ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলাতে ১০ আঙুলের ছাপ নেয়ার উদ্যোগ ইসি’র

স্টাফ রিপোর্টার
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, বুধবার

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দিতে গিয়ে আঙুলের ছাপ না মেলা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এমন অবস্থার অবসানে ভোটারদের দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। 
গতকাল নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সবার দুই হাতের ১০ আঙুলের ছাপ নেয়া হবে। এতে ভোট দেয়ার সময় আঙুলের ছাপ না মেলার সমস্যা অনেকাংশে কেটে যাবে। 

১০ আঙুলের ছাপ নিলে যদি একটা আঙুলও মিলে যায়, তবু ভোটার ভোট দিতে পারবে। এখন চার আঙুলের ছাপ থাকায় অনেকেরই মেলে না। তখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার আঙুলের ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্টকে ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেন। এ নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে যে, এতে কারচুপির সুযোগ থেকে যায়। ওভাররাইট করা যায়। তাই ১০ আঙুলের ছাপ নেয়া হবে। একই সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ওই ক্ষমতার বিষয়টি আরও স্পষ্টিকরণ করা হবে বলেও জানান তিনি। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দিলে প্রথম কন্ডিশন হলো যার ভোট তিনিই দেবেন।

বিজ্ঞাপন
ভোটার উপস্থিত না হলে অন্য কারও ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এটাই হলো ইভিএমের বিশেষত্ব। যন্ত্রই বলে দেয় কেউ ভোটার কিনা, অর্থাৎ ফিঙ্গার প্রিন্ট যখন দেবে ইভিএমে সঙ্গে সঙ্গে নাম ও ছবি ভেসে ওঠবে। আর ওই কেন্দ্রের না হলে সেটাও বলে দেবে যে আপনি এই কেন্দ্রের ভোটার নন। বলেন, ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে দুটো কাজ এক সঙ্গে হয়। ভোটারের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ওপেন হয়ে যায়। তখন ভেতরে গেলেই ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কারও আঙুলের ছাপ না মেলার কারণ হলো বয়স বেশি হলে, ভারী কাজ করলে বা হাত না থাকলে। এখন কেউ ভোট দিতে না পারলে সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। সেজন্য প্রিজাইডিং অফিসার কী করেন, ভোটারের নাম, পরিচয়, এনআইডি নম্বর মিলিয়ে দেখেন। এরপর পরিচয় শনাক্ত হলে এনআইডি নম্বর ব্যালট ইউনিটে দেয়া হয়। এই তিনটা যদি মিলে যায় তবেই প্রিজাইডিং অফিস ভোটারের পরিবর্তে নিজের আঙুলের ছাপ দেন। তখন ব্যালট ইউনিট সচল হয়। তিনি ভোট দিতে পারেন না। তিনি কেবল সচল করে দেন। সেটার রেকর্ডও আবার ইভিএমের মধ্যে থেকে যায়, যে কাকে এবং ক’জনকে তিনি এই সুযোগটা করে দিয়েছেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার আলমগীর বলেন, বর্তমানে ১ শতাংশ ভোটারকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সুযোগটা করে দিতে পারেন। ৫শ’ ভোটার কোনো কেন্দ্রে থাকলে ৫ জন ভোটারকে তিনি সুযোগটা দিতে পারবেন। ৬ নম্বর ভোটার এলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সেটা পারেন না। কারণ প্রিজাইডিং অফিসারের আইনগত এবং টেকনিক্যালি সে সুযোগ থাকে না।

এই অবস্থায় যদি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার, নির্বাচনী এজেন্ট সবাই একমত হন যে, ওই ৬ নম্বর ব্যক্তিটি ভুয়া ভোটার নন, তখন প্রিজাইডিং অফিসার রিটার্নিং অফিসারকে ফোন করেন, তিনি আবার নির্বাচন কমিশনে ফোন করবেন। নির্বাচন কমিশন তখন একটা নতুন পাসওয়ার্ড দেন। সেই পাসওয়ার্ড দিলেই কেবল ওই ৬ নম্বর ব্যক্তিকে সুযোগ করে দিতে পারেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অনেকে টকশোতে আলোচনা করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ওভাররাইট করা যায়। বিষয়টাই তো ভুল। ওভাররাইট করার তো কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা ভোটারের পরিচয় নিশ্চিতের পর ব্যালট পেপার যেমন দেয়া হয়, এটাও তাই। মিস ইউজ যাতে কোনোভাবে হতে না পারে সেজন্য ১ শতাংশের বেশি আমরা দিই না। ১ শতাংশের উপরে কোথাও লাগেও না। হঠাৎ কোনোখানে লাগে। এতগুলো নির্বাচন করলাম কেবল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের একটা নির্বাচনে এমন বাড়াতে হয়েছিল।

মো. আলমগীর বলেন, ওভাররাইট করা যায়, প্রিজাইডিং ভোট দিয়ে দেয়; নানা রকম ভুল ধারণা আছে তা দূর করতে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কমিশন বৈঠকে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওটা ১ শতাংশের উপরে উঠবে না কখনো। তবে কথাটা আরও স্পষ্টিকরণ করা হবে, যেন ভুল ধারণা দূর হয়। এখন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কাকে, ক’জনকে সুযোগটা দিলেন সে তথ্য কেবল ইভিএমে থেকে যায়। এখন এটার সঙ্গে সবার সইসহ ফিজিক্যাল ডকুমেন্টও রাখার চিন্তাভাবনা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টকশোতে কথা বলতে তো প্রমাণ লাগে না। কিন্তু আমাকে কথা বলতে হলে প্রমাণ লাগে। অনেকেই টকশোতে বলছেন ৫০ শতাংশ ক্ষমতা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। প্রমাণ দেখান আমরা মিলিয়ে দেখি, তাহলে শাস্তি হবে।
 

পাঠকের মতামত

These people are deliberately trying not to understand that the people of the country do not want to use EVMs during elections. The zealous behaviour that the commissioners are showing for EVMs is a telltale sign of committing various types of mischiefs during elections.

Nam Nai
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:১৮ অপরাহ্ন

ইসির সব কথাই ঠিক আছে! তবে, ভোটিং বাটন টিপ দেয়ার জন্য যে ভূতগুলো পর্দার ভিতরে বসে থাকে, তাকে তাড়াবেন কিভাবে?

Borno bidyan
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৭:৪২ অপরাহ্ন

বলেন, "ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে দুটো কাজ এক সঙ্গে হয়। ভোটারের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ওপেন হয়ে যায়। তখন ভেতরে গেলেই ভোট দিতে পারবেন।" kintu finger print mile jawar por vitore jete na parle tokhon ki hobe? ja itipurbe hoyesa. finger print nia bola hoyese "apnar vote hoye gese chole jan."

abdullah gazi
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৬:৫১ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status