ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

বিশ্বজমিন

ভারতীয় কন্যার মৃত্যু চান পিতামাতা, কিন্তু কেন?

মানবজমিন ডেস্ক

(১ সপ্তাহ আগে) ২২ মার্চ ২০২৫, শনিবার, ৯:২৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

mzamin

প্রায় সতের দিন নিখোঁজ ভারতীয় একজন শিক্ষার্থী সুদীক্ষা কোনাঙ্কি। এখন তার পিতামাতা চাইছেন, তাকে মৃত ঘোষণা করা হোক। কিন্তু কেন? সিএনএনকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি বলছে, ডমিনিক প্রজাতন্ত্রে ৬ই মার্চ নিখোঁজ হন সুদীক্ষা। এরপর থেকে খোঁজ চলছে তার। কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ক্লু। ডমিনিক প্রজাতন্ত্রেই বসবাস করেন সুদীক্ষার পরিবার। 

ভার্জিনিয়ার লুডৌন কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে বলা হয়েছে- মিস সুদীক্ষার পিতামাতা চান তাদের মেয়ে দুর্ঘটনাক্রমে ডুবে মারা গেছে। তাকে যেন মৃত ঘোষণা করা হয়। এ জন্য তার পিতামাতার সঙ্গে আমি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নিতে অনুরোধ করছি। উল্লেখ্য ডমিনিক প্রজাতন্ত্রের পান্টা কানা বিচে ৬ই মার্চ নিখোঁজ হন সুদীক্ষা। তারপর থেকে বহু খোঁজ করে তার দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন সুদীক্ষা পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এ ছাড়া কেউ তাকে হত্যা বা গুম করেছে এমন তথ্যপ্রমাণ নেই। ফলে তিনি মারা গেছেন গণ্য করে আইনগতভাবে ঘোষণা দিতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন তদন্তকারীরা।

শেরিফ মাইক চ্যাপম্যান বলেন, যখন তদন্তকারীরা মনে করছেন মিস সুদীক্ষা ডুবে গেছেন, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি যে তিনি মারা গেছেন। এ বিষয়ে মামলা চলমান আছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারো মৃতদেহ ছাড়া তাকে মৃত ঘোষণা করা দেশটিতে একটি জটিল বিষয়। এটর্নি জুলিও কুরির মতে, মৃতদেহ ছাড়া কাউকে মৃত ঘোষণা করতে হলে কংগ্রেস বা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ বিষয়টিতে সহায়তা করার জন্য পরিবারের সহায়তা চেয়েছে শেরিফ অফিস। তাকে মৃত ঘোষণা করতে হলে পরিবারের আর্থিক বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। যেমন কলেজে সেভিংস পরিকল্পনা এবং ইন্সুরেন্স পলিসি। যতক্ষণ মৃত্যু সনদ ইস্যু না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়গুলো আইনগতভাবে আটকে থাকবে। যদি তার পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়, তাহলে অবশ্যই তা মামলায় রূপ নেবে। 

মঙ্গলবার সুদীক্ষার পিতা ফক্স নিউজকে আবেগতাড়িত হয়ে বলেছেন, এটা গভীর বেদনা ও হৃদয় ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা। এটা বলতে কষ্ট হচ্ছে যে, আমাদের মেয়ে ডুবে মারা গেছে। এটা প্রক্রিয়াকরণ করা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য রকম কঠিন। 

উল্লেখ্য, সুদীক্ষা কোনাঙ্কি ইউনিভার্সিটি অব পিটসবুগের ছাত্রী। তিনি ৫ বন্ধুসহ ৩রা মার্চ পুন্টা কানা বিচে যান। সেখান থেকে দলবদ্ধ হয়ে তারা বিচে যান। তার আগে রিউ রিপাবলিকা হোটেলের বারে তাদেরকে পান করতে দেখা যায়। ওই গ্রুপের ভিতর ছিলেন পার্সন অব ইন্টারেস্ট যোশুয়া রিব। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ক্যামেরায় দেখা যায় তারা বিচে প্রবেশ করছেন। ভোর ৫টার দিকে সুদীক্ষা বাদে সবাই ফিরে আসেন।  এ ঘটনায় ডোমিনিক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ মিস্টার রিবের পাসপোর্ট জব্দ করে। 

তিনিই সুদীক্ষার সঙ্গে শেষ ব্যক্তি ছিলেন বলে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তাকে ৬ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু সন্দেহ করা যায়নি। চতুর্থবার জিজ্ঞাসাবাদে রিব স্বীকার করেন যে, পানির ঢেউয়ে সুদীক্ষা তলিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বুধবার আইওয়ার অধিবাসী রিব’কে আটক অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ফেরত দেয়া হয় তার পাসপোর্ট। মিনেসোটার সেইন্ট ক্লাউড স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রিব।

বিশ্বজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status