ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

বাংলারজমিন

ইজারা হয়নি পদ্মার ৬ ফেরিঘাটের, তাদের হাতেই জিম্মি চরের মানুষ

ফারুক আহমেদ চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
১৩ জুন ২০২৪, বৃহস্পতিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর ৬ ফেরিঘাট চলতি বছরে ইজারা হয়নি। উপজেলার পদ্মারচরের দুই ইউনিয়নের মানুষ এসব ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রতি বছরই বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় সরকার। ইজারা না হওয়ায় এসব ঘাটে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে চলছে লুটপাট। গত বছর এই ৬ ফেরিঘাট ইজারায় ভ্যাট, আয়করসহ রাজস্ব খাতে জমা হয়েছিল ১ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে এ বছর খাস আদায়ের টাকা সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা দিয়ে বেশির ভাগই পকেটে ভরছে ইজারাদার সিন্ডিকেট। খাস আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, যে হারে আদায় হচ্ছে তাতে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আদায় হতে পারে। ঘাটগুলো পরিচালিত হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অধীনে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৪৩০ বঙ্গাব্দের ইজারাদার রিপন আলীই ১৪৩১ সনে খাস আদায় করছেন। চক্রটি দরপত্র অনুযায়ী ইজারা না নিয়ে দুই-একজন অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ‘খাস আদায়ের’ নামে সরকারের রাজস্ব খাতের টাকা লুটপাট করছে। গত মেয়াদে এই ইজারাদারের বিরুদ্ধে পদ্মা চরের মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছামতো টোল আদায় করছেন তারা। ডাব, চারাগাছ কিংবা সবজিরও টোল নেয়া হয় এসব ঘাটে। এমনকি মুমূর্ষু রোগীকেও জিম্মি করে নেয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। এ নিয়ে মানববন্ধন ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার পাননি স্থানীয়রা। অভিযুক্ত সেই ইজারাদারের হাতেই জিম্মি চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে ইজারাদারের দাবি- গত বছর কোটি টাকায় ঘাট কিনে কোনো লাভ হয়নি। প্রতিবছরই পদ্মারচরে মানুষ কমছে, ফলে যাতায়াতও কমছে। এবারও ফেরিঘাটের ইজারামূল্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে টোলহার কমানো হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ কারণে তারা ইজারা নেননি। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৮টি ফেরিঘাটের মধ্যে ১৪৩১ বাংলা সনে ইজারা হয়নি পদ্মা নদীর ৬ ফেরিঘাট। গত বছর দু’টি  প্যাকেজে ৬ ফেরিঘাট থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব খাতে জমা হয়। ঘাটগুলো হচ্ছে- পাঁকা, উজিরপুর রাধাকান্তপুর, লক্ষ্মীপুর, হাসানপুর, নিউ পদ্মা ও পশ্চিম পাঁকাচর ফেরিঘাট। ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে চলতি সনে এই ৬ ঘাটের সম্ভাব্য ইজারা মূল্য ধরা হয় ৯৫ লাখ ৩১ হাজার ৬০ টাকা। এরমধ্যে পাঁকা ফেরিঘাট, উজিরপুর রাধাকান্তপুর ফেরিঘাট মিলিয়ে একটি প্যাকেজ যার মূল্য ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার ২৯০ টাকা। লক্ষ্মীপুর, হাসানপুর, নিউ পদ্মা ও পশ্চিম পাঁকাচর চার ফেরিঘাট মিলিয়ে একটি প্যাকেজ যার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয় ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৭৭০ টাকা। ভ্যাট, আয়কর যোগ দিলে মোট রাজস্ব দাঁড়াবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি। 
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘাট চলতি বছর ইজারার আওতায় না এনে কৌশলে খাস আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাস আদায়ে তদারকির বিধান থাকলেও, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি হয় না। এতে বড় অঙ্কের রাজস্বের টাকা চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে ঘাটের খাস আদায়ের টাকা লুটপাট করছে পুরনো ইজারাদার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছরে ওই ৬ ঘাটে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা খাস আদায় হতে পারে। এতে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে খাস আদায় করছেন বলে দাবি করেছেন সাবেক ইজারাদার ও চলতি বছরের খাস আদায়কারী মো. রিপন আলী। তার ভাষ্য, গত বছর কোটি টাকায় ঘাট কিনে কোনো লাভ হয়নি। প্রতিবছরই পদ্মারচরে মানুষ কমছে, ফলে যাতায়াতও কমেছে। এবারও ফেরিঘাটের ইজারামূল্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে অন্যদিকে টোলহার কমানো হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ কারণে তারা ইজারা নেননি। তিনি আরও বলেন, এসব ফেরিঘাটে টোল আদায়ে ৪ জন মহরিল রয়েছেন। যাদের প্রত্যেককে ৩০০ টাকা করে মোট ১২০০ টাকা দেয়া হয়। মহরিল ও মাঝিদের প্রতিদিনের খাবার খরচ আরও ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মাঝিদের ভাতা বাদ দিয়ে যা থাকে সব টাকাই উপজেলায় জমা দেয়া হয়। খাস আদায়ের টাকা নয়ছয় হচ্ছে এমন প্রশ্নে রিপন বলেন, আমার বাবা প্রায় ২৩ বছর এসব ঘাটের ইজারাদার ছিলেন। আমিও দুই বছর ইজারা নিয়েছিলাম। লোকসানের ভয়ে এবছর আমরা ইজারা নেইনি। উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে আমি খাস আদায়ের দায়িত্ব নিয়েছি। টাকা লুটপাট হচ্ছে এমন মনে হলে উপজেলা প্রশাসন তদারকি করতে পারেন। উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, যে কেউ তো ঘাটে টোল আদায়ের কাজ করতে পারবে না। যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিছু নয়ছয় হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, খাস আদায়ের একটি কমিটি আছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কমিটির সভাপতি। তাকে জানাবো ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status