ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

শেষের পাতা

সময় থাকতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: অলি

স্টাফ রিপোর্টার
২৫ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবার

সময় থাকতে স্বেচ্ছায় জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ  হাসিনাকে আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের কারণে সমাজের অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমানে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রিজার্ভ কমে গেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে। দেশ-বিদেশের কেউ আর এই সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারছে না। সৃষ্ট সংকট থেকে সরকারের বের হয়ে আসা সম্ভব হবে না। শেখ হাসিনা অবৈধ পন্থায় জোর জবরদস্তি করে ১৪ বছর দেশ শাসন করছেন। আজ আমরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো দ্রুত পদত্যাগ করুন।

বিজ্ঞাপন
জাতীয় সরকার গঠন করুন।  গতকাল এলডিপি’র দলীয় কার্যালয়ে ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থির পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

 জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে কর্নেল অলি বলেন, শেখ হাসিনাকে বলবো দয়া করে এখন ক্ষান্ত হন, প্রতিশোধের রাজনীতি চিরদিনের জন্য পরিহার করে সকল প্রকার ক্ষমতার লোভ লালসা পরিহার করুন।  মন্যুষত্বের খাতিরে এবং সর্বোপরি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব সৎ, শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, নিষ্ঠাবান এবং দেশের মানুষের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত একটি জাতীয় সরকারের কাছে স্বসম্মানে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রস্তাব করুন। এটাই হবে রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং বুদ্ধিমানের কাজ।  তিনি বলেন, বর্তমান নিশিরাতের বিনা ভোটে, প্রশাসন দ্বারা নির্বাচিত অবৈধ সরকারের সীমাহীন অদক্ষতা, লাগামহীন দুর্নীতি, জবাবদিহিহীনতা, সুশাসনের অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সর্বত্র দলীয়করণ, বিচারহীনতা, একদলীয় শাসন, খুন, গুমসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসকরণ এবং নিত্যপণ্যের মূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি এবং সর্বোপরি বেকার সমস্যার কারণে সরকার ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র ৭-৮ জন নেতাকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকশ’ নতুন মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে।  তিনি বলেন, পুলিশের নির্যাতনের কারণে অনেকে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারে না। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এবং তাদের নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য, অবৈধ সরকারকে নগ্নভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ডে সাহায্য করে যাচ্ছে। 

সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। যে বা যারা অতীতে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, তাদের কিন্তু শেষ পরিণতি সুখকর হয়নি। সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় খুব দ্রুত অর্থনৈতিক ধ্বংস এবং সংঘাতের দিকে জাতি এগিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে। তাদের পক্ষে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা নাই এবং অন্যদিকে রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হবে কিনা জানি না। অলি আহমদ বলেন, গত ১২ বছর ধরে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার জন্য নিশি রাতের সরকার উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি। বর্তমানে মেগা প্রকল্পের সংখ্যা ২০টি। যা ১৮ কোটি মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য দায়ী বলা যায়। বর্তমানে সরকারের ঋণ ১৪০ বিলিয়ন ডলার। যা আগামী ৫ মাস পর থেকে পরিশোধ আরম্ভ হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে উৎপাদন ব্যতীত বিরাট অঙ্কের সুদের টাকা পরিশোধ করতে হবে। 

যেমন- কয়েক মাস পর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুদ বাবদ ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। সরকার সমর্থিত কুইক রেন্টাল প্ল্যান্টের জন্য উৎপাদন ব্যতীত প্রতি মাসে কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়। শুধুমাত্র মেগা প্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে ৭০ বিলিয়ন ডলার। ডলারের অভাবে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। অথচ ভারত থেকে নাচ গান করার জন্য ডলার খরচ করে নোরা ফাতিহিকে আনা হয়েছে। রাশিয়া, চীন এবং জাপান থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অহেতুক সময় বৃদ্ধি, অদক্ষতা এবং দুর্নীতির কারণে ক্রমাগতভাবে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, এসএম মোর্শেদ, খায়রুল কবির পাঠান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

সরকার সভা সমাবেশের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। সরকারের সমাবেশে ব্যাপক প্রচারণা, সরকারী সব ইনস্ট্রুমেন্টসের ব্যবহারের পরও যা লোক সমাগম হচ্ছে এরশাদের পদত্যাগের আগেও এর চেয়ে বেশী লোক সমাগম হয়েছিল। এই পেইড লোক সমাগম দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবেনা। সরকার স্বপ্ন দেখছে হেফাজতের মত ম্যাসাকেয়ার করে আন্দোলন দমন করার, যা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। এসব করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষেন রোষানল থেকে কেউ বাঁচতে পারবেনা। এই মহাসংকটের মাঝেও সরকার পাচার হয়ে যাওয়া লক্ষ কৌটি টাকা ফেরৎ আনার কোন উদ্বোগ নিচ্ছেনা। অথচ এই বিশাল অংকের টাকা ফেরৎ আসলে সংকটের মোকাবেলা করা যেত।

জামশেদ পাটোয়ারী
২৫ নভেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ১০:৪৬ অপরাহ্ন

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

শেষের পাতা থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status