ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

বেহুদা প্যাঁচাল

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার পর বৃটেন, কোন পথে বাংলাদেশের রাজনীতি

শামীমুল হক
১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার

রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশ যেন দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। শিষ্টাচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাচ্ছে রাজনীতি থেকে। দলের নেতার সঙ্গে আরেক দলের নেতানেত্রীর এখন আর আগের মতো হৃদ্যতা নেই। অথচ এক সময় দেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার উদাহরণ ছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরও বিএনপি আর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। কারও কারও সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল।


বিশ্ব রাজনীতি এখন টালমাটাল। মুহূর্তেই পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। নিকট অতীতে পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কা এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। গণতন্ত্রের সূতিকাগার বৃটিশ রাজনীতিতেও লেগেছে এর ঢেউ। অবশ্য এ অঞ্চলে শুরুটা হয়েছিল আফগানিস্তানে।

বিজ্ঞাপন
গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবানরা। সে সময় আফগানরা বিমানের ভেতরে জায়গা না পেয়ে বিমানের চাকা ধরে আফগানিস্তান ছাড়ছিল। এমনটি করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় কারও কারও। আফগানিস্তান দখলে নিতে তালেবানদের দুই দশক সহিংস লড়াই করতে হয়েছে। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া তালেবান বিনা রক্তপাতে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের শেষদিকে আফগানরা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আফগানিস্তান দখলে নেয়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে তালেবান আন্দোলনের জন্ম হয়। এই আন্দোলন মূলত পশতুন অর্থাৎ পশতুভাষীদের প্রাধান্য। ধারণা করা হয়, এরা মাদ্রাসাগুলোয় সংগঠিত হতে থাকে। ১৯৯৬ সালে কাবুল ও কান্দাহার দখল করে তালেবানরা। এরপর প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দিন রব্বানির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে।

 আফগানিস্তানকে নিজেদের কব্জায় আনার পর সে দেশে কঠোর ইসলামী শাসন জারি করে তালেবানরা। মেয়েদের বোরকা পরা, মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে তারা। টেলিভিশনে সংগীত, সিনেমা নিষিদ্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এরপর ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদ উচ্ছেদের অঙ্গীকার করেন। ওই সময় আফগানিস্তানের শাসক গোষ্ঠী তালেবানকে আল কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানান বুশ। তালেবানরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। তারপর ২০০১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর কংগ্রেস মার্কিন বাহিনীকে দেশটিতে পাঠানোর পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা অপারেশন নন ডিউরিং ফ্রিডম এ যোগ দেয় মিত্র যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটো দেশগুলো। গত নির্বাচনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। 

ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যাহার শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৩০শে আগস্ট  মার্কিন সৈন্য বাহিনী আফগান ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এ সুযোগে তালেবানরা দখল করে নেয় আফগানিস্তান।  পাশের দেশ পাকিস্তান চলতি বছরের এপ্রিলে উত্তাল হয়ে উঠে। বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎই যেন বাজ পড়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মাথায়। বিরোধী দলের অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নেন প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে। এর আগে অবশ্য নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ৩রা এপ্রিল পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনে। তবে সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি জানিয়ে দেন, বিরোধীদের আনা প্রস্তাব আসলে বিদেশি চক্রান্ত। ডেপুটি স্পিকারের এই পদক্ষেপের পরপর ইমরান খানের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন। ডেপুটি স্পিকারের দেয়া ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন বিরোধীরা। টানা চার দিন চরম নাটকীয়তার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 

