের ক্ষমতায় থেকে তাদের অপরাধমূলক কাজকর্ম বহাল রাখে।

Siddq
১৬ জুলাই ২০২২, শনিবার, ৬:৩৮ অপরাহ্ন

সংবিধান স্থায়ী কোন মহাগ্রন্থ নয়।জনস্বার্থে, দেশের স্বার্থে তাতক্ষনিক পরিবর্তন যোগ্য। কারণ তা মানবকল্যাণে রচিত,মানুষের রচিত।

হেলাল
১৬ জুলাই ২০২২, শনিবার, ৪:৫৯ অপরাহ্ন

"সংবিধানের জন্য জনগণ নাকি জনগণের জন্য সংবিধান?" Ask that to BAL politicians.

Nam Nai
১৬ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status