ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

ভেতর বাহির

পদ্মা সেতু কি সত্যিই ‘জাদু’ দেখাবে?

ডা. জাহেদ উর রহমান
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার

গত কিছুদিন ধরেই পদ্মা সেতু দেশে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের এক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছে। এখন তীব্রতা কমে এসেছে অনেকটা। এই দেশে বিবদমান রাজনৈতিক পক্ষগুলো সেতুটি নিয়ে চরম বিতর্কে জড়িয়ে পড়া একরকম অনিবার্যই ছিল। তুলনামূলকভাবে আরও অনেক ছোট ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়ে মাঠ উত্তপ্ত করে তোলে। পদ্মা সেতুর মতো এতবড় বিষয় এবং যেটিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবার নানা কারণ আছে, তা নিয়ে বিতর্ক তো হবারই কথা।  পদ্মা সেতুর ব্যয় দফায় দফায় বেড়ে বিশ্বব্যাংক থাকাকালীন প্রাক্কলিত প্রাথমিক ব্যয়ের তিনগুণ হয়েছে। ওদিকে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুতে যাবার পথ ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কটি ১১ হাজার কোটি টাকায় তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মহাসড়ক তৈরি হয়েছে একই মানের ইউরোপ/আমেরিকায় তৈরি করা সড়কের অন্তত ৬ গুণ বেশি খরচে। এছাড়াও সেতুর রেল সংযোগের পেছনে চীনা ঋণ নির্ভর ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অর্থনৈতিক উপযোগ নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। 

সর্বোপরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেতুটির অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের পুরনো বিতর্কটি আবার এসেছে। এসব বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে সরকার এই সেতু সম্পন্ন করতে পারাকে এক ধরনের যুদ্ধ জয় হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করেছে।

বিজ্ঞাপন
সেতুটি নিয়ে সারা দেশের বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভীষণ উচ্ছ্বাস থাকারই কথা। অন্তত যে মানুষগুলো নিয়মিতভাবে ঢাকায় আসা-যাওয়া করেন এই রাস্তার ফেরিতে যাবার কষ্টের কথা ভুলতে পারবেন না নিশ্চয়ই। তবে তাদের কষ্ট খুব সহজে শেষ হয়েছে, এমনটা চট করে বলে ফেলা যাবে না। এর মধ্যেই আমাদের সামনে খবর এসেছে ভাঙ্গার পরে দক্ষিণাঞ্চলের বিরাট একটা এলাকায় রাস্তা সরু, আবার ঢাকায় ঢোকার পর ওই এলাকার তীব্র জ্যাম, সব মিলিয়ে সময় কমানোর ক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদে এই সেতুর সুবিধা কতোটা পাবেন তারা, সেটা খুব নিশ্চিত নয়। কিন্তু সবকিছুর পরও প্রাথমিক উচ্ছ্বাসটা আছে নিশ্চয়ই। 

নিজের টাকায় সেতু বানানো কি ভালো? 

এই সেতু এবং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে দুর্নীতির আলোচনা এই কলামে সরিয়ে রাখলেও এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই বিশাল ব্যয় সার্বিকভাবে এই প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সঙ্গে নিজ অর্থে সেতু বানানোও অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমাদের জন্য সঠিক কাজ হয়নি। নিজেদের তহবিল থেকে সেতু তৈরি করার যে গর্ব সরকারের দিক থেকে দেখানো হচ্ছে, তাতে এক ধরনের জাতীয়তাবাদ উস্কে দেয়ার চেষ্টা আছে কিন্তু নেই অর্থনৈতিক জ্ঞান। একজন সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তিও নতুন কোনো শিল্প নিজের নগদ টাকায় তৈরি না করে ব্যাংকে যান এবং নিজের কিছু অংশের সঙ্গে বেশিরভাগ টাকাই নেন ব্যাংক ঋণ থেকে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করে উৎপাদন করে ব্যবসা করতে করতে সেই আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করাটাই অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি ভালো পন্থা। এতে ঋণের সুদের পেছনে যে ব্যয় হয়, ব্যবসা থেকে আয় সেটাকে ছাড়িয়ে যায় বহুগুণে। যেকোনো বিবেচনায় ঋণ করে পদ্মা সেতু বানাতে পারলে সেটাই হতো সবচেয়ে ভালো ব্যাপার। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ঋণের ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড থাকে। ওই সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করে প্রকল্প যখন তার অর্থনৈতিক প্রভাব রাখতে শুরু করে তখন তার ঋণ ২০ বা তারও বেশি সময়ে শোধ করা যায়।  

