বিশ্বজমিন
দ্য হিন্দুকে প্রেস সচিব
চীনের আগে ভারত সফরে যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস
মানবজমিন ডেস্ক
(১ সপ্তাহ আগে) ২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৫:৩০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেয়নি দিল্লি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে শফিকুল আলমকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। সংবাদমাধ্যমটিকে প্রেস সচিব বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকার অনুরোধে ভারতের পক্ষ থেকে ‘ইতিবাচক’ সাড়া পাওয়া যায়নি।
আজ ২৬শে মার্চ চীন সফরে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন তিনি। উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চান উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, আমরা আসলে আমাদের আগ্রহ দেখিয়েছি এবং গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই ভারতীয় পক্ষকে প্রধান উপদেষ্টার ভারত সফরের জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছি। চীন সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে দিল্লিকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত এতে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
ড. ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় নেতা যিনি চার মাসের মধ্যে চীন সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার দিনের সফরে চীন ভ্রমণ করেছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, ড. ইউনূস চীন সফর শেষে দেশে ফিরে আসবেন। পরে ৩ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক এর শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল আলম। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি দিল্লি। ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট তিন দিন চীন সফরে থাকবেন ড. ইউনূস। এসময় তিনি চীনের বিশিষ্ট বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কেননা তিনি বাংলাদেশকে একটি ব্যবসা-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। এতে চীনের উৎপাদন ইউনিটগুলোকে ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চীনা বিনিয়োগকে নেতিবাচকভাবে দেখায় বাংলাদেশকে বেসরকারি চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর সুযোগ করে দিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ২৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও ড. ইউনূসকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এর আগের দিন ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন অধ্যাপক ইউনূস।
দ্য হিন্দু বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে ড. ইউনূসকে চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন ওয়াং। পরে ড. ইউনূস চীনকে বাংলাদেশের সৌর প্যানেল তৈরির আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর বেশ আকর্ষণ তৈরি করেছে। কেননা সফরটি এমন সময় হচ্ছে যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সম্পর্ক পুনর্গঠন করছেন এবং বিভিন্ন দেশে পালটাপালটি শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছেন। যা ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হবে বলে কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির প্রধান ইঞ্জিনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, ভুটান এবং নেপাল উপকৃত হবে। ভাষণে তিনি চীন সফরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়াও তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যা তিনি গ্রহণ করেছেন।
ভারত, নেপাল, ভুটান এবং চীনের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবসা-বান্ধব অর্থনৈতিক হাব হিসেবে তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আমাদের একটি দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি শিল্পাঞ্চল এবং বন্দর হতে পারে। যা ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে পরিবর্তন আনতে পারে।
পাঠকের মতামত
This is India
ভারত পাত্তাই দিচ্ছেনা সারা বিশ্বের মধ্যমনি ড. ইউনুসকে।
India never come to dialogue for Hasina with Bangladesh. So I request that no communication with them, cause of honors of Bangladesh.