ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১০ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

শরীর ও মন

শীতের এই সময়ে চুলের পরিচর্যা

অধ্যাপক ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল
১০ ডিসেম্বর ২০২৩, রবিবার

শীত মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা বা জরীয়বাষ্প  কমে যওয়া ও কম পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাতাসে বেড়ে যায় ধুলাবালুর প্রকোপ। সে কারণে চুল রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে আবার অনেকের শরীরের বিশেষ কিছু জায়গার ত্বক ফেটেও যায়।  তাই  শীতের বিশেষ এই সময়টাতে  ঠিকমতো যত্ন নিলে এই শীতেও আপনার  চুল থাকবে ঝরঝরে, সুন্দর আর সতেজ।  সাধারণত স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক হয় দুই রকমের শুষ্ক ও তৈলাক্ত। শুষ্ক ত্বকে খুশকির সমস্যা বেশি দেখা দেয় আর মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলেও চুল শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হয়, তেমনি চুলেরও ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে।

যদি মাথার  ত্বক তৈলাক্ত হয়
মাথার তৈলাক্ত ত্বকে লুকিয়ে থাকা খুশকির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অর্থাৎ খুশকি ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মৌরি এবং সমপরিমাণ পানি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভালোমতো বেঁটে মাথার ত্বকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে খুশকি দূর হবে।

মাথার শুষ্ক ত্বকের যত্নে
শীতকালে মাথার শুষ্ক ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায় তাহলে  চিকিৎসকের পরামর্শে যত্ন নিন। এছাড়া কোন তেল আপনার জন্য ম্যাচিং হয় তা দেখে ব্যবহার করুন। 

চুলের যত্নে কী করবেন?
রুক্ষ আবহাওয়ায় মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো।

বিজ্ঞাপন
এক কাপ গরম পানিতে পাঁচ থেকে ছয়টা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন তা দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি শ্যাম্পুর কাজ করে থাকে। চুল রং করা থাকলে এই মিশ্রণের ব্যবহারে অনেক সময় চুল রুক্ষ বোধ হতে পারে, এমন হলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া যেহেতু রোজ শ্যাম্পু করা হবে, তাই শ্যাম্পুর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে। এরপর চুল ধুয়ে নিবিড় কন্ডিশনিং করুন।

চুলের রুক্ষতা রোধে যা করবেন
চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে নিয়মিত তেল মাখতে হবে। তবে চুলে তেল দিয়ে বাইরে বের হওয়া ঠিক হবে না, এতে আরও বেশি ময়লা জমবে চুলে। বাইরে বের হলে চুল ভালোমতো বেঁধে, ঢেকে রাখতে হবে।

চুল ঝলমলে ও কোমল করতে যা করবেন
একটি আস্ত পাকা কলা, ছোট আকারের তিনটি দেশি পিয়াজ ও এক টেবিল চামচ মধু বেঁটে একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর চুলের গোড়া এবং সম্পূর্ণ চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। কিছুদিন ব্যবহারে চুল যেমন মোলায়েম হবে তেমনি গোড়াও হবে মজবুত।
খুশকির সমস্যা বেশি বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত  খুশকি একধরনের একজিমা। এর সংক্রমণে মাথার চামড়া উঠে যেতে পারে, অনেক সময় লালচে গুড়ি গুড়ি গোটা দেখা দেয়। চুলকালে এটি থেকে ঘা হয়ে যেতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অথবা মলম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া অল্প খুশকি দেখা দিলেই ভালো মানের খুশকিনাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।

লেখক: (চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিফ কনসালটেন্ট  ড. কামাল হেয়ার অ্যান্ড স্কিন সেন্টার ফার্মগেট, গ্রীন রোড, ঢাকা। সেল- ০১৭১১-৪৪০৫৫৮

 

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status