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সংকটের সময়ের সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া দৈনিক সমকালে (২৬শে জুন) সাক্ষাৎকার দিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, দোষী না হলেও তাকে সরকার জেলে পাঠিয়েছিল ব্যাংককে খুশি করার জন্য যাতে ঋণটা পাওয়া যায়। একজন মানুষ দোষী না হলেও তাকে জেলে পাঠানো তো এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ। আবার দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি রীতিমতো এক গুরুতর প্রশ্ন তুলে তিনি এটাও জানিয়েছিলেন, তাকে সরকারই আবার আদালতকে দিয়ে জেল থেকে বের করে। এই সাক্ষাৎকারের ব্যবচ্ছেদে ঢুকছি না, এই কলামের স্বার্থে এটুকু বলতে চেয়েছি, সরকারও আসলে শুরুতে সব রকমভাবে চেষ্টা করেছিল ঋণটা পেতে। 

পদ্মা সেতুর ‘জাদু’ নিয়ে সরকারি দাবি 

সবকিছুর পরও সেতু তৈরি সম্পন্ন হয়ে গেল। সেতু নিয়ে দুর্নীতির সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস সরিয়ে রেখে জাতি হিসাবে আমাদের সামনে এখন এই আলাপ জরুরি, পদ্মা সেতু আমাদের কতোটা অর্থনৈতিক উপযোগ দেবে এবং সেটা পাওয়া যাবে কী করে।  সরকারের দিক থেকে মন্ত্রী এবং সরকার দলীয় নেতাদের অনেকে তো বটেই, কিছু অর্থনীতিবিদ পদ্মা সেতুকে আমাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন, যাতে মনে হয় এই সেতু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক কিছু করে ফেলবে। যেমন- দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি দুই শতাংশ বাড়বে, ওই এলাকার মানুষদের অর্থনৈতিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়ে যাবে, মানুষের দারিদ্র্য দ্রুত অনেক কমে যাবে ইত্যাদি। শুনতে মনে হয় অনেকটা জাদু ঘটিয়ে দেবে সেতুটি।  

আরেক বড় সেতু যমুনা কি জাদু দেখিয়েছিল? 

শুধু একটা সেতু কি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যাদু ঘটিয়ে দেয়? সেতুর মাধ্যমে সংযুক্তি নিশ্চিত হলেই কি মানুষ বাকি কাজ করে ফেলতে পারে? তাহলে আমাদের এদেশে পদ্মার আগের বৃহৎ সেতুটি নিয়ে কিছুটা আলাপ করা যাক। যমুনা সেতু তার আয়ুর সিকি শতাব্দী পূর্ণ করেছে। তাই এখন বলাই যায়, যথেষ্ট সময় হয়েছে এই সেতুর প্রভাব বিবেচনার জন্য। বলা বাহুল্য যখন যমুনা সেতু উদ্বোধন হয়েছিল, তখনো এখনকার মতোই উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী আর রংপুরের মানুষদের মধ্যে। দেখে নেয়া যাক বর্তমান পরিস্থিতিটা কি? এই পর্যায়ে রংপুর আর রাজশাহী বিভাগের কয়েকটি জেলার ২০১০ এবং ২০১৬ সালে জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের শতকরা অবস্থান দেখে নেই। এখানে ব্যবহৃত ডেটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা জরিপ থেকে নেয়া হয়েছে। 

 

 

