ঢাকা, ১ জুন ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ জিলক্বদ ১৪৪৪ হিঃ

অনলাইন

বার্তা কক্ষ থেকে

ওয়াশিংটনের বার্তা লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার

সাজেদুল হক

(৬ দিন আগে) ২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:২৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪০ পূর্বাহ্ন

mzamin

খবরটি ঠিক আকস্মিক নয়। তিন সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল বাংলাদেশ সরকারকে। গুঞ্জন ছিল নানা রকম। বুধবার মধ্যরাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন তা নিশ্চিত করেন। জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে নতুন মার্কিন ভিসা নীতির খবর। ছোট করে বললে যার মানে দাঁড়ায়, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে, গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে যারাই বাধা হবে তারা মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। কারা হতে পারেন তারা? সেটাও স্পষ্ট করা হয়েছে বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, এর মধ্যে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী, সরকার সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ক্যাটাগরি দেখেই বুঝা যায়, এটি অত্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে বিপুল মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
কেউ কেউ বলছেন, কারও বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। আবার মনে হয়, সবাই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। 

গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তের মধ্যে কোনো কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাও স্পষ্ট করা হয়েছে বিবৃতিতে। এরমধ্যে রয়েছে, ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং জনগণকে সংগঠিত হবার স্বাধীনতায় বাধা দেয়া, রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার থেকে বিরত রাখা।  

আপাত দৃষ্টিতে পুরো বিবৃতিতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ঘিরে মার্কিন কঠোর অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে। আমরা মাঝে-মধ্যেই এ শিরোনাম ব্যবহার করি। এক্ষেত্রেও এটা বলা চলে, মেসেজ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। বাংলাদেশের নির্বাচনে আমেরিকা কী চায়, কীভাবে চায় তা যেন অনেকটাই স্পষ্ট করা হয়েছে। সম্প্রতি আমরা নাইজেরিয়াতেও ভোট কেন্দ্রিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেখেছি। সেখানেও যারা অবাধ ভোটের পথে বাধা হয়েছেন তাদেরকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন বিবৃতির আরেকটি অংশকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ব্যাপারে এ ধরনের খোলামেলা কথা যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও বলেনি। বিশেষত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের কথা একেবারেই পরিষ্কার। বুধবার রাতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জনগণের জন্য আমাদের বার্তা হচ্ছে, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি এবং আপনাদের দেশে গণতন্ত্রকে সহায়তার জন্য আমরা এই নীতি ঘোষণা করছি। বাংলাদেশে যদি কেউ জনগণের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের এই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ওয়াশিংটন ঘটনার ওপর চোখ রাখছে, যাতে জনগণ ভরসা পায়। আমরা মনে করি, আইনের এই ধারা প্রয়োগের সামর্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন সংকেত পাঠানোও গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি, আর আমরা অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত।’

গত কিছুদিন থেকে বাংলাদেশ সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছিলো। তবে মার্কিন ঘোষণার পর সে ধরনের প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতিকে ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার ও অবস্থানকে যাতে কেউ জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য মার্কিন সরকারের ভিসা নীতি আমাদের প্রচেষ্টাকে সাহায্য করতে পারে।” পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে প্রায় একই ধরনের সুর রয়েছে।

মার্কিন ঘোষণার নানারকম তাফসির হবে এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে আগামী নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের ওপর যে ওয়াশিংটন সবসময় খেয়াল রাখছে সর্বশেষ ঘোষণায় এটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি সবার জন্যই বার্তা। আন্তর্জাতিক দুনিয়ার জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে বাংলাদেশের নির্বাচন। সামনের দিনগুলোতে এটি আরও স্পষ্ট হবে।

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষ ছিল।খুনির আশ্রয় দেয়।আমিরিকার বলয়ে থাকার জ্ন্নে গণতান্ত্রিক নির্বাচন এর চাপ।

Wazi ullah
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ৮:৫২ পূর্বাহ্ন

আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তওয়ালারা আমেরিকায় পাচার করা ডলারের চেক কি অন্য দেশের ব্যাংক থেকে ক্যাশ করতে পারবে??

মোঃ আতাউর রহমান
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

আমেরিকা না গেলে যাদের পেটে অম্বল হবে তারা ভেবে দেখুক কী করবে !

কে. জামান
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ২:৫২ পূর্বাহ্ন

চিৎকার করে বলে ও লাভ নেই বধির শুনতে পায়না এবং কানা দেখতে ও পায়না, দুর্ভাগ্যক্রমে আওয়ামী লীগের সরকার উভয় রোগের রোগী। তাদের রোগের প্রায়শ্চিত্ত দেশের মানুষ কে দিতে হচ্ছে।

বন্ধু খান
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ২:৪৪ পূর্বাহ্ন

আমেরিকা বাংলাদেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। সরকারের ধারাবাহিকতায় নিশ্চয়ই আমেরিকার মত উন্নত দেশের স্বার্থ আছে। তাই অনেকটা সরকারের পক্ষেই এইরূপ বার্তা দেয়া হচ্ছে বলে মনে হয়।

সুমাইয়া শিমু
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ২:৩৮ পূর্বাহ্ন

