ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

মত-মতান্তর

কানাডার শম্পা, সিলেটের অপূর্ব, 'ডায়াসপোরা সাহিত্য'

ড. মাহফুজ পারভেজ

(১ মাস আগে) ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, বুধবার, ১:১৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

mzamin

১.
সিলেট থেকে চট্টগ্রামে কুরিয়ার এসে পৌঁছায় পড়ন্ত বিকেলে। সকালে বারান্দায় বসে পাতা উল্টাই 'গল্পগুলো নানা রঙের' নামের ফারজানা নাজ শম্পা সম্পাদিত সংকলনগ্রন্থের। চার শতাধিক পৃষ্ঠার বই। সমকালীন বাংলা ভাষার ৭৭টি গল্পে সমৃদ্ধ।  আমার গল্প 'ব্রহ্মপুত্রের ঘাট' উত্তর ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা স্পর্শ করে বহমান নদীর সমান্তরালে। ফেনী কিংবা ঢাকার জীবন ছুঁয়ে শম্পা এখন কানাডায়। সিলেটে আছেন গ্রন্থের নেপথ্য কুশীলব অপূর্ব শর্মা। বই হাতে অনুভব করি অদৃশ্য বৈশ্বিক সংযোগ।

২.
কোনও জাতীয় প্রতিষ্ঠান সচরাচর এতো বড় মাপের সংকলন করে। শম্পা করেছেন নিজের উদ্যোগে। সহযোগী ছিলেন সিলেটের অপূর্ব শর্মা।

বিজ্ঞাপন
এতসব লেখা সংগ্রহ করাও কঠিন কাজ। সময় ও যোগাযোগের পাশাপাশি বিরাট আর্থিক চাপও থাকে এসব প্রকাশনার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে তথা রাজধানীতে থেকেও যে কাজ সচরাচর করতে পারে না কোনও ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান, কানাডা থেকে শম্পা ও সিলেট থেকে অপূর্ব তা সম্পন্ন করেছেন সফলভাবে। বাংলা সাহিত্য, বিশেষত বাংলা কথাসাহিত্য ও গল্পচর্চায় তাদের অবদান অসামান্য এবং প্রশংসনীয়। অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে 'গল্পগুলো নানা রঙের' নামের স্মরণীয় গল্পসংকলন।

৩.
আজকাল 'ডায়াসপোরা সাহিত্য' নিয়ে খুব কথা হয়। ডায়াসপোরা পরিস্থিতিতে বাস করছেন অর্থাৎ কোনো কারণে নির্বাসনে থেকে বা জীবিকার অন্বেষণে নিজ দেশ ছেড়ে ভিনদেশে বাস করছেন – এমন পরিস্থিতিতে কোনও লেখক যে-সৃজনশীল সাহিত্য রচনা বা সম্পাদনা করেন সেটি ডায়াসপোরা সাহিত্যের পর্যায়ভুক্ত। পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয়ে ডায়াসপোরা থিয়েটার, চলচ্চিত্র, চিত্রকলাও এখন আলাদাভাবে স্টাডির বিষয় হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডে অধ্যাপনা, গবেষণা ও সৃজনচর্চায় ব্যস্ত আমাদের মেহযেব চৌধুরী কিছু তাৎপর্যপূর্ণ ও নান্দনিক কাজের মাধ্যমে সবার প্রশংসা লাভ করেছেন। সামগ্রিক বিবেচনায়,  ডায়াসপোরা সাহিত্য বলে যে আঙ্গিক ও অবয়ব ইতোমধ্যে দাঁড়িয়েছে, সেটা প্রধানত ইংরেজি ভাষায় লেখা অ-ইংরেজি এবং অ-পশ্চিমা দেশের ব্যাকগ্রাউন্ড (অতীত-প্রেক্ষিত) নিয়ে পশ্চিমে বসতি গেড়ে বসা লেখকদের লেখাকে কেন্দ্র করে। এ কারণে ডায়াসপোরা সাহিত্যকে অনেক সময় এশিয়ান-আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ-এশিয়ান ডায়াসপোরিক লিটারেচারও বলা হয়। খোদ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ডায়াসপোরা লিটারেচারের এ ব্র্যান্ড দিয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলো  থেকে যারা এ রকম ডায়াসপোরা সাহিত্য লিখে বেশ নাম, যশ ও খ্যাতি কামিয়েছেন তার মধ্যে ভিএস নাইপল, ঝুম্পা লাহিড়ী, মনিকা আলী, কিরন দেশাই, কেতকী কুশারী ডাইসন, জিয়া হায়দার রাহমান, অমিতাভ ঘোষ, উমা পরমেশ্বরন কিংবা তাহমিমা আনাম এবং আরও অনেকে রয়েছেন। এই তালিকায় ফারজানা নাজ শম্পা কানাডিয়ান-এশিয়ান ধারার প্রতিনিধি। কানাডার মূলধারার কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ও কানাডার সাহিত্যকে দুচোখে ধরে রেখেছেন ফারজানা নাজ শম্পা।

