ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

মত-মতান্তর

নয়া মডেলের ভোটের আওয়াজ, তবে...

সাজেদুল হক
২১ মে ২০২২, শনিবার

এইতো সেদিনের ঘটনা। কিন্তু ক্যালেন্ডার বলছে, ২২ বছর! ক্যালি শেল ছিলেন আল গোরের নির্বাচনী প্রচার অভিযানের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং বিতর্কিত নির্বাচন। টিভি চ্যানেলগুলো একবার খবর দিচ্ছে, আল গোর জিতেছেন। পরক্ষণে জানায়, জর্জ ডব্লিউ বুশই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। সবকিছু আটকে যায় ফ্লোরিডায়। সে সময়টা কীভাবে কেটেছিল আল গোরের? অনেকদিন পর বিবিসি’র কাছে বর্ণনা দেন ক্যালি শেল। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ ভোটে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ে থেমে যায় ভোট পুনঃগণনা। ২৭১ ইলেক্টোরাল ভোটে জয়ী হন বুশ। প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য তার দরকার ছিল ২৭০ ভোট।

বিজ্ঞাপন
সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় ঘোষণা করে তখন আল গোরের পাশেই ছিলেন ক্যালি শেল। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে পড়ছে আল গোর তখন বললেন, সব শেষ হয়ে গেছে, ঠিক? আমরা কী আর কিছু করতে পারি? আইনজীবীরা বললেন, না, সব শেষ। আর কিছু করার নেই। তখন আল গোর বললেন, তাহলে কিছু করার নেই, আমাদের সবার এখন ঘুমাতে যাওয়া উচিত।’’
আমাদের ভূমে দৃষ্টি ফেরানো যাক। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পেছনে ব্যালটের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত হবে কি-না সে সময় এ নিয়ে বহু কথা হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক। মূলত ওই নির্বাচনে দেয়া রায়ে এ অঞ্চলের জনগণই পাকিস্তান রাষ্ট্রের মৃত্যু ঘোষণা করেন। অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে বিশ্বের মানচিত্রে এক নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়। 

ব্যালট। ছোট্ট এক শব্দ। কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে এর ভূমিকা অনন্য। এটি সত্য, প্রাচীন গ্রিসে জন্ম নেয়া গণতন্ত্রে ব্যালটই একমাত্র কথা নয়। এদেশেও একসময় খুব শোনা যেতো, বুদ্ধিজীবীরা বলতেন, একদিনের গণতন্ত্র আমরা চাই না। ভোটারদের আবার আদর করে নাম দেয়া হয়েছিল, একদিনের বাদশাহ! সে বাদশাহীও আর নেই, সেদিনও আর নেই। তবে কোনো কোনো রাজবুদ্ধিজীবী অস্বীকার করতে চাইলেও এটাও সত্য যে, গণতন্ত্রে ভোটই প্রধান বা মুখ্য বিষয়। ভোট ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। গণতন্ত্রের ইতিহাসের শুরুর দিকে শাসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি জনগণের মতামত নেয়া হতো। এক সময় আর সেটা থাকেনি। বাস্তব পরিস্থিতিতে হয়তো সম্ভবপরও নয়। এ অবস্থায় চালু হয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা শাসন। গণতন্ত্র এভাবে আপাত ক্ষমতাহীন জনগণকে ক্ষমতায়িত করে। অন্তত একদিনের জন্য হলেও। তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে কে হবেন রাজা। এটি এক ধরনের সাম্যও তৈরি করে। এদিন রাজা অথবা প্রজা সবারই এক ভোট। আমাদের সংবিধানও বলছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যদিও প্রশ্ন থেকে যায়, কেতাবে যা লেখা আছে তা কতটা সত্য?

 প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস বিউকানানের কথাও আমরা স্মরণ করতে পারি। তার বিখ্যাত উক্তি এখনো ভোটের রাজনীতিতে আলোচিত হয়, ‘‘মুক্ত মানুষের বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম ব্যালট।’’ তো সে ব্যালট কেন দিনকে দিন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে? সারা দুনিয়াতেই। গণতন্ত্রের জন্য সময়টা ভালো নয়। এমনকি পশ্চিমা দুনিয়াও সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করে না। ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ খুন হলেন গেল সপ্তায়। আন্তর্জাতিক বিশ্ব এর যথাযথ প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে দেশে দেশে। উত্থান হচ্ছে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের। প্রশ্ন উঠছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়েও। কোনো কোনো পশ্চিমা স্কলার বলছেন, গণতন্ত্র এখন মধ্যবয়সের সংকটকাল অতিক্রম করছে।