প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রে ব্র্যাকেটের প্রথম সংখ্যাটি ২০১০ এবং পরবর্তী সংখ্যাটি ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের শতকরা হার নির্দেশ করে- কুড়িগ্রাম (৬৩.৭ এবং ৭০.৮), দিনাজপুর (৩৭.৯ এবং ৬৪.৩), লালমনিরহাট (৩৪.৫ এবং ৪২), নওগাঁ (১৬.৯ এবং ৩২.২), চাঁপাই নবাবগঞ্জ (৩৩.৪ এবং ৩৯.৬), পাবনা (৩১.৫ এবং ৩৩)। অর্থাৎ এই জেলাগুলোতে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৫ বছর ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার পরও দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুরের দারিদ্র্য দেশের সার্বিক দারিদ্র্যের দ্বিগুণের বেশি (৪৭.২৩ শতাংশ) আর তৃতীয় দরিদ্রতম বিভাগ রাজশাহীতে সেটা প্রায় দেড়গুণ (২৮.৯৩ শতাংশ)। এখানে এই তথ্যও জরুরি, রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের যেসব জেলায় দারিদ্র্য কমেছে সেগুলোতে এই কমার হার দেশের অন্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় অনেক ধীর।  মজার ব্যাপার আবহমানকাল থেকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ বাংলাদেশের দ্বিতীয় দরিদ্রতম বিভাগ যার ৩২.৭৭ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। 

আবার অনাদিকাল থেকে সড়কপথে ঢাকা হতে বিচ্ছিন্ন দুই বিভাগ বরিশাল বিভাগ (২৬.৪৯ শতাংশ) খুলনা বিভাগের (২৭.৪৮ শতাংশ) দারিদ্র্য সর্বোচ্চ তিনে নেই।  আমাদের অনেককে হয়তো ভীষণ অবাক করবে হয়তো এই তথ্য- দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলায় দারিদ্র্যের হার মাত্র ১৫.৫ শতাংশ যা জাতীয় হারের তুলনায় বেশ খানিকটা কম। এছাড়াও পদ্মা নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন দুইটি জেলা মাদারীপুর (৩.৭ শতাংশ) এবং ফরিদপুরের (৭.৭ শতাংশ) দারিদ্র্যের হার অকল্পনীয় রকম কম। এসব তথ্য এটা নিশ্চয়ই প্রমাণ করে, রাজধানী এবং দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকাই একটি এলাকাকে আমূল পাল্টে দেয় না। এর সঙ্গে আছে আরও অনেকগুলো জরুরি বিষয়। 

মঙ্গা কি দূর হয়েছে যমুনা সেতুর কারণে? 

যমুনা সেতুর প্রভাব উল্লেখ করতে গিয়ে অনেকেই উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা শেষ হবার উদাহরণ দেন। প্রশ্ন হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা কী সত্যিই শেষ হয়েছে?  এই বছরের ২২শে মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. আহমেদ মুশফিক মোবারক ‘সিজনাল প্রভার্টি, ক্রেডিট অ্যান্ড রেমিট্যান্স’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস আয়োজিত অনুষ্ঠানে। গবেষণাপত্রটির মাধ্যমে ড. মুশফিক প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশ থেকে মঙ্গা এখনো দূর হয়নি, তবে তীব্রতা কিছুটা কমেছে।  ড. মুশফিক আমাদের জানান- ‘গবেষণায় অংশ নেয়া মানুষের মধ্যে ২৫ শতাংশ বলেছে, এ সময়ে তারা ঠিকমতো খেতে পায় না অথবা তিনবেলা খেতে পেলেও তার পরিমাণ কম থাকে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারও খেতে পায় না। ফলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। এ মানুষগুলো বছরের নির্দিষ্ট এ সময়টায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়ও ভোগে।’ 

