ঢাকা, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

পিএমএল-এন’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকেই সমর্থন পিপিপি’র

মানবজমিন ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার
mzamin

পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দল যাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করবে, তাকে সমর্থন দেবে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। তবে তারা সরকারে যোগ দেবে না। মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পর পিপিপি’র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, পিপিপি ফেডারেল পর্যায়েও কোনো মন্ত্রিত্ব চাইবে না। আমরা চাই না পাকিস্তানে আরেকটি নির্বাচন হোক। আরেকটি সাধারণ নির্বাচনের দিকে গেলে তা কেবল দেশের ক্ষতিই করবে। তিনি আরও বলেন, পিপিপি যদি পিএমএল-এনকে সমর্থন না দিতো, তাহলে দেশের ক্ষতি হতো। পিপিপি শুধু ভোটের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তোলা দল হতে চায় না। আমরা চাই কেন্দ্রে একটি সরকার গঠিত হোক এবং সেটি কার্যকর হোক। 

পিপিপি চেয়ারম্যান বলেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আসিফ আলী জারদারিকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান। কারণ পাকিস্তান যখন পুড়ছে, তখন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা একমাত্র জারদারিরই আছে। 

এর আগে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের ভোট হয়েছে। ভোটগ্রহণের তিন দিন পর ২৬৫ আসনের মধ্যে অবশেষে ২৬৪ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
জিও টিভি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ৯২ আসনে জয় পেয়েছেন ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরপরই পিএমএল-এন ৭৯ আসনে, পিপিপি ৫৪ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য ছোট দল পেয়েছে ৩৭টি আসন।

কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠনই এখন একমাত্র সমাধান। এরমধ্যে সব থেকে বেশি ভোট পাওয়া দল পিটিআই জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা পিপিপি ও পিএমএল-এন দলের সঙ্গে জোট করবে না। ফলে পিপিপি ও পিএমএল-এন নিজেদের মধ্যেই সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করে। এর একটি দল নওয়াজ শরীফের আর অন্যটি বিলাওয়াল ভুট্টোর। জোট গঠন নিয়ে এই দুই দলের কয়েক দফা আলোচনার প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে পিএমএল-এন ও পিপিপি’র মধ্যে। এরপর আবার খবর আসে যে, ভাগাভাগি করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন দুই দলের দুজন নেতা। 

তবে মঙ্গলবার বিকালে বিলাওয়াল এসব সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো- কেন্দ্রে সরকার গঠনের জন্য আমার দলের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট নেই। এ কারণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আমি আর থাকবো না। একইসঙ্গে পিএমএল-এনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে সমর্থন করবে পিপিপি। পিপিপি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো মন্ত্রিত্বও চাইবে না। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল যেন ভুল-ত্রুটি দূরে রাখে। যাতে পরবর্তী নির্বাচনের দিকে কেউ আঙ্গুল তুলতে না পারে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইসিপি, সংসদের মতো ফোরামকে ব্যবহার করবো।

এদিকে ইমরান খানের সমালোচনাও করেছেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, পিপিপি’র সঙ্গে জোট গড়তে অস্বীকার করেছে ইমরান খানের পিটিআই। তাই তারা পিএমএল-এনকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। কেননা, একমাত্র পিএমএল-এন তাদের জোট সরকারে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। 
এদিকে সরকার গঠনে পদক্ষেপ নিয়েছে পিটিআইও। প্রথমদিকে তাদের উদ্যোগ চোখে না পড়লেও মঙ্গলবার সরকার গঠন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা সামনে আনেন পিটিআই মুখপাত্র। তিনি জানান, মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমীন’ দলের সঙ্গে জোট করে কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে সরকার গঠন করতে চায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির মুখপাত্র রাউফ হাসান বলেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনে খাইবার পাখতুনখাওয়াতে সংরক্ষিত আসনের জন্য আমরা জামায়াত-ই-ইসলামীর সঙ্গে জোট করবো। ইমরান খান এ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, যারা নির্বাচনে জিতেছে সরকার গঠন করার অধিকার তাদেরই আছে।

বর্তমানে জাতীয় পরিষদে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের আসন সংখ্যা ৯২। এরপরেই আছে পিএমএল-এন দলের ৭৫ ও পিপিপি দলের ৫৪ আসন। তবে পার্লামেন্টের ৭০ সংরক্ষিত আসনকে যুক্ত করলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩৬-এ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য একটি দলকে এরমধ্যে কমপক্ষে ১৬৯ আসন পেতে হবে।

যদি পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা এমডব্লিউএম দলে যোগ দেয়, তাহলে তারা সমানুপাতিক হারে ওই সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পাবেন। এভাবে তারা আরও অন্তত ২০টি আসন পাবেন। সংরক্ষিত আসন পেতে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে একটি এফিডেভিট জমা দিতে হবে। এতে উল্লেখ থাকবে যে, তারা এমডব্লিউএম দলে যোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি এমডব্লিউএম দলের প্রধানকেও লিখিতভাবে দিতে হবে যে, তিনি এই প্রার্থীদের তার দলের সদস্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

এদিকে রাজধানী ইসলামাবাদে পিএমএলএন প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে তাহলে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে পারে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যদি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারে ইমরান খানের পিটিআই তাহলে বিরোধী আসনে বসতে প্রস্তুত তার দল। তার ভাষায়, তারা সরকার গঠন করতে পারলে আমরা আনন্দের সঙ্গে তাদেরকে মেনে নেবো। আর যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা আমাদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার ব্যবহার করবো। তিনি বলেন, পিএমএলএনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে পাঞ্জাবে। দলীয় দিক থেকে কেন্দ্রে তার দল সবচেয়ে বড় এখন। তার ভাষায়, স্বতন্ত্র কিছু সদস্য আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার পর আমাদের সদস্য সংখ্যা এখন ৮০। আরও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন বলেও তিনি জানান। 

এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী পদে পিটিআই প্রার্থী আলী আমিন গন্ডাপুরকে বাছাই করেছেন ইমরান খান। মঙ্গলবার এই সাবেক ফেডারেল এই মন্ত্রীকে মনোনীত করেন তিনি। ইমরান আরও জানান যে, তিনি তার দলের নেতাদের পিএমএল-এন, পিপিপি ও এমকিউএম-পি বাদে অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইমরান অভিযোগ করেন, যাদের হাতে শাসন ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তারাই সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারকারী।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status