৪. 
ফারজানা নাজ শম্পার পরিচিতি ও কৃতিত্ব বহুমাত্রিক: লেখক, অনুবাদক, সাংবাদিক ও সম্পাদক। একজন অকৃত্রিম বঙ্গ সন্তান তিনি, বিদেশে থেকেও দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে গভীর মমতায় লালন করছেন। অধ্যাপক স্বামী আর সন্তানসহ কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের রাজধানী ভিক্টোরিয়া শহরে তিনি বর্তমানে বসবাসরত। শম্পা একজন সৃজনশীল লেখক, ভাবানুবাদক, গবেষক, সংবাদ প্রতিনিধি এবং একই সাথে জেন্ডার ইকুইটি নিয়েও কাজ করছেন। শম্পা'র স্বামী মোহাম্মদ এহসান কানাডায় একজন শিক্ষক, সোশ্যাল ওয়ার্কার ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ। বাবা প্রয়াত ভাষাসৈনিক, অধ্যাপক ড. মকসুদুর রহমান, মা দর্শন শাস্ত্রের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আয়েশা সুলতানা। পৈত্রিক বাড়ি ফেনী। একটি শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান পারিবারিক ঐতিহ্য ঋদ্ধ করেছে তার মনন ও চৈতন্য। প্রবাসের কষ্টকর ও পরিশ্রমী জীবনযাপনের  মধ্যেও তিনি সচল, সজীব রয়েছেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সম্পাদনার কাজে। প্রবাসে বসবাসরত সৃজনশীল বাঙালির তালিকায় তিনি অগ্রগণ্য।

