ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২২, সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

রামুতে হামলার এক দশক

সম্প্রীতি ফিরলেও ঝুলে আছে ১৮ মামলার বিচার

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার থেকে

(১ মাস আগে) ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৫ অপরাহ্ন

রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। বৌদ্ধ-মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ফিরেছে। কিন্তু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৮ মামলার একটিরও বিচার শেষ হয়নি।

আদৌ এসব মামলার বিচার হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। ২০১২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর ইসলাম ধর্ম অবমাননার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়ানোকে কেন্দ্র করে রামু উপজেলার ১৯টি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির ও প্রায় ২৬টি বসতঘরে একযোগে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় মন্দির ও বৌদ্ধদের ঘরবাড়ি।

সেদিনের হামলার ঘটনায় রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়েছিল। এতে এজাহারভুক্ত ৩৭৫ জনসহ ১৫ হাজার ১৮২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর আপসের ভিত্তিতে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হলেও বাকি সবক’টির অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী সংস্থা। ১৮টি মামলায় ৯৯৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে আটকে গেছে সেই মামলার বিচারকাজ।

ঘটনার দিন বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের বেশকিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকলেও অনেকের নাম বাদ পড়েছে অভিযোগপত্র থেকে। মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং মোটা অংকের টাকার দেনদরবারের কানাঘুষা রয়েছে।

রামু বৌদ্ধ মন্দির হামলা মামলার মূল অভিযুক্তদের বেশির ভাগ বেরিয়ে গেছেন জামিনে আর কেউ কেউ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

বিজ্ঞাপন
এই সাম্প্রদায়িক হামলার মূল অভিযুক্ত রামু ফকিরা বাজারের ফারুক কম্পিউটারের ফারুক ও আলিফ মুক্তাদিলও আছেন জামিনে।

২০১২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর যে বৌদ্ধ তরুণের ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কোরআন অবমাননাকর ছবি ছড়ানোর গুজব ছড়িয়ে হামলা হয় সে বৌদ্ধ তরুণ সে দিন থেকে আজ অব্দি নিখোঁজ। ১০ বছর ধরে উত্তম বড়ুয়া নামের এই তরুণের কোন খোঁজ পাননি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা।

সাম্প্রদায়িক এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ পরিবারের একজন শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া। তিনি ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতের কথা ভেবে এখনো আঁতকে ওঠেন। এই শিক্ষক জানান, নিজের চোখে নিজেদের ঘরবাড়িতে হামলা ও লুটপাট হতে দেখেছি। পাশের অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারও আবার আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলো সেদিন। কোন কিছুরই বিচার এই গত ১০ বছরে হলো না। এই সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হলে দেশে অন্য সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা হয়তো ঘটতো না।

রামু বৌদ্ধ মন্দির হামলার ঘটনায় হওয়া ১৮ মামলার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীর অভাবেই মূলত মামলাগুলো ঝুলে আছে। এসব মামলার বেশির ভাগ সাক্ষী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। মামলার দিনে অনেক সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসেন না। অতীত ভুলে বর্তমানে সম্প্রীতির সু-বাতাস বইছে রামুতে। হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক নেতা মনে করেন সাম্প্রদায়িক হামলাকারী কখনো কোন ধর্মের হতে পারে না। হামলাকারীর ধর্ম কেবল সন্ত্রাস। ২০১২ সালের জঘন্যতম হামলার বিচার সকলের প্রাণের দাবি।
 

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status