বিশ্বজমিন
ইরানে হামলা চালালে অন্যরকম এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে
মানবজমিন ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে এবারকার যুদ্ধ হবে অন্যরকম। এতদিন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কার্যত ছিল নিঃসঙ্গ। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোমর কষে নামলেও আগের মতো সায় পাচ্ছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর অর্থ এসব দেশের বিমানঘাঁটি বা আকাশপথকে ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে গাজায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মদতে সরাসরি হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।
মুসলিম দেশগুলো এ যুদ্ধ নিয়ে একটি একক অবস্থানে আসতে না পারলেও ইরান ইস্যুতে দৃশ্যত একত্রিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের ভূখণ্ডকে ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহার করতে দেবেন না। এর অধীনে আছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানে জ¦ালানি নেয়া ও উদ্ধার অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিডলইস্ট আই। মার্কিন বাহিনীর স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার এখতিয়ার নেই তার। এ জন্য তিনি নাম প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে সেখানে বোমা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। তারা বলেছে, যদি ইরান আক্রান্ত হয় তাহলে তারা পারমাণবিক বোমা বানাবে। তা দিয়েই উচিত জবাব দেবে শত্রুকে। ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। ইরানে হামলা চালানোর জন্য পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন স্থানে। মোতায়েন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজও। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে। যেকোনো সময় তা থেকে ভয়াবহ আরেক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ইরান বুঝতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেলসমৃদ্ধ আরব বন্ধুরা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পক্ষে নেই। ফলে এবার এ নিয়ে কঠোর দরকষাকষি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে ইরানের প্রতি বেশ বড় রকমের সমর্থন আছে উপসাগরীয় দেশগুলোর। এ জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যদিয়ে তারা তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্চে আমিরাত ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারই ধারাবাহিকতায় কাতার ও সৌদি আরবের কাছে দীর্ঘদিন অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত বন্ধ থাকার পর তা অনুমোদন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন কেনার অনুমোদন পায় দোহা। রিয়াদ নিশ্চিত করে ওয়েপন সিস্টেম। ওদিকে ইরানে ট্রাম্পের হামলা চালানোর ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধজাহাজ ও কার্গোকে জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। এক্সে যে ফ্লাইট ডাটা সরবরাহ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, আগের চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিয়েগো গারসিয়াতে বি-২ বোমারু বিমানের সমাবেশ ঘটিয়েছে। এমনটা এটাই প্রথম নয়। ১৯৯০-এর দশকে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে বোমা হামলা করে।
ওদিকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তখন থেকেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ইসরাইলে হামলার জবাবে তাদের তেল বিষয়ক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র।
পাঠকের মতামত
ঈরানের উচিৎ আমেরিকার সঙ্গে negotiation করা এবং যুধধ থেকে বিরত থাকা। ইরান গত ৩০ বছর ধরে চেষ্টা করেও আনবিক বোমা বানাতে ব্যারত হয়েছে। আমেরিকার সাথে যুধধ হলে কয়েক লাখ লোক মারা যাবে, কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হবে।