৫.
শম্পার আরেক কৃতিত্ব হলো কানাডার মূলধারার সাহিত্যকে কুশলী অনুবাদে বাংলা ভাষায় উপস্থাপন। প্রবাসে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চার পাশাপাশি কানাডিয় সাহিত্যের সঙ্গেও স্থাপন করেছেন নিবিড় যোগসূত্র। কানাডার  প্রখ্যাত  কবি ব্রুস মায়ার্সের নির্বাচিত কবিতার সমন্বয়ে প্রথম ভাবানুবাদ গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। কানাডার মূলধারার সাহিত্য অঙ্গনের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের বেরি শহরের প্রাক্তন পোয়েট লরিয়েট অধ্যাপক ব্রুস মায়ার্সের বিভিন্ন  কবিতার সমন্বয়ে বাংলায় অনূদিত তার গ্রন্থ সমাদৃত হয়েছে দেশে-বিদেশে। স্বয়ং কবি ব্রুস মায়ার্স এই গ্রন্থ প্রয়াসে সম্মতিদান এবং গ্রন্থটির একটি প্রাঞ্জল সাবলীল প্রারম্ভিক ভূমিকা  লিখে দিয়েছেন। ব্রুসের কবিতার গভীর জীবনবোধ, সহজবোধ্য ইতিবাচক জীবনাদর্শ, কানাডার নৈসর্গিক প্রকৃতি, জলবায়ুর বাস্তবসম্পন্ন চিত্রকল্প, চমকপ্রদ সহজবোধ্য রূপকের সুন্দর বিন্যাস ও জীবনচর্চার  প্রতিদিনের প্রতিটি উৎস থেকে ইতিবাচকতার দর্শনাবৃত নির্মোহ আবহ ও নির্দেশনা তাঁর কবিতার প্রতি পাঠকদের সবসময়ই বিশেষ ভাবে অনুরাগী করেছে। কবি ব্রুস তাঁর কবিতায় বিভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, কখনো প্রতিবাদী কিশোর, জাতিস্মর, বিরহী প্রেমিক, রেল স্টেশনে কর্মরত সাধারণ শ্রমিক,  সহস্র বছরের বৃক্ষ, স্বপ্ন বিলাসী কিশোর, ক্ষুধার্ত শিয়াল, মায়ের দুটি সক্রিয় হাতের সাথে জড়িয়ে থাকা সুমধুর স্মৃতির আবেশ জড়ানো কৃতজ্ঞ সন্তান ইত্যাদি । বাংলা ভাষা ও কানাডার মূলধারার সাহিত্যের একটি সুদৃঢ় যোগসূত্রের ভিত্তি স্থাপনের নিরিখে শম্পার এই উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। কারণ, অনুবাদ ও বিশ্ব সাহিত্যের বিভিন্ন সৃষ্টিশীল ভাবানুবাদের মাধ্যমেই সম্ভব একটি দেশের পাঠকদের  সাথে অপর একটি দেশের  জীবনাচরণ ও ভৌগোলিক কাঠামোনির্ভর স্পষ্ট ধারণার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা। যে কাজে ফারজানা নাজ শম্পা অগ্রণী।

৬.
প্রবাসে 'ডায়াসপোরা সাহিত্য'র অংশ হয়ে যারা প্রধানত এবং মূলত ইংরেজি ভাষায় লেখেন কিন্তু তাদের অনেকের সাহিত্যের উপাদান স্বদেশের আলো-বাতাস থেকে গ্রহণ করা এবং তাদের অনেক সৃষ্টি ও সাহিত্যের শেকড় উপমহাদেশে মাটিতে। কিন্তু যারা বিদেশে থাকেন, বিদেশের মাটিতে শেকড় গেড়েছেন, বিদেশের আলো-বাতাসে বিচরণ করছেন কিন্তু মনে, প্রাণে, চিন্তা, চেতনায় দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে এবং দেশের ইতিহাস-ঐহিত্য-সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে লালন করে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা করছেন, তাদের এবং তাদের সৃষ্টিকর্মকে একটি আলাদা ও উচ্চতর অবস্থানে স্থান দেওয়া হয়। ফারজানা নাজ শম্পা স্বদেশ ও বিদেশকে অঙ্গাঙ্গিভাবে ধারণ করেছেন তার সাহিত্যচর্চায়। 'ডায়াসপোরা সাহিত্য' পর্যালোচনায় তিনি অনেকের চেয়ে আলাদা, স্বতন্ত্র এবং বহুপ্রজ।

৭.
সিলেটের অপূর্ব শর্মা সাংবাদিক, লেখক। প্রধান পরিচয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক। দেশপ্রেমের লেলিহান শিখায় তিনি আঞ্চলিক ও জাতীয় স্তর ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভূমিকা পালন করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, অপূর্ব শর্মার উদ্যোগী ভূমিকা ছাড়া 'গল্পগুলো নানা রঙের' মতো বড় গল্পসংকলন প্রকাশ প্রায়-অসম্ভব হতো। চারু পিন্টুর নান্দনিক প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশিত হয়েছে অভ্র প্রকাশন থেকে। ঝকঝকে ছাপা, পঠনবান্ধব লাইন স্পেস, চমৎকার বাঁধাইয়ে এ বই উপস্থাপনের জন্য সম্পাদক ফারজানা নাজ শম্পা ও প্রকাশক অপূর্ব শর্মাকে অভিনন্দন।

