ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, মঙ্গলবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

মত-মতান্তর

ইশতেহারে ২ কোটি প্রবীণের জন্য কী আছে?

হাসান আলী

(২ মাস আগে) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, রবিবার, ৯:১৮ অপরাহ্ন

mzamin

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দল বা জোট জনগণের প্রতি যে অঙ্গীকার ঘোষণা করে, সেটাই নির্বাচনি ইশতেহার। নির্বাচনি ইশতেহার প্রকারান্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত চুক্তিপত্র বা ওয়াদা। নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা জোট জনগণকে প্রদত্ত অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি পূরণে সচেষ্ট হয়। ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের জবাবদিহির সংস্কৃতি এখনো জোরদার হয়নি। রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়লে জবাবদিহির ক্ষেত্র বাড়বে। নির্বাচনি ইশতেহার জবাবদিহির বড়  ধরনের  হাতিয়ার।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি প্রবীণের বসবাস। মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১.৬৬ শতাংশ প্রবীণ। ২০৫০ সাল নাগাদ প্রবীণের সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি হবে, যা মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে ভাবছে, তা বুঝতে নির্বাচনি ইশতেহার হলো মূল দলিল।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো প্রবীরেণ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম পর্যায়ে আমাদের বিশেষ অঙ্গীকারে ২১টি অঙ্গীকার ঘোষণা করেছিল।

বিজ্ঞাপন
এর মধ্যে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণকে ২০ নম্বর অঙ্গীকারের মধ্যে রেখেছিল।

ইশতেহারে বলা হয়, প্রবীণদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রম গ্রহণ, প্রবীণদের বিষয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পাঠ্যবইয়ে অধ্যায় সংযোজন, যানবাহন এবং আবাসিক স্থাপনাগুলোতে প্রবীণদের জন্য আসন/পরিসর নির্ধারণ, তৃণমূল পর্যায়ে প্রবীণদের জেরিয়েট্রিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ওঠানামার ব্যবস্থা প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে।

সাফল্য ও অর্জন হিসেবে দেখানো হয়েছে, জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩, বয়স্ক ভাতার আওতায়  এসেছে ৪৪ লাখ প্রবীণ, সরকারের বিশেষ বিবেচনায় ছিল সমন্বিত পেনশন কার্যক্রম, জাতীয় সামাজিক বীমা কর্মসূচি ও বেসরকারি ভলান্টারি পেনশন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি  নির্বাচনী ইশতেহারে ১৯টি অঙ্গীকার করেছিল। ১৬ নম্বর অঙ্গীকারে আবাসন, পেনশন ফান্ড ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার কথা আছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, দুস্থ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী এবং অসহায় বয়স্কদের ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির নিরিখে বাড়ানো হবে। বেসরকারি ও স্বনিয়োজিত খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বার্ধক্যের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি পেনশন ফান্ড গঠন করা হবে। গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনতে পেরেছে। বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়েছে। ৮৫টি শিশু পরিবারে ১০ জন করে প্রবীণ থাকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় কয়েকটি প্রবীণ নিবাস গড়ে তোলা হয়েছে। প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠন করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের আওতাভুক্ত করতে প্রয়োজন মনে করে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ পাশ করেছে।

যেসব রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং  যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা দেশের প্রায় ২ কোটি প্রবীণের দুঃখ-দুর্দশা-কষ্ট লাঘবে নির্বাচনি ইশতেহারে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করছি।

বিবেচনার বিষয়গুলো হলো, ১. প্রবীণ কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থাপন। ২. অবসরে থাকা প্রবীণদের দক্ষতা, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। স্বেচ্ছাশ্রম দিতে আগ্রহীদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে থাকার ব্যবস্থা করা।

৩. জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০২৩ বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন। ৪. অটিস্টিক, প্রতিবন্ধী, প্রবীণদের জন্য বিশেষ সেবা চালু। ৫. অতি প্রবীণ, শয্যাশায়ী প্রবীণদের দীর্ঘমেয়াদি সেবা-যত্নের ব্যবস্থা। ৬. গণমাধ্যমে প্রবীণদের ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা। ৭. মানসিক সক্ষমতা আাাইন প্রণয়ন করা। ৮. প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বিশেষ ফোন নম্বর চালু করা। ৯. গণপরিবহনে প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াতের সুবিধা রাখা। ১০. সব প্রবীণকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নিয়ে আসা।

ওপরের দাবিগুলো দেশের সব প্রবীণের, যারা আমাদের বর্তমান তৈরি করতে তাদের যৌবন উত্সর্গ করেছিলেন।

লেখক :গবেষক ও সংগঠক

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবদলই সরকার সমর্থিত / ভোটের মাঠে নেই সরকারি দলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বিরোধীদল

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status