বহুমতের ভীতিহীন চর্চার নামই গণতন্ত্র। তো সে গণতন্ত্র এখন কোথায়? নির্ভয়ে কী মানুষ তার মত প্রকাশ করতে পারছে? মত প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখে মিডিয়া। কখনও কখনো একে ফোর্থ স্টেটও বলা হয়। গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্র কিংবা কর্তৃত্ববাদী শাসনে মিডিয়ার তেমন কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের মিডিয়া কেমন চলছে। গত সপ্তায় এ নিয়ে সম্পাদক পরিষদের আলোচনায় সম্পাদকদের বক্তব্য শুনলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ আলোচনায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ডিফেমেশন ল’, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট, কনটেম্পট অব কোর্ট, আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, গণমাধ্যমকর্মী আইন, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট ও ওটিটি আইনসহ বেশকিছু আইন রয়েছে যেগুলোর নাম ভিন্ন হলেও প্রয়োগের পরিধি অভিন্ন। এগুলো প্রয়োগে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন- আমরা এমন কী করি এত আইন করে আমাদের হাত-পা বেঁধে দিতে হবে? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। 

আগের লেখায় বলেছিলাম, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের পর রাজনীতি ধীরে ধীরে নির্বাচনমুখী হচ্ছে। ওই বৈঠকে প্রধানত কয়েকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় 

১. বিএনপিসহ সব দলকেই নির্বাচনে চায় ক্ষমতাসীন দল 

২.  ভোট হতে পারে ইভিএমে

৩. নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শাসক দলে সংশয় নেই। বিএনপির কোনো কোনো নেতা ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও তার কোনো আপডেট এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও তারা বলতে পারেন, কোন ঈদের পর তাতো আমরা বলিনি। বিএনপি’র সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এখনই আন্দোলন চায় না এমন গুঞ্জনও রয়েছে। এরইমধ্যে জাতীয় সরকারের ফর্মুলা হাজির করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তবে তার এ প্রস্তাবে রাজনীতিতে খুব বেশি চাঞ্চল্য তৈরি হয়নি। যদিও এ নিয়ে এক ধরনের কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে  প্রস্তাবিত নামগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। 

কোটি টাকার প্রশ্ন হচ্ছে আগামী নির্বাচন কেমন হবে। গেল দুই নির্বাচনে আমরা দুই ধরনের মডেল দেখেছি। প্রথমটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট অংশ নেয়নি। তখন অনেক নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকও দলটির সমালোচনা করেছেন। তারা বলতেন, বিএনপি সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এমনকি এটাও কেউ কেউ বলতেন, স্মার্টফোনের যুগ। এখন কীভাবে ভোটে কারচুপি হবে! বিএনপির আন্দোলন সহিংসতার কারণে সমালোচিত হয়। একপর্যায়ে তা স্থগিত করে দেয়া হয়। একপক্ষীয় নির্বাচনের পরও সরকার মেয়াদ পূর্ণ করে। গেল নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নেয়। কিন্তু ন্যূনতম লড়াইও করতে পারেনি তারা। রাতে ভোট হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ভোটের দিন সকালে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল  হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন পর্যন্ত ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কেন তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন, তা আজও রহস্য। তবে ব্যক্তিগত আলাপে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব¡ ধারণা পেয়েছিলেন, দলটি অন্তত ৬০/৭০ আসন পাবে। নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। 

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া মনে করেন, গেল দুইবারের মতো নির্বাচন দেশে আর হবে না। সম্প্রতি মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচন এই সরকারের অধীনে হবে না। এটা হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ। সেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। আর সেই নির্বাচনের ফল খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মোট কথা গত দুইবারের মতো বাংলাদেশে আর নির্বাচন হবে না।’’

ইতিহাসে একই ধরনের ঘটনা হুবহু বারবার ঘটে না। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও মনে করেন, গেল দুইবারের মতো নির্বাচন দেশে আর হবে না। তবে আগামী নির্বাচনটির মডেল কেমন হবে তার অবশ্য এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খোলাসা হতে আরও সময় লাগবে। তবে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নানা পদক্ষেপ বিশ্লেষণে এটা মনে হয়, দলটিও গেল বারের মতো নির্বাচন আর চায় না। তবে নিজেদের জয়ের অঙ্ক অটুট রাখতে আওয়ামী লীগ দৃড় প্রতিজ্ঞ। এরপরই আসবে ছাড়ের প্রশ্ন।