তার গবেষণার এই তথ্যটি আমাদের অনেককে অবাক করবে- লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ২০০৭ সালে যেমন মৌসুমী দারিদ্র্য ছিল, ২০২০ সালেও একই আছে।  দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে চাই, এই উন্নতি কোনোভাবেই যমুনা সেতুর সরাসরি প্রভাব থেকে হয়নি। এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর ক্ষেত্রে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল দেয়া এবং মঙ্গার সময়টায় মানুষকে কিছু কাজ দেয়াটা কার্যকরী প্রভাব ফেলেছে। 

অত্যাবশ্যক আরও যেসব বিষয়

ব্যবসার প্রসার এবং বিশেষ করে শিল্পায়নের জন্য অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকা জরুরি। যোগাযোগ অবকাঠামো শুধু সেতু থাকলেই হবে না, প্রতিটি পর্যায়ে থাকতে হবে ভালো মানের প্রশস্ত সড়ক। থাকতে হবে ভালো মানের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগ এবং সেটা হতে হবে সুলভ। ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিদের সহজে ব্যাঙ্কঋণ পাবার ব্যবস্থা থাকতে হবে।  শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশসহ আরও যে সকল সংস্থার ছাড়পত্র পাবার প্রয়োজন সেগুলো একইসঙ্গে একই জায়গা থেকে (ওয়ান স্টপ সার্ভিস) পাবার ব্যবস্থা হতে হয়। শিল্প স্থাপনের জন্য আকাশচুম্বি মূল্যে জমি কিনতে হলে সেটা দিয়েও শিল্পকে লাভজনক করে তোলা যাবে না। সর্বোপরি নানা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা এবং দুর্নীতি ও শিল্পায়নের পথে বিরাট বাধা। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের খুব খারাপ পরিস্থিতির কারণে সহজে ব্যবসার সূচকে আমাদের দেশের অবস্থান একেবারে তলানিতে আছে, আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সেটা। 

ওদিকে পচনশীল মৎস্য এবং কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করা গেলেও দেখতে হবে সেতু এবং হাইওয়ের টোল মিলে পরিবহন খরচ যদি বেড়ে যায় (পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে হচ্ছে সেটা) তাহলে তার সুফল ভালো পাওয়া যাবে না। আর কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে যদি মুনাফা বাড়ে তাহলে এটাও খেয়াল রাখতে হবে সেই মূল্যের কতটা প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছে। প্রতিবছর শীতের সময় দেশের উত্তরাঞ্চলে নানা সব্জির দাম কৃষকরা পান না, তাই সেসব তারা গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন কিংবা জমিতে ফেলে পচিয়ে ফেলেন- এমন খবর আমরা নিয়মিত পাই।  সড়ক পথে একটা বিচ্ছিন্ন জনপদ সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হওয়া নিশ্চিতভাবেই ভালো। 

কিন্তু আমাদের এটা মনে রাখতে হবে এই যুক্ত হওয়াটাই জাদু দেখিয়ে দেয় না, অর্থাৎ বাকি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ করবে না। এই সংযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব কতোটা পড়বে, কীভাবে পড়বে এবং সেই প্রভাবের কতোটা সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছাবে সেটার সঙ্গে খুব গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সক্ষমতা জড়িত। তাই পদ্মা সেতু হয়েছে, এই আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে এই সেতুর সুফল দেশের সকল মানুষের, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের কাছে যেন পৌঁছে, সেই পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের ওপর চাপ জারি রাখতে হবে। 

পাঠকের মতামত

নিজের টাকায় সেতু ??? এই টাকাগুলি কার টাকা??

শহিদ
৮ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

যে কাজ করে তার সমালোচনা আছে আর যে কাজ করেনি তার সমালোচনাইবা কি?ভাত খেতে গেলে ভাত মাটিতে পড়ে যাবে বলে খাওয়াতো বন্ধ করা ঠিক না।বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে,,,,,,,?