এরপরই ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের অধিবেশন শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর স্পিকার আসাদ কায়সার অধিবেশন মুলতবির সিদ্ধান্ত নেন। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। পরে জানানো হয়, ইফতারের বিরতির পর রাত ৮টার দিকে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে। তবে মধ্যরাতেও সেই অধিবেশন শুরু হয়নি। ইমরান খানের অনুগত হিসেবে পরিচিত স্পিকার আসাদ কায়সার ও ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অনাস্থা প্রস্তাবের ভোট থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে রাতেই পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে অধিবেশনের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ এর এমপি আয়াজ সাদিকের কাছে ন্যস্ত করেন আসাদ কায়সার। রাত ১২টা ২ মিনিটে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর অধিবেশন শুরু হয়। হেরে যান ইমরান খান। বিদায়ের পর ইমরান নানা কর্মসূচি নিয়ে এখনো মাঠে রয়েছেন।  ওদিকে আগুন জ্বলে ওঠে শ্রীলঙ্কায়। দেশজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা।  বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে আত্মগোপনে চলে যান। পরে পদত্যাগ করেন। 

নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। কিছুদিন চলে এভাবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি প্রেসিডেন্টের। বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসেও পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ই জুলাই। তিনি সোমবারই এতে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র সরকারের সিনিয়র এক কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনিই তা তুলে দেবেন স্পিকারের হাতে। আজ বুধবার গোটাবাইয়ার প্রেসিডেন্সির ইতি ঘোষণা করবেন স্পিকার মাহিন্দ ইয়াপা আবেওয়ার্ডেনে।  এর আগে ৯ই জুলাই জনরোষ যখন তার বাসভবনের বাইরে ফেটে পড়ছিল, তখন তিনি সেখান থেকে পালান।  ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার এখন বেহাল অবস্থা। এ জন্য অপরিকল্পিত উন্নয়নকে দোষারোপ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার শাষকদের এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃটেনে নিজ দলের মন্ত্রীদের গণপদত্যাগ ও এমপিদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ৭ই জুলাই সরকার প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। 

তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকছেন জনসনই। এই পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি তার দল কনজারভেটিভ পার্টিও বড় সংকটে পড়েছে। এর আগে এত বড় বিপদের মুখে কখনো পড়েননি জনসন। সমপ্রতি যৌন অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত এমপি ক্রিস পিঞ্চারকে সরকারে নিয়োগ দেয়া নিয়ে সমস্যার শুরু। এর পরই দলের দুই মন্ত্রী তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও পিঞ্চারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে তার এমপি পদ বাতিল করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জনসনও স্বীকার করেন যে, এমন একজন ব্যক্তি যে সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য নন সেটা বুঝতে না পেরে তিনি ভুল করেছেন। ক্ষমতায় বসার পর থেকেই বিতর্ক পেছনে লেগে আছে জনসনের। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।  এবার আসা যাক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশ যেন দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। শিষ্টাচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাচ্ছে রাজনীতি থেকে। দলের নেতার সঙ্গে আরেক দলের নেতানেত্রীর এখন আর আগের মতো হৃদ্যতা নেই। 

অথচ এক সময় দেশের রাজনীতিতে শিষ্টাচার উদাহরণ ছিল। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরও বিএনপি আর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। কারও কারও সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে বিএনপি। এর কিছু দিন পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিয়ে হয়। সেই অনুষ্ঠানে দাওয়াতি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি’র অনেক নেতা। রাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাকে দেখেই সেদিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আপনি এসেছেন। আমি খুব খুশি হয়েছি। অন্যদিকে খালেদা পুত্র তারেক রহমানের বিয়েতেও যান শেখ হাসিনা। এর কিছুদিন পর থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকে নেতায় নেতায়। দলে আর দলে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায় সেনাকুঞ্জের দরবারে দুই নেত্রী পাশাপাশি বসলেও দুই জন ছিলেন দুই দিকে তাকিয়ে। এ ছবিই বলে দিয়েছিল তাদের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। এ মুহূর্তে দুই দলের নেতারা যেন একে অন্যের শত্রু। 