৮.
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ও ভারতে যারা বাংলা ভাষায় গল্প লিখছেন তাদের অধিকাংশের লেখা আনকোরা তরতাজা গল্প নিয়ে ফারজানা নাজ শম্পা সম্পাদনা করেছেন 'গল্পগুলো নানারঙের' গল্প সংকলন। এতে মোট ৭৭টি ছোটোগল্প আছে। বলা যায়, সমকালের বাস্তবতা ও চলমান সময়কে কথাসাহিত্যের কাঠামোতে ধরে রাখার এ এক অনন্য প্রয়াস। এই উদ্যোগের জন্য ফারজানা নাজ শম্পাকে বিশেষ ধন্যবাদ, এজন্য যে, এতজন লেখকের লেখা ছোটোগল্প একত্রিত করার ঘটনা সম্প্রতি নজরে আসেনি। তবে, বইটি আরও ভালো হতো কয়েকজন গল্পকারের লেখা সংযুক্ত হলে। বা হলেও কিছু করার নেই। কারন, কোনও সংকলনই 'সম্পূর্ণ' ও 'সর্বদোষমুক্ত' হতে পারেনা। কিছু অপূর্ণতা থাকবেই। তথাপি গ্রন্থটি প্রতিনিধিত্বকারী হলেই সার্থক হয়েছে বলা যায়। গৃহীত গল্পগুলো বেশ নিটোল। ছোটগল্পের সঙ্গে অনুগল্প, অনুদিত গল্পও আছে। বাংলা কথাসাহিত্যের সমৃদ্ধ দৃষ্টান্ত, নতুন নতুন ভাবনা, সৃষ্টি ও শিল্প-রসোত্তীর্ণ আবেশ রয়েছে গল্পগুলোতে। এক সময় প্রশ্ন ছিল এই যে, 'ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে?' ফারজানা নাজ শম্পা সম্পাদিত 'গল্পগুলো নানা রঙের' সে প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছে। গল্পগুলো
সমকালের পথরেখায় দূরবর্তী আলোয় উদ্ভাসিত করবে পাঠকচিত্ত এবং সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য মহিমায় বাংলা কথাসাহিত্যের ভাণ্ডারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর উন্মোচন করবে 'ডায়াসপোরা সাহিত্য'র নবতর বিন্যাস।

(ড. মাহফুজ পারভেজ, লেখক ও গবেষক। প্রফেসর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।)

পাঠকের মতামত

বইটি এখনো হাতে পাইনি তবে পাবো বলে আশা করছি। ফারজানা নাজ শম্পা বাংলা সাহিত্যের একজন একনিষ্ঠ সাধক এবং সেবক। এই বিশ্বাস আমার মাঝে দীর্ঘ সময় ধরেই প্রতিষ্ঠিত। তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হ'লো তিনি শুধু প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখা নিয়েই পড়ে থাকেন না। আমার মতো প্রচার বিমুখ অখ্যাত লেখকদেরও টেনে নিয়ে আসেন তার সৃষ্টিশীল কাছে। 'গল্পগুলো নানা রঙের' তার সেই সদিচ্ছারই আরেকটি রূপায়ণ। অভিনন্দন ফারজানা নাজ শম্পাকে, অভিনন্দন অপূর্ব শর্মাকে! আশাকরি বইটি পাঠক সমাজে সমাদৃত হবে।

ফরিদ তালুকদার
২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, বুধবার, ৭:২৬ পূর্বাহ্ন

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবদলই সরকার সমর্থিত / ভোটের মাঠে নেই সরকারি দলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বিরোধীদল

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status