রাজনীতিতে পরিস্থিতি তৈরির কোনো ক্ষমতা এখন আর জাতীয় পার্টির নেই। যতটুকু ছিল তাও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে। জামায়াতের নিবন্ধন নেই। ভোট বা আন্দোলনের রাজনীতিতে দলটির প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। সংগঠনটির শীর্ষ কয়েক নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। নেতাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কারাগারে। একটি অংশ কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। কোনো ধরনের রাজনীতিতে জড়াবেন না এমন একটি অঙ্গীকার সংগঠনটির নেতাদের কেউ কেউ করেছেন বলে শোনা যায়। গণঅধিকার পরিষদ নানা কর্মসূচি পালন করছে। তবে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা সবসময়ই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বাকি ইসলামপন্থি কিংবা বাম দলগুলোর রাজনৈতিক বাক পরিবর্তনে পরিস্থিতি তৈরির ক্ষমতা নেই। বিএনপিও নানা কারণে বিপর্যস্ত। খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থ এবং রাজনীতি থেকে দূরে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে। দলটির নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কি নির্বাচনে যাবে? এ প্রশ্নের জবাব সহসা মিলবে না। তবে যাওয়া বা না যাওয়া কোনো সিদ্ধান্তই সহজ নয়। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতে বিদেশি শক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে পর্দার আড়ালে সমঝোতাতেও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখে। সে থেকে ভোটে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণের ইস্যুটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। স্বল্প মেয়াদের এক সংসদে জন্ম নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। দেশের ইতিহাসে কয়েকটি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার পেছনে এ ব্যবস্থার ভূমিকা ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের  আগামী নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এরইমধ্যে কথা বলা শুরু করেছে। সম্প্রতি অনেকটা খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘আমি স্পষ্ট করেই বলছি, আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ বেছে নেবে না। আমরা শুধু এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আশা করি, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কে দেশ পরিচালনা করবে।’’ কার্যত নির্বাচন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কয়েকজন পশ্চিমা দূতও আগে-পরে এ নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ভারত এবং চীন এ নিয়ে সম্প্রতি কোনো মন্তব্য করেনি।

গেল দু’টি নির্বাচন নিয়েও পশ্চিমা দুনিয়ার প্রশ্ন ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কীভাবে পরিস্থিতি এগিয়েছে তা সবারই জানা।  আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান কী হবে? তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে রাজনীতির অন্দরমহলে। বিশেষ করে র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এ আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দফায় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুও একেবারেই কমে এসেছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুই প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারত ও চীনের ভূমিকার দিকেও দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষকদের।

কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ছে হুহু করে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই কঠিন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব ভোটের রাজনীতিতে পড়তে পারে বলেও অনেকে মনে করেন। যদিও এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যাও বটে।

তাহলে কেমন হবে আগামী নির্বাচন? নবগঠিত নির্বাচন কমিশন এরইমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ভোটের ময়দানে তাদের প্রথম পরীক্ষা গোমতী নদীর তীরে। কুমিল্লায় কমিশন একটি অবাধ নির্বাচন করতে চায় এ ধরনের একটি বার্তা এরইমধ্যে মিলেছে। কিন্তু চাইলেই কী সম্ভব। মাহবুব তালুকদার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। চাইলেই সবসময় এটা করা যায় না। পরিবেশও থাকে না। বাংলাদেশে নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের প্রধান ভূমিকা থাকে। তারা না চাইলেও কিছুই করা যায় না। তো প্রশ্নের উত্তর কী পাওয়া গেল। এখন পর্যন্ত খবর যা পুরনো মডেলের নির্বাচন হচ্ছে না। নতুন মডেলটি কেমন? শাসক দলের চাওয়া-পাওয়ার বাইরে? তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি কী হিসাব পাল্টে দিতে পারবে? অথবা অন্য কোনো দল?

 

 

লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক মানবজমিন
ই-মেইল: [email protected]

 

পাঠকের মতামত

"এত জনপ্রিয় দলটির পক্ষ নিলে মানুষ কেন আমার দিকে ঘৃণা ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে??" --- উপরের কমেন্টে এই উক্তি করা আজাদ সাহেব কে বলছি , আপনি নিজে নিজেকে প্রশ্ন করুন , এতো জনপ্রিয় দল কেন নির্দলীয় নিরোপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভয়ে পায় ?

Zahur
২৪ আগস্ট ২০২২, বুধবার, ৯:৩০ অপরাহ্ন

একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। আমি বললাম সরকার তো বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পদ্মা সেতু হয়ে গেল। মেট্রো রেল হবে। কর্নফুলী টানেল হবে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। আরো অনেক বড় বড় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কিন্তু দোকানে বসা লোক জন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করল। আর বেশি কিছু বলতে গেলে হয়তো গনপিটুনি খেতে হতো। তাই তাড়াতাড়ি সরে পড়লাম। রাস্তার মোড়ে একথা বলতে গিয়ে এমন বিপদে অনেক পড়েছি। এখন ভালো হয়ে গিয়েছি। চুপচাপ থাকি। ২৯০ টা আসনে সরকার নির্বাচিত। এত জনপ্রিয় দলটির পক্ষ নিলে মানুষ কেন আমার দিকে ঘৃণা ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে??

আজাদ
১৬ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১:৪৩ পূর্বাহ্ন

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

মত-মতান্তর থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status