ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

শরীর ও মন

শিশুর মুখে প্রথম খাবার

ডা. সৈয়দা নাফিসা ইসলাম
৩ অক্টোবর ২০২৩, মঙ্গলবার

জন্মের ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ দেয়ার পর একটা শিশু বাড়তি খাবার খাওয়া শুরু করে। শিশু যেমন বুঝতে পারে না কীভাবে খাবার  খাওয়া শুরু করতে হবে তেমনি খাবারের স্বাদও শিশুর অচেনা। তাই প্রথম খাবার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে বেশির ভাগ শিশুই এসব খেতে চায় না এটিই স্বাভাবিক। তাই খুব অল্প করে খাবার মুখে দিতে হবে যেন তা গলায় বেঁধে না যায়। আবার শিশু যেন সহজে মুখের মধ্যে খাবার নড়াচড়া করে তারপর গেলার সুযোগ পায় তা খেয়াল রাখতে হবে। সুতরাং, যে খাবারই দেয়া হয় সেটা যেন নরম হয়। খাবার আঠালো করা যাবে না। একবারে তরলও করা যাবে না।

পরিমাণ  ১ (এক) বাটি= ২৫০ এমএল
# ৬ থেকে ৯ মাসের শিশুদের জন্য ১২৫ মিলি বা হাফ বাটি ২ থেকে ৩ বার খাওয়াতে হবে ।
# ৯ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ১২৫ মিলি বা হাফ বাটি ৩-৪বার খাওয়াতে হবে।
# ১-২ বছরের শিশুদের জন্য  পৌনে ১ বাটি  ৩ থেকে ৪ বার খাওয়াতে হবে  এবং এর সাথে ২-৩ বার নাস্তা খেতে পারবে।

খাবারের গুণগত মানের সঙ্গে শিশুর খাবারের খাদ্যের সব উপাদান থাকা উচিত। যেমন শর্করা, আমিষ,  স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি।

বিজ্ঞাপন
তবে সব বেলায় সবগুলো খাবারেই যে   প্রতিটি উপাদান থাকতে হবে তা কিন্তু নয়। এসব উপাদান একত্রে মিশিয়ে খাবার বানানো যায়। যেমন খিচুড়ি বা হালুয়া অথবা একটি বেলার খাবারে এসব উপাদান আলাদাভাবে দেয়া যায়। যেমন-
(১) ভাত+ডাল অথবা মাছ/মাংস/ ডিম+সবজি+পানি।
(২) রুটি+ডাল/ডিম+সবজি/ফল
(৩)দুধ+ফল+বিস্কুট
(৪) হালুয়া+ফল

এছাড়া নাস্তার মধ্যে যেকোনো এ ধরনের শক্ত খাবার দেয়ার পর  শিশুকে অল্প পানি দিতে হবে। খাবারের মাঝে মাঝে পানি দেয়ার অভ্যাস ভালো নয়। গরুর দুধ ২ বছর বয়স পার হলে দিতে হবে। একই দিনে বিভিন্ন ধরনের নতুন খাবার শিশুকে দেয়া যাবে না। এত করো কোনো খাবারে  এলার্জি বা পেটে সমস্যা হলে তা বুঝা যাবে না  কোন খাবার থেকে এমন হলো। আর যদি আন্দাজ করা যায় যে, কোনো একটি খাবারের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই খাবার বন্ধ করে দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে খাবার যেন পচাবাসি না হয়। পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত সহজপ্রাপ্য এবং সহজলভ্য খাবারই ভালো। প্যাকেটজাত, প্রিজারভেটিভ দেয়া খাবার, ময়লাযুক্ত খাবার, বারবিকিউ বা পোড়া জাতীয় খাবার শিশুর খাবার নয়। কিছু পিতামাতা না বুঝে, কেউ আবার ইচ্ছা করেশিশুকে এক্সপেরিমেন্টাল বা অদ্ভুত খাবার দিয়ে থাকেন এটি মোটেই ভালো নয়। শিশু খাবারের গুণগতমান যেমন জরুরি, স্বাদ বজায় রাখা তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক নিয়মে শিশুকে জীবনের শুরু থেকে খাবার  দিতে পারলে তার ভবিষ্যৎ জীবনের খাবার সংক্রান্ত সমস্যা প্রায় হয় না বললেই চলে। এসব শিশু অপুষ্ট কিংবা স্থূলতা কোনোটাতেই তেমনভাবে আক্রান্ত হয়  না।

লেখক: কনসালট্যান্ট, শিশু বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
চেম্বার: ডা. নাফিসা’স চাইল্ড কেয়ার, শাহ্‌ মখদুম, রাজশাহী।
মোবাইল-০১৯৮৪-১৪৯০৪৯

 

শরীর ও মন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শরীর ও মন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status