ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, মঙ্গলবার, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

হালফিল বৃত্তান্ত

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও আমরা

ড. মাহফুজ পারভেজ
২০ মার্চ ২০২৪, বুধবার
mzamin

দ্রুত সময়ে তীব্র গতিতে পৃথিবী পাল্টে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানামুখী অভিঘাতের কারণে, যার সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো কাঠামোগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তি ও জনশক্তি অনেক উন্নয়নকামী দেশেরই নেই। ফলে সবার সামনে একটি বড় প্রশ্ন হলো এই যে, সারা পৃথিবী কি একসঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধাগুলো সমভাবে গ্রহণ  করতে  পারবে?  নাকি  আগের  শিল্প  বিপ্লবগুলোর  সুবিধাসমূহ  গুটিকয়েক  দেশ  যেমনটি  গ্রহণ  করতে পেরেছিল তেমনটিই হবে? বলাবাহুল্য, অতীতের শিল্প বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধা পেয়েছে গুটিকয়েক শিল্পোন্নত দেশ আর পিছিয়ে পড়েছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। বিশ্বে তৈরি হয়েছিল সম্পদের ভারসাম্যহীনতা। তাই স্বাভাবিকভাবে এই সন্দেহ সৃষ্টি হতেই পারে যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও তেমন ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে? নাকি অতীতের সমস্যাগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও? ক্রমশ প্রশস্ত হওয়া ধনী-গরিবের ব্যবধান, শক্তিশালী ও দুর্বলের ব্যবধান বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্তরে আরও বেশি প্রসারিত ও ঘনীভূত হবে কি?
এইসব প্রশ্ন নিয়ে স্বয়ং চিন্তিত ছিলেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধানপুরুষ ক্লাউস শোয়াব। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রসঙ্গে কেউই এসব প্রশ্ন এড়িয়ে থাকতে পারে না


বাংলাদেশকে শিল্পায়িত সমাজ, নাকি কৃষিভিত্তিক সমাজ, নাকি অনেক কিছুর মিশ্র সমাজ বলা হবে- তা নিয়ে তর্ক আছে। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অনেক দেশই পুরো শিল্পায়িত বা পুরো কৃষিভিত্তিক রূপ পায়নি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশকেই বলা চলে ‘ট্রানজিশন্যাল সোসাইটি’। পরিচিতিগত এইসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জাদুকরী ছোঁয়ায় আমাদের চারপাশের পৃথিবী আমূল বদলে যাচ্ছে।
অতীতের শিল্প বিপ্লবগুলো প্রধানত ইউরোপ ও পরবর্তীতে আমেরিকা-কেন্দ্রিক হলেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পরিধি সারা দুনিয়া। কারণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মূলত প্রযুক্তির বিপ্লব, যা অতীতের শিল্প বিপ্লগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল, সম্প্রসারিত ও দ্রুতগামী। ফলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীর মানুষকে এক লাফেই ১০০ বছর সামনে নিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
বলা হয়েছে, এ পরিবর্তন সব মানুষের জীবনমান উন্নত করবে, আয় বাড়াবে সব শ্রেণির মানুষের। প্রযুক্তির উৎকর্ষ কাজে লাগিয়ে পরিবর্তিত-পরিবর্ধিত হবে শিল্প ও অর্থনীতিসহ জীবন ও যাপনের সকল ক্ষেত্র। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীকে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বগ্রামে পরিণত করবে। যোগাযোগব্যবস্থা হবে অভাবনীয় উন্নত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হবে পাড়ার দোকানে কেনাবেচার মতোই সহজ। মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব হবে সমস্যা-নির্ণয়, সমস্যা-বিশ্লেষণ, সমস্যার-সমাধান; সম্পন্ন হবে মেশিন টু মেশিন যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস এবং সম্মিলিতভাবে এসবকেই একত্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে বোঝানো হয়েছে।

‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ বা The Fourth Industrial-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, 4IR যা ‘Industry 4.0’ নামেও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি এবং তুমুল মনোযোগ লাভ করেছে।  ২০১৪ সালের আগে ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’ গুগোল  সার্চ  টিমের  কাছে  অপরিচিত  ছিল।  বর্তমানে  শব্দটি  একবিংশ  শতাব্দীর  দ্রুতলয়  প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। উন্নয়নকামী ও উন্নত দেশগুলোর প্রায় প্রতিটিই ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব’র বৈশ্বিক যাত্রাপথে শামিল হয়েছে কিংবা শামিল হওয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ গত আড়াই শতাব্দী ধরে শিল্প বিপ্লবের অগ্রভাগে রয়েছে, তথাপি এশিয়ান দেশগুলো ক্রমেই শিল্প ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে। নানা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণে, জাপান ছাড়া এশিয়ার প্রায় সব দেশেই  শিল্প  বিপ্লব  ও  প্রযুক্তিগত  উন্নয়ন  পশ্চিমা  দুনিয়ার  তুলনায়  বিলম্বে  এসেছে।  তা  সত্ত্বেও  চীন,  দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তাইওয়ান, ইরান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া প্রভৃতি এশীয় দেশে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানকে বলা হচ্ছে ‘এশিয়ান জায়ান্ট’ আর চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং প্রভৃতি দেশকে ‘এশিয়ান টাইগারর্স’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে, যারা চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