মোহাম্মদ আলী মনির
৮ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ৩:০১ অপরাহ্ন

উনার বাস্তব জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব আছে।আর একটা কথা মানবজমিনের মত কাগজে এই সব লেখা প্রকাশিত হয়! নেগেটিভ পজেটিভ অনেক আছে শুধু নেগেটিভকে বড় করে দেখলেই হবেনা, সাথে সাথে পজেটিভকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় আনতে হবে।

পরায়ন
৫ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ৭:১৬ অপরাহ্ন

খালি পাতিল বাজে বেশি। পদ্মা সেতু ত আপনারা করতে পারে নাই বরং তা করতে বাধা দিয়েছেন ষরযন্ত্র করে। আওয়ামী লীগ প্রথমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলো, সাবেক প্রধান মন্ত্রী তা বাতিল করে বিশাল বাহাদুরি দেখালেন এবং বলেছিলেন, 'আওয়ামী লীগ কখনই পদ্মা সেতু করতে পারবেনা। ' কিন্তু যখন তা বাস্তবে পরিনত হলো তখন আরেক সমস্যা, তা হল, দুর্নীতি হয়েছে, খরচ বেশী হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আরে সাহেব দুর্নীতি ফুর্নীতি যা হয় হোক, জিনিসটা ত হয়েছে। আমার বাড়ীতো বরিশাল বা পটুয়াখালী নয়, উত্তরবংগে, তার পরেও ত আমি খুশি। আপনাদের মনের সংযোগ নেই, তাই বলে কি স্থলের সংযোগও করতে দেবে না। খন্দকার মোশতাকের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই। "ভাল মন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে।" ধন্যবাদ।

প্রকৌশলী ডাঃ মোঃ নওশ
৫ জুলাই ২০২২, মঙ্গলবার, ১:০৩ অপরাহ্ন

This analogy lacks the implication of the connectivity with Mongla and payra port which is a key aspect for industrial revolution in the southern part. Hence comparing with Jamuna is a childish analogy. Furthermore, rail link to this bridge and it's impact is missing. Before writing a column and publishing, it needs to justify merit.

Shaikh Shaikat
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ১১:৪৮ অপরাহ্ন

তার মানে কি সেতু দরকাই নেই?

শফিক
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৭:১৬ অপরাহ্ন

লেখক বুঝাতে চেয়েছেন উন্নতির জন্য শুধু একটা সেতু বা একটা রাস্তা দিয়ে করা সম্ভব না। তার সাথে আরো যে সমস্ত দিক আছে তা বিবেচনায় যদি আনা না হয় এবং করা না হয় তাহলে তার সুফল পাওয়া যায়না।

হো সেন।
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৮:২৭ পূর্বাহ্ন

আমাদের এটা মনে রাখতে হবে এই যুক্ত হওয়াটাই জাদু দেখিয়ে দেয় না---অবশ্যই না ১০০ বার না! রাস্তা তৈরি হয়েগেলেই সেখান দিয়ে পন্ন বা অন্যান্য জিনিস সা করে সেকেন্ডে এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যাবে না ।এটা মাননীয জাহেদ উর রহমান সাহেব না জনলেও অন্য সবাই জানে;পদ্মা সেতুর উপযোগিতার প্রশ্নে চর্বিত জিনিস চর্বন করে পুরো লেথাটায় আপনি কি বুঝাতে চাইলেন সেটা আপনি নিজেই বুঝেছেন কিনা তাতে সন্দেহ রয়েই গেল!

Amir
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৮:২২ পূর্বাহ্ন

আসলে উনি বোঝাতে চাচ্ছেন পদ্মা সেতুর না হওয়াই উচিত ছিলো। যেমন অনেকের কাছে দেশ স্বাধীন না হলেই ভালো ছিল।

নূর মোহাম্মদ এরফান
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

উইনার মেধা আছে মানতেই হবে তবে শুধু কাগজে কলমে কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে উইনার মেধার কোন মূল্যে নেই। আর উনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয় ।

azibor rahman
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ১:৪৪ পূর্বাহ্ন

