ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৪, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

ঘুর্ণিঝড় রেমাল: কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
২৮ মে ২০২৪, মঙ্গলবার

বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে কয়রাবাসী। রাতের আঁধারে কাজ করেও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে প্রাণপণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে খুলনার কয়রা উপজেলার ৩টি জায়গার বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে প্রায় ৫ শতাধিক চিংড়ির ঘের, ভেঙে গেছে কয়েকশ’ কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। এ ছাড়া রাত জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এতে ২ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধস্ত হওয়ার পাশাপাশি  হাজার হাজার ঘড়বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সিংহেরকোণা, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেলাল গাজীর বাড়ির সামনের বাঁধ ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুর্বল অংশের ওই ৩টি স্থানে প্রায় ১৫০ মিটার ভেঙে নদীর লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে এলাকা।

এ ছাড়া বাঁধের নিচু কয়েকটি জায়গা ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব জায়গায় এলাকার মানুষ রাতভর মেরামত কাজ চালিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এ ছাড়া কয়রা উপজেলার সুতিবাজার, ৪নং কয়রা ক্লোজার, ৬নং কয়রা, কাটকাটা, গাববুনিয়া, খাশিটানা, গোলখালী, ২নং কয়রা গেটের গোড়া, লোকা, হরিণখোলা, চোরামুখা, মঠবাড়ি, তেঁতুলতলার চরসহ আরও অনেক এলাকার পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।

বিজ্ঞাপন
সেখানকার অধিবাসীরা রাত জেগে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোনোরকম টিকিয়ে রেখেছে বাঁধ। তার পরেও বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। মহারাজপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, রোববার রাতের জোয়ারের চাপে ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অন্তত দুটি গ্রাম ও কয়েকশ’ চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে। মহেশ্বরীপুরের ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারি বলেন, ইউনিয়নের সিংহেরকোণা এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নয়ানি এলাকার বাঁধের নিচু জায়গা ছাপিয়ে সারারাত পানি ঢুকেছে। এতে অন্তত ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য চিংড়ির ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডব ও ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী জানান, তার ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় রাতের জোয়ারে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে ২-৩টি গ্রামে নদীর পানি ঢুকেছে। তবে সেখানকার বাঁধ আটকানো সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করেছে এলাকায়। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় মানুষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে বাঁধ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ  মেরামতের চেষ্টা চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, কয়েকটি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এ ছাড়া ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। সেগুলো মেরামতের জন্য পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দশনা দেয়া হয়েছে। 
 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status