আমেরিকা ইউরোপ সহ অন্যান্য অমুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিজেরা আইন প্রণয়ন করে জনগণের জন্য এবং সে আইনের সুফল যাতে জনগণ পায় সেটা ও তারা নিশ্চিত করে। যদি ও তারা অমুসলিম। আর আমরা মুসলিম হয়ে ও জনগণের অধিকার না দিয়ে উল্টো হরণ করি। অথচ আমরা জন-প্রতিনিধি হয়ে শপথ নি জনগণকে তাদের অধিকার দেওয়ার। এখন আমরা তাদেরকে সমর্থন দিবো না কেন? যেহেতু তারা জনগণের অধিকারের কথা বলছে। আর এ জন্যই তারা এতো উন্নত। লজ্জা লাগে আমরা মুসলিম হয়ে ও জনগণের উপর জুলুম করি, অত্যাচার করি, অধিকার দেই না, জনগণের টাকা মেরে ধনী হই, বিদেশে পাচার করি, বিলাসী জীবন যাপন করি, ভোটের অধিকার দেই না, সরকারি সার্ভিস পেতে ভোগান্তি, আর চরম দুর্ভোগ, ইত্যাদি। যার জন্য তাদের দেশের জনপ্রতিনিধিদেরকে জনগণ মন থেকে ভালোবাসে। আর আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিদেরকে কাছে পেলে জুতা পেটা করবে। এই হলো পার্থক্য আমাদের সরকার আর তাদের সরকারের মধ্যে।

Salim Khan
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

‘আজ বাংলাদেশের জনগণের জন্য আমাদের বার্তা হচ্ছে, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি এবং আপনাদের দেশে গণতন্ত্রকে সহায়তার জন্য আমরা এই নীতি ঘোষণা করছি। বাংলাদেশে যদি কেউ জনগণের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের এই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ওয়াশিংটন ঘটনার ওপর চোখ রাখছে, যাতে জনগণ ভরসা পায়। আমরা মনে করি, আইনের এই ধারা প্রয়োগের সামর্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন সংকেত পাঠানোও গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি, আর আমরা অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত।’

Taufiqul Pius
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

বার্তা কক্ষ থেকে.... ওয়াশিংটনের বার্তা লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার!! বাংলাদেশে যদি কেউ জনগণের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের এই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ওয়াশিংটন ঘটনার ওপর চোখ রাখছে, যাতে জনগণ ভরসা পায়। আমরা মনে করি, আইনের এই ধারা প্রয়োগের সামর্থের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন সংকেত পাঠানোও গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি, আর আমরা অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত।’ "মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন"

Raaz Prodhan
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

এখনই ঘোষনা দেওয়া হলো নির্বাচনের পর কি করা হবে, যদি কেউ নির্বাচনের ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। এই ঘোষণা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন বন্ধ করবেনা। । তাতে লাভ কি হলো এই ঘোষণার ? আমার তো মনে হয় বিএনপির বিরুদ্ধে এই ঘোষণা। বিএনপিকে তাদের আন্দোলন পরিত্যাগ করে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া।

mohd. rahman
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে যদি কেউ জনগণের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের এই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ওয়াশিংটন ঘটনার ওপর চোখ রাখছে, যাতে জনগণ ভরসা পায়। এই জাতীয় বক্তব্য সরাসরি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের শামিল, যা নাগরিক হিসেবে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়! আমি এই বক্তব্যর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি! ওয়াশিংটন স্বাধীন বাংলাদেশ ও এর সার্বভৌমত্বের প্রতি কখনো শ্রদ্ধাশীল ছিলোনা এবং অদ্যবদি বিভিন্নভাবে আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে খাটো করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে! জাতি হিসেবে আমরা দেশের নিজস্ব বিষয়ে বিদেশীদের এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারেনা। এটা লজ্জার। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ সকল দেশেই আছে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে দেশে এর চেয়ে বেশী বিবাদ আমরা দেখতে পাই, এমনকি আমেরিকাতেও! কিন্তু এভাবে আর কোন দেশের ব্যপারে নগ্ন হস্তক্ষেপ হয় কিনা আমার জানা নেই।

মো: সাখাওয়াত হোসেন খ
২৫ মে ২০২৩, বৃহস্পতিবার, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

Vote is my right.

ferdous
২৪ মে ২০২৩, বুধবার, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বিশেষত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের কথা একেবারেই পরিষ্কার। বুধবার রাতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জনগণের জন্য আমাদের বার্তা হচ্ছে, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি এবং আপনাদের দেশে গণতন্ত্রকে সহায়তার জন্য আমরা এই নীতি ঘোষণা করছি। বাংলাদেশে যদি কেউ জনগণের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, তাদের এই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ওয়াশিংটন ঘটনার ওপর চোখ রাখছে, যাতে জনগণ ভরসা পায়। আমরা মনে করি, আইনের এই ধারা প্রয়োগের সামর্থ্যরে পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন সংকেত পাঠানোও গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আছি, আর আমরা অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত।’

Nizam
২৪ মে ২০২৩, বুধবার, ১১:৩৬ অপরাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status