লেখক নেতিবাচক ভাবে তুলে ধরে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করেছেন মাত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা একটা দেশের জন্য কতটা প্রয়োজন সেটা তার ধারণায় আছে বলে মনে হয়ে না।দেশের মহাসড়ক গুলো হতে হবে express way এবং কমপক্ষে ৬ বা ৮ লেনের হতে হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ২ বা আড়াই ঘন্টায় পৌছাতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় পদ্মা সেতু একটি মাইলফলক। লেখককে অনুরোধ করব পদ্মাসেতুর দূর্নীতির কোন সন্ধান যেন দেন।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলা
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ১:১০ পূর্বাহ্ন

লেখক মহা বুদ্ধিজীবি, মানুষকে অযথা জ্ঞান ভিতরণ থেকে বিরত থাকুক।

রুহুল আমীন চৌধুরী
৪ জুলাই ২০২২, সোমবার, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

'' সমগ্র বিশ্বে গড় পড়তা যা খরচের রেকর্ড, তার চেয়েও ছয় (০৬) গুন বেশী'', সামান্য একটা বালিশ ৬ তলায় উঠাতে যারা ৯০০ টাকা করে বিল উঠায় (রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র) (কেন ১ বালিসে ৯০০ টাকা লেগেছে তাঁর যুক্তিযুক্ত(!) ব্যাখ্যাও তাঁরা দিয়েছে!) , তাঁরা রাস্তা-সেতুতেও ৬ গুন খরচ দেখাবে, এর জন্যে তারা পাবলিকের চক্ষে ''যত ধুলা দরকার'' তা দিবে। পদ্মা নাকি ''কল্পনারও বাইরে'' খরস্রোতা, জমির দাম, আরও বহুত ধুলা। মনে হয় যেন এ সমস্ত টেকনিক্যাল ব্যাপার কেওই জানে না, শুধু তারাই বোঝে জানে, আর দেশের বাকি পাবলিক সব গাধা। অথচ এই ৩০ হাজার কোটি Taka কিন্ত এই গাধাদের ই টাকা! বালিসের মত খরচের হিসাব কিন্তু তারা দিবে না, কারন কার সাহস হিসাব চাওয়া?

Nizam
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

লেখক কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়,তার জানা উচিত একটি দেশের উন্নয়ন, তার যোগাযোগ ব্যাবস্তা উন্নয়নে উপর অনেক অংশে নির্ভরশীল, লেখকের, কুয়াশার মধ্যে রেল ফেরী বা বাস ফেরী যমুনার চরে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা মনে আছে কিনা যানিনা ,থাকলে হয়তো জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে এতো মাথা ঘামতেননা,একটা বিষয় বলি তখনকার দিনে উত্তর বঙ্গে ২ জোড়া রেল চলাচল করতো,বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু চালু হওয়ার পরে ১৫ জোড়া রেল চলাচল করে,এই ১৫ টি ট্রেনে কমের পক্ষে ৩০০ বাসের সমপরিমাণ যাত্রী ঢাকায় আসে এতে ৩০০ বাসের যানজট কম হচ্ছে,তাছাড়া যমুনার চরে আটকা পরে রাজশাহীর আম যে কি পরিমান নস্ট হয়েছে তার খবর কি মনে আছে, যদি আপনার সেই ভয়াবহ নদী পারাপারের অভিজ্ঞতা থাকতো তাহলে হয়তো বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতু নিয়ে লেখালেখি করতেন না।

মোঃএনায়েত হোসেন আকন্
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

Its true that the connecting expressway build with six times more expense than in the west but the writer does not mention we build roads far high than land level consisting of several culvert, pool, bridge to maintain the waterflow and we have to compensate 3 times than the actual value of the land to the public for land acquisition. On the other part Europe, America build their roads in land level cause they have high land and they do not need to acquisition land for their roads. Thanks.