অথচ স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই?  ১৯৭৩ সালের ঘটনা। ভাসানী ন্যাপ-এর সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তখন বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে। কট্টর সমালোচক। সরকারের বিরুদ্ধে তখন তিনি রাজপথে অনশন করেন। সেই অনশনও ভাঙান বঙ্গবন্ধু নিজেই। ভাসানীর মুখে শরবত তুলে দিয়ে সেদিনের অনশন ভাঙানোর কথা সবাই জানেন। আরেক ঘটনা। ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক তখন কাজী জাফর আহমদ। সামনে ঈদ। কাজী জাফর বহু খোঁজাখুঁজি করে মওলানা ভাসানীর জন্য তার পছন্দের পোশাক কিনেন। সঙ্গে ভাসানী পত্নীর জন্যও। ঈদের আগের দিন ভাসানীর বাড়িতে সেই পোশাক নিয়ে যান কাজী জাফর নিজে। পোশাক দেখে খুশি হন ভাসানী। আর মুখে বলেন, তোমার দেয়া পোশাক ঈদের দিন বিকালে পরবো। কথা শোনে কাজী জাফর তো থ’ মেরে যান। এত খোঁজাখুঁজি করে আনা পোশাক মওলানা ভাসানী পরবেন বিকালে তা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। জাফরের ইচ্ছা এই পোশাক পরে মওলানা ভাসানী ঈদের জামাতে যাবেন। একপর্যায়ে ভাসানীর কাছে বিকালে এই পোশাক পরার কারণ জানতে চান। ভাসানী তাকে জানান, ঈদের জামাতে যাবো মজিবরের পোশাক পরে। রাতেই মজিবরের পোশাক পেয়ে যাবো। তাজ্জব বনে যান কাজী জাফর। 

বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আপনি রাজপথে আন্দোলন করছেন। তার সরকারের সমালোচনা করছেন। আর তার দেয়া পোশাক পরে আপনি ঈদের জামাতে যাবেন? মওলানা ভাসানী তখন কাজী জাফরকে বলেন, শোন জাফর, শুধু কালকের ঈদই নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মজিবরের দেয়া পোশাক পরে আমি ঈদের নামাজ পড়ি। পাকিস্তান আমলে মজিবর জেলে থাকলেও তার স্ত্রী ঈদের পারিবারিক বাজারের সঙ্গে আমার পোশাক কিনতে ভুলতো না। যথারীতি ঈদের আগের রাতে সেই পোশাক আমার কাছে পাঠিয়ে দিতো সে। ১৯৯২ সালে ঢাকা ক্রীড়া সংস্থার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের শিষ্টাচার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কাজী জাফর নিজে এসব কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।  অপরদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব নিজে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের দিকে আমরা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। আন্দোলনে পুলিশি হামলায় আহত হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি হই আমি। হঠাৎ রাতে দেখি বঙ্গবন্ধু এসে হাজির। 

আমাকে দেখে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘কি হইছে তোর। আমি বিষয়টি দেখতেছি।’ এমন কথাও প্রচলিত আছে, ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা। স্বাধীনতার পর তিনি কারান্তরীণ হন। বঙ্গবন্ধু তাকে জেলে চিঠি লিখতেন। টেলিফোন করে কথা বলতেন। খোঁজখবর রাখতেন। অন্যদিকে জেলে থাকা অবস্থায় মুসলিম লীগ নেতা সবুর খানের পরিবারের খোঁজখবর নিয়মিত রাখতেন বঙ্গবন্ধু। সেই সংস্কৃতি এখন আর নেই। এখন কে কার সম্পর্কে কতো কটূক্তি করতে পারেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। নবম সংসদের দিকে তাকালে লজ্জায় মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে। মহান জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের মুখের ভাষা শুনে জাতি লজ্জিত হয়েছে। কিন্তু এমপিরা করেছেন উল্লাস। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। এক এগারো থেকে শিক্ষা নিয়ে গঠিত সংসদেই ঘটেছে এসব ঘটনা। কিন্তু এক এগারোর পর বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে উভয় দলের প্রতিনিধি উপস্থিত হয়েছিলেন। যা জাতির মনে আশার সঞ্চার করেছিল। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশবাসীকে। তারপরও ঈদ, নববর্ষে এক দল আরেক দলকে দাওয়াত দিতো। এখন সেটাও শোনা যায় না। সার্বিক দিক বিবেচনায় দেখা যায় কোথায় যেন এক বাধা। 

