ঢাকা, ১২ জুন ২০২৪, বুধবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

মাধবপুরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
২৫ মে ২০২৪, শনিবার
mzamin

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দরগাবাড়ি পৌর দাখিল মাদ্রাসা নামে একটি এমপিওভুক্ত আলিয়া মাদ্রাসার সুপারিনটিন্ডেন্ট সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকাবাসী, বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষক ও অভিভাবকগণ ইউএনও ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে। অনেক শিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে এসবের দ্রুত তদন্তের দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে। সরজমিন জানা যায়, বিগত ১৮ বছর ধরে ভুয়া বিল-ভাউচারে মাদ্রাসা ফান্ডের অর্থ হরিলুট করছেন সিদ্দিকুর রহমান নামে মাদ্রাসার ওই সুপার। হিসাব চাইলে দেয়া হয় না হিসাব। ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যে নিজের ছেলেসহ আত্মীয়স্বজনকে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেন। এলাকাবাসী এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছেন। সম্প্রতি দরগাবাড়ি মাদ্রাসায় নতুন কমিটি গঠন হয় কিন্তু সুপারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় কমিটি বাতিল করার পাঁয়তারাও চলছে। দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পাওয়া ওই সুপার দাখিল পরীক্ষায় ৭টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপতি ৭০০ টাকা করে চাঁদা উঠালেও পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের ১০০ টাকারও কম সম্মানী প্রদান করেন। প্রায় প্রতিবছর ২ লাখ টাকার অধিক টাকা তিনি আত্মসাৎ করছেন।

বিজ্ঞাপন
বিগত ৫ বছর ধরে এই অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন তিনি। এ নিয়ে কমলপুর শাহজালাল আলিম মাদ্রাসার, ইটাখোলা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও সালেহাবাদ দাখিল মাদ্রাসা প্রধানগণের যৌথ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাধবপুরের ইউএনও’র নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

সম্প্রতি দাখিল পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা সিদ্দিকুর রহমান পরীক্ষার হলে উন্মুক্ত নকল সরবরাহ করতেন। তার লোকেরা মাইক দিয়ে তার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তর বলে দিতেন। বিষয়টি স্থানীয় কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি ও আরও কয়েকজন সাংবাদিকসহ অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে নকলের তথ্য ও ভিডিও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রেরণ করলে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট মাদ্রাসার সেলিম মিয়া নামে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। গঠিত হয় তদন্ত কমিটিও।

কিন্তু রহস্যজনকভাবে ওই পরীক্ষার ফলাফল দেয়ার পরেও নিজের অপরাধ আড়াল করতে ঘটনার ৪ মাস পর সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে সাংবাদিক মুজাহিদ মসিসহ নকলের প্রতিবাদকারী এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও ডিউটিরত দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে এলাকায় নিন্দার ঝড় বইতে থাকে সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘুষ দিয়ে তদন্ত কমিটিকে তিনি ম্যানেজ করে নিজে দায়মুক্ত হয়ে যান।

এসব বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি পরিস্থিতির কারণে ম্যানেজিং কমিটির কেউ কেউ করলেও করতে পারে। আর আমি সবকিছু একা করি না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ফি বাবদ যে অর্থ আসে তা আমি উপরকে দিয়ে ম্যানেজ রাখতে হয়। আর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। দ্রুত এটি মীমাংসা হয়ে যাবে। এর বেশি কিছু বলতে আমি রাজি নই। ঘটনার ৪ মাস পর রহস্যজনকভাবে সাংবাদিককে মামলার আসামি বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি। স্থানীয় সালেহাবাদ আলিয়া মাদ্রাসার সুপার উবাদুল রহমান জানান, সিদ্দিকুর রহমান শুধু দুর্নীতিবাজই নন তিনি পরীক্ষা কেদ্রকে নকলের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন। সেজন্য আমিসহ অনেক শিক্ষক পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটি নিতে চাই না। নকলের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে, দ্রুত এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবি। হবিগঞ্জের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল্লাহ বলেন, সিদ্দিকুর রহমানের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি আমাদের অফিসেও অবগত, এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। নতুন কমিটি  পুনঃগঠিত হয়েছে। দ্রুতই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
এ বিষয়ে জানতে মাধবপুরের ইউএনও একেএম ফয়সালকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। তবে উপজেলা প্রশাসনের ভিন্ন সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status