আন্তর্জাতিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব‘ বিষয়ক কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত করেছে, যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বা কোনো দেশকেই বসে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশ বসে নেইও। সরবে ‘ডিজিটাল’ থেকে ‘স্মার্ট’ হওয়ার পথে ক্রম-অগ্রসরমান। আনুষ্ঠানিক ভাষ্যে, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও স্লোগান, যা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনাস্বরূপ। ১২ই ডিসেম্বর ২০২২ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০২২’ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম এই প্রতিশ্রুতি ও স্লোগান দেন।

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনায় চারটি ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে- 
ক. স্মার্ট নাগরিক, খ. স্মার্ট  অর্থনীতি, গ. স্মার্ট সরকার, ঘ. স্মার্ট সমাজ। বাংলাদেশ সরকার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ‘স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে, যার চেয়ারপারসন হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সর্ব-অগ্রসর প্রয়োগ ও ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র যাত্রাপথে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে অনুধাবন ও বাস্তবায়ন একটি অপরিহার্য বিষয়। বিশেষত এর সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেজ্ঞসমূহ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজে লাগানো নীতিপ্রণেতা ও বাস্তবায়নকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেজ্ঞসমূহ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণের মাধ্যমে দ্রুত কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া অপরিহার্য। নিশ্চয় এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীতিপ্রণেতা এবং তাদের অধীন বিশেষজ্ঞ ও সাধারণজ্ঞ মহলে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তা কার্যক্রম চলছে। যেহেতু গবেষণাকর্ম চলে নীরবে, সেহেতু এর প্রতিফলন রাজনৈতিক হট্টগোল ও প্রোপাগান্ডার মতো সরবে উদ্ভাসিত হয় না। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মতো একটি সর্বাত্মক বিষয়কে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রেখে পূর্ণ সফলতা পাওয়া 

অসম্ভব। কারণ এই বিপ্লবে যে প্রযুক্তিগত প্লাবন সূচিত হবে, তাকে কার্যকর করবে প্রযুক্তিগত দিক থেকে দক্ষ মানবসম্পদ ও জনশক্তি। ফলে জনসচেতনতা ও জনসংযুক্তির বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল লাভ করা অসম্ভব।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, ব্লকচেইন এবং থ্রিডি  প্রিন্টিংয়ের  মতো  অত্যন্ত  অতি-অগ্রসর  প্রযুক্তির  এমন  একটি  সেট  বোঝায়,  যা  সামাজিক,  অর্থনৈতিক  ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করছে এবং নীতিনির্ধারকদের সরব হতে চাপ দিচ্ছে এই প্রযুক্তিগুলোর দ্বারা সৃষ্ট বিশাল সুবিধা-অসুবিধা ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করার ও কার্যক্রম গ্রহণের জন্য  উদ্বুদ্ধ করছে। যার মধ্যে রয়েছে এসএমইকে ক্ষমতায়ন করা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্ত করার নতুন উপায় তৈরির বিষয়গুলো বিবেচনা করা। একইভাবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দ্বারা সূচিত প্রচ- চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার ব্যাপারেও প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি।

যেমন এআই এবং উন্নত রোবোটিক্সের মতো বিষয় মানুষের কর্মসংস্থান ও চাকরিতে গভীর ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে আর বিভিন্ন সেবা খাতে প্রাধান্য বিস্তার করবে। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার ও মানুষের অধিকারের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব
দেখা দেবে, তাকেও সৃজনশীল উপায়ে সুরাহা করার প্রয়োজন হবে। প্রযুক্তির বিপ্লব ও বিস্ফোরণ যদি মানুষকে অকেজো করে সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতায় ধস নিয়ে আসে, তাহলে পুরো বিষয়টিই বিপজ্জনক রূপ লাভ করবে, যা মোটেও কাম্য নয় বরং নতুন সমস্যার জন্মদাতা রূপে বিবেচিত হবে।