পাঠকের মতামত

শামীম ভাই ইতিহাসটা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সেটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু রাজনীতিবিদরা সাধারণত কোনদিনই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেন না, বরং ক্ষমতা ধরে রাখার অপরাজনীতি এবং দুর্নীতির নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেন।

Ali idris
১৪ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৮:১৯ পূর্বাহ্ন

উপরের লেখাটা ভালই হয়েছে কিন্তু যা লেখা হয়েছে ত পরিষ্কার করা যায় এই বলে যে, সেকালে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ধর ব্যাক্তিরা ছিলেন নেতা কিন্তু নেত্রী নয় ? পুরুষ শাসিত সমাজে নেতার সহিত নেতার ঝগা কম হয় কিন্তু নেত্রী বনাম নেত্রী যেমন জা, যা অথবা ননদ বা ভায়ের বউয়ের সম্পর্কও ! দুটোই বিপদজনক ?

Khokon
১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার, ৪:২২ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী তথা সরকার চাইলেও একটি অবাধ নির্বাচন দিতে পারবেনা, যে নির্বাচনী সিষ্টেম তারা চালু করেছে সেখান থেকে বের হওয়া কোন একজনের সিদ্ধান্তে সম্ভব হবেনা। সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সহিত চাইলেও সম্ভব হবেনা। আর প্রধানমন্ত্রীর মাঝে সেই আন্তরিকতা আসার সম্ভাবনা জিরো পার্চেন্ট। তারপরও ধরে নিলাম তিনি হঠাৎ অতিমানবী বা মহামানবীতে পরিণত হলেন, তারপরও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়া সম্ভব নয়। কারণ দলের নেতা কর্মীরা যানে তারা গত চৌদ্দ বছর কিরকম আচরণ করেছে তাদের বিরোধীদের সাথে, এবং তারা ক্ষমতা হারালে তাদের কি পরিণতি হবে। দলীয়করনকৃত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানে তারা সরকারের পক্ষ নিয়ে বিরোধীদের উপর কি ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে, এইসব অপকর্মের যারা পেট্রোনাইজ করেছে তাদের পতন হলে তাদের কি অবস্থা হবে। সুতরাং উপর মহল না চাইলেও প্রশাসনের সহায়তায় জাল ভোট মেরে বাক্স ভর্তি করবেই তাদের পীট বাঁচানোর জন্য। উপর মহল প্রশাসনে এই রকম অবস্থা সৃষ্টি করার জন্যই গত ১৪ বছর নজিরবিহীন দলীয়করণ করেছে।

জামশেদ পাটোয়ারী
১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার, ২:৪৯ পূর্বাহ্ন

মিঃ কাসেম!আপনার চাতুর্যপূর্ণ লেখা যে অন্যদলকে মাথায় তুলে নাচার মত,তার সুক্ষবিষয়টা কিন্তু সবাই বুঝতেছে,হয়তো আমি বুঝতে পারিনি

samsulislam
১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার, ১:৪৯ পূর্বাহ্ন

যে গদি পায় সেই রাবন হয়ে যায়!

ফারুক আহমদ
১৩ জুলাই ২০২২, বুধবার, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