Mahbub Alam
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১০:১৬ অপরাহ্ন

Akdom thik. Aar sarkar bapok procher chalieye agar barthota dhakar janno, nochet 5 bochor agayi ai Bridge hoto

L matin
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৭:৪৭ অপরাহ্ন

কোন কারনে নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করা হল লেখক সেটা না বোজার ভান করেছেন। পদ্মা সেতু আমাদের বীরত্বের প্রতিক। জাতির পিতার কথা * আমাদের আর দাবায়ে রাখতে পারব ন *

Alamgir khan
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৭:৩৬ অপরাহ্ন

খুবই সময় উপোযোগি বিশ্লেষণ -আমি একটি বিষয় সরকারের প্রতি আবেদন রাখছি যাতে পচনশীল পন্য এবং মাছ মুরগি গবাদি পশুর পরিবহনের যানবাহনে টোল সর্বনিম্ন হারে নির্ধারণ করা হোক যাতে প্রান্তিকভাবে দক্ষিন অনচলের চাষিরা এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং তাদের ঘরে ন্যায্য মূল্য পৌছে। আশা করি সরকার এ ব্যপারে সু দিরষটি দিবেন।

Mustafa Ahsan
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৪:৩৬ অপরাহ্ন

He started negative and his intentions was negative about Padma bridge and development of Bangladesh. He is denying all the economic and social development of last ten years although even his financier World bank or IMF confessed about the unprecedented development of Bangladesh. Although Bangladesh is one of the poorest countries in the world with the most densely populated uneducated and unpatriotic people it's really a kind of miracle that it's GDP is growing 6 to 7% each year.

qamruzzaman Khan
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৩:৪০ অপরাহ্ন

ঢাকা মাওয়া ৫৫ কি.মি. রাস্তা বানাতে প্রতি কি.মি. রাস্তা বানাতে দেশের জনগনের খরচ হয়েছে ২০০ শত কোটি টাকা অর্থাৎ প্রতি এক (০১) ফুট রাস্তা বানাতে দেশের জনগনকে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ ৯ হাজার ৩৮৫ টাকা, হ্যাঁ, অঙ্কটা ঠিক্বি বলেছি, যা কি না সমগ্র বিশ্বে গড় পড়তা যা খরচের রেকর্ড রয়েছে তার চেয়েও ছয় (০৬) গুন বেশী। জেনেশুনে যে সচিব, যে ইন্জিনিয়ার, যে মন্ত্রি বা প্রধানমন্ত্রী ঐ প্রজেক্টের অনুমোদন দিয়েছিলো ঐ সমস্ত দুর্নীতিবাজদেরকেও কি চায়না সরকার তাদের দেশের দুর্নীতিবাজ আমলাদের যেভাবে ফায়ারিং স্কোয়াড দ্বারা গুলি করে তাদের মাথার মগজ উড়িয়ে দিয়ে হত্যা করে তেমন ভাবে হত্যাকারা উচিত না? প্রশ্নটি জনগনের কাছে রইলো। সবাই ভালো থাকেন।

এজাজ চৌধুরী
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৩:১৫ অপরাহ্ন

লেখকের টকশো দেখি/শুনি মাঝে মাঝে লেখাপড়া জানা যুবক। কিন্তু তার মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে আসবে না কারন সে চরম নেতিবাচক লোক তাছারা সে সেসকল লোকের সাথে রাজনীতি করছে তাতে কোন দিন তার মেধা দিয়ে দেশের কোন কাজ করতে পারবে না।বাস্তবের সাথে তার মতামতের কোন মিল নাই। সে সব সময় বলে পদ্মা সেতুতে অনেক বেশী টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু বলে না কোন জায়গার খরচটা বপশী বা দুর্নীতি হয়েছে সে সহ কোন সমালেচকই বলতে পারে না নির্দিস্ট বাবে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে লোকটা ডাক্তারী পাশ করে জনগনের সেবা না দিয়ে সারাদিন চরব মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেড়ায়।

Golam Mostafa
৩ জুলাই ২০২২, রবিবার, ১:৪৮ অপরাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ/ কি খেলা হবে ১০ই ডিসেম্বর?

প্রেম-পরকীয়া নিয়ে দুই নায়িকার বাহাস/ হারিয়ে যাচ্ছে কি ভালো সিনেমার আলোচনা?

১০

কাওরান বাজারের চিঠি/ ম্যারাডোনা, আম্পায়ারিং এবং পরীমনি

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status