ঢাকা, ২২ জুন ২০২৪, শনিবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

শেষের পাতা

আইনমন্ত্রী-অ্যাটর্নির পদত্যাগ চান বিএনপিপন্থিরা

স্টাফ রিপোর্টার
২০ মার্চ ২০২৩, সোমবার

মারামারি, ভাঙচুর, হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে শেষ হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় একতরফা ভোটে নিরঙ্কুশ জয় পান আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সাদা প্যানেল। নির্বাচনের পরেই গতকাল পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সংবাদ সম্মেলনে সরকার সমর্থিতরা বলছেন নির্বাচন সঠিক হয়েছে। কোনো একতরফা ভোট হয়নি। অপরদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দাবি পুলিশি হামলার নির্দেশদাতা ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এ ঘটনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে দুইপক্ষ এসব  কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী-অ্যাটর্নির পদত্যাগ চান বিএনপিপন্থিরা: দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল হতে সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. রুহুল কুদ্দুস। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচন ঘিরে আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি যে দেশের অন্য সব নির্বাচনের মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক চরিত্র, তার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
আইনগতভাবে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। বক্তব্যে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কতিপয় অত্যুৎসাহী আইনজীবী ও পুলিশের নারকীয় তাণ্ডব আইনজীবী হিসেবে সমাজের কাছে আমাদের হেয় করেছে। এটা শুধু আইনজীবী সমাজেরই নয়, পুরো জাতির জন্যই কলঙ্কজনক। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী একাধিকবার প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া পুলিশের তাণ্ডবে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আহত হওয়ার বিষয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করেন। এরপরও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়নি। পুলিশি তাণ্ডবের কোনো দৃশ্যমান প্রতিকার হয়নি। আমাদের দুঃখ, আইনজীবীদের একটি সমিতির নির্বাচনেও পুলিশকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়! এটা বড় লজ্জার বিষয়। অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে কার্যকরী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক অবিলম্বে একটি নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক পুলিশি হামলার নির্দেশদাতা আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ দাবি করছি। এই নির্বাচনের আইনগত কোনো বৈধতা নেই দাবি করে সভাপতি প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার তদন্ত-বিচার না হবে এবং পুনরায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ আইনজীবীদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মহাসচিব কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল উপস্থিত ছিলেন।

একতরফা নয়, স্বতঃস্ফূর্ত বলছেন আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা: এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে আইনজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করে নির্বাচিত আওয়ামীপন্থি সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির। তিনি বলেন, নির্বাচনে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য গণতন্ত্রবিরোধী, ভোটবিরোধী, নির্বাচনবিমুখ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা বিএনপি’র দুই প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল দায়ী। এ সময় সমিতির সম্পাদক আবদুন নূর দুলালসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য বিএনপি’র গণতন্ত্রবিরোধী, ভোটবিরোধী, নির্বাচনবিমুখ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মো. রুহুল কুদ্দুসকে দায়ী করেছেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী ১৪ই মার্চ সন্ধ্যায় আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামান এবং সম্পাদক মো. আবদুন নূর দুলাল সমিতির কনফারেন্স রুমে বসে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করছিলেন। হঠাৎ করে দরজা ধাক্কা দিয়ে বহিরাগত লোকজনসহ সন্ত্রাসী কায়দায় খোকন এবং কাজল কনফারেন্স রুমে ঢুকে আহ্বায়ককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। টেবিলের উপরে থাকা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে কিছু ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেন এবং কিছু ব্যালট পেপার নিয়ে যান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন এবং ন্যক্কারজনক। এ ছাড়া ব্যালট পেপার তছনছ করেন এবং পায়ে মাড়িয়ে দলিত মথিত করেন খোকন এবং কাজল। ফলে নির্বাচনের পূর্ব রাতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে।

নির্বাচনের দিন বিএনপিপন্থিরা ভাঙচুর চালিয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, ভোটগ্রহণ শুরু করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলে খোকন এবং কাজলের নেতৃত্বে অনেক বহিরাগত সন্ত্রাসী ভোটের প্যান্ডেলে ঢুকে পড়ে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অনেক আইনজীবীকে আহত করেন। তারা ভোট বর্জন করেছেন কিনা সেটাও জানায়নি। তাদের বিকল্প প্রস্তাব কি তাও জানায়নি। তারা শুধু অযথা অকারণে ভাঙচুর ও হট্টগোল করতে থাকেন। এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হতে থাকে এবং একটানা ভাঙচুর চলতে থাকে। এ অবস্থায় ভোটগ্রহণ শুরু এবং সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য গ্রহণ ব্যতীত কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না। ইতিপূর্বে সব নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিষয়ে বক্তব্যে বলা হয়, দুইদিন দায়িত্ব পালনকালে ঘটনার আকস্মিকতায় আপনারা কোনোভাবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে এবং এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সামগ্রিক দায়ভার বিএনপি’র গণতন্ত্রবিরোধী, ভোটবিরোধী, নির্বাচনবিমুখ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। সামগ্রিক বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের পরিচয় দিয়েছি।
এদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গতকাল নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে নির্বাচন ও পুলিশি হামলার বিচার দাবিতে ঢাকা বারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলার বারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

   

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status