বিশেষত, জাতীয় সীমানাকে স্বীকৃতি দেয় না, এমন প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা/শাসনের জন্য একটি নতুন পদ্ধতির প্রয়োজন হবে, যে বৈশ্বিক পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের স্বার্থ ও অধিকারকে সমন্বয় করারও দরকার হবে। এই ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সমরূপতা বজায় রাখা এবং একক বা কোনো কোনো দেশের আধিপত্য সীমিত রাখার প্রয়োজন পড়বে। তা না হলে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাঠামো ও বিশ্বক্ষমতার বিন্যাসকে এলোমেলো করে দিয়ে চরম বিশৃংখলার সৃষ্টি করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোকে বিশ্বের পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের নিরিখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরামে তাদের (দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর) অংশগ্রহণ, প্রযুক্তি অভিযোজন ও ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিরোধিতার মাত্রা সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। যার ভিত্তিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ যেমন চিহ্নিত করা যায়, তেমনিভাবে দক্ষিণ এশীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এর সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রতিবিধান নেয়া সম্ভব হবে। প্রয়োজনে দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতার সংগঠন সার্কের কাঠামোর মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এ অঞ্চলের দেশগুলোতে    বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা নেয়া যেতে পারে। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম মোটের ওপর শ্লথ ও ‘নামমাত্র’, তথাপি পরিবর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, আঞ্চলিক গতিশীলতা ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অভিঘাতের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার শক্তিশালীকরণও জরুরি হয়ে দাঁড়াবে।
কেননা, অনাগত অনেক পরিবর্তনের নানা দিক এককভাবে মোকাবিলা সম্ভব হবে না। সেগুলোকে আঞ্চলিক বা বৈশ্বিকভাবে সামাল দিতে হবে।
অবধারিতভাবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আওতাধীন হলেও পৃথিবীর প্রায় ১৭% মানুষ এখনো দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবেরই নাগাল পায়নি এবং ৪০০ কোটি মানুষ তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের সুবিধাসমূহ ভোগ করতে পারেনি। এর কারণ হলো, অতীতের অন্যান্য শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অভাবণীয় পার্থক্য, যার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্রুততা, ব্যাপ্তি ও প্রভাবের গভীরতা।
এদিকে, দ্রুত সময়ে তীব্র গতিতে পৃথিবী পাল্টে যাচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানামুখী অভিঘাতের কারণে, যার সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো কাঠামোগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তি ও জনশক্তি অনেক উন্নয়নকামী দেশেরই নেই। ফলে সবার সামনে একটি বড় প্রশ্ন হলো এই যে, সারা পৃথিবী কি একসঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধাগুলো সমভাবে গ্রহণ  করতে  পারবে?  নাকি  আগের  শিল্প  বিপ্লবগুলোর  সুবিধাসমূহ  গুটিকয়েক  দেশ  যেমনটি  গ্রহণ  করতে পেরেছিল তেমনটিই হবে?
বলাবাহুল্য, অতীতের শিল্প বিপ্লবের একচেটিয়া সুবিধা পেয়েছে গুটিকয়েক শিল্পোন্নত দেশ আর পিছিয়ে পড়েছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। বিশ্বে তৈরি হয়েছিল সম্পদের ভারসাম্যহীনতা। তাই স্বাভাবিকভাবে এই সন্দেহ সৃষ্টি হতেই পারে যে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও তেমন ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে? নাকি অতীতের সমস্যাগুলোর পুনরাবৃত্তি হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও? ক্রমশ প্রশস্ত হওয়া ধনী-গরিবের ব্যবধান, শক্তিশালী ও দুর্বলের ব্যবধান বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্তরে আরও বেশি প্রসারিত ও ঘনীভূত হবে কি?
এইসব প্রশ্ন নিয়ে স্বয়ং চিন্তিত ছিলেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধানপুরুষ ক্লাউস শোয়াব। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রসঙ্গে কেউই এসব প্রশ্ন এড়িয়ে থাকতে পারে না।

লেখক: প্রফেসর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।

পাঠকের মতামত

আমরাতো ১ম শিল্প বিপ্লব শুরুই করতে পারলাম না ৪র্থ শিল্প বিপ্লব আবার কি?

মিলন আজাদ
২৩ মার্চ ২০২৪, শনিবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন

পৃথিবীর ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো যেদেশের জনগণ যতো বেশী শৈল্পিক, যতো বেশী দেশপ্রেমিক,,ঠিক ততোবেশী অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে সক্ষম। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে নৈতিকতা নিয়ে আমাদের বিরাট বড়ো প্রশ্ন! টেকসই উন্নয়ন করতে হলে শিল্প বিপ্লবের পূর্ব শর্ত হলো নৈতিক বিপ্লব। যেটা আমাদের দেশে অবধারিত। তা না হলে ভবিষ্যৎ থমকেই থাকবে।

হোসেন মাহবুব কামাল
২০ মার্চ ২০২৪, বুধবার, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

পৃথিবীর ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো যেদেশের জনগণ যতো বেশী শৈল্পিক, যতো বেশী দেশপ্রেমিক,,ঠিক ততোবেশী অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে সক্ষম। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে নৈতিকতা নিয়ে আমাদের বিরাট বড়ো প্রশ্ন! টেকসই উন্নয়ন করতে হলে শিল্প বিপ্লবের পূর্ব শর্ত হলো নৈতিক বিপ্লব। যেটা আমাদের দেশে অবধারিত। তা না হলে ভবিষ্যৎ থমকেই থাকবে।

হোসেন মাহবুব কামাল
২০ মার্চ ২০২৪, বুধবার, ৩:৫৩ অপরাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

নির্বাচিত কলাম সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status