ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

গণতন্ত্রের প্রাণ হলো নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার
mzamin

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া আমাদের গতি নেই। গণতন্ত্র ছাড়া গতি নেই। অন্য সবকিছুর প্র্যাকটিস করা হয়ে গেছে। কোনোটাই টিকে নাই। একমাত্র ডেমোক্রেসির এখনো প্র্যাকটিস হয়নি। চলমান সংকট সমাধানে ডেমোক্রেসির সুযোগ রয়ে গেছে। কাজেই এটা প্রাকটিস করতে হলে মানুষকে বুঝাতে হবে। ডেমোক্রেসির প্রাণ হলো ইলেকশন। নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে যদি আমরা গ্রহণ করি তাহলে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে নৈতিক সমাজের ‘গণআলোচনার মুক্তমঞ্চ’ সময়ের প্রধান চ্যালঞ্জ:  নির্ভেজাল গণতন্ত্র বিনির্মাণ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নৈতিক সমাজের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের  নেতারা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন
 আবদুর রউফ বলেন, এখন যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া রয়েছে। এটা কিন্তু পরিবর্তন করা যায়। যারা নির্বাচনে আসল প্লেয়ার। ভোটার। তাদেরকে দিয়ে গ্রাস রুট লেভেলে ভোট চালানো যায়। তাদেরকে বুঝাতে হবে যে এটা শুধু অধিকার নয়, এটা তাদের দায়িত্ব। প্রতি পাড়া মহল্লায় ভোটাররা ভোট চালাবে। ক্লাব থাকবে। আর প্রযুক্তির সাহায্যে এটাকে আরও উন্নত করা যাবে। ভোটের দিন স্টিকার লাগিয়ে কেউ ভোট দিতে পারবে না। প্রার্থীরা নিজ ভোটকেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারবে না। এসব বিষয়গুলো ঠিকমতো কাজ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। জনগণ নিরাপদে ভোট দিতে আসবে। ভোট দিবে। ভোটররাই ভোট চালাবে। 

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। পলিটিক্যাল পার্টি নিজেদের মধ্যে একে অপরকে বিশ্বাস করে না। অবিশ্বাস আমাদেরকে প্রায় খেয়ে ফেলেছে। সেই বিশ্বাসটা আগে আমাদেরকে তৈরি করতে হবে। কথায় কথায় সংবিধান উল্টানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, নিরপেক্ষ লোক ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না। কারণ ভুক্তভোগী এজন্য এটা বলা হচ্ছে। এদিকে ডেমোক্রেসি চাই। অন্যদিকে সংবিধানের মধ্য স্যোসালিজমও রেখেছি। সমাজতন্ত্র। এই দুইটা দুই মেরুর। 
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির সংজ্ঞা নানাভাবে করা হচ্ছে। রাজনীতি রাজার নীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা। বলা হচ্ছে জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস। কিন্তু জনগণকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে আমরা আজ পর্যন্ত চলছি। জনগণ নিয়ে কেউ চিন্তা করছি না। দুদক নিয়ে এত ক্ষমতা, আইন কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। সাবেক এই বিচারপতি বলেন, রাজনীতিবিদদের সাধারণ মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে। নৈতিকতা, নৈতিক সমাজ বজায় রাখতে হবে। 

আমাদের নৈতিকতা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কাজ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে আমসাআ আমিন বলেন, নির্ভেজাল গণতন্ত্র বিনির্মাণে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের কারও গণতন্ত্র ছিল না। এটা ৫২ বছরের ইতিহাস। এখন এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাষ্ট্রের সব নিয়োগ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যত নিয়োগ হয় সব প্রধানমন্ত্রী দেন। তাহলে এটা গণতন্ত্র হবে নাকি দলতন্ত্র হবে। রাষ্ট্রপতির হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্রপতি একটা নিয়োগও দিতে পারেন না। এই ক্ষমতা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদীয় কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের ৭০ ধারা অনুযায়ী ভোট দিতেই পারেন না। বিচারব্যবস্থার বাস্তব স্বাধীনতা কিতাবে আছে, বাস্তবে নেই। বিচারপতিদের স্বাধীনতার ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। সেখানে দলের প্রভাব মুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ এবং বাস্তব স্বাধীনতার ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিরঙ্কুশ করতে হবে। না হলে যারাই নির্বাচনের কথা বলুক কোনো লাভ নেই। নির্বাচন করেও লাভ নেই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৈদেশিক যে হস্তক্ষেপ, সেই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করতে যায় তা আমাদেরকে ভাবতে হবে। যদি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায়, জনগণের ভূমিকাকে মুখ্য ভূমিকায় আনা যায়, তাহলে বিদেশের হস্তক্ষেপ থাকবে না।  নৈতিক সমাজের সভাপতি বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনে সংবিধানের অগণতান্ত্রিক বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে। দুর্নীতি গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের দিকে যাচ্ছে, এটা রোধ করতে হবে। 

সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট  মোহসিন রশীদ বলেন, বর্তমানে যে সংবিধান রয়েছে এটা আওয়ামী লীগের জন্য। এই সংবিধান জনগণের জন্য কোনোদিন ছিল না। নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে। ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একটা সময় বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ছিল। এখন নেই। কারণ হচ্ছে- সুপ্রিম কোর্ট এখন আওয়ামী লীগের। বিচারকরা এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন। এই রাষ্ট্রকে মেরামত করতে হবে। জুডিশিয়ারিকে ঢেলে সাজাতে হবে। 

তিনি বলেন, সরকার পাবলিক সার্ভিস ধ্বংস করেছে। কেয়ারটেকার সরকার বিএনপি আমলে নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আবার যদি নতুন করে কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় আসে। সবার আগে নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে। যেমনটা নেপালে হয়েছে। সংবিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি ৫ বছর ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ৪ বছর করতে হবে। তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হবে। 

সভায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও মেজর (অব.) সিকদার আনিসুর রহমান,  সাবেক এমপি তাসমীনা রানা, মুজিবুল হক প্রমুখ। দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক রাজনৈতিক নেতা  নৈতিক সমাজের আলোচনা সভায় অংশ নেন।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status