ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ শাবান ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

সিলেটে চ্যালেঞ্জের মুখে মন্ত্রী-এমপিরা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
৩ ডিসেম্বর ২০২৩, রবিবার
mzamin

নির্বাচনে নেই বিএনপি। বিরোধী জোট থেকেও প্রার্থী নেই। তবুও সিলেটে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন মন্ত্রী ও এমপিরা। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। সহজেই ছাড় পাচ্ছেন না তারা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও হেভিওয়েট। তাদেরও রয়েছে দল এবং দলের বাইরে গ্রহণযোগ্যতা। এ নিয়ে নানা শঙ্কা ইতিমধ্যে নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। আর দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব থাকায় আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। সিলেটে আগেই মাঠ পরিষ্কার করে নিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

বিজ্ঞাপন
এবার তার পথের কাঁটা ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়া। নির্বাচনেরও প্রস্তুতি ছিল গোলাপের। কিন্তু মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে গোলাপকে। এতে করে মন্ত্রী ইমরান আহমদের সামনে কোনো শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেন না। যারা আছেন তারা ততটা পরিচিতও নন। এতে চিন্তামুক্ত হয়েই নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছেন ইমরান আহমদ। সিলেট-১ আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন পড়েছেন হিসাবে। তার প্রতিপক্ষ হয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন বারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। পদবিধারী নেতারা সঙ্গে না থাকলেও তৃণমূলের নেতারা তার পক্ষে রয়েছেন। এজন্য মিসবাহকেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছেন না সিলেট-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। এবার মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ও পরে সিলেটে বেশি সময় দিচ্ছেন। গত তিনদিন ধরে তিনি সিলেটে সিরিজ বৈঠক করছেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গতকাল নগরের মেয়র ও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন। 

ভোটাররা বলছেন; গত ৫ বছরে সিলেট জেলা উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে ছিল। অর্থমন্ত্রী সিলেটের না থাকার কারণে এমন ঘটনা গত ১৫ বছরের মধ্যে এবার প্রথম। যেসব মেগাপ্রকল্প রয়েছে সেগুলোর কাজের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে খোদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও নাখোশ। এ কারণে এবার বলার মতো তেমন বড় কোনো উন্নয়ন দেখাতে পারছেন না তিনি। আর সিলেট আওয়ামী লীগের ভেতরেও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতাকে এ আসনে এমপি’র দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে এবার মিসবাহ প্রার্থী হওয়ায় আগে থেকেই সতর্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল ভাবনায় ফেলেছেন বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবকে। এ আসনে গত দুই বছর আগে উপনির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। দুই বছরে তিনি কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এতে করে  ভোটারের নজরে পড়েছেন তিনি। তবে দলীয়ভাবে হাবিবুর রহমান এখনো দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে সুসংহত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। সাবেক এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বলয়ের নেতারা তার বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। এজন্য এবারের নির্বাচনে ওই বলয়সহ তৃণমূলের বেশি সাড়া পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। ইতিমধ্যে তিনি ভোটের মাঠে তার অবস্থান শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছেন। তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ভোটাররা জানিয়েছেন- ডা. দুলালের পক্ষে সুশীল সমাজসহ বিভিন্নস্তরের ভোটাররা এসে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। এতে করে ভোটের মাঠে তিনি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এক সময় তাকে এ আসনে আওয়ামী লীগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন এসে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। এ কারণে তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে সরওয়ার দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের আনুকূল্য এখনো পাননি। এ কারণে হিসাবে তাকে পিছিয়ে রাখা হলেও গত বন্যা ও করোনার সময় তিনি মানুষের কাছাকাছি ছিলেন। এজন্য তাকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। সরওয়ার প্রার্থী হওয়ায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদকে এবার চ্যালেঞ্জ নিতেই হচ্ছে। এ চ্যালেঞ্জে ইতিমধ্যে তিনি আওয়ামী লীগকে একীভূত করে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ আসনে এবার তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরীও প্রার্থী হয়েছেন। তাকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। নাহিদ ও সরওয়ারের ভোট ভাগাভাগিতে কপাল খুলতে পারে শমসের মবিন চৌধুরীর, এমন হিসাব-নিকাশও করছেন ভোটাররা। 

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিক। এ কারণে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে। আর সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে জয় সহজ হবে। স্বতন্ত্র সরওয়ার আহমদ জানিয়েছেন, ভোটারের প্রতি তার আস্থা রয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা পরিবর্তন চায়। আর এ পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি ভোটের মাঠে প্রার্থী হয়েছেন। জনগণ সঙ্গে থাকলে জয় হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট-২ আসনে এবার নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এ আসনের বর্তমান এমপি গণফোরামের মোকাব্বির খান। তিনিও প্রার্থী হয়েছেন। তবে আলোচনায় নেই তিনি। গত ৫ বছর মোকাব্বির খানকে নিয়ে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সব শিবিরেই অস্বস্তি ছিল। উন্নয়ন নিয়েও আছে বিতর্ক। নানা ঘটনায় মোকাব্বির খান বিতর্কিত হয়েছেন। এ কারণে এবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই নৌকার পক্ষে রয়েছেন। এ আসনের আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন,  মোকাব্বির খান ৫ বছর এমপি’র দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনের সঙ্গে নানা দ্বন্দ্বে জড়ান। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তার অদক্ষতার কাছে অসহায় ছিলেন। এ ছাড়া টিউবওয়েল দুর্নীতিসহ নানা ঘটনায় তিনি বিতর্কিত হন। মানুষ এবার নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবে বলে জানান নেতারা।

 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status