সোজাসাপটা কথা ---------------------------------------------------------------- ইতিহাস কথা বলে। ভয় দেখিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করা যায়। কালাকানুন করে গণমাধ্যমের কণ্ঠ নিচু করা যায়। কিন্তু, ইতিহাসের কণ্ঠ চেপে ধরার ক্ষমতা বা শক্তি কোনো স্বৈরশাসকের বা কোনো ফ্যাসিস্টের আজ পর্যন্ত হয়নি। ইতিহাসের নির্মম পরিণতি ভেবেই হয়তো জ্ঞানীরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। মৃত্যুর ললাট লিখন নিয়েই জন্ম হয় মানুষের। তেমনি পতনের অনিবার্য ললাট লিখন নিয়ে ক্ষমতাশীন হয় শাসকেরা। কারো পতন বা প্রস্থান হয় সম্মানের। কারো পতন অসম্মানজনক হয়। যার কর্ম যেমন তার পরিণতি তেমন। বিনা বাতাসে গাছের পাতা নড়েনা, নদীর জল টলেনা। জুলুম অনাদিকাল চলতে পারেনা। আফগানিস্তানের জনগণের এই স্বাধীনতা অবশ্যই রয়েছে, তারা কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করবে। বিশ বছর ধরে মানবতার ফেরিওয়ালা আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা আফগানিস্তানের মাটি-মানুষ ধ্বংস করে মানবতার কবর রচনা করেছে।দখলদার বাহিনীর বর্বরতা বিশ্ববাসী দেখেছে। বলতে গেলে তালেবান মুজাহিদদরা কবর ফুঁড়ে ওঠে এসেছে। মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় তাঁদের ত্যাগ একটি নতুন ইতিহাস। পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়নের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিরোধী মত আস্থায় আনতে না পারাটা ব্যর্থতাই বলতে হবে। আর শ্রীলঙ্কায় যা ঘটেছে তা বৈদেশিক ঋণ নির্ভর অপরিণামদর্শী উচ্চ বিলাসি রাজসিক প্রকল্পের এক করুণ পরিণতি। বৈষয়িক লালসার কাছে পরাভূত হলে হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। দাম্ভিক হয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালার একটা অমোঘ আইন আছে। তা হচ্ছে-, ভুল-শুদ্ধ, ভালো-মন্দ নিয়েই মানুষের জীবন। এর ভেতরে থেকেই মানুষকে আল্লাহ যে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, যোগ্যতা, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছেন তা ব্যবহার করে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের অকল্যানের চেয়ে যে বেশি কল্যান করবে, ভাঙ্গনের চেয়ে গড়ার কাজ যতক্ষণ পর্যন্ত সাধ্যমতো যে করতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় তাকে কর্তৃত্বের আসনে রাখবেন। আর যখনই প্রমাণিত হবে মানব জাতি এবং সর্বোপরি সৃষ্টি জগতের কল্যানের চেয়ে অকল্যানের দিকে এবং গড়ার চেয়ে ভাঙ্গার দিকে সে বেশি ঝুঁকে পড়েছে তখনই আল্লাহ তায়ালা তাকে কর্তৃত্বের আসন থেকে সরিয়ে দেন। যে আল্লাহর সৃষ্টিকুলের ওপর যতোটা জুলুম করেছে তাকে তিনি ততোটা অপদস্ত করে কর্তৃত্ব ছাড়া করেন এবং মানবজাতির জন্য তার চেয়ে অধিকতর কল্যানকামী অন্য কাউকে কর্তৃত্বের আসেন বসিয়ে দেন। পতন টের পেয়ে সে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যে-ই সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই ভুল প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ, শত চেষ্টা করেও পতন থেকে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনা। এই ধারা চলতে চলতে অবশেষে একদিন আল্লাহ তায়ালা চূড়ান্ত ভাবে পৃথিবী ধ্বংস করে কেয়ামত ঘটাবেন। এটাই আল্লাহর স্থায়ী নীতি। এর বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ইতিপূর্বেও ঘটেনি ভবিষ্যতেও ঘটবেনা। আওয়ামী লীগ সাত দশকের বেশি সময় ধরে দোর্দণ্ড প্রতাপে রাজনীতি করে আসছে। তাঁরা বিরোধী দলে থাকলে দেখা গেছে দেশে রাজনীতি আছে। আর ক্ষমতায় থাকলে প্রবলভাবে দেশকে নাড়া দিয়ে তাঁদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে চলতে দেখা গেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও প্রশাসনের সাঁড়াশি আক্রমণ উপেক্ষা করে বিরোধী দল রাজপথে যুতসই আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। নৈতিকতা এমন এক শক্তি যা মানুষের মধ্যে অপরিমেয় শক্তির যোগান দেয়। ২০১৮ সালে অনৈতিক পথে ভোটের কারসাজি করে তাঁরা ক্ষমতায় বহাল আছেন। মানুষর ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। সেদিন থেকে তাঁদের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। নৈতিক মনোবল হারিয়ে এখন তাঁদের গলার স্বর সংসদে এবং বাইরেও নরম হয়ে পড়েছে। যা অকল্পনীয়। রাজনীতির মাঠ কাঁপতে গলার জোর আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি কখনো কারো দেখা যায়নি। উচ্চবিলাসী প্রকল্পের সীমাহীন ঋণ, প্রকল্পের অর্থ তছরুপ, রিজার্ভে টান, বিদ্যুৎ সংকট ইত্যাদি থেকে এবং একটি অংশ গ্রহণ মূলক অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার নৈতিক মনোবল হারিয়ে মনে হচ্ছে তাঁদের ক্ষমতার মনোবল ও চিরাচরিত রাজনীতির হাঁকডাক নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর রাজনীতিও তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে সেদিন থেকে যেদিন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশাসন আর দলের ব্যবধান তাঁরা মুছে দিয়েছেন। দল ও প্রশাসনের একীভূত অবস্থা লেজেগোবরে হয়ে পড়েছে। সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা এবং গনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ ঘটানোর দাবিতে আন্দোলন একটি জোরালো নৈতিক ভিত্তি দান করে। যা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তাঁরা সেই নৈতিকতার জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছেন। কারণ, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করেনি। যার ফলে জনগণের ভোটের নির্বাচনী ব্যবস্থা তছনছ হয়ে পড়েছে, গনতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। সামাজিক ন্যায় বিচার বলতে এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই। গনতন্ত্রের আওয়াজ, গণমাধ্যমের কণ্ঠ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নৈতিক জায়গায় যখন ধ্বস নেমেছে তখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চাবি তাঁদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। আর ক্ষমতার বিষয়টি জনগণ আগামী নির্বাচনে সুরাহা করবে। অবশ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদল হওয়াই কাম্য। শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় জনজীবনে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই দেবেনা। আর গণঅভ্যুত্থানের ফলে মানুষের জানমাল ও দেশের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনিবার্য। আর সে পথে ক্ষমতা হারানো বা ক্ষমতা ছাড়া সম্মানের নয়। তাই একটি অবাধ, অংশ গ্রহণ মূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার নৈতিক মনোবল আওয়ামী লীগের দেখাতে হবে। কোনো কূটকৌশল অবলম্বন করলে বিপর্যয় অবধারিত।

আবুল কাসেম
১২ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:৩১ অপরাহ্ন

লেখক মহোদয় আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার এই লেখার জন্য। আপনি নিঃসন্দেহে একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুভূতিশীল অথবা আনুগত্যশীল সাংবাদিক হিসেবে মনে হয়েছে আমার। সাংবাদিকরা অনেক চতুর ও চালাকিপূর্ন ভাবে তাদের কলাম লেখে যা সাধারন মানুষ ধরতে পারেনা এবং বুঝতেও পারে না। তবে সবাই কিন্তু তা নয় অনেক মানুষ আছে তারা লেখা দেখেই বুঝতে পারে কে কোন পথের অনুসারী। তাই বিনীত ভাবে বলছি আপনি আপনার ব্যক্তিত্বকে এককটি দলের জন্য উৎসর্গ করবেন না।

এ বি এম এ রাজ্জাক
১২ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ৯:০৫ অপরাহ্ন

তালেবানদের নিয়ে বিদ্বেষ পূর্ণ কথা বার্তা বলা খুব সহজ। কারন এতে প্রত্যাঘাতের আশংকা নাই। আবার বাংলাদেশের জামাত কে নিয়ে যা খুশী বলা /লেখা যায়, হামলা মামলার ভয় একদম নাই।

আব্দুল মালেক
১২ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:১৯ অপরাহ্ন

বাধাটা হলো শালীনতা ও মুখের ভাষা!!!আর কি

Ferdous
১২ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

We hope Courtesy in Politics may come again !

Md Mizanur Rahman
১২ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status