বিশ্বজমিন
ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’, বিশ্ব বাণিজ্যে নয়া ঝুঁকির শঙ্কা
মানবজমিন ডেস্ক
(১ দিন আগে) ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার, ১২:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

‘শুল্ক আসছে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যদিও কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করে এমন হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সেই শুল্ক কী এবং সেটা কখন থেকে চূড়ান্ত করা হবে?- এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওভাল অফিসে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পথেই হাঁটছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে বারবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যার ফলে এ বিষয়টি নিয়ে সঠিক অনুমান করাও বেশ শক্ত। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২ এপ্রিলকে শুল্ক ঘোষণার দিন হিসেবে ঠিক করে রেখেছেন ট্রাম্প। এই দিনটিকে তিনি ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
এ খবর দিয়ে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইতিমধ্যেই চীন, কানাডা, মেক্সিকোর পণ্য আমদানিতে শুল্ক দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতেও অতিরিক্ত শুল্ক দিয়েছে তার প্রশাসন। এছাড়া গাড়ির ওপর এ সপ্তাহেই আসতে পারে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা। এখন শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তারিত শুল্ক পরিকল্পনা প্রকাশটাই বাকি আছে। তবে আজই (বুধবার) এসব জল্পনা-কল্পনার অবসান হতে পারে। যেহেতু হোয়াইট হাউস দিনটিকে লিবারেশন ডে হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা কতটা বিস্তৃত হতে পারে এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। তবে এ বিষয়ে নানা মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। গত বছর নির্বচনী প্রচারণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সকল পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক দেয়ার পক্ষে ছিলেন ট্রাম্প। তবে ক্ষমতায় আসার পর তা ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে তিনি ধারাবাহিক হুমকি দিচ্ছেন। এদিকে চীনা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর দেয়া হতে পারে বলেও জানিয়ে রেখেছেন। আরেকটি বিষয়ে জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তা হচ্ছে- পাল্টাপাল্টি শুল্ক নীতি। যে দেশ যত শতাংশ শুল্ক দেবে তিনিও সেই দেশের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেছেন, এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। তারা আমাদের শুল্ক দিলে আমরাও তাদের দিব।
ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির প্রভাব শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্যে পড়বে তা নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বুধবার ট্রাম্প যে শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন তা নিয়ে পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই জটিল হতে শুরু করেছে। তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রায় প্রতিটি দেশ সতর্ক নজর রাখছেন হোয়াইট হাউসের দিকে। ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকেও ছেড়ে কথা বলেননি ট্রাম্প। এতে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। যদি সত্যিই এমনটা ঘটে তাহলে বিশ্ব পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। রপ্তানির ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। কেননা ট্রাম্প বছরের শুরুতে ইউরোপীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
কোন কোন দেশ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের আওতায় পড়বে তা এখনও নিশ্চিত করেনি তার প্রশাসন। তবে বুধবারের ঘোষণায় অনেক দেশের নাম আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ সপ্তাহের রোববার ট্রাম্প বলেছেন, নতুন শুল্ক সকল দেশের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণাতেও এমন ইঙ্গিত ছিল। কেননা বৃটেনের মতো মিত্র রাষ্ট্রকেও ট্রাম্পের শুল্ক নীতি আশাহত করেছে। দেশটির ধারণা ছিল তারা হয়ত ওই শুল্ক পরিকল্পনার বাইরে থাকবে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। যদিও এখন পর্যন্ত কেউ কেউ মনে করছেন ট্রাম্পের হাত থেকে হয়ত রক্ষা পাবে বৃটেন। যদিও কীভাবে এবং কোন কোন দেশ লক্ষ্য করে শুল্ক দেয়া হবে তা স্